-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
ভূমিকা - ফরাসি নির্বাহী বিভাগের উভয় সঙ্কট
২০২২ সালের বসন্তে এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পুনঃনির্বাচনের পর ফ্রান্সে স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার প্রতি প্রত্যাশা পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং কোভিড-১৯-এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব থেকে বিপর্যস্ত হওয়ার পর ফরাসিরা পরিবর্তনের জন্য ভোট দেননি। ফলস্বরূপ, একটি সংক্ষিপ্ত ও নিরুত্তাপ প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ খুব বেশি আড়ম্বর ছাড়াই দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য শপথ গ্রহণ করেন এবং অন্য দিকে ন্যাশনাল র্যালির কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী মেরিন ল প্যাঁ আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ৪৫ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করেন।
তা সত্ত্বেও, দেশ এবং বৃহত্তর ইউরোপ যে ‘বহুমুখী সঙ্কটের’ সম্মুখীন ছিল, তা খুব দ্রুত ও অপ্রত্যাশিত উপায়ে প্রকাশ্যে আসে। যেহেতু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সাধারণত পরপর অনুষ্ঠিত আইনসভা নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বিত থাকে, তাই রাষ্ট্রপতি সংসদীয় জোট প্রায়শই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির জনপ্রিয়তা থেকে উপকৃত হয় এবং তিনি সরকার পরিচালনার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন। তবে ২০২২ সালে ফরাসি ভোটারদের মধ্যে যে বিভাজন দেখা গিয়েছিল - যা কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির উত্থান দ্বারা আরও স্পষ্ট হয়েছিল - তা দর্শায় যে, ম্যাক্রোঁর দ্বিতীয় মেয়াদ তাঁর প্রথম মেয়াদের চেয়ে রাজনৈতিক ভাবে অনেক বেশি সীমাবদ্ধ হবে।
ইতিহাসের দিকে নজর রাখলে দেখা যায়, বেশিরভাগ সময় ধরে ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) - যা জাঁ-মারি ল প্যাঁ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফ্রন্টের উত্তরসূরি - রাজনৈতিক কাঠামোর প্রান্তিক পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে। এর কারণ হল, একটি ‘কর্ডঁ সানিতেয়ার’ বা সুরক্ষাবেষ্টনী, যা দলটির প্রার্থীদের আসন জেতা থেকে বিরত রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। উপরন্তু, রাজনৈতিক বিরোধীরা এর বিরুদ্ধে একটি ‘ঐক্যবদ্ধ জোট’ গঠন করেছে, যা আইনসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত ‘দু’দফা’র সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটিং ব্যবস্থার দ্বারা আরও সশক্ত হয়েছে।
২০২২ সালে ফরাসি ভোটারদের মধ্যে যে বিভাজন দেখা গিয়েছিল - যা কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির উত্থান দ্বারা আরও স্পষ্ট হয়েছিল - তা দর্শায় যে, ম্যাক্রোঁর দ্বিতীয় মেয়াদ তাঁর প্রথম মেয়াদের চেয়ে রাজনৈতিক ভাবে অনেক বেশি সীমাবদ্ধ হবে।
এ বার এই অলিখিত বোঝাপড়ার শিথিলতা এবং ভোটারদের পরিবর্তিত মেজাজের কারণে আরএন দলটি বামপন্থীদের পুনরুজ্জীবিত ‘ঐক্যফ্রন্ট’-এর পাশাপাশি আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি আসন দখল করতে সক্ষম হয়। এই কারণগুলির সম্মিলিত প্রভাব এবং নজিরবিহীন ভোটদানে বিরত থাকার ঘটনা (অর্ধেকেরও বেশি ভোটার ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে ছিলেন) আসলে ম্যাক্রোঁর ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি নির্বাচনী বিপর্যয়ের পথ প্রশস্ত করে। প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম বারের মতো ২০২২ সালের আইনসভা নির্বাচনে কোনও একক দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, যা ম্যাক্রোঁর বিজয়ের পরের মতাদেশকে অন্তঃসারশূন্য করে তোলে এবং তাঁর শাসন করার ক্ষমতাকে মারাত্মক ভাবে কঠিন করে তোলে।
এই অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টায় ম্যাক্রোঁ ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে আগাম আইনসভা নির্বাচনের ডাক দেন। কয়েক সপ্তাহ আগে ইউরোপীয় নির্বাচনে তাঁর ক্ষমতাসীন দলের পরাজয়ের কারণে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হলেও ম্যাক্রোঁর দল আরও বেশি খণ্ডিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংসদ নিয়ে শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে বা একজন স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা অর্জনে ব্যর্থ হয়।
প্রকৃতপক্ষে, ফরাসি পঞ্চম প্রজাতন্ত্রকে প্রায়শই একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে এটি একটি শক্তিশালী নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মিশ্র সংসদীয় ব্যবস্থার সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। ফরাসি সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্ট এক জন ‘সালিশকারী’, অন্য দিকে তাঁর দ্বারা মনোনীত কিন্তু সংসদের কাছে দায়বদ্ধ প্রাইম মিনিস্টারই সরকারের সঙ্গে মিলে দেশের নীতি ‘নির্ধারণ ও পরিচালনা’ করেন।
সুতরাং, যখন প্রাইম মিনিস্টার এবং প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক মতাদর্শ পুরোপুরি এক রকম হয় না — যা ‘সহাবস্থান’ নামেও পরিচিত — তখন প্রেসিডেন্ট একজন ‘দূরবর্তী’ সালিশকারী হয়ে ওঠেন এবং প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়ের মতো মূল জাতীয় স্বার্থের দিকে মনোযোগ দেন। অন্য দিকে, প্রাইম মিনিস্টার তাঁর সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনে নীতি প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন।
প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম বারের মতো ২০২২ সালের আইনসভা নির্বাচনে কোনও একক দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, যা ম্যাক্রোঁর বিজয়ের পরের মতাদেশকে অন্তঃসারশূন্য করে তোলে এবং তাঁর শাসন করার ক্ষমতাকে মারাত্মক ভাবে কঠিন করে তোলে।
বৈশ্বিক রাষ্ট্রপতির উত্থান
যখন ফরাসি রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি, ক্ষমতাসীন দল এবং গণমাধ্যম অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দিকে মনোযোগ দিতে পারত, তখন প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসাবে বিশ্ব বিষয়ে তাঁর মনোযোগ স্থানান্তরিত করতেন।
সুতরাং, ২০২২ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান এবং বিশ্ব মঞ্চে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম হয়েছেন। সর্বোপরি, প্রাইম মিনিস্টার যখন অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সামলাচ্ছেন, তখন প্রায়শই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে থাকেন।
এই কর্মতৎপরতার সর্বোত্তম উদাহরণ দেখা যায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই অঞ্চলের প্রতি ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি এবং আগ্রহ স্পষ্ট ভাবে প্রদর্শন করেছেন, বিশেষ করে ২০১৯ এবং ২০২২ সালে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে প্রকাশিত এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে সংস্কার করা প্রতিরক্ষা কৌশলের আলোকে।
ভারত-সহ তার দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারদের পাশাপাশি - যেখানে ম্যাক্রোঁকে ২০২৪ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল - ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমন অনেক দেশ সফর করেছেন, যেখানে এর আগে কোনও ফরাসি প্রেসিডেন্ট পা রাখেননি। উদাহরণস্বরূপ, শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই ভানুয়াতু, পাপুয়া নিউ গিনি, শ্রীলঙ্কা এবং মঙ্গোলিয়া এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়াও, বাংলাদেশ এবং উজবেকিস্তানের মতো অন্যান্য দেশ - যেখানে বহু দশক ধরে কোনও সরকারি সফর হয়নি - সেগুলিও এই প্রচেষ্টার অংশ ছিল।
রাষ্ট্রপতির বৈদেশিক উপস্থিতিতে বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি ইন্দোনেশিয়া ও ভারতে জি২০ সম্মেলনে এবং তাইল্যান্ডে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপিইসি) সম্মেলনে যোগদান করেন। সম্প্রতি, তিনি শাংরি-লা ডায়ালগের ২০২৫ সালের সংস্করণের মূল বক্তা হিসেবেও উপস্থিত ছিলেন।
এই কর্মতৎপরতার সর্বোত্তম উদাহরণ দেখা যায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই অঞ্চলের প্রতি ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি এবং আগ্রহ স্পষ্ট ভাবে প্রদর্শন করেছেন, বিশেষ করে ২০১৯ এবং ২০২২ সালে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে প্রকাশিত এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে সংস্কার করা প্রতিরক্ষা কৌশলের আলোকে।
এই প্রতিশ্রুতিগুলি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ফ্রান্সের প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেছে, যা এই অঞ্চলে প্যারিসের স্থায়ী শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা দ্বারা নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রমাণ মেলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল (আইওআর) এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অসংখ্য অভিযানে ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে। এই উদ্যোগগুলির মধ্যে কয়েকটি রাষ্ট্রপতির সফরের সঙ্গেও মিলে গিয়েছিল, যেমন ২০২৫ সালের শুরুতে জিবুতি থেকে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চিন সাগর (এসসিএস) হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে বিমানবাহী রণতরী গোষ্ঠীর ‘ক্লেমেনসো’ অভিযান।
২০২৪ সালে ফরাসি বিমানবাহিনী তাদের জার্মান, স্প্যানিশ এবং ব্রিটিশ সমকক্ষদের সঙ্গে সমগ্র অঞ্চল জুড়ে উড়ান চালায় এবং সুলুর বিমানঘাঁটিতে ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একাধিক অংশীদার — বিশেষ করে ভারতীয় বিমানবাহিনীর — সঙ্গে আন্তঃকার্যক্ষমতা প্রদর্শন করে।
এই কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা শুধু ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়, যার প্রমাণ মেলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এবং সৌদি আরবের কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের যৌথ উদ্যোগে, অথবা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনের জন্য লেবাননের অংশীদারদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সক্রিয় অংশগ্রহণে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির আগমনের পর ইউক্রেন প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিভেদ দূরীকরণে তার অগ্রণী ভূমিকাও বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে ম্যাক্রোঁ প্রধান ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে ‘বয়োজ্যেষ্ঠ’ হিসেবে আবির্ভূত হন এবং তিনিই ২০১৭ সালে তার প্রথম মেয়াদ থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
এই সব বৈদেশিক কার্যক্রমে ম্যাক্রোঁর দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা দ্য গলের ‘তৃতীয় পথের’ কথা মনে করিয়ে দেয়, যা আজ ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ হিসেবে নতুন রূপ পাচ্ছে। এটি এমন একটি ডিএনএ, যা ফ্রান্স ভারতের সঙ্গে এবং তার ‘বহু-সংলগ্ন’ পররাষ্ট্রনীতির সাথে ভাগ করে নেয়। এর অর্থ এই নয় যে, ফ্রান্স তার মিত্রদের প্রতি চিরাচরিত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে, বা বিশ্বের সমস্যাগুলির প্রতি সমদূরত্বের নীতি গ্রহণ করছে, যা ইজরায়েল-ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন নিয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয়। এটি ফরাসি অবস্থানের অনন্যতার একটি সময়োপযোগী অনুস্মারক, যা অসংখ্য কৌশলগত বিষয়ে ইউরোপীয় এবং ট্রান্সআটলান্টিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করলেও, প্রধান বিষয়টি নিঃসন্দেহে স্বাধীন।
এই সব বৈদেশিক কার্যক্রমে ম্যাক্রোঁর দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা দ্য গলের ‘তৃতীয় পথের’ কথা মনে করিয়ে দেয়, যা আজ ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ হিসেবে নতুন রূপ পাচ্ছে।
স্বদেশের আহ্বান
আজ ম্যাক্রোঁর বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কুফল থেকে তুলনামূলক ভাবে সুরক্ষিত রয়েছে, কিন্তু ফরাসি রাজনীতির ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত অবস্থার কারণে এই বৈশ্বিক সভাপতিত্ব কি ঝুঁকির মুখে পড়বে?
প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমের সম্পূর্ণ অচলাবস্থা রোধ করতে সালিশকারীকে ফরাসি রাজনীতির জটিলতার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘শাট ডাউনের’ মতোই, ফ্রান্সকে তার সরকার ও অর্থনীতিকে মসৃণভাবে পরিচালনা করতে হলে বছরের শেষ নাগাদ বাজেট পাস করতে হবে। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারগুলি ক্রমাগত মনে করিয়ে দেবে যে, ফ্রান্সকে যদি একটি নতুন ইউরোজোন সঙ্কট এড়াতে হয়, তবে তাকে তার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে শৃঙ্খলায় আনতে হবে।
সামনের কাজটি বেশ কঠিন বলেই মনে হচ্ছে: নতুন আইনসভা নির্বাচন ছাড়া, প্রেসিডেন্ট কেবল একজন প্রাইম মিনিস্টারকে মনোনীত করতে পারেন, যাঁর উপর সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই বড় ধরনের সংস্কার পাস করার মতো একটি ঈর্ষণীয় নয় এমন দায়িত্ব বর্তাবে। ফলে প্রতিটি আইনের জন্য একটি সংসদীয় জোট খোঁজার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে।
২০২৭ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগের বিকল্পটি যেহেতু অনেকটাই অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে, তাই ম্যাক্রোঁ হয়তো অন্য সংসদীয় গণতন্ত্রগুলি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সান্ত্বনা খুঁজে পেতে পারেন, বিশেষ করে সেই গণতন্ত্র… যারা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জোট সরকারের সঙ্গে কাজ করার শিল্পকে নিখুঁত করে তুলেছে, তা প্রতিবেশী বার্লিনেই হোক বা আরও দূরে নয়াদিল্লিতেই হোক।
গিওমি গাঁদেলিঁ অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ভিজিটিং ফেলো।
নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Guillaume Gandelin is a Visiting Fellow with the Strategic Studies Programme, Observer Research Foundation. His research focuses on the India-EU and India-France security and defence ...
Read More +