Author : Sweekriti Pathak

Expert Speak Young Voices
Published on Apr 09, 2026 Updated 0 Hours ago

চিনের বিশাল দূর-‌জলসীমার মৎস্য শিকারী নৌবহরগুলি বাণিজ্য জবরদস্তির মধ্যকার সীমারেখা ক্রমশ ঝাপসা করে দিচ্ছে এবং বেসামরিক জাহাজগুলিকে ধূসর অঞ্চলের সামুদ্রিক শক্তির হাতিয়ারে পরিণত করছে।

মৎস্য শিকার ও শক্তি: চিনের রহস্যময় নৌবহর ও সামুদ্রিক মিলিশিয়া

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ সিওলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) ভেতরে অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে ছয়টি চিনা জাহাজ বাজেয়াপ্ত করে। একই মাসে, দক্ষিণ অ্যাটলান্টিকে আর্জেন্টিনার ইইজেড- এর প্রান্তে ৩৫০টিরও বেশি চিনা নৌকা শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে অন্তত একটি জাহাজ (লু চিং ইউয়ান ইউ ২০৫) ছিল ধীরগতির এবং গ্রিড-প্যাটার্নের কৌশল প্রদর্শন করছিল, যা নিয়মিত মাছ ধরার পরিবর্তে অননুমোদিত মানচিত্র তৈরি বা নজরদারির ইঙ্গিত দেয়। একাধিক সামুদ্রিক পরিসরে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার অধীনে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হিসেবে বিবেচিত মাছ ধরার জাহাজগুলি এখন আন্তর্জাতিক জলসীমায় ক্রমবর্ধমানভাবে জবরদস্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এর বিশাল আকারের কারণে, চিনের দূর-‌জলসীমায় মাছ ধরার (ডিজব্লিউএফ) নৌবহরের ক্ষেত্রে এই রূপান্তর সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে চিনের কাছে বিশ্বের বৃহত্তম এই ধরনের নৌবহর রয়েছে, যেখানে ৫৭,০০০-এরও বেশি বাণিজ্যিক মাছ ধরার জাহাজ আছে, যা ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৯০টিরও বেশি দেশের জলসীমায় বিশ্বের দৃশ্যমান মাছ ধরার কার্যকলাপের ৪৪ শতাংশের জন্য দায়ী।


রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি, আইনি সুরক্ষা এবং মিলিশিয়া একীকরণ কাঠামোর সমর্থনে, চিনা মাছ ধরার জাহাজগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে নজরদারি, সংকেত প্রদান এবং জবরদস্তির মতো ধূসর অঞ্চলের কার্যকলাপ সম্পাদন করছে।



এই ঘটনাগুলি ধূসর অঞ্চলের কৌশলেরই একটি সম্প্রসারণ — যা সশস্ত্র সংঘাতের দোরগোড়ার একটু পিছনে দাঁড়িয়ে থাকে — এবং সামুদ্রিক পরিসরে এটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক, যা ইতিমধ্যেই অনিয়ন্ত্রিত, জনাকীর্ণ এবং শাসন করা কঠিন। রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি, আইনি সুরক্ষা এবং মিলিশিয়া একীকরণ কাঠামোর সমর্থনে, চিনা মাছ ধরার জাহাজগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে নজরদারি, সংকেত প্রদান এবং জবরদস্তির মতো ধূসর অঞ্চলের কার্যকলাপ সম্পাদন করছে।

ধূসর অঞ্চলের কার্যকলাপের সহায়ক হিসেবে ডার্ক শিপিং

একটি ঘটনা যা প্রায়শই গভীর সমুদ্রে ধূসর অঞ্চলের কার্যকলাপকে সক্ষম করে তা হল ডার্ক শিপিং। ডার্ক শিপিং বলতে সেই সব জাহাজকে বোঝায় যেগুলি তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রেখে সমুদ্রে টহল দেয় এবং শনাক্তকরণ এড়িয়ে চলে। ফলস্বরূপ, এই জাহাজগুলি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে অবৈধ, অনিয়ন্ত্রিত এবং অঘোষিত (আইইউইউ) মাছ ধরা; গোয়েন্দা সক্রিয়তা, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ (আইএসআর); এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঘোরাঘুরি করা। নিচের ছবিটি দৃশ্যমান এবং ডার্ক ভেসেলের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছে: পরেরটিকে ট্র্যাক করার জন্য সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (এসএআর) এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (আরএফ) জিওলোকেশনের মতো বিশেষায়িত স্যাটেলাইট-ভিত্তিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়।

চিত্র ১. দক্ষিণ চিন সাগরে চিনা ডার্ক ভেসেল (লাল রঙে) বনাম দৃশ্যমান যান চলাচল (সাদা রঙে)।
Fishing And Force China S Dark Fleets And Maritime Militias
সূত্র: আনসিন ল্যাবস

ছবি ২ ও ৩। বামে: এআইএস-সহ ইকুয়েডরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাহাজের উপস্থিতি; ডানে: ইকুয়েডরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অদৃশ্য জাহাজের উপস্থিতি।
Fishing And Force China S Dark Fleets And Maritime Militiasসূত্র:  Global Fishing Watch

এই দূর-‌জলসীমার মাছ ধরার নৌবহরগুলির বৈশ্বিক পদচিহ্ন লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন দেশের ইইজেড এর ঠিক প্রান্তে চিনের পতাকাবাহী জাহাজের বিশাল ঝাঁকের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। মার্চ ২০২৫-এ, আর্জেন্টিনা তার ইইজেড-‌কে অনুপ্রবেশকারী চিনা জাহাজ থেকে রক্ষা করার জন্য সামরিক নজরদারি সরঞ্জাম মোতায়েন করে। এইভাবে এই মাছ ধরার নৌবহরগুলো অন্য রাষ্ট্রের জলসীমায় আইএসআর পরিচালনা বা মাছ ধরার সময় অন্ধকারের আড়াল ব্যবহার করে।

কৌশল হিসেবে ব্যাপকতা: যেভাবে চিন আধিপত্য বিস্তার করে

চিনা ডিডব্লিউএফ প্রায়শই জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজের পাশাপাশি বিশাল সংখ্যায় টহল দেয়, যা তাদের মাসের পর মাস সমুদ্রে অলসভাবে অবস্থান করার সুযোগ করে দেয়। এই মাছ ধরার নৌবহরগুলি প্রায়শই চিনের কোস্ট গার্ড (সিসিজি) এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (পিএলএএন)-র যুদ্ধজাহাজগুলিকে পাশে রেখে কৌশলগত চলাচল করে। জুন ২০২৫-এ, ফিলিপিনের কোস্ট গার্ড জানায় যে, ফিলিপিনের ইইজেড-এর মধ্যে রোজুল রিফে ৫০টিরও বেশি চিনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজ ঝাঁক বেঁধে প্রবেশ করেছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গ্যালাপাগোস ইইজেড-‌এর কাছে সক্রিয় প্রায় ৫১০টি চিনা মাছ ধরার নৌকার ওপর ইকুয়েডর নজর রাখে। অনেক জাহাজ একই সময়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সমুদ্রের মানচিত্র তৈরির বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এছাড়াও, এই নৌবহরগুলির বিরুদ্ধে  ছোট মাছ ধরার নৌকার ক্ষতিসাধন, কৃত্রিম দ্বীপ রক্ষায় সহায়তা এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত তেল উত্তোলনের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


এই কার্যকলাপগুলি সামুদ্রিক জবরদস্তিতে একটি বেসামরিক উপাদান যুক্ত করে, যা চিনের মাছ ধরার জাহাজগুলি যখন অন্য রাষ্ট্রের সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজের সংস্পর্শে আসে তখন অসামঞ্জস্য তৈরি করে। তার নৌবহরের বিশাল আকার এবং আগ্রাসন চিনকে সামুদ্রিক পরিসরে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম করে।



এই জাহাজগুলি তাদের অত্যাধুনিক, রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষিত আইএসআর বা দ্বৈত-ব্যবহারের সক্ষমতা;  বড় জলকামান-সজ্জিত শক্তিশালী কাঠামো, এবং সশস্ত্র নৌযানের জন্যও পরিচিত। ২০১৮ সালে বেজিং এই নৌবহরগুলিকে মাছ ধরা এবং সমুদ্রবিজ্ঞান সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন খাতে ৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ভর্তুকি প্রদান করে। কখনও কখনও, এই জাহাজগুলিতে নিযুক্ত কর্মীদের শুধুমাত্র অবরোধ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়: মাছ ধরার পরিবর্তে ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ব্যবহার করা হয়। এই কার্যকলাপগুলি সামুদ্রিক জবরদস্তিতে একটি বেসামরিক উপাদান যুক্ত করে, যা চিনের মাছ ধরার জাহাজগুলি যখন অন্য রাষ্ট্রের সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজের সংস্পর্শে আসে তখন অসামঞ্জস্য তৈরি করে। তার নৌবহরের বিশাল আকার এবং আগ্রাসন চিনকে সামুদ্রিক পরিসরে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম করে।

সামুদ্রিক মিলিশিয়াদের নেপথ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা

চিনা রাষ্ট্র তিনটি প্রধান ব্যবস্থার মাধ্যমে এই মৎস্যবহরগুলিকে শক্তিশালী ও সুসজ্জিত করে সামুদ্রিক মিলিশিয়ায় রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে:

আর্থিক ভূমিকা: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মৎস্য প্রতিষ্ঠানে সামুদ্রিক মিলিশিয়া কর্মী হিসেবে কর্মরত জেলেরা নিয়মিত বেতন পান। সরকারি ভর্তুকি বিতর্কিত জলসীমায় বড় জাহাজ পরিচালনার জন্য প্রণোদনা দেয়, কিন্তু এই জাহাজগুলি প্রকৃত মাছ ধরার জন্য কোনও প্রণোদনা পায় না। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, চিনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান (এসওই), বেসরকারি সংস্থাগুলি এবং প্রাদেশিক সরকারগুলি অর্থায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের মিলিশিয়া অপারেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারগুলিকে সামুদ্রিক মিলিশিয়া প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী গ্রামীণ বাসিন্দাদের ভর্তুকি প্রদান করতে হয়, অন্যদিকে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান একই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের আবাসন ও যাতায়াত খরচ বহন করে। প্রতিবেদনে চিনের গুয়াংডং এবং হাইনান প্রদেশে অবস্থিত ঘাঁটিগুলির একটি নেটওয়ার্কও চিহ্নিত করা হয়েছে, যা অন্তত ৩০টি ভিন্ন কোম্পানির মালিকানাধীন ৩০০টিরও বেশি মিলিশিয়া জাহাজকে সহায়তা করে। এই অংশীদারি বেসামরিক কার্যকলাপ এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও অস্পষ্ট করে তোলে।

আইনি সমর্থন: চিনের জাহাজগুলির তথ্য গোপন করা এবং তাদের স্বয়ংক্রিয় তথ্য ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ করে দেওয়া ২০২১ সালের ১ নভেম্বর ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস কর্তৃক পাস হওয়া  “গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন” দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি বিদেশি বেসরকারি সংস্থা বা সংগঠনের সঙ্গে “ব্যক্তিগত তথ্য” আদান-প্রদান প্রতিরোধ করে। ২০১৬ সালে গুয়াংডং প্রদেশ তার প্রাদেশিক মহাসাগর ও মৎস্য ব্যুরোর অধীনে একটি গণসশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে। এটি একটি যৌথ কমান্ড ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, যা মৎস্য পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ, প্রাদেশিক সামরিক কমান্ড এবং সামুদ্রিক মিলিশিয়া ব্যাটালিয়নগুলিকে একীভূত করে, যার ফলে বেসামরিক-সামরিক সংমিশ্রণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।


চিনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া বিকেন্দ্রীভূত মালিকানা এবং কেন্দ্রীভূত কার্যভারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে ভর্তুকি, আইনি আদেশ এবং প্ল্যান/সিসিজি-র সমন্বয় আনুষ্ঠানিক মালিকানা ছাড়াই রাষ্ট্রীয় নির্দেশনাকে সম্ভব করে তোলে। এই বিকেন্দ্রীভূত মালিকানা ও কেন্দ্রীভূত কার্যভার আদতে বিশ্বাসযোগ্য অস্বীকৃতির সুযোগ বজায় রেখে ধূসর অঞ্চলের কার্যক্রমকে টিকিয়ে রাখে।



গঠন: চিন সরকার সামুদ্রিক মিলিশিয়া কর্মীদের পিএলএএন এবং সিসিজি-র পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত সামাজিক সুবিধা প্রদান করে। ২০২০ সালের আগস্টে, পরিবহণ মন্ত্রক এবং প্রবীণ সৈনিক বিষয়ক মন্ত্রক যৌথভাবে “স্পিনড্রিফট প্রোগ্রাম” চালু করে, যা অবসরপ্রাপ্ত সেনা প্রবীণদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি বৃত্তিমূলক দক্ষতা উদ্যোগ। গুয়াংজি প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে অংশীদারিতে গুয়াংজি হংজিয়াং শিপিং কোম্পানি লিমিটেড সহ বেশ কয়েকটি শিপিং কোম্পানি এই প্রোগ্রামে যোগ দেয়। এই উদ্যোগের অধীনে ১০০ জন প্রবীণ সৈনিককে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়োগ করা হয়, যাদের মধ্যে ৪০ জনকে ডিডব্লিউএফ জাহাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এই উদ্যোগটি সামুদ্রিক মিলিশিয়াতে পরিষেবার জন্য প্রবীণ সৈনিকদের প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দেয়, যা বিদ্যমান সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মিলিশিয়া সমাবেশকে সম্ভাব্যভাবে সুগম করতে পারে। এছাড়াও, পিএলএএন-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আইএসআর কার্যক্রমে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত “জেলে গুপ্তচর” মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ছায়াবৃত নৌবহর থেকে দৃশ্যমান হুমকি

যদিও উন্মুক্ত উৎসের তথ্য থেকে জানা যায় যে মিলিশিয়া জাহাজগুলি প্রায়শই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন থাকে, তবুও এটি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণকে বাতিল করে না। চিনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া বিকেন্দ্রীভূত মালিকানা এবং কেন্দ্রীভূত কার্যভারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে ভর্তুকি, আইনি আদেশ এবং প্ল্যান/সিসিজি-র সমন্বয় আনুষ্ঠানিক মালিকানা ছাড়াই রাষ্ট্রীয় নির্দেশনাকে সম্ভব করে তোলে। এই বিকেন্দ্রীভূত মালিকানা ও কেন্দ্রীভূত কার্যভার আদতে বিশ্বাসযোগ্য অস্বীকৃতির সুযোগ বজায় রেখে ধূসর অঞ্চলের কার্যক্রমকে টিকিয়ে রাখে।

তবে, গভীর সমুদ্রে বেজিংয়ের অনুপ্রবেশ এখন গোপন থাকার পরিবর্তে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। পূর্ব চিন সাগরে, চিনা মাছ ধরার জাহাজগুলি সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছে জাপানি কোস্টগার্ডের জাহাজে নিয়মিত ধাক্কা দিয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ২০১০ সালের সংঘর্ষের ঘটনাটি, যা একটি দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থার জন্ম দিয়েছিল। হলুদ সাগরে, বছরের পর বছর ধরে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে একজন চিনা জেলের হাতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্টগার্ড কর্মকর্তার ছুরিকাঘাতে মৃত্যু এবং অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে কোরিয়ান কোস্টগার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন চিনা জেলের নিহত হওয়ার পৃথক পৃথক ঘটনা। ২০১৬ সালে আর্জেন্টিনা তাদের জাতীয় জলসীমায় কর্মরত একটি চিনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ট্রলারকে গুলি করে ডুবিয়ে দেয়। তবে, এক বছর পর, একই চিনা জাহাজটিকে আর্জেন্টিনার পতাকাবাহী একই ইইজেড-‌এ পাওয়া যায়।

চিনের সামুদ্রিক পদচিহ্ন শুধু চিনা পতাকাবাহী জাহাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন দেশে তাদের নিজ নিজ পতাকার অধীনে থাকা বিভিন্ন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য চিনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলি স্থানীয় কোম্পানি অধিগ্রহণ করছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।



উল্লেখ্য, চিনের সামুদ্রিক পদচিহ্ন শুধু চিনা পতাকাবাহী জাহাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন দেশে তাদের নিজ নিজ পতাকার অধীনে থাকা বিভিন্ন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য চিনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলি স্থানীয় কোম্পানি অধিগ্রহণ করছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিন এখন মাইক্রোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, কেনিয়া, ঘানা, সেনেগাল, মরক্কো ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশের জলসীমায় এবং তাদের পতাকার অধীনে অন্তত ২৫০টি এমন জাহাজ পরিচালনা করে, যা এই জাহাজগুলির উৎস চিহ্নিতকরণ এবং আইন প্রয়োগকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অতএব, চিনের সামুদ্রিক শক্তি পেশাদার নৌবহর, দূরবর্তী জলসীমার মাছ ধরার জাহাজ এবং নৌ মিলিশিয়াদের মধ্যে বিভক্ত, যাদের ম্যান্ডেট ভিন্ন হলেও কার্যক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মিল রাখা হয়েছে। বেসামরিক নেতৃত্বাধীন মাছ ধরার জাহাজগুলিকে পদ্ধতিগতভাবে রাষ্ট্রীয় কমান্ড কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা হয়, যা বাণিজ্যিক কার্যকলাপের আড়ালে জবরদস্তিমূলক অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম করে এবং একই সঙ্গে অস্পষ্টতা ও অস্বীকারের সুযোগ বজায় রাখে।

উপসংহার

অতীতে সামুদ্রিক কার্যকলাপগুলি পর্যবেক্ষণ করা তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল, কারণ সেগুলি মূলত প্রতিসম এবং প্রচলিত রীতি অনুসরণ করত। কিন্তু বর্তমানে, অপ্রচলিত পক্ষগুলির ইচ্ছাকৃত ব্যবহার এবং কালো জাহাজ পরিচালনাকারী সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত জেলেদের অস্পষ্ট উপস্থিতি জটিল অভিযানগত ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিবর্তনের তাৎপর্য শুধু চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক প্রভাবের মধ্যেই নয়, বরং এটি যে নজির স্থাপন করছে তার মধ্যেও নিহিত। যেহেতু রীতিনীতি ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং প্রয়োগ দুর্বল হয়ে পড়ছে, সমুদ্রে শান্তি ও জবরদস্তির মধ্যকার সীমারেখা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শুধু নৌ-‌উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়; এর জন্য সামুদ্রিক নিরাপত্তার এক নতুন ধারণার প্রয়োজন, যা সংকর পক্ষসমূহ, বেসামরিক বলপ্রয়োগ এবং অস্পষ্টতার অস্ত্রায়নকে বিবেচনায় নেবে। তা করতে ব্যর্থ হলে এমন একটি নৌ-ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যেখানে জবাবদিহিতা ছাড়াই ক্ষমতার প্রয়োগ হয় এবং আগ্রাসনকে বাণিজ্যের ছদ্মবেশে উপস্থাপন করা হয়।



স্বীকৃতি পাঠক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণা ইন্টার্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.