এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় মানিকন্ট্রোল-এ।
এক বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিটি ভারতের পরিমিত সতর্কতা থেকে পরিমিত বলপ্রয়োগের দিকে রূপান্তরকেই দর্শিয়েছিল।
অপারেশন সিঁদুর ভারতের পাকিস্তান নীতির ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তনের সংযোগস্থলে অবস্থিত: সময়কাল সীমিত হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। জম্মু ও কাশ্মীরে ২২ এপ্রিলের পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান শুরু হয়, যে হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে। এই ঘটনায় লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো পাকিস্তান-ভিত্তিক সংগঠনগুলি যুক্ত ছিল। নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া কোনও হঠকারী বা নিছক প্রতীকী ছিল না। এটি ছিল সুচিন্তিত, পরিকল্পিত এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, সংঘাতের নিয়মকানুন নতুন করে ঢেলে সাজানোর জন্য পরিকল্পিত।
পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর জুড়ে সন্ত্রাস-সম্পর্কিত ন’টি স্থানে ভারতের বেছে বেছে হামলা আসলে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও সংযমের মধ্যেও ভারসাম্য রক্ষার একটি সচেতন প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে। প্রাথমিক ভাবে পাকিস্তানি সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো এড়িয়ে সুনির্দিষ্ট হামলাগুলি অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা না বাড়িয়েই নিজেদের অভিপ্রায় স্পষ্ট করে দিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালানোর পর, সংঘাতটি দূরপাল্লার অস্ত্র, ড্রোন ও বিমানঘাঁটিতে হামলা-সহ একটি বৃহত্তর আদান-প্রদানে পরিণত হয়। চার দিনব্যাপী এই সংঘাত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হলেও, তার আগেই ভারত তার অভিযানগত সক্ষমতা এবং এই হামলার জন্য বাস্তব মূল্য চাপিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা… উভয়ই প্রদর্শন করেছিল।
কেন অপারেশন সিঁদুর একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত
২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকই হোক বা ২০১৯ সালের বালাকোট বিমান হামলা… অনেক দিক থেকেই অপারেশন সিঁদুর অতীতের খণ্ড খণ্ড প্রতিক্রিয়াগুলি থেকে একটি বিচ্যুতিকেই চিহ্নিত করে।
এই পর্বটিকে যা স্বতন্ত্র করে তোলে তা কেবল এর ব্যাপকতাই নয়, বরং রাজনৈতিক সঙ্কেতের স্পষ্টতাও: অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে পৃথক করে দেখার যুগ কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে।
অপারেশন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সংঘাত থেকে বেশ কিছু শিক্ষণীয় বিষয়ও রয়েছে।
প্রথমত, পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকির যে সীমাবদ্ধতার কথা প্রায়শই উল্লেখ করা হয়, তা আগের ধারণার তুলনায় ততটাও চূড়ান্ত নয় বলেই মনে হচ্ছে। ভারতের ‘প্রথমে অস্ত্র ব্যবহার না করার’ নীতি, সুপরিকল্পিত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার অনুপস্থিতি পারমাণবিক অস্ত্রের সীমার নিচে প্রচলিত সামরিক অভিযানের (কনভেনশনাল অপারেশন) সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি এখনও বিপজ্জনক হলেও, তা আর পুরোপুরি থেমে নেই।
অপারেশন সিঁদুর নির্ভুল ও দূরপাল্লার যুদ্ধের কেন্দ্রীয় গুরুত্বকে আরও জোরদার করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও দৃষ্টিসীমার বাইরের আক্রমণ ভারতকে ঝুঁকি কমিয়ে প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এই অভিযানটি যৌথ সামরিক কার্যকারিতার অগ্রগতি এবং সীমাবদ্ধতা উভয়কেই তুলে ধরেছে। ত্রি-বাহিনী সমন্বয়ে দৃশ্যমান উন্নতি দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে আরব সাগরে নৌবাহিনীর অবস্থানের ক্ষেত্রে। আবার এই স্বীকৃতিও এসেছে যে, প্রকৃত যৌথতা এখনও একটি চলমান প্রক্রিয়া, বিশেষ করে রিয়েল-টাইম অপারেশনাল ইন্টিগ্রেশনের ক্ষেত্রে।
তৃতীয়ত, অপারেশন সিঁদুর নির্ভুল ও দূরপাল্লার যুদ্ধের কেন্দ্রীয় গুরুত্বকে আরও জোরদার করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও দৃষ্টিসীমার বাইরের আক্রমণ ভারতকে ঝুঁকি কমিয়ে প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি, বিমান প্রতিরক্ষা, ড্রোন-বিরোধী সক্ষমতা, আইএসআর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত ঘাটতিগুলি উন্মোচিত হয়েছে, যা নীতিনির্ধারকদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, পদ্ধতিগত সমন্বয় ছাড়া প্রযুক্তি গ্রহণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
চতুর্থত, ভারত শেষ পর্যন্ত আধিপত্য অর্জন করলেও, প্রাথমিক ব্যর্থতাগুলি দীর্ঘস্থায়ী সক্ষমতার অসামঞ্জস্যের দিকেই ইঙ্গিত করে। ফাইটার স্কোয়াড্রনের ঘাটতি, দূরপাল্লার আক্রমণের সীমাবদ্ধতা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলি এখনও এমন কিছু ক্ষেত্র, যেখানে জরুরি মনোযোগ প্রয়োজন।
কৌশলগত বার্তা
কৌশলগত স্তরে এই অভিযান শাস্তিমূলক প্রতিরোধের দিকে একটি পরিবর্তনকে সুসংহত করেছে। নয়াদিল্লির বার্তা দ্ব্যর্থহীন: সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী এবং তাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হবে না। এটি কেবল কথার কথা নয়, এটি এমন একটি কাঠামো, যা প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডে সরাসরি ব্যয় চাপিয়ে দেওয়ার বৈধতা প্রদান করে।
প্রযুক্তিগত দিকটিও সমান ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ড্রোন, লয়টারিং মিউনিশন এবং স্তরযুক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক ব্যবহার কেবল ভারতের নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকেই নয়, বরং সমসাময়িক সংঘাতগুলি থেকেও প্রাপ্ত শিক্ষাকে প্রতিফলিত করে। এর ফলে, আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগের অধীনে দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রসার ত্বরান্বিত হয়েছে।
দ্বিমুখী পরিস্থিতির অনুস্মারক
পরিশেষে, অপারেশন সিঁদুরকে বৃহত্তর চিন-পাকিস্তান আঁতাত থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে দেখা ঠিক নয়। পাকিস্তানকে চিনের বস্তুগত বা গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করার সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে, যা ভারতের জন্য একটি সম্ভাব্য দ্বিমুখী পরিস্থিতির সময়ে প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরদার করে।
মতাদর্শগত শিক্ষা
মতাদর্শগত ভাবে গত এক বছরে যা উদ্ভূত হয়েছে তা হল একটি আরও জোরালো কাঠামো, যাকে বিভিন্ন ভাবে ‘সক্রিয় প্রতিরোধ’ বা ‘পরিমিত জবরদস্তিমূলক সক্ষমতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি কেবল একটি শব্দার্থগত পরিবর্তন নয়, বরং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিক্রিয়াকে দীর্ঘকাল ধরে সংজ্ঞায়িত করা প্রতিক্রিয়াশীল ছাঁচগুলি থেকে বেরিয়ে আসার একটি সচেতন প্রচেষ্টাও বটে। এর মূলে রয়েছে কৌশলগত উদ্যোগ পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা: উত্তেজনার ক্রমকে সীমাবদ্ধ না রেখে, তার দ্বারা চালিত হওয়া। উদ্দেশ্য ও সক্ষমতা উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বাসযোগ্যতা প্রদর্শনের উপর জোর দেওয়া হয়, যাতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কেবল ঘোষণামূলক না হয়ে, বাস্তবেও কার্যকর হয়।
এই কাঠামোটি তিনটি পরস্পর সংযুক্ত স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। নিশ্চিত প্রতিশোধ এই ইঙ্গিত দেয় যে, কোনও ধরনের উস্কানির জবাবেই সময়োপযোগী ও আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে, যার ফলে প্রতিরোধ ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতিতে কিছুটা পূর্বাভাসযোগ্যতা ফিরে আসে। হামলার পিছনে যারা আছে তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে তোলার বিষয়টি অরাষ্ট্রীয় শক্তি এবং তাদের সহায়তাকারীদের মধ্যেকার পূর্ববর্তী পার্থক্য থেকে একটি চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটায়, যা প্রতিপক্ষের কৌশলগত হিসাবের মধ্যেই জবাবদিহিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তৃতীয় স্তম্ভটি — অর্থাৎ বহু-ক্ষেত্রীয় সরঞ্জামের সমন্বয় — যুদ্ধের পরিবর্তনশীল স্বরূপকে প্রতিফলিত করে, যেখানে সাইবার, ইলেকট্রনিক, তথ্যগত এবং গতিশক্তি-সম্পর্কিত সাধনীগুলি ক্রমবর্ধমান ভাবে একযোগে মোতায়েন করা হচ্ছে। এখানে গতি, নির্ভুলতা এবং সংঘাত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ কোনও আকস্মিক বৈশিষ্ট্য নয়; বরং এগুলিই সেই মূল প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ঝুঁকির মোকাবিলা করা হয়।
এর মূলে রয়েছে কৌশলগত উদ্যোগ পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা: উত্তেজনার ক্রমকে সীমাবদ্ধ না রেখে, তার দ্বারা চালিত হওয়া।
এই মতাদর্শগত বিবর্তন সক্ষমতা উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ক্রয়ের অগ্রাধিকার দৃশ্যত এমন প্ল্যাটফর্ম এবং সিস্টেমের দিকে সরে গিয়েছে, যা দূর থেকে উচ্চ-নির্ভুল আক্রমণে সক্ষম — যেমন ড্রোন, লয়টারিং মিউনিশন, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা এবং কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি। এগুলি কেবল প্রযুক্তিগত উৎসাহ দ্বারা চালিত ক্রয় নয়, বরং অভিযানগত শিক্ষা থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়া, যা টিকে থাকার ক্ষমতা, নাগাল এবং নির্ভুলতার গুরুত্বকে তুলে ধরে। এর পাশাপাশি, রসদ সরবরাহের উপর নতুন করে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে— যেমন গোলাবারুদ মজুত করা, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা রাখা। এ কথা স্পষ্ট যে, স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সংঘাতের জন্য এখনও স্থিতিশীল প্রস্তুতির প্রয়োজন।
বৃহত্তর যৌথতার দিকে উত্তরণের পর্যায়
সাংগঠনিক ভাবে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ কাঠামোর অধীনে বৃহত্তর যৌথতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যদিও তা দ্বন্দ্বহীন নয়।
অভিযান-স্তরের সমন্বয় উন্নত হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা, কমান্ড কাঠামো এবং সম্পদ বরাদ্দের গভীরতর সমন্বিতকরণ এখনও অসম রয়ে গিয়েছে। চ্যালেঞ্জটি অভিপ্রায়ের চেয়ে বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির সমন্বয় সাধন, পরিষেবা-ভিত্তিক বিচ্ছিন্নতা দূর করা এবং একটি সত্যিকারের সমন্বিত যুদ্ধ-কাঠামো তৈরির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। যদি এই মতাদর্শগত পরিবর্তনকে স্থায়ী করতে হয়, তবে তা প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণের মতোই এই সাংগঠনিক সংস্কারগুলির উপরও নির্ভর করবে। কারণ এই সংযোগস্থলেই কৌশল শেষ পর্যন্ত সক্ষমতায় রূপান্তরিত হয়।
অপারেশন সিঁদুরকে একটি কঠোর সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত, যেখানে অভিপ্রায়, সক্ষমতা এবং সঙ্কেত এক অভূতপূর্ব স্বচ্ছতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে শুরু করেছিল। এটি পরিমিত সতর্কতা থেকে পরিমিত বলপ্রয়োগের লক্ষ্যে ভারতের পরিবর্তনকে চিহ্নিত করে, যেখানে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা না হারিয়েই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অভিযানগত বিকল্প প্রসারিত করা হয়েছে। তবুও আসল পরীক্ষা এখনও বাকি।
মতাদর্শ প্রতিরোধ করে না, বরং সক্ষমতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ধারাবাহিকতা তা করে। এই অবস্থান বজায় রাখার জন্য এমন রাজনৈতিক সংকল্পের প্রয়োজন হবে, যা সঙ্কটকে অতিক্রম করতে পারে এবং এমন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন হবে, যা ধীর গতির পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে। সেই ধারাবাহিকতা ছাড়া অপারেশন সিঁদুর একটি স্থিতিশীল কৌশলগত পরিবর্তনের পরিবর্তে কেবল একটি প্রতিশ্রুতির মুহূর্ত হয়ে থাকার ঝুঁকিতেই থাকবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় মানিকন্ট্রোল-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Harsh V. Pant is Vice President at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with King's India Institute at ...
Read More +