রিসিন চক্রান্তের ব্যর্থতা জৈব-হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের প্রস্তুতির একটি কঠিন পরীক্ষা হিসেবে কাজ করে, যা নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা জুড়ে নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতা ও সমন্বয়ের ঘাটতিকে উন্মোচিত করে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে, গুজরাট অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)-এর একটি যৌথ অভিযানে বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক জৈব বিষ 'রিসিন'-এর উৎপাদন এবং সম্ভাব্য ব্যবহারের একটি ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হয়, যার ফলে একটি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী বিপদের বিষয় প্রকাশ্যে আসে। হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ডঃ আহমেদ মহিউদ্দিন সাইয়েদ সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গুজরাট এটিএস ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর ভোরে গুজরাটের গান্ধীনগর জেলায় একটি গাড়ি আটক করে। গাড়িটি থেকে দুটি গ্লক পিস্তল, একটি বেরেটা পিস্তল, ৩০টি তাজা কার্তুজ এবং চার লিটার ক্যাস্টর অয়েল (রিসিন নিষ্কাশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত একটি উপাদান) উদ্ধার করা হয়।
ডঃ সাইয়েদ এবং তার সহযোগীদের ভারতীয় বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন, ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছে। গাড়িটি আটকানোর পর ডাক্তারের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং রিসিন উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও সামগ্রী পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল প্রায় ৩ কেজি ক্যাস্টর পাল্প (ক্যাস্টর অয়েল প্রক্রিয়ার একটি বর্জ্য উপজাত), দ্রাবক অ্যাসিটোন, একটি কোল্ড-প্রেস তেল নিষ্কাশন যন্ত্র, এবং পাল্প ও দ্রাবক মেশানোর জন্য ব্যবহৃত একটি পাত্র, যা রিসিন বিশুদ্ধ করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
রিসিন হলো ক্যাস্টর গাছ থেকে প্রাপ্ত একটি প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত বিষাক্ত রাসায়নিক, যার বিষক্রিয়ার ফলে অল্প সময়ের মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্ট, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং মৃত্যু হতে পারে। রিসিন বিষক্রিয়ার কোনও প্রতিষেধক নেই। গ্রেপ্তারের পর, কর্তৃপক্ষ রিসিন বিষ উৎপাদনের পর্যায় নির্ধারণ করতে এবং সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনও অগ্রগতি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য বাজেয়াপ্ত করা সামগ্রীগুলো বিশ্লেষণের জন্য হস্তান্তর করেছে বলে জানা গিয়েছে।
রিসিন মামলাটি এই ধরনের বিষাক্ত পদার্থের ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে আইন প্রয়োগের উপর নির্ভর করার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে, কারণ এগুলি গোপনে প্রস্তুত করা যায় এবং স্বল্প পরিসরে প্রয়োগ করা যায়। এটি একটি অস্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে এবং ভারতীয় জনগণের মধ্যে বেসামরিক স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষার উপর আস্থা ক্ষুণ্ণ করে।
তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্ভাব্য হামলার স্থান চিহ্নিত করার জন্য দিল্লি, লখনউ এবং আহমেদাবাদের বাজার ও বিভিন্ন সংস্থার কার্যালয়সহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে রেকি করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে, ডঃ সাইয়েদ ইসলামিক স্টেট-খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)-এর সঙ্গে যুক্ত আফগানিস্তান-ভিত্তিক একজন হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং পাকিস্তানের অন্য অপারেটিভদের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখতেন। এই আলাপচারিতাগুলিকে রাসায়নিক বিপদের লক্ষ্যের সঙ্গে প্রচলিত অস্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহত্তর সন্ত্রাসী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জৈব-নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্তুতির জন্য বৃহত্তর প্রভাব
বন্দুক বা বিস্ফোরক-ভিত্তিক প্রচলিত সন্ত্রাসী হুমকির বিপরীতে, জৈব সন্ত্রাসবাদে এমন জৈব উপাদান জড়িত যা রসায়ন, চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যবর্তী একটি ধূসর অঞ্চলে অবস্থান করে। এই কারণে এই উপাদানগুলি সংগ্রহ করতে ন্যূনতম প্রচেষ্টা লাগলেও এর সঙ্গে জড়িত বিঘ্ন সৃষ্টিকারী প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। ঐতিহাসিকভাবে, আইএসআইএস এবং আল-কায়েদার মতো অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলিও জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেগুলোর প্রকৃত উন্নয়ন এবং প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং, ‘রিসিন ষড়যন্ত্র’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসবাদ মামলাটি ভারতীয় জৈব-বিপদ ব্যবস্থা মোকাবিলায় দুর্বলতারই একটি ইঙ্গিত ছিল।
ভারত সরকারের জৈব-সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত নীতিগুলি এখনও পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইন এবং রাসায়নিক অস্ত্র এবং জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিভিন্ন আইনের অধীনে খণ্ড খণ্ডভাবে বিদ্যমান রয়েছে। বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ), রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার মতো আইনি দলিলগুলি বিচারের জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের মেরুদণ্ড প্রদান করে, কিন্তু সেগুলি মূলত ঘটনা-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার জন্য তৈরি। রিসিন মামলাটি এই ধরনের বিষাক্ত পদার্থের ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে আইন প্রয়োগের উপর নির্ভর করার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে, কারণ এগুলি গোপনে প্রস্তুত করা যায় এবং স্বল্প পরিসরে প্রয়োগ করা যায়। এটি একটি অস্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে এবং ভারতীয় জনগণের মধ্যে বেসামরিক স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষার উপর আস্থা ক্ষুণ্ণ করে।
সরবরাহকারী যাচাইকরণ জোরদার করা, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য উপকরণের আমদানি ও রপ্তানির নথিপত্র রাখার কাজের উন্নতি সাধন, এবং আন্তঃসংস্থা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি করাকে ক্রমবর্ধমানভাবে অপরিহার্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যেহেতু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি বিস্ফোরক যন্ত্র ও অস্ত্রশস্ত্র সংক্রান্ত কঠোরতর নিয়মকানুনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে।
ভারতের বর্তমান জৈব-নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি ডিপার্টমেন্ট অফ বায়োটেকনোলজির নির্দেশিকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক এথিক্স কমিটিগুলি দ্বারা প্রণীত, এবং এর প্রধান লক্ষ্য জৈব-বিপদের উপকরণের বিদ্বেষপূর্ণ ব্যবহার মোকাবিলা নয়, বরং অপব্যবহার বা আকস্মিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করা। রিসিনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রকৃতি থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই কাঠামোটি কৃষি, চিকিৎসা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বৈধভাবে ব্যবহৃত তেমন উপকরণগুলির উপর নজরদারি করতে পারে না যেগুলি অসৎ উদ্দেশ্যেও পাচার করা হতে পারে। সরবরাহকারী যাচাইকরণ জোরদার করা, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য উপকরণের আমদানি ও রপ্তানির নথিপত্র রাখার কাজের উন্নতি সাধন, এবং আন্তঃসংস্থা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি করাকে ক্রমবর্ধমানভাবে অপরিহার্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যেহেতু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি বিস্ফোরক যন্ত্র ও অস্ত্রশস্ত্র সংক্রান্ত কঠোরতর নিয়মকানুনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে।
ফরেনসিক এবং জনস্বাস্থ্যগত দিকগুলিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জৈব-সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার জন্য শুধু গোয়েন্দা সক্ষমতাই নয়, বরং নতুন বিষাক্ত পদার্থের দ্রুত শনাক্তকরণ, সংক্রমণের ধরন খুঁজে বের করা এবং ইচ্ছাকৃত হামলা ও প্রাকৃতিকভাবে ঘটা ঘটনার মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতাও প্রয়োজন। যদিও ভারতে ডিআরডিও গবেষণাগার, আইসিএমআর নেটওয়ার্ক এবং সমন্বিত রোগ নজরদারি কর্মসূচির মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে, রিসিনের ঘটনাটি একটি দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য ত্বরান্বিত বিষবিজ্ঞানগত বিশ্লেষণ, এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। জৈব-সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত ঘটনায়, বিলম্ব এবং ভুল শ্রেণিবিন্যাস প্রকৃত মৃতের সংখ্যার চেয়েও বহুগুণ বেশি ভয়ের সঞ্চার করতে পারে।
তাছাড়া, অভিযুক্তের বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসা সংক্রান্ত যোগ্যতার প্রমাণপত্র থাকা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তোলে। এটি এই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যে বিশেষায়িত দক্ষতা সহজাতভাবেই এর অপব্যবহার রোধ করে; উল্টে বরং এটি পেশাদার ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে উগ্রপন্থার প্রক্রিয়াগুলি খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। অবশ্যই, এর অর্থ এই নয় যে বিজ্ঞানীদের প্রতি সন্দেহ পোষণ করতে হবে; বরং এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নৈতিক নির্দেশনা, টেকসই সরকারি সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি। সুতরাং, জৈব-সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ করা অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের চেয়ে বেশি করে সামাজিকীকরণের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
যদিও ভারতে ডিআরডিও গবেষণাগার, আইসিএমআর নেটওয়ার্ক এবং সমন্বিত রোগ নজরদারি কর্মসূচির মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে, রিসিনের ঘটনাটি একটি দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য ত্বরান্বিত বিষবিজ্ঞানগত বিশ্লেষণ, এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
সর্বশেষে, এই ঘটনাটি দেশজুড়ে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলির দ্বারা আক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে, জৈবিক বিপদগুলি জাতীয় সীমানা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে না, কারণ কিছু দেশে নজরদারি বা প্রয়োগের অভাবকে বিভিন্ন দেশে সক্রিয় গোষ্ঠীগুলো কাজে লাগাতে পারে। এর ভারতের উপর গুরুতর প্রভাব রয়েছে।
উপসংহার
এটি প্রমাণ করে যে, যদিও ভারতের যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক দক্ষতা আছে এবং অতীতের সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবুও জৈবিক বিপদ মোকাবিলার জন্য এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন যা গোয়েন্দা সক্ষমতার সঙ্গে শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিক তদারকিকে একীভূত করে।
শ্রবিষ্ঠ অজয়কুমার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি, অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Shravishtha Ajaykumar is an Associate Fellow at the Centre for Security, Strategy, and Technology. Her research areas include Chemical, Biological, Radiological, and Nuclear (CBRN) strategy ...
Read More +