ভারত ত্রিনকোমালিতে ভূ-অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধির উপর মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে তার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থকে সূক্ষ্মভাবে উন্নত করার জন্য।
২২ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার এনার্জি মিনিস্টার কুমারা জয়কোডি ভারতের সঙ্গে ত্রিনকোমালি উন্নয়নের জন্য সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত উভয় দেশকে সংযুক্ত করার জন্য একটি সাবমেরিন পণ্য পাইপলাইনের প্রস্তাব করেছে এবং ত্রিনকোমালিতে ট্যাঙ্ক ফার্মের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি যৌথ কর্মী দলও পাঠাবে। ত্রিনকোমালিকে ভারত তার সংযোগ এবং কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার জন্য যে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করছে, এই উন্নয়ন তার মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে ভারত শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা করার পাশাপাশি তার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থকে সূক্ষ্মভাবে উন্নত করার জন্য ভূ-অর্থনীতির উপর মনোযোগ দিচ্ছে।
ভূ-রাজনীতি থেকে ভূ-অর্থনীতি
শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ত্রিনকোমালি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রাকৃতিক গভীর জল বন্দর। এর অবস্থান বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের উপর বৃহত্তর নিয়ন্ত্রণকে সহজতর করে, যা ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির জন্য তাদের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, বিশেষ করে জাপানের কাছে সিঙ্গাপুরের পতনের সঙ্গে সঙ্গে, এই শহরটি ব্রিটেনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যারিসন পয়েন্ট হয়ে ওঠে। ব্রিটেন তাদের নৌবহর টিকিয়ে রাখার জন্য ১০০টি তেল ট্যাঙ্কও তৈরি করেছিল, যার মধ্যে একটি ১৯৪২ সালে জাপানি বোমা হামলায় নষ্ট যায়। ১৯৫৭ সালে ব্রিটেন বন্দরের উপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ করার পর বৈদেশিক শক্তিগুলি দেশে একটি সম্ভাব্য নৌ ঘাঁটি স্থাপনের কথা বিবেচনা করছে।
ভারত এই অঞ্চলকে একটি জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং তার আর্থ-সামাজিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল (দ্রষ্টব্য সারণি ১), যদিও তারা সচেতন ছিল যে এর ব্যাপক সম্পৃক্ততা, বিশেষ করে বন্দরে, জাতীয়তাবাদী অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে পারে।
১৯৮১ সালে, প্রেসিডেন্ট জে.আর. জয়বর্ধনে ব্রিটিশ-নির্মিত পরিত্যক্ত তেল ট্যাঙ্ক খামারগুলিকে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে লিজ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু ভারতের উদ্বেগের কারণে অবশেষে এই পরিকল্পনাগুলি বাতিল করা হয়েছিল। ভারত দ্বীপদেশে পরিচালিত একটি ভয়েস অফ আমেরিকা সম্প্রচার কেন্দ্র এবং ত্রিনকোমালিতে মার্কিন জাহাজ ও বিমানবাহী বাহকদের পরিদর্শন নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিল। এ ভাবে ১৯৮৭ সালের ভারত-লঙ্কা চুক্তির মাধ্যমে ভারত শ্রীলঙ্কাকে ভারতের নিরাপত্তা বা স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকলাপের জন্য তার ভূখণ্ড ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করেছিল। চুক্তির পর ভারতীয় নৌবাহিনী দ্বীপের পূর্ব উপকূলে টহল দেওয়া শুরু করে এবং ভারতের শান্তিরক্ষা বাহিনী (আইপিকেএফ) কার্যক্রমে ত্রিনকোমালি বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাইরের দেশের শক্তিশালী উপস্থিতি থেকে বিরত রাখতে, ভারত ত্রিনকোমালিতে ৯৯টি তেল ট্যাঙ্ক খামার পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব দেয়।
তবে গৃহযুদ্ধ এবং ১৯৮৭ সালের চুক্তির নেতিবাচক ধারণার কারণে অগ্রগতি সীমিত ছিল। চুক্তিটি এখনও মূলত বহিরাগতদের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া হিসেবেই দেখা হয়। ২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কা ৯৯টি ট্যাঙ্ক ৩৫ বছরের জন্য লিজ দিতে রাজি হয়েছিল, কিন্তু ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান লঙ্কা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন ৯৯টি স্টোরেজ ট্যাঙ্কের মধ্যে মাত্র ১৫টি পরিচালনা করার কারণে অগ্রগতি ধীর ছিল। সর্বশেষ সঙ্কটের সময় ভারত আবার তেল ট্যাঙ্ক খামারগুলিকে আধুনিকীকরণ এবং ত্রিনকোমালি উন্নয়নের জন্য জোর দিয়েছিল। ভারত এই অঞ্চলকে একটি জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং তার আর্থ-সামাজিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল (দ্রষ্টব্য সারণি ১), যদিও তারা সচেতন ছিল যে এর ব্যাপক সম্পৃক্ততা, বিশেষ করে বন্দরে, জাতীয়তাবাদী অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে পারে।
সারণি ১. ত্রিনকোমালিতে ভারতীয় প্রকল্পগুলি
|
প্রকল্প/উদ্যোগ |
ক্ষেত্র |
অংশীদার |
ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ |
|
ত্রিনকোমালি তেল ট্যাঙ্ক ফার্মের |
জ্বালানি |
লঙ্কা আইওসি (ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান) এবং সিলন পেট্রোলিয়াম স্টোরেজ টার্মিনাল লিমিটেড |
সরবরাহ-শৃঙ্খল সেবা / স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ / আপস্ট্রিম ইনপুট চাহিদা (আনুষঙ্গিক সেবা, পরিবহণ, স্টোরেজ সংক্রান্ত ইনপুট) |
|
সাম্পুর সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প |
জ্বালানি |
সিলন ইলেকট্রিসিটি বোর্ড এবং ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন (এনটিপিসি) |
উপাদানের সরবরাহ শৃঙ্খল / স্থানীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ / গ্রিড ইন্টিগ্রেশন / প্রযুক্তিগত সেবা |
|
ভারত-ইউএই-শ্রীলঙ্কা ত্রিপাক্ষিক মউ, মূলত যৌথ ভাবে ত্রিনকোমালি উন্নয়নের জন্য |
অবকাঠামো/ বাণিজ্য/ লজিস্টিকস |
দুই সরকারের মধ্যে মউ |
বন্দর-ভিত্তিক বাণিজ্য / লজিস্টিকস চাহিদা / আঞ্চলিক সংযোগ |
|
শ্রীলঙ্কার পূর্ব প্রদেশের জন্য বহুমুখী অনুদান সহায়তার বিষয়ে মউ |
আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো |
দুই সরকারের মধ্যে মউ |
স্থানীয় জীবিকা / কমিউনিটি সেবা / গ্রামীণ উন্নয়ন |
উৎস: লেখকদের সঙ্কলন
ভূ-অর্থনীতি এবং সংযোগের কেন্দ্রবিন্দু
ভূ-অর্থনীতিতে ভারতের কেন্দ্রবিন্দু হল এই অঞ্চলে ব্যবসা, বাণিজ্য এবং সংযোগ বৃদ্ধির বৃহত্তর কৌশলের একটি অংশ। এটি তিনটি উদ্দেশ্যে কাজ করে: এটি ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে; চিনের বিরুদ্ধে এবং এই অঞ্চলে তার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে; প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্থিতিশীলতা তৈরি করতে সহায়তা করবে। অন্য কথায় বললে, ভারত আন্তঃনির্ভরতা এবং বাজার প্রদানের মাধ্যমে যৌথ স্বার্থ তৈরি করছে। সুতরাং, ভারতের সঙ্গে বা ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করার সুবিধে এবং অসুবিধে… দুই-ই আছে। এই সুবিধে ক্ষমতায় যে-ই থাকুক না কেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভবিষ্যদ্বাণীযোগ্যতা এবং স্থিতিশীলতাও তৈরি করবে। এই ভাবে ভারত ত্রিনকোমালি হয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সংযোগ এবং আন্তঃনির্ভরতাকে তার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থকে সূক্ষ্ম ভাবে বৃদ্ধি করার একটি উপায় হিসেবে দেখে, বিশেষ করে যখন ভারত মহাসাগর ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার সাক্ষী।
তৃতীয় দেশের উপস্থিতি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের দ্বিমুখী প্রবাহ শ্রীলঙ্কার হাইড্রোকার্বন খাতে ভারতীয় আধিপত্য সম্পর্কে উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করবে।
তেল খামারের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এরকমই একটি বড় পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর উভয় দেশই যৌথ উদ্যোগে ৬১টি ট্যাঙ্ক তৈরিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্মত হয়েছে; বাকি ২৪টি শ্রীলঙ্কার সিলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন দ্বারা পরিচালিত হবে। ত্রিনকোমালিতে ট্যাঙ্ক ফার্মের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করার জন্য ভারত একটি যৌথ কর্মী দলও পাঠাবে। এর পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশে একটি দ্বিমুখী পাইপলাইনও যুক্ত করা হবে, যা বছরে আনুমানিক ৩.৫ মিলিয়ন টন তেল বা পেট্রোলিয়াম বহন করবে। এটি পণ্যগুলিকে উভয় দিকে স্থানান্তরিত করার সুযোগ দেবে, শ্রীলঙ্কার চাহিদা ভারতের শোধনাগার শৃঙ্খলের সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং আন্তঃনির্ভরতা তৈরি করবে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি আরও ব্যবসায়িক সুযোগ অন্বেষণ এবং বহু-পণ্য পাইপলাইন স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তৃতীয় দেশের উপস্থিতি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের দ্বিমুখী প্রবাহ শ্রীলঙ্কার হাইড্রোকার্বন খাতে ভারতীয় আধিপত্য সম্পর্কে উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করবে।
শ্রীলঙ্কার জন্য, পূর্ব-পশ্চিম শিপিং লেনের মধ্যে ত্রিনকোমালির কৌশলগত অবস্থান এটিকে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাইড্রোকার্বনের ভাণ্ডার হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে। এই ভাণ্ডার সংক্রান্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভারতের অংশীদারিত্ব তাই অপরিহার্য। চেন্নাই থেকে প্রায় ২৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত ত্রিনকোমালি একটি আদর্শ বিন্দু, যা শ্রীলঙ্কার জ্বালানি ও অবকাঠামোগত চাহিদাগুলিকে ভারতের নাগাপট্টিনাম এবং এন্নোর শোধনাগারের সঙ্গে সংযুক্ত করে। তা ছাড়া ভারত ও শ্রীলঙ্কা জ্বালানি-গ্রিড সংযোগ নিয়ে আলোচনা করছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দুই দেশ জেলায় সামপুর সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। সিলন বিদ্যুৎ বোর্ড এবং এনটিপিসি লিমিটেডের মধ্যে এই ৫০:৫০ যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্য ১২০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করা, যার প্রাথমিক লক্ষ্য হল ৫০ মেগাওয়াট।
অবশেষে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কা পূর্ব প্রদেশের জন্য বহু-ক্ষেত্রীয় অনুদান সহায়তার বিষয়ে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষি খাতে ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভারত শ্রীলঙ্কাকে প্রায় ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করবে, যা জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বৃদ্ধির জন্য নয়াদিল্লির প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে। জ্বালানি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি এই উদ্যোগগুলি অঞ্চলের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে এবং মৌলিক ও সামাজিক অবকাঠামো প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পশ্চাদপদ সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে।
সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ
সর্বশেষ প্রতিশ্রুতিগুলি দর্শায় যে, বন্দর নিজেই ভারতের পুনর্নবীকরণকৃত কর্মকাণ্ডের তাৎক্ষণিক কেন্দ্রবিন্দু নয়। এটি মূলত দেশে জাতীয়তাবাদী অনুভূতির উদ্রেক এড়ানোর জন্য। পশ্চাদপদ সংযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক দৃশ্যপটকে রূপান্তরিত করতে পারে। এই সংযোগগুলি পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং যদি তাদের সুবিধাগুলি ব্যাপক ভাবে ভাগ করে নেওয়া হয়, তবে সেগুলি বন্দরের সম্ভাব্য উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।
পশ্চাদপদ সংযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক দৃশ্যপটকে রূপান্তরিত করতে পারে।
ত্রিনকোমালির প্রতি ভারতের আশাবাদ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহণের স্থিতিশীল বৃদ্ধির পূর্বাভাসের সঙ্গেও মিলে যায় (দ্রষ্টব্য সারণি ২)। এটি হাম্বানটোটা এবং কলম্বোতে চিনা প্রভাবের বিরুদ্ধে কেবল একটি পার্শ্ববর্তী বন্দর বা কেবল পাল্টা নয়, বরং একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে এর উত্থানের উপর জোর দেয়। এই প্রবণতাগুলি শ্রীলঙ্কার রফতানি এবং সরবরাহকে ভারতের পূর্ব শিল্প করিডোরের সঙ্গে সংযুক্ত করে, এমন নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল জুড়ে বন্দরের সম্ভাবনা প্রকাশ করে। সুতরাং, ভারতের মডেলটি চিনের ঋণ সংক্রান্ত পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত এবং কৌশলগত বিকল্প হিসাবে উপস্থিত হয়। হাম্বানটোটার বিপরীতে - যেখানে চিনা প্রকল্পগুলি সম্পর্কে ঋণের বিনিময় এবং অসম নির্ভরতা তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে - ভারতের মনোযোগ রয়েছে শ্রীলঙ্কাকে তার উৎপাদন শৃঙ্খলে অন্তর্ভুক্ত করার উপর, অসম সম্পর্ককে আন্তঃনির্ভরতায় রূপান্তর করার উপর।
সারণি ২. ত্রিনকোমালি বন্দরের পূর্বাভাস
|
পণ্য |
একক |
২০১৬ |
২০২৫ |
২০৩০ |
২০৫০ |
|
কয়লা |
’০০০ টন |
১০৩ |
১২০ |
১২০ |
১২০ |
|
শস্য |
’০০০ টন |
৮৬৭ |
১৪৫৭ |
১,৫০৯ |
১,৭০৯ |
|
ক্লিঙ্কার |
’০০০ টন |
১,৭১২ |
২,২৯৭ |
২,৫৬০ |
৩,১১৩ |
|
পরিশোধিত তেল |
’০০০ টন |
২৩৮ |
১,০৬৪ |
৫০৭ |
১,৩৫৮ |
|
ক্রুজ/ভ্রমণ তরী |
জাহাজ/ভেসেল |
৪ |
৭ |
১২ |
২১ |
|
কন্টেনার |
’০০০ টিইইউ |
- |
- |
২৬ |
১১২ |
|
সার |
’০০০ টন |
- |
১,৫৩৬ |
১,৫৩৬ |
১,৫৩৬ |
|
বায়োমাস |
’০০০ টন |
- |
৩২৫ |
৫০০ |
৫০০ |
|
ইলমেনাইট |
’০০০ টন |
- |
৭০০ |
৭০০ |
৭০০ |
|
এলএনজি |
’০০০ টন |
- |
- |
- |
- |
উৎস: ত্রিনকোমালি বন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনা | মার্চ ২০১৯, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক
তবুও, পশ্চাদপদ সংযোগ তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা যথেষ্ট প্রতিকূলতার সম্মুখীন। এই অঞ্চলে জাতিগত উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সর্বোপরি, কলম্বোর সুরক্ষিত অর্থনীতি শিল্পগুলিকে বহিরাগত একীকরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী করে তুলেছে এবং প্রকল্প অনুমোদন ও সহযোগিতা ধীর করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি, শ্রীলঙ্কার রাজনীতিকরণ, জাতীয়তাবাদ এবং প্রকল্প বাতিলের রেকর্ড – যেমনটা সম্প্রতি মান্নার এবং পুনেরিনের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে - একটি নেতিবাচক নজির স্থাপন করবে। তৃতীয় কোনও দেশের সঙ্গে ভারত-শ্রীলঙ্কার সহযোগিতায় - তা সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা রাশিয়ার সঙ্গেই হোক না কেন - স্থবিরতার ইতিহাস রয়েছে। অতএব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে সাফল্যের লক্ষ্যে ভারত এই চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সতর্ক থাকবে।
ত্রিনকোমালি আজ কেবল একটি বন্দর বা দৃশ্যমান ভূ-রাজনৈতিক সম্পদ নয়। ভারতের জন্য এটি নৈকট্যকে অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত করা এবং কৌশলগত অঞ্চলে তার উপস্থিতি সূক্ষ্ম ভাবে বৃদ্ধি করার একটি সুযোগ উপস্থাপন করে; এবং শ্রীলঙ্কার জন্য এটি সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সঙ্কট সহযোগিতামূলক পুনর্গঠনের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে এবং শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রেখে আঞ্চলিক নেতৃত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়ে ভারতের সতর্কতার সঙ্গে ভারসাম্য স্থাপন করা সমবায় আঞ্চলিকতার জন্য একটি নজির স্থাপন করতে পারে। কিন্তু ভারত মহাসাগরে বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির দরুন নয়াদিল্লি এবং কলম্বো কতক্ষণ কেবল ত্রিনকোমালি অঞ্চলের পশ্চাদপদ সংযোগের উপর মনোনিবেশ করতে পারে, তা দেখার হবে।
আদিত্য গৌদারা শিবমূর্তি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের নেবারহুড স্টাডিজ ইনিশিয়েটিভের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
উদিতি লুনাওয়াত অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Aditya Gowdara Shivamurthy is an Associate Fellow with the Strategic Studies Programme’s Neighbourhood Studies Initiative. He focuses on strategic and security-related developments in the South Asian ...
Read More +
Uditi Lunawat is a Research Intern at the Observer Research Foundation. ...
Read More +