Published on Jan 21, 2026 Updated 0 Hours ago

ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীরা মানবিক সহায়তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং কৌশলগত নির্ভরতা সহ্য করাএই দুইয়ের মাঝে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের মধ্যে দিয়ে চলছে।

সহায়তা থেকে প্রভাব: দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল প্রসার

বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ শৃঙ্খলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হল বিশ্বের ফার্মাসি হিসেবে ভারতের উত্থান, যেখানে ২০২৫ অর্থবর্ষে ফার্মাসিউটিক্যাল ফতানি ৩০.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বার্ষিক . শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এটি ভারতকে পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা বিশ্বের জেনেরিক ওষুধ ফতানির ২০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক টিকা সরবরাহে আনুমানিক ৬০ শতাংশ অবদান রাখে। তবে এই চিত্তাকর্ষক পরিসংখ্যানের বাইরেও দেখা জরুরি, যা কৌশলগত পারস্পরিক নির্ভরতার এক জটিল জাল উন্মোচন করে এবং যা বাণিজ্যিক আদান-প্রদানের বাইরেও বিস্তৃত বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে এটি বিশেষ ভাবে স্পষ্ট।

ফার্মাসিউটিক্যাল ফতানিতে ভারতের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য

উন্নয়নশীল দেশগুলি মধ্যে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের পরিধি নজিরবিহীন। এখানে ১০,৫০০টিরও বেশি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মার্কিন খাদ্য ওষুধ প্রশাসন (ইউএস-এফডিএ) অনুমোদিত কারখানার সংখ্যা সর্বোচ্চ, যা ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন ক্ষমতাকে বিশ্ব বাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী করে তুলেছে। ভারতের ফতানি ভাণ্ডারে ওষুধ ফর্মুলেশন এবং বায়োলজিক্যাল পণ্যের প্রাধান্য রয়েছে, যা মোট ফার্মাসিউটিক্যাল ফতানির প্রায় ৭৫. শতাংশ এর পরে রয়েছে বাল্ক ড্রাগ মধ্যবর্তী পণ্য, যা ১৬ শতাংশ। এই শিল্পে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার ক্ষেত্রে প্রধান কারণ হল সাশ্রয়ী উৎপাদন ক্ষমতা। ভারত এমন উৎপাদন ব্যয়ের সুবিধা ভোগ করে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম এবং যা দেশটিকে আমেরিকান বাজারে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের ৪০ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম করে।

ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল কূটনীতি কোভিড-১৯ অতিমারি সময় ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি চালু হওয়া ভ্যাকসিন মৈত্রীউদ্যোগের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছিল।

ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল কূটনীতি কোভিড-১৯ অতিমারি সময় ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি চালু হওয়া ভ্যাকসিন মৈত্রীউদ্যোগের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছিল। এই কর্মসূচিটিকে মূলত মানবিক সহায়তা হিসেবে দেখা হয়, যার মাধ্যমে ৯৮টি দেশকে ১৬২. মিলিয়ন ডোজ টিকা সরবরাহ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪. মিলিয়ন ডোজ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মোট সরবরাহের ২৯.৪৪ শতাংশ ভারতের দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলি পেয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ফার্মাসিউটিক্যাল নির্ভরতা

ভারতের দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলিতে প্রচলিত ফার্মাসিউটিক্যাল নির্ভরতা অপ্রতিসম সম্পর্কের একটি স্পষ্ট চিত্রকেই তুলে ধরে। সবচেয়ে তীব্র নির্ভরতা দেখা যায় নেপালে, যা তার সীমিত উৎপাদন ক্ষমতা এবং ভূ-বেষ্টিত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কার্যত তার সমস্ত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ভারত থেকে আমদানি করে। উপরন্তু, একটি বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে এবং এসএএফটিএ- (দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) নির্দেশিকা অনুসারে, ভারত নেপালকে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করে, যা নেপালকে এই ধরনের পণ্যের বৃহত্তম আমদানিকারক করে তুলেছে। ভুটানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায় কারণ দেশটি ভারত থেকে সব ধরনের ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী আমদানি করে। এর ছোট বাজারের আকার এবং উৎপাদন পরিকাঠামোর অভাবের কারণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন অর্থনৈতিক ভাবে অলাভজনক, যার ফলে অপরিহার্য ওষুধ এবং ভ্যাকসিনের জন্য ভারতীয় আমদানির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। নেপাল কর্তৃক আমদানিকৃত ওষুধের বেশির ভাগই গুরুত্বপূর্ণ ক্যানসারে ওষুধ এবং অন্য দিকে ভুটান নিউরোসাইকিয়াট্রির ওষুধের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীল।

ভারতের দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলিতে প্রচলিত ফার্মাসিউটিক্যাল নির্ভরতা অপ্রতিসম সম্পর্কের একটি স্পষ্ট চিত্রকেই তুলে ধরে।

এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি আরও জটিল পরিস্থিতি প্রদর্শন করে। এখানে ১৯৮০-এর দশক থেকে স্থানীয় চাহিদার ৯৮ শতাংশ দেশীয় উৎপাদন দ্বারা পূরণ করা হয়েছে; তবে অ্যাকটি ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস-এর (এপিআই) জন্য ভারতের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা রয়ে গিয়েছে ৮০ শতাংশেরও বেশি এপিআই ভারত থেকে আমদানি করা হয়। তাই দেশীয় উৎপাদন সুবিধাগুলোর বিশ্বব্যাপী ১৫০টিরও বেশি দেশে সরবরাহ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পগুলি অপরিহার্য ওষুধ উৎপাদনের জন্য ভারতীয় এপিআই-এর উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল।

ছাড়াও, শ্রীলঙ্কার ফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহ শৃঙ্খল জেনেরিক ওষুধ এবং টিকার জন্য ভারতের উপর মাঝারি কিন্তু সামগ্রিক ভাবে উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা প্রদর্শন করে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ২০২৫ সালের একটি মূল্যায়ন অনুসারে, শ্রীলঙ্কার ওষুধ সংগ্রহ বিতরণ ব্যবস্থায় গুরুতর দুর্বলতাগুলি তুলে ধরা হয়েছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করার প্রয়োজনীয়তাকে দর্শায় শ্রীলঙ্কা কর্তৃক আমদানিকৃত ওষুধের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত কার্ডিওভাসকুলার ওষুধ দ্বারা নির্মিত

এই প্রেক্ষাপটে, কথা উল্লেখ করা আবশ্যক যে, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের জন্য ভারতের উপর একক নির্ভরতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা তৈরি করে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক হল সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত। প্রথমত, যেহেতু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল, তাই সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর যে কোন অপ্রত্যাশিত চাপ, যেমন আকস্মিক ব্যাঘাত বা ফতানি নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন, এই দেশগুলি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে এবং ফলস্বরূপ তাদের জনগণকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করার ক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, মান নিয়ন্ত্রণেরও একটি বিষয় রয়েছে কারণ সম্প্রতি ভারতীয় নির্মাতাদের তৈরি দূষিত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য নিয়ে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত চোখের ড্রপ এবং গাম্বিয়ায় শিশুদের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত কাশির সিরাপের ঘটনা কথা মনে রাখা জরুরি, যা এই ধরনের সম্পূর্ণ নির্ভরতার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলিকে তুলে ধরে।

ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের জন্য ভারতের উপর একক নির্ভরতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা তৈরি করে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক হল সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত।

কৌশলগত সুবিধা এবং আঞ্চলিক আধিপত্য

ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ফতানি কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থ পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক বিশ্লেষক এটিকে কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। উপরে উল্লেখিত ভ্যাকসিন মৈত্রী উদ্যোগটি এই দ্বৈততার একটি উদাহরণ ছিল, যা প্রমাণ করে যে, ভারত এই উদ্যোগটি কেবল একটি জনহিতৈষী আঞ্চলিক নেতা হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি বাড়ানোর জন্যই নয়, বরং কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের জন্যও ব্যবহার করেছিল। কোভিড-১৯ অতিমারি সময় ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের টিকা ফতানি আকস্মিক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলি স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুতর দুর্বলতাগুলি প্রকাশ করে দেয়। এই সিদ্ধান্ত ভারতের দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীদের একটি অচলাবস্থার মধ্যে ফেলে দেয় কারণ তারা তখন তাদের টিকাদান কর্মসূচির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ছিল। এটি তাদের বিকল্প সরবরাহকারী, প্রধানত চিনে দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করে, যা প্রমাণ করে যে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল আধিপত্য বাণিজ্যের বাইরেও বিস্তৃত এবং এটি সক্রিয় ভাবে আঞ্চলিক স্বাস্থ্য স্থিতিস্থাপকতা ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করে।

এই সমস্ত ঘটনা ভারত চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটছিল, যা চি-ভারত সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটিয়েছিল। তাই ভারতের টিকা রফতানি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কেবল জনস্বাস্থ্যগত বিবেচনাই ছিল না, বরং এর গভীর ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্যও ছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চি ১২৩টি দেশে . বিলিয়ন ডোজ টিকা সরবরাহ করেছিল (হয় কাঁচামাল বা নির্মিত ডোজ হিসেবে), যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং নেপালে গিয়েছিল। এই স্থগিতাদেশের প্রভাব ছিল তিনগুণ। প্রথমত, এটি আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল কূটনীতির ভঙ্গুরতা প্রকাশ করে। দ্বিতীয়ত, এটি দেখায় যে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে মানবিক প্রতিশ্রুতিও ব্যর্থ হতে পারে, যা কোন বাহ্যিক সরবরাহকারীর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকিকে তুলে ধরে। তৃতীয়ত, এটি বৈশ্বিক জনপণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে চিনকে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত পরিস্থিতিকে নতুন রূপ দেয়।

ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ফতানি কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থ পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক বিশ্লেষক এটিকে কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখেন।

আগামী দিনের পথ

এই বিশ্লেষণটি ভারত এবং তার দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলি জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রভাব তুলে ধরার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হল, তার বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং একটি আঞ্চলিক নেতা ওষুধ পণ্যের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে তার ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। ঙ্কটকালে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতকে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা তার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করবে; অতিমারির সময় টিকা রফতানি সাময়িক ভাবে স্থগিত করার কারণে এই বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি জন্য ওষুধ পণ্যের সরবরাহের উৎস বহুমুখী করা এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, কৌশলগত দুর্বলতাগুলি প্রশমিত করার জন্য আঞ্চলিক উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। ওষুধ উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য স্থানীয় নির্মাতাদের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ মেটানো ওষুধ উৎপাদনে স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাশী অন্যান্য দেশের জন্য অনুকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে কাজ করে। তবে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা অপ্রতুল বলেও প্রমাণিত হতে পারে। এই নিবন্ধে শুধু ওষুধ উৎপাদন নয়, বরং নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং প্রযুক্তি আত্মীকরণের ক্ষেত্রেও একটি সমন্বিত আঞ্চলিক পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার পর জোর দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ইতিমধ্যেই বিদ্যমান ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রেগুলেটরি নেটওয়ার্ক (এসইএআরএন), যেখানে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা-সহ ১১টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। এই ধরনের মঞ্চগুলিকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি গুণমানের সমস্যা কমাতে, নিরাপদ ওষুধের সহজলভ্যতা ত্বরান্বিত করতে এবং সম্মিলিত ভাবে প্রযুক্তি হস্তান্তরে জড়িত হতে পারে, যা তাদের ওষুধ খাতের স্বায়ত্তশাসনকে বাড়িয়ে তুলবে।

ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হল, তার বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং একটি আঞ্চলিক নেতা ওষুধ পণ্যের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে তার ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলি মধ্যে ওষুধ খাতে স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলার জন্য দাতা-গ্রহীতা দ্বৈততার ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব, স্বায়ত্তশাসন এবং পারস্পরিক নির্ভরতার একটি অংশীদারিত্বমূলক মডেলের দিকে অগ্রসর হওয়া অপরিহার্য। এর জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাই নয়, বরং স্বচ্ছতা, সমতা এবং স্বাস্থ্য সার্বভৌমত্বে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিও প্রয়োজন। একমাত্র এই ধরনের কৌশলের মাধ্যমেই দক্ষিণ এশীয় দেশগুলি নিজেদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বাহ্যিক ধাক্কার প্রতি নিজেদের দুর্বলতা কমাতে পারবে।

 


অনসূয়া বসু রায় চৌধুরী অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো

শুভাঙ্গী মুখার্জি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ইন্টার্ন

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.