Expert Speak Raisina Debates
Published on May 25, 2026 Updated 0 Hours ago

কার্যক্ষেত্রে রাখাইনের কর্তৃপক্ষ হিসেবে আরাকান আর্মির উত্থান ভারত বাংলাদেশকে গতানুগতিক রাষ্ট্রকেন্দ্রিক কূটনীতির বাইরে বাস্তবসম্মত সম্পৃক্ততার দিকে চালিত করছে।

বিদ্রোহী থেকে অংশীদার: আরাকান আর্মির সম্প্রসারিত ভূমিকা

‘‘আরাকান স্বপ্ন’ বারাখিতাদ্বারা বিশেষভাবে চিহ্নিত আরাকান আর্মির স্বায়ত্তশাসন স্ব-শাসনের আকাঙ্ক্ষা এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে গোষ্ঠীটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন করে নিজেদেরকে শুধু একটি সামরিক হুন্তা-বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে নয়, বরং মায়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলের একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। এটি এই প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, ভূ-রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত রাখাইন রাজ্যের উপর আরাকান আর্মির শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কীভাবে প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বাহ্যিক সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি করেছে, এবং এই পক্ষগুলি কীভাবে আন্তঃসীমান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক এবং সহযোগিতামূলক কাঠামোতে অংশগ্রহণ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে।

প্রাক-রাষ্ট্রের (‌প্রোটো-‌স্টেট)‌ সংহতকরণ

২০০৯ সালে গঠিত আরাকান আর্মি গত বছর মংডো এবং টাউংগাপ টাউনশিপ দখল করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে, যার ফলে পশ্চিম মায়ানমারের বাংলাদেশের সঙ্গে ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আন টাউনশিপের পশ্চিম আঞ্চলিক কমান্ড সদর দপ্তর দখলের মাধ্যমে এটি তার সামরিক আধিপত্য আরও সুসংহত করে, এবং ফলস্বরূপ রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ অংশে তারা নিজেদের কার্যত শাসক কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।


২০০৯ সালে গঠিত আরাকান আর্মি গত বছর মংডো এবং টাউংগাপ টাউনশিপ দখল করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে, যার ফলে পশ্চিম মায়ানমারের বাংলাদেশের সঙ্গে ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।



রাখাইনে উদ্ভূত আরাকান আর্মি মায়ানমারের সাতটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের (ইওএ) মধ্যে অন্যতম, এবং কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) দ্বারা প্রশিক্ষিত। সময়ের সাথে সাথে এটি মায়ানমারের গৃহযুদ্ধে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উত্তর শান রাজ্যে  অবস্থিত তা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং পূর্ব শান রাজ্যে অবস্থিত মায়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ)- পাশাপাশি ২০২৩ সালের অভিযানে এটি তাতমাদাও-এর বিরুদ্ধে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অংশ ছিল। এটি বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টিরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চল, বিশেষ করে চিন রাজ্য এবং মাগওয়ে, বাগো আয়েয়ারওয়াদ্দি অঞ্চলে, অন্তত ১৫টি অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তার সামরিক হুন্তা-বিরোধী প্রচেষ্টার জন্য দৃঢ় জনসমর্থন প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী। এক সময় অং সান সু চি- সরকার কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হলেও, গোষ্ঠীটির বর্তমান সামরিক আধিপত্য দেশের অভ্যন্তরে কনফেডারেট মর্যাদা সুরক্ষিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আদান-প্রদান সম্প্রসারণের জন্য একটি নতুন উদ্যোগ হয়ে উঠেছে।

এদিকে প্রতিবেশী শক্তিগুলির, বিশেষ করে চিন-মায়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (সিএমইসি)-এর মাধ্যমে চিনের, গোটা অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক অনুপ্রবেশ ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির উপর বৈদেশিক প্রভাব সম্প্রসারিত করেছে। ২০২৫ সালে, বেজিংয়ের চাপের কারণে কোকাং-ভিত্তিক ম্যান্ডারিন-ভাষী এমএনডিএএ-কে তাদের বহু কষ্টে অর্জিত লাশিও শহরটি মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সমর্পণ করতে হয়েছিল।

চিনের দ্বিমুখী কৌশল

চিন মায়ানমারে একটি দ্বিমুখী পন্থা অবলম্বন করেছে, যেখানে কোনও একক শক্তি যাতে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য পথগুলিতে আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য একইসঙ্গে সামরিক হুন্তা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলি (ইএও)-‌কে জড়িত করা হচ্ছে। এই কৌশলটি বেজিংয়ের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি বিদ্রোহী আন্দোলনগুলির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগায়, যেখানে আদর্শগত অসামঞ্জস্য গোষ্ঠীগুলিকে বৈদেশিক প্রভাবের সামনে দুর্বল করে তোলে।

তবে, রাখাইনে আরাকান আর্মির একটি প্রাক-রাষ্ট্রের দ্রুত সংহতকরণ বেজিংয়ে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। কিয়াউকফিউ বন্দরযা ভারত মহাসাগরে চিনের প্রবেশের জন্য অপরিহার্যএবং যেখানে চিন-মায়ানমার তেল গ্যাস পাইপলাইন রয়েছে সেই অ্যান টাউনশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদগুলি চিনের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।


চিন মায়ানমারে একটি দ্বিমুখী পন্থা অবলম্বন করেছে, যেখানে কোনও একক শক্তি যাতে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য পথগুলিতে আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য একইসঙ্গে সামরিক হুন্তা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলি (ইএও)-‌কে জড়িত করা হচ্ছে।



আরাকান আর্মিকে চিনের তথাকথিত বস্তুগত সহায়তা এখনও বিতর্কিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং ২০১৯ সালের সিত্তওয়ে হামলায় ব্যবহৃত ১০৭ মিমি রকেটসহ চিনে তৈরি অস্ত্রের যোগানের কথা বলা হয়েছে। গোষ্ঠীটি এই দাবিগুলি অস্বীকার করে বলেছে যে, ধরনের সহায়তার কোনও অস্তিত্ব নেই। প্রতারক চক্রগুলিকে লক্ষ্য করে পরিচালিতঅপারেশন ১০২৭’- জড়িত থাকা সত্ত্বেও চিন রাখাইনে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হিমশিম খেয়েছে। তবুও, বেজিং তার অর্থনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আরাকান আর্মিকে আলোচনার টেবিলে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর একটি প্রধান প্রকল্প কিয়াউকফিউ-কুনমিং রেলপথের বিষয়ে।

একই সঙ্গে আরাকান আর্মি নিজের কর্তৃত্বকে বৈধতা দিতে এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অর্জনের লক্ষ্যে বিচারবিভাগীয় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলছে। মায়ানমারকে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযোগকারী রাখাইনের কৌশলগত অবস্থান এবং বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নৈকট্যের কারণে এই গোষ্ঠীটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য এবং পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করতে চায়।

বঙ্গোপসাগরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে সংকেত প্রদান

সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর, মায়ানমারের খণ্ডিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তার প্রতিবেশী দেশগুলির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং তা হয়েছে  নির্যাতিত ব্যক্তিদের অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার বিপদ তৈরি এবং এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরির মাধ্যমে। মায়ানমারে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের নির্বাচনে, যেখানে সামরিক বাহিনীর সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনী পরিসরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তা বাস্তবে কোনও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয় না, কারণ জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলি ভূখণ্ড প্রভাব বিস্তারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য একটি বিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে আরাকান আর্মি বেশিরভাগ টাউনশিপে আধিপত্য বজায় রেখেছে, অন্যদিকে সামরিক হুন্তা-সমর্থিত সরকার জরুরি অধ্যাদেশ এবং সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা করছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার জন্য মিন অং হ্লাইং-এর প্রথম বড় পদক্ষেপ।


চিন মায়ানমারে একটি দ্বিমুখী পন্থা অবলম্বন করেছে, যেখানে কোনও একক শক্তি যাতে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য পথগুলিতে আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য একইসঙ্গে সামরিক হুন্তা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলি (ইএও)-‌কে জড়িত করা হচ্ছে।



এই নতুন রাজনৈতিক ঘটনাবলির মাঝে আরাকান আর্মি যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য তাদের প্রচেষ্টা ত্যাগ করবে এমন সম্ভাবনা কম, কারণ একটি বৈধ স্বায়ত্তশাসিত সত্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যের জন্য এটি অপরিহার্য। ২০২৪ সালে গোষ্ঠীটি ঘোষণা করে যে, তারা আরাকান অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নে অবদান রাখে এমন যে কোনও বিদেশি বিনিয়োগকে স্বীকৃতি দেবে, এবং এই ধরনের বিনিয়োগ কার্যক্রমের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ছিল ‘‌আরাকান রাজ্যে বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পগুলির নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করা’‌ একটি দায়িত্বশীল আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে নিজেদের এই সচেতন অবস্থান তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের দৃষ্টিভঙ্গি উপরও নির্ভর করে, যা ‘‌আরাকানের সকল বাসিন্দার জন্য স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার কল্যাণ এবং মানবিক মর্যাদা’‌ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সামরিক হুন্তা-নেতৃত্বাধীন ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঢাকা বা নয়াদিল্লি কোনও পক্ষ থেকেই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার একটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়নি, যার ফলে আরাকান আর্মি তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কিন্তু গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যেতে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি মোকাবিলায় বাস্তববাদকে কাজে লাগাতে পারছে।

বাংলাদেশ ও আরাকান আর্মি

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান আরাকান আর্মির তুন মায়াত নাইং-এর কাছ থেকে একটি অভিনন্দন বার্তা পেয়েছেন, যেখানে তিনি ‘‌বাস্তবসম্মত স্থিতিশীল সমাধান’‌ এবং একটি ‘‌কৌশলগত অংশীদারি’‌ আশা প্রকাশ করেছেন। তবে ঢাকা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এটি কোনও রাজনৈতিক সমর্থনের ইঙ্গিত দেয় না। মায়ানমারে চলতি ‘‌স্বৈরাচারী উত্থান’‌ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থবির করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছেতা সামরিক হুন্তার অধীনেই হোক বা আরাকান আর্মির অধীনেই হোক। রহমান রাখাইনের উদীয়মান শাসন নিরাপত্তা কাঠামোতে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করা উপর জোর দিয়েছেন এবং এর দায়িত্ব আরাকান আর্মির উপর অর্পণ করেছেন। তাই, এই গোষ্ঠীর বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন আলোচনায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে, বাস্তব সহযোগিতা গড়ে উঠছে। রাখাইন রাজ্যে আটক ৭৩ জনেরও বেশি বাংলাদেশী জেলেকে মুক্তি দেওয়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতির ইঙ্গিত দেয়। নাফ নদী বরাবর মৎস্য বিরোধের সমাধান হলে কানিঞ্চাউং অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মংডো বাণিজ্যকেন্দ্রগুলি পুনরুজ্জীবিত হতে পারে, যা সামরিক অবরোধে আবদ্ধ এই অঞ্চলে অত্যাবশ্যক পণ্যের প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করবে।

ভারতের কৌশলগত সম্পৃক্ততা

মায়ানমারে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ, অর্থাৎ কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প এবং ভারত-মায়ানমার-তাইল্যান্ড ত্রিমুখী মহাসড়ক (উভয়ই ভারতেরলুক ইস্ট পলিসি অবিচ্ছেদ্য অংশ), নির্বাচনের পরেও পরিচালনগত অনিশ্চয়তার কারণে স্থগিত রয়েছে। মায়ানমার একটি খণ্ডিত সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল হিসেবেই রয়ে গিয়েছে, এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান সত্ত্বেও ভারত সেখানকার শাসনব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন করবে এমন সম্ভাবনা কম। আবার ভূমি-‌পর্যায়ে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ সমন্বয় বন্ধ করার ঝুঁকিও ভারত নিতে পারে না। তাই, কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট (কেএমএমটিটি) প্রকল্পটি, যার লক্ষ্য রাখাইন রাজ্যের সিত্তওয়ের গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে কলকাতা সমুদ্রবন্দরকে সংযুক্ত করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সমুদ্র থেকে স্থলে প্রবেশের একটি পথ তৈরি করা, ভারত আরাকান আর্মির সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

আরাকান আর্মি দাবি করে যে, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলির উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সামরিক হুন্তার চেয়ে তাদেরকে অনেক বেশি কার্যকর অংশীদার করে তুলেছে। তারা ২০২৪ সালে এই শর্তে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, এই অঞ্চলে ভারতের স্বার্থ যেন জমির জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত স্থানীয় উদ্বেগগুলিকে উপেক্ষা না করে। এই সম্পৃক্ততার আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে আরাকানি দৃষ্টিকোণ প্রাচীন ম্রাউক- রাজ্যের সঙ্গে তার ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভারতীয় স্বীকৃতি দাবি করে, এবং এই সম্পর্ককে ভারতের 'লুক ইস্ট পলিসি'- সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের, বিশেষ করে মণিপুর ত্রিপুরার মতো রাজ্যগুলির রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাকেও স্বীকার করে। আরাকান আর্মি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-এর মতো আন্তঃসীমান্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে দমন করার জন্য বৃহত্তর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে, যাদেরকে তারা মাদক পাচার এবং বলপূর্বক নিয়োগের কারণে আরাকান আর্মি ভারত উভয়ের জন্যই পারস্পরিক বিপদ হিসেবে বিবেচনা করে।

একটি খণ্ডিত মায়ানমারে বাস্তবসম্মত সম্পৃক্ততা

২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, মায়ানমারের সামনের পথ কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। রাখাইন রাজ্যের মতো প্রান্তিক অঞ্চলগুলি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কর্তৃত্বের অধীনেই পরিচালিত হতে থাকবে, বিশেষ করে আরাকান আর্মির কর্তৃত্বের অধীনে, যারা শাসন কাঠামো পরিমিত বাহ্যিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ক্রমাগত প্রাতিষ্ঠানিক সংহতকরণ চালিয়ে যাচ্ছে।


আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্তৃত্বের পরিবর্তে বাস্তব বিষয়গুলি—যেমন সংযোগ প্রকল্প পরিচালনা এবং আন্তঃসীমান্ত মানুষের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ—ক্রমশ নির্ভর করবে কাদের কার্যকর ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করার ক্ষমতা আছে তার উপর।



এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ এবং ভারত উভয়কেই রাষ্ট্রীয় অরাষ্ট্রীয় পক্ষগুলিকে কঠোরভাবে পৃথক করা থেকে বেরিয়ে আসতে হতে পারে। আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্তৃত্বের পরিবর্তে বাস্তব বিষয়গুলিযেমন সংযোগ প্রকল্প পরিচালনা এবং আন্তঃসীমান্ত মানুষের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণক্রমশ নির্ভর করবে কাদের কার্যকর ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করার ক্ষমতা আছে তার উপর।

সুতরাং, কৌশলগত বাস্তববাদকে অবশ্যই মায়ানমারের জাতিগত জটিলতার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও বিবেচনায় রাখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এমন কূটনৈতিক নমনীয়তা অপরিহার্য হবে যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ এবং জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন উভয়ের সঙ্গেই জড়িত থাকতে সক্ষম করে। মায়ানমারের খণ্ডিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে একটি পরিমিত কিন্তু ইচ্ছাকৃত অভিযোজন প্রয়োজন, যা এমন অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করবে যা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি মায়ানমারের সার্বভৌমত্বের প্রতি নীতিগত সমর্থন বজায় রাখবে।



অনসূয়া বসু রায় চৌধুরী
অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নেবারহুড ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ফেলো।

শ্রেয়া দাস অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ইন্টার্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Anasua Basu Ray Chaudhury

Anasua Basu Ray Chaudhury

Anasua Basu Ray Chaudhury is Senior Fellow with ORF’s Neighbourhood Initiative. She is the Editor, ORF Bangla. She specialises in regional and sub-regional cooperation in ...

Read More +
Shreya Das

Shreya Das

Shreya Das is an Intern at Observer Research Foundation. ...

Read More +