Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 08, 2026 Updated 0 Hours ago

অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল সংযোগ এবং আঞ্চলিক কূটনীতিকে সমন্বিত করার মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বাণিজ্য সংযোগের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

সীমান্ত থেকে কেন্দ্রবিন্দুতে: উত্তর-পূর্ব ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক সুযোগ

ঐতিহাসিকভাবে একটি সীমান্ত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত উত্তর-পূর্ব ভারত ক্রমশ ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিগুলির নৈকট্য, সমৃদ্ধ সম্পদ ভান্ডার, এবং বিকাশশীল বাণিজ্য করিডোরের কারণে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি বৃহত্তর আঞ্চলিক একীকরণে সহায়তা করার জন্য উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে। ভারতের আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বাণিজ্য উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য এর একটি স্বতন্ত্র ভূ-কৌশলগত ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে, কারণ এটি পাঁচটি দেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে — বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, চিন ও মায়ানমার — যা দক্ষিণ এশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী একটি  প্রাকৃতিক করিডোরে পরিণত করে। এটি বঙ্গোপসাগরেরও নিকটবর্তী, যা এমন একটি সামুদ্রিক অঞ্চল যার মধ্যে দিয়ে বিশ্বের কয়েকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ গিয়েছে।

এই সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কয়েক দশকের স্বল্প বিনিয়োগ, সংঘাত এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা এই অঞ্চলটিকে অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে রেখেছে। ২০১৪ সালে চালু হওয়া ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ পরিকাঠামো, কূটনীতি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বের সম্ভাবনাকে উন্মোচন করার একটি কৌশলগত অঙ্গীকারের ইঙ্গিত দেয়। তারপর থেকে এক দশক কেটে গিয়েছে, এবং এখন ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক কাঠামোর মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা এবং বৃদ্ধি, সংযোগ ও সহযোগিতার চালিকাশক্তি হিসেবে এর ভূমিকা উন্মোচনের জন্য নীতিগত আবশ্যকতাগুলির রূপরেখা তৈরি করা প্রয়োজন।

বাণিজ্য ও আঞ্চলিক বৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে পরিকাঠামো

উত্তর-পূর্বকে জাতীয় বাজার এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল উভয়ের সঙ্গে একীভূত করার জন্য বহুমুখী পরিকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কিছু কৌশলগত প্রকল্প এই উদ্দেশ্য পূরণ করে, যার মধ্যে রয়েছে: কালাদান বহুমুখী ট্রানজিট পরিবহণ প্রকল্প, যা মিজোরামকে মায়ানমারের সিত্তওয়ে বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করে; ভারত-মায়ানমার-তাইল্যান্ড ত্রিমুখী মহাসড়ক, যা তাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়; আগরতলা-আখাউড়া রেল প্রকল্প, যা ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বৃদ্ধি করে; পাশাপাশি ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহণের সুবিধার্থে ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস)-এর আধুনিকীকরণ এবং ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদীর মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ জলপথ, যা সাশ্রয়ী পরিবহণ ব্যবস্থা প্রদান করে এবং যার আধুনিকীকরণ প্রয়োজন;‌ আর আছে  ডিমাপুর-জুবজা, ইম্ফল-মোরে ও এনএইচ-৩৭-এর মতো প্রকল্পসমূহ, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলির একীকরণকে সম্ভব করে তুলছে।

দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যতের বিনিয়োগে অবশ্যই জলবায়ু-সহনশীলতা, ঢাল-স্থিতিশীলকরণ প্রকৌশল, বন্যা-সহনশীল নকশা এবং ইএসজি-সংযুক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।



উত্তর-পূর্বের ভূ-প্রকৃতি এবং জলবায়ুগত পরিস্থিতির জন্য এমন পরিকাঠামো প্রয়োজন যা দুর্যোগ-সহনশীল এবং জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। সড়ক, রেল এবং অভ্যন্তরীণ জলপথসহ প্রস্তাবিত অনেক বহুমুখী ও সংযোগ প্রকল্প এমন সব অঞ্চলের উপর দিয়ে গিয়েছে, যেগুলির বৈশিষ্ট্য হল ভঙ্গুর পাহাড় ও প্লাবনভূমি এবং উচ্চ ভূকম্পন প্রবণতা, যা এই অঞ্চলগুলিকে ভূমিধস, বন্যা এবং ভূমিকম্পের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, কালাদান প্রকল্প এবং এনএইচ-৩৭ করিডোর বারবার বর্ষার কারণে বিঘ্নের সম্মুখীন হয়, অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলিতে বাঁধ সুরক্ষার এবং নদীখাত স্থিতিশীল করার প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যতের বিনিয়োগে অবশ্যই জলবায়ু-সহনশীলতা, ঢাল-স্থিতিশীলকরণ প্রকৌশল, বন্যা-সহনশীল নকশা এবং ইএসজি-সংযুক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বাণিজ্য পথগুলিতে বিঘ্নের ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত বিকল্প ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

তবে, প্রতিষ্ঠানগুলি অদক্ষ হলে সেরা পরিকাঠামোও ব্যর্থ হয়। নির্বিঘ্ন বাণিজ্য সংযোগের জন্য সীমান্ত শুল্ক এবং বন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকীকরণ অপরিহার্য। এটি অর্জন করার জন্য কয়েকটি কাজ করা প্রয়োজন:‌ ডিজিটাল ক্লিয়ারেন্স, ইডিআই সিস্টেম এবং ওয়্যারহাউজিংয়ের মাধ্যমে ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস)-এর উন্নতি সাধন করা; প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) এবং টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড (টিবিটি) মানদণ্ডের সমন্বয় সাধন করা; ট্রাস্টেড ট্রেডার প্রোগ্রাম এবং সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স বাস্তবায়ন করা; এবং স্থানীয় সংস্থাগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নির্বিঘ্ন সীমান্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।

অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ

ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চল যথেষ্ট অগ্রগতি করেছে, যদিও এখনও গভীর ব্যবধান রয়ে গিয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ, এই অঞ্চলের প্রায় ৪৬,০০০ গ্রামের মধ্যে প্রায় ৪২,০০০ গ্রামে মোবাইল কভারেজ রয়েছে এবং চলতি ভারতনেট ও ইউনিভার্সাল সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ড (ইউএসওএফ) কর্মসূচির অধীনে প্রায় ৪১,০০০ গ্রামে ৪জি সংযোগ পৌঁছে গিয়েছে। তবে, ব্রডব্যান্ডের প্রসার এবং গড় ইন্টারনেট গতি জাতীয় গড়ের চেয়ে পিছিয়ে আছে, এবং বেশ কিছু পাহাড়ি জেলা ও সীমান্তবর্তী ব্লকে এখনও নেটওয়ার্কের অস্থিতিশীলতা ও কম ডিজিটাল সাক্ষরতার সমস্যা বিদ্যমান। এই অসামঞ্জস্যগুলির অর্থ হল, পরিকাঠামো বিদ্যমান থাকলেও ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-গভর্নেন্স এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ন্যায়সঙ্গত অংশগ্রহণ সীমিতই থেকে যাচ্ছে।


উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই)-এর সম্প্রসারণ ঘটালে তা ইউপিআই, ডিজিলকার, আধার এবং ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স (ওএনডিসি)-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে ব্যবধান পূরণে সহায়তা করতে পারে, যেগুলিকে আর্থিক ও পরিষেবা অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন করার জন্য রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত করা উচিত।



অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, পরিষেবা প্রদান এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে একীভূত হওয়ার জন্য ডিজিটাল সংযোগ ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই)-এর সম্প্রসারণ ঘটালে তা ইউপিআই, ডিজিলকার, আধার এবং ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স (ওএনডিসি)-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে ব্যবধান পূরণে সহায়তা করতে পারে, যেগুলিকে আর্থিক ও পরিষেবা অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন করার জন্য রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত করা উচিত। ওএনডিসি-র সঙ্গে সংযুক্ত রাজ্য-সমর্থিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) এবং কারিগরদের, বিশেষ করে নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলিকে, শক্তিশালী করতে পারে। অসম ও ত্রিপুরার মতো রাজ্যগুলিতে টিয়ার-২ ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ ক্লাউড পরিষেবাগুলিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং সুরক্ষিত শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারে;‌ অন্যদিকে কৃষি-প্রযুক্তি, ভাষা প্রযুক্তি এবং শিক্ষা-প্রযুক্তির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এআই-দক্ষতা কেন্দ্রগুলি স্থানীয় উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

সংযোগকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জীবিকায় রূপান্তর

বিপুল প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের অন্যতম সর্বনিম্ন মাথাপিছু আয় এবং সীমিত শিল্পায়ন অব্যাহত রয়েছে। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কাজে নিযুক্ত, তবুও ক্ষুদ্র জমির মালিকানা, দুর্বল সংযোগ ব্যবস্থা এবং দুর্বল মূল্য শৃঙ্খলের কারণে উৎপাদনশীলতা কম। উত্তর-পূর্ব গ্রামীণ জীবিকা প্রকল্প (এনইআরএলপি) এবং উত্তর-পূর্ব বিশেষ পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (এনইএসআইডিএস)-এর মতো প্রকল্পগুলি গ্রামীণ ঋণের উন্নতি করেছে, নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোকে (এসএইচজি) শক্তিশালী করেছে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ গঠনে সহায়তা করেছে, কিন্তু গ্রামীণ ও সীমান্ত অঞ্চলের বিশাল অংশ আনুষ্ঠানিক বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়ে গিয়েছে। তাই, সংযোগ ব্যবস্থাকে বাস্তব আয় বৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করার জন্য করিডোর উন্নয়নের সঙ্গে জীবিকাকে একীভূত করা অপরিহার্য।


করিডোর-ভিত্তিক উন্নয়নে বাঁশ, চা ও উদ্যানপালনের মতো আঞ্চলিক পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল ও লজিস্টিক পার্ক, এবং সেইসঙ্গে আদিবাসী-মালিকানাধীন ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং তাঁত ক্লাস্টারকে একীভূত করা উচিত, যা ডিপিআই-সক্ষম বাণিজ্য, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দ্বারা সমর্থিত হবে।



পরিকাঠামোকে অবশ্যই জীবিকায় রূপান্তরিত করতে হবে। করিডোর-ভিত্তিক উন্নয়নে বাঁশ, চা ও উদ্যানপালনের মতো আঞ্চলিক পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল ও লজিস্টিক পার্ক, এবং সেইসঙ্গে আদিবাসী-মালিকানাধীন ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং তাঁত ক্লাস্টারকে একীভূত করা উচিত, যা ডিপিআই-সক্ষম বাণিজ্য, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দ্বারা সমর্থিত হবে। এই পদ্ধতির লক্ষ্য হল অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক পুঁজিকে কাজে লাগানো। এছাড়াও, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, সংগ্রহ এবং পরিবেশগত সুরক্ষার একীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর-পূর্বের মুহূর্ত

বাণিজ্য করিডোরের জন্য স্থিতিশীল কূটনৈতিক পরিকাঠামো প্রয়োজন। ভারতের উচিত বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মগুলিকে শক্তিশালী করা, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরীয় বহু-ক্ষেত্রভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমস্টেক) এবং বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন)-এর মতো জোটগুলিকে, যেখানে পরিবহণ, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে বাস্তবসম্মত সহযোগিতার উপর জোর দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মধ্যে করিডোর ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দেশীয় মালিকানাকে দুর্বল না করে প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাহ্যিক অংশীদারিকেও কাজে লাগানো উচিত। পরিকাঠামো, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং কূটনীতিতে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সহযোগিতার একটি কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।


ভারতের উচিত বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মগুলিকে শক্তিশালী করা, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরীয় বহু-ক্ষেত্রভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমস্টেক) এবং বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন)-এর মতো জোটগুলিকে, যেখানে পরিবহণ, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে বাস্তবসম্মত সহযোগিতার উপর জোর দেওয়া হবে।



ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত উত্তর-পূর্বাঞ্চল গড়ে তুলতে পরিকাঠামো, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং জনশক্তি ক্ষমতায়ন জুড়ে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ প্রয়োজন। সীমান্ত শহর এবং সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ অঞ্চল জুড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভৌত সরবরাহ ব্যবস্থা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং অর্থনৈতিক করিডোর পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় সাধনে পদক্ষেপ করা উচিত। সুনির্দিষ্ট দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, উদ্যোগের মালিকানা মডেল এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় জনসম্প্রদায়কে অবশ্যই ক্ষমতায়িত করতে হবে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (‌ফিকি), কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস কোম্পানিজ (ন্যাসকম)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্প সংগঠনগুলিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শাখা প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করা অপরিহার্য, যা ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বি২বি) সংযোগ স্থাপন এবং আঞ্চলিক উদ্যোগ ক্লাস্টারকে উৎসাহিত করতে পারে। ভবিষ্যৎ-কেন্দ্রিক ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সক্ষমতা তৈরি করতে এবং একটি শক্তিশালী কর্মসংস্থান ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপনের জন্য এআই-সক্ষম টিয়ার-২ ডেটা সেন্টার ও আঞ্চলিক প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়াও, রাজ্য সরকারগুলিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতে স্টার্টআপগুলির প্রসারের জন্য ইনকিউবেশন হাব এবং মেন্টরিং নেটওয়ার্ককে সমর্থন করতে হবে। সম্মিলিতভাবে, এই উদ্যোগগুলি উত্তর-পূর্ব ভারতকে একটি স্থিতিস্থাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কৌশলগতভাবে সংযুক্ত কেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে পারে, যা ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে এর পূর্ণ সম্ভাবনাকে উপলব্ধ করবে।



ত্রিদিব ভট্টাচার্য অ্যাস্ট্রামাইন্ড কনসাল্টিং-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান উপদেষ্টা।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.