-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবসে, ভারতকে অবশ্যই অ-নিরাপদ অনলাইন অনুশীলনের বিস্তারের মোকাবিলা করতে হবে, এবং প্রমাণ-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান আর গুড সামারিটানদের সুরক্ষার মাধ্যমে তার প্রস্তুতির ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
ভারতে প্রাথমিক চিকিৎসার ভাইরাল বিষয়বস্তুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিকল হওয়ার সঙ্গেসঙ্গে হদযন্ত্র পুনরায় চালু করা বা কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর), নাটকীয় উদ্ধার এবং উন্নত হস্তক্ষেপের ক্লিপগুলি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে এবং বীরত্বপূর্ণ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে। তবুও, এই কৌশলগুলির অনেকগুলি চিকিৎসাগতভাবে অস্বাস্থ্যকর, কখনও কখনও সচেতন রোগীদের দেওয়া হয় অথবা 'কাফ সিপিআর'-এর মতো ভ্রান্ত কাহিনি থেকে নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক তথ্য এবং গুড সামারিটানদের (বা ভাল প্রতিবেশীদের) প্রতি সম্মিলিত প্রশংসার যুগে এই ধরনের বিষয়বস্তু প্রতিধ্বনিত হলেও, এটি একটি উদ্বেগজনক ব্যবধানও তুলে ধরে যে জনসংখ্যার বেশিরভাগই প্রমাণ-ভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞানের ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে আছে।। ভারতে হাসপাতালের বাইরে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (ওএইচসিএ) মাত্র ~১.৩-৯.৮ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে বাইস্ট্যান্ডার সিপিআর চেষ্টা করা হয়, যেখানে জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে এটি প্রায় ৪০ শতাংশ। তাছাড়া, ২ শতাংশেরও কম ভারতীয় কখনও আনুষ্ঠানিক সিপিআর নির্দেশনা পেয়েছেন।
২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ৬০ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যা ১৯৩ মিলিয়নে পৌঁছনোর অনুমান করা হচ্ছে, তাই গণপরিসরে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতে প্রতি বছর ২০০,০০০-এরও বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক সময়োপযোগী প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুর্ঘটনার পাশাপাশি হৃদরোগ মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ৬০ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যা ১৯৩ মিলিয়নে পৌঁছনোর অনুমান করা হচ্ছে, তাই গণপরিসরে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যেসব স্থানে যাত্রীর সংখ্যা বেশি, সেখানে অটোমেটেড এক্সটারনাল ডিফিব্রিলেটর (এইডি) কার্যত নেই। যেমন, ২০২৪ সালের একটি আরটিআই (তথ্য অধিকার) আবেদনে, দিল্লি মেট্রোর ২৮৮টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে ডিফিব্রিলেটর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি উদীয়মান পরিষেবা ক্ষেত্রের অফিসগুলিতেও, এই ধরনের দক্ষতায় প্রশিক্ষিত সংগঠিত জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা বা প্রতিক্রিয়া দলের অভাব রয়েছে। স্কুলগুলিতে, সিপিআর অবশ্যই বই এবং পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত, তবে খুব কমই দক্ষতা হিসাবে শেখানো হয়। এই পটভূমিতে, ভুল তথ্যের যুগে অপ্রতুল/দুর্বল প্রাথমিক চিকিৎসা কৌশল প্রচারিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যার ফলে জীবন বাঁচানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়। নিচের চিত্র ১-এ স্পষ্টতার জন্য এই প্রসঙ্গে ব্যবহৃত মূল শব্দগুলি ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সিপিআর, বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস), এবং ওএইচসিএ।
চিত্র ১: জরুরি প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত মূল শব্দগুলি
সূত্র: প্রাথমিক চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া: সুস্থ ভারতের জন্য সিপিআর এবং বিএলএস প্রশিক্ষণ
কম প্রস্তুতি এবং উচ্চ ঝুঁকি
ভারতে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রস্তুতি উদ্বেগজনকভাবে অপ্রতুল/গুরুত্বপূর্ণভাবে কম। ফলস্বরূপ, ভারতে ওএইচসিএ-দের বেঁচে থাকার হার ১০ শতাংশেরও কম, যেখানে জনসম্প্রদায়-স্তরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দেশগুলিতে এই হার ২০-৩০ শতাংশ । এই ঘাটতি শুধু প্রশিক্ষণের পরিমাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এমনকি যখন মানুষ সিপিআর-এর সংস্পর্শে আসে, তখনও দ্বিধা দেখা দেয়, যার কারণ সঠিক কৌশল ব্যবহার সম্পর্কে অনিশ্চয়তা, আইনি পরিণতির ভয় এবং জরুরি প্রেরণকারীদের কাছ থেকে রিয়েল-টাইম নির্দেশনার অনুপস্থিতি। এটি একটি ঘাটতি তৈরি করে যা প্রতি বছর হাজার হাজার প্রতিরোধযোগ্য ছিল এমন মৃত্যুর দিকে চালিত করে। ২০১৬ সালের গুড সামারিটান আইন সত্ত্বেও, যা দুর্ঘটনার শিকারদের উদ্ধারকারীদের অনাক্রম্যতা প্রদান করেছিল, এমনই ঘটছে। দুর্বল বোধগম্যতা ও ক্রমিক সন্দেহ আইনের বহুল প্রত্যাশিত প্রভাবকে ম্লান করে দিয়েছে, এবং পেশাদার সাহায্য ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগে সেই দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্তে অসংখ্য ভুক্তভোগী সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
২০২৩ সালে, ন্যাশনাল বোর্ড অফ এক্সামিনেশনস ইন মেডিকেল সায়েন্সেস একটি দেশব্যাপী সিপিআর সচেতনতা প্রচারণার আয়োজন করে যা একদিনে দুই মিলিয়নেরও বেশি অংশগ্রহণকারীকে আকর্ষণ করেছিল। এটি এই ইঙ্গিত দেয় যে সুযোগ পেলেই শেখার জন্য জনসাধারণের সুপ্ত চাহিদা আছে।
পদ্ধতিগত দুর্বলতা এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তোলে। শিল্প পরিবেশের একটি সংকীর্ণ অংশ ছাড়া অন্য কোথাও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণকে শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষার বাধ্যতামূলক দিক করা হয়নি। ২০২৩ সালে, ন্যাশনাল বোর্ড অফ এক্সামিনেশনস ইন মেডিকেল সায়েন্সেস একটি দেশব্যাপী সিপিআর সচেতনতা প্রচারণার আয়োজন করে যা একদিনে দুই মিলিয়নেরও বেশি অংশগ্রহণকারীকে আকর্ষণ করেছিল। এটি এই ইঙ্গিত দেয় যে সুযোগ পেলেই শেখার জন্য জনসাধারণের সুপ্ত চাহিদা আছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পাঠ্যক্রমে বিএলএস অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। তার উপর, ২০২২ সালে, স্কুলগুলিতে বাধ্যতামূলক সিপিআর প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করে একটি বেসরকারি সদস্য বিল (পিএমবি) সংসদে পেশ করা হয়েছিল। ১৫টি স্কুলের ৪,৫০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া একটি গবেষণার প্রমাণ এই সত্যটিকে আরও সমর্থন করে যে এমনকি কিশোর-কিশোরীদেরও সিপিআরের কৌশল শেখানো যেতে পারে। এই প্রচেষ্টাগুলি আকর্ষণ প্রদর্শন করে, কিন্তু এগুলিকে সর্বজনীন, মানসম্মত অনুশীলনে রূপান্তরিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ।
প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত একটি দেশ
ভালো কাজ করার ভাইরাল মুহূর্ত এবং বাস্তব জগতের প্রকৃত পদক্ষেপের মধ্যে ব্যবধান পূরণ করতে, ভারতকে বহুমুখী নীতি-ভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এর অর্থ হল আইন, শিক্ষা এবং পরিকাঠামোর মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে প্রাথমিক চিকিৎসাকে অন্তর্ভুক্ত করা। কিছু ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই প্রচলিত আছে, কিন্তু তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। অন্যগুলি খুবই কম ফলপ্রসূ যা জরুরি পদক্ষেপের দাবি রাখে। জনসাধারণকে দূরে ঠেলে না-দিয়ে সঠিক অনুশীলনগুলিকে উৎসাহিত করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং পরামর্শের তালিকা নিচে দেওয়া হল:
১। স্কুল পাঠ্যক্রম এবং কলেজের অভিযোজনের মধ্যে সিপিআর এবং মৌলিক প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ তৈরি করা: নরওয়ে এবং জাপানের মতো দেশগুলি স্কুলগুলিতে সিপিআর প্রশিক্ষণ চালু করেছে এবং এখন ভারতের তুলনায় অনেক বেশি হৃদরোগের মৃত্যু স্থগিত করতে পারার হার উপভোগ করছে। ভারতের এই মডেলগুলি থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বাধ্যতামূলক বিএলএস মডিউল-সহ একটি প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; তবে, এটি স্কুলগুলিতেও সম্প্রসারিত করা উচিত, সম্ভবত জাতীয় শিক্ষা নীতিতে একীভূত করার মাধ্যমে। শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান কেবল তাদের দক্ষতা দিয়ে সজ্জিত করে না, বরং মানুষকে সাহায্য করার সংস্কৃতিকেও স্বাভাবিক করে তোলে। যুবকরা যখন গাড়ি চালানোর বয়সে পৌঁছয় বা কর্মীবাহিনীতে প্রবেশ করে, তখন তাদের সার্টিফায়েড প্রাথমিক চিকিৎসা দক্ষতা থাকা উচিত (এটিকে একটি 'দক্ষতা শংসাপত্র' হিসাবে ভাবা যেতে পারে, যা ডিপ্লোমার মতোই মৌলিক)।
২। কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষণ: ১৯৪৮ সালের ফ্যাক্টরিজ অ্যাক্ট অনুসারে, ভারতের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রতি ১৫০ জন কর্মীর জন্য একটি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স থাকা এবং প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত এক জন থাকা বাধ্যতামূলক। তবে, একই ধরনের বাধ্যবাধকতা বিশাল পরিষেবা ক্ষেত্র এবং অফিসগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে না। নিয়োগকর্তাদের স্বেচ্ছায় তাদের কর্মীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার নীতি গ্রহণ করা উচিত (প্রতি ১০ জন কর্মচারীর জন্য একজন প্রশিক্ষিত প্রতিক্রিয়াকর্মী সুপারিশ করা যেতে পারে)। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ কর্মীদের বয়স বৃদ্ধি পায় এবং জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা (হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসজনিত জরুরি অবস্থা) কর্মক্ষেত্রে ক্রমশ সাধারণ হয়ে ওঠে। এই ধরনের ব্যবস্থা থাকলে কোনও বয়স্ক নির্বাহী সভায় পড়ে গেলে বা কর্মী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে সহকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে অসহায় অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
৩। গণপরিসরে সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা: ভারতের অনেক ক্ষেত্রে গণপরিসরে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব থাকে। ২০২৫ সালে, ভারতীয় রেলওয়ে ঘোষণা করে যে তারা প্রতিটি স্টেশনে এবং সমস্ত যাত্রিবাহী ট্রেনে মেডিকেল কিট (প্রয়োজনীয় ওষুধ, সরঞ্জাম এবং এমনকি অক্সিজেন) সরবরাহ করবে। এটি আরও বলেছে যে এটি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য তার সমস্ত ফ্রন্টলাইন রেল কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। যদি এই উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয় তাহলে তা অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থার জন্যও একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে। সিটি বাস পরিষেবা এবং আন্তঃনগর বাসগুলিকেও সুরক্ষা নিয়ম মেনে চলতে হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৮৮ সালের মোটরযান আইন ইতিমধ্যেই সমস্ত পরিবহণ যানবাহনে প্রাথমিক চিকিৎসা কিট বহন করার নির্দেশ দিয়েছে। তবুও অনুবর্তিতার ঘাটতি রয়েছে; পুনেতে একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে ৫০টি পাবলিক বাসের মধ্যে মাত্র ১৭টিতে প্রয়োজনীয় কিট ছিল এবং এই 'কিট'গুলির মধ্যে কিছু খালি বাক্স ছিল। এই ধরনের আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং অমান্যের জন্য জরিমানা নিশ্চিত করতে পারে যে জরুরি প্রতিক্রিয়ায় গণ-পরিবহণ দুর্বল অংশ নয়। একইভাবে, সরকারি ভবন, মল, বিমানবন্দর এবং বাস টার্মিনালগুলিকে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং এইডি দিয়ে সজ্জিত করা উচিত, যেখানে কর্মীরা (নিরাপত্তা রক্ষী, পরিচারক) এগুলি ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত থাকবেন।
৪। বাড়ি এবং জনসম্প্রদায়ের প্রস্তুতিকে উৎসাহিত করা: প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি পারিবারিক পর্যায়েও গড়ে তুলতে হবে। আদর্শভাবে, প্রতিটি বাড়িতে একটি প্রাথমিক চিকিৎসার কিট থাকা উচিত, কিন্তু বেশিরভাগ বাড়িতে প্রায়শই এটি থাকে না। উদাহরণস্বরূপ, গ্রামীণ কেরালায় পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে মাত্র ~৩৮ শতাংশ বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার কিট রয়েছে। জনশিক্ষা প্রচার চালানো হলে তা পরিবারগুলিকে মৌলিক সরবরাহ রাখতে এবং জরুরি প্রতিক্রিয়াকারীরা না আসা পর্যন্ত সাধারণ আঘাত বা আকস্মিক অসুস্থতা মোকাবিলা করার সহজ দক্ষতা শিখতে উৎসাহিত করতে পারে। জনসম্প্রদায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং স্থানীয় ক্লিনিকগুলি বিশেষ করে বয়স্ক বা ছোট শিশুদের যত্নের জন্য বাড়িতে জরুরি পরিকল্পনা তৈরির জন্য কর্মশালা আয়োজন করতে পারে। আবাসন সমিতি এবং গ্রামের বাসিন্দারা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ শিবিরের ব্যবস্থা করার জন্য সম্পদ একত্রিত করতে পারে।
৫। জনসচেতনতা জোরদার করা: 'গুড সামারিটান' আচরণকে সত্যিকার অর্থে উৎসাহিত করার জন্য, মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞানের পাশাপাশি এটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। তাদের অবশ্যই এই নিশ্চয়তা থাকতে হবে যে তারা আইনত সহায়তা পাবে। এর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট স্বাস্থ্য যোগাযোগ নির্দেশিকা এবং উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, সরকার ও স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলি স্কুল পাঠ্যক্রম, টেলিভিশন প্রচারণা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যাচাইকৃত প্রাথমিক চিকিৎসা কৌশল সম্পর্কে জনশিক্ষা বৃদ্ধি করতে পারে। বিশ্বস্ত সংস্থাগুলি (যেমন রেড ক্রস, সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স, বা এইমস) দ্বারা তৈরি সু-প্রযোজিত ভিডিওগুলি, যেখানে সিপিআর, হাইমলিখ কৌশল এবং ক্ষত যত্ন দেখানো হয়েছে, সঠিক কারণে ভাইরাল হতে পারে, এবং সন্দেহজনক বিষয়বস্তুর বিরুদ্ধে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভুল তথ্য মোকাবিলা করতে হবে। একটি ভাইরাল মিথকে বাতিল করার জন্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এমন প্ল্যাটফর্ম দেওয়া উচিত যাতে তাঁরা মিথের মতো একই দর্শকদের কাছে পৌঁছতে পারেন। অবশেষে, জনসাধারণের কাছে প্রেরিত বার্তায় গুড সামারিটান আইনকে শক্তিশালী করতে হবে; মানুষের বারবার শোনা উচিত যে সাহায্য করার চেষ্টা করার জন্য তাদের হয়রানির শিকার হতে হবে না। জনসেবা ঘোষণা এবং এমনকি হাইওয়ে, মেট্রো স্টেশন এবং অন্যান্য উচ্চ-যানচাঞ্চল্যপূর্ণ এলাকায় সাইনবোর্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের এ কথা মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। প্রতিকূলতার ভয় দূর করা এবং তার পরিবর্তে নাগরিক কর্তব্যবোধ জাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবুও অনুবর্তিতার ঘাটতি রয়েছে; পুনেতে একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে ৫০টি পাবলিক বাসের মধ্যে মাত্র ১৭টিতে প্রয়োজনীয় কিট ছিল এবং এই 'কিট'গুলির মধ্যে কিছু খালি বাক্স ছিল।
স্বাস্থ্য-সুরক্ষিত সমাজে পরিণত হওয়ার দিকে ভারতের অগ্রগতির মধ্যে লক্ষ লক্ষ সাধারণ নাগরিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া, এর গণ-পরিকাঠামো উন্নত করা, এবং এই সমস্যাটিকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন মিথ দূর করা অন্তর্ভুক্ত। পোস্ট ভাইরাল হওয়ার যুগকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয় তবে এটি একটি সম্পদ হতে পারে। এই বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবসে, নীতিনির্ধারক, বিষয়বস্তু নির্মাতা এবং জনসাধারণের জন্য বার্তাটি হওয়া উচিত প্রমাণ-ভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান গ্রহণ করা। নাগরিকদের দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ক্ষমতায়িত করা প্রয়োজন, যাতে যখন কোনও সংকট আসে তখন নিকটতম সাহায্যকারী ইচ্ছুক এবং সক্ষম উভয়ই থাকে, এবং ভালো লাগার গল্পগুলি বাস্তব বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত হয় এবং আরও বেশি জীবন সত্যিকার অর্থে রক্ষা পায়।
কে এস উপলব্ধ গোপাল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের সহযোগী ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. K. S. Uplabdh Gopal is an Associate Fellow with the Health Initiative at the Observer Research Foundation. He writes and researches on how India’s ...
Read More +