Author : Nimisha Chadha

Expert Speak Health Express
Published on Jan 12, 2026 Updated 0 Hours ago

অগ্রগতি সত্ত্বেও ভারতে যক্ষ্মা মোকাবিলায় অর্থায়নের ঘাটতি বাড়ছে, যা ২০৩০ সালের নির্মূল লক্ষ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং এর জন্য আরও শক্তিশালী, ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।

যক্ষ্মা নির্মূলে ভারতের লড়াইয়ে অর্থায়ন

যক্ষ্মা (টিবি) প্রতিরোধযোগ্য  নিরাময়যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এটি একটি একক সংক্রামক জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মার সর্বোচ্চ বোঝা ভারতের উপর পড়েছে এবং ২০২৩ সালে নতুন আক্রান্তদের ২৬ শতাংশই ভারতে। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সংক্রমণের হার ১৮ শতাংশ হ্রাস পেলেওসম্পদের ঘাটতি এই অর্জনগুলোকে ক্ষুণ্ণ করার হুমকি দিচ্ছে। তবে সমস্যাটি কেবল আর্থিক বরাদ্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়বরং কী ভাবে সম্পদ বরাদ্দ ব্যবহার করা হচ্ছে তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ভারত যখন রাষ্ট্রপুঞ্জের স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (ইউএন-এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা .-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষ্মা মহামারি নির্মূলের লক্ষ্যে কাজ করছেতখন তহবিলের ঘাটতি পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে যক্ষ্মা অর্থায়ন কাঠামো 

ভারতের জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচি (এনটিইপি) হল সরকারের প্রধান যক্ষ্মা কর্মসূচি। এটি জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (এনএইচএম) অধীনে কেন্দ্রীয় ভাবে পরিচালিত এবং জাতীয় যক্ষ্মা কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১৭২০২৫ (এনএসপি ২০১৭২৫) দ্বারা পরিচালিত। এনএসপি ২০১৭২৫ যক্ষ্মা মোকাবিলার জন্য আট বছরের মেয়াদে ১২,৩২৭ কোটি ভারতীয় টাকার (প্রায় .৩৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রয়োজনীয়তা অনুমান করেছিল।

যক্ষ্মা (টিবি) প্রতিরোধযোগ্য  নিরাময়যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এটি একটি একক সংক্রামক জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মার সর্বোচ্চ বোঝা ভারতের উপর পড়েছে এবং ২০২৩ সালে নতুন আক্রান্তদের ২৬ শতাংশই ভারতে।

কেন্দ্রীয় সরকার তহবিল সরবরাহ করে এবং রাজ্য সরকারগুলো এতে অবদান রাখে। সারণি - যেমন দেখানো হয়েছেসাম্প্রতিক বছরগুলোতে যক্ষ্মা রোগের জন্য অভ্যন্তরীণ তহবিল উল্লেখযোগ্য রকমের বৃদ্ধি পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন আন্তর্জাতিক তহবিল দ্বারাও সমর্থিত হয়।

সারণি ১: এনটিইপি-এর আর্থিক কর্মক্ষমতা (কোটি টাকায়) 

বর্ণনা

২০১৭-১৮

২০১৮-১৯

২০১৯-২০

২০২০-২১

২০২১-২২

২০২২-২৩         

২০২৩-২৪

২০২৪-২৫

যে বাজেট চাওয়া হয়েছিল

,২০০.০০

,১১৫.০০

,৫২৫.০০

,৫৫৪.০০

,৬২৮.৮৫

,০৮৮.৮৭

৩০৫,৭৪২

২৩,১৬৯.১৪

অনুমোদিত বাজেট

,৮৪০.০০

,১৪০.০০

,৩৩৩.২১

,১০৯.৯৩

,৪০৯.৯৪

,৬৬৬.৩৩*

১৮৮,৮৮২*

১৮,৩৮৮.২৩

রাজ্য থেকে যে টাকা পাওয়া গিয়েছে

৮৭১.৩৬

৯০৭.৬৫

৮৭০.৮১

৬২৯.৭১

৫৪৫.৭৮

**

**

,৮২৫.৩১

মোট খরচ

,৭৫৯.৪৪

,২৩৭.৭৯

,১৩০.১১

,০৯৭.৯৮

,০৮৬.৮২

৯১০.৮৩

৮৪০.৪৯

১৫,০৬৩.৪৬

*এনএইচএম কর্তৃক রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে সরাসরি প্রদত্ত নগদ অনুদান ব্যতীত।

**রিপ্রোডাক্টিভ চাইল্ড হেলথ ফ্লেক্সিবল পুলের অধীনে এনএইচএম কর্তৃক সরাসরি নগদ অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

উৎস: এনটিইপি (২০২৪)

গ্লোবাল ফান্ড ভারতে সরকারি বেসরকারি উভয় সংস্থার জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা। যক্ষ্মার জন্য গ্লোবাল ফান্ড ২০২৩-২০২৫ সালের ক্ষেত্রে ভারতে ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ভারতে গ্লোবাল ফান্ডের মোট বরাদ্দের ৬০ শতাংশ ‘ফলাফলের জন্য অর্থ প্রদান’ (পেমেন্টস ফর রেজাল্টস) মডেলের অধীনে করা হয়যেখানে নির্দিষ্ট ফলাফল অর্জনের ভিত্তিতে তহবিল বণ্টন করা হয়। ছাড়াওস্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক (এমওএইচএফডব্লিউএনএসপি ২০১৭-২৫-এর অগ্রাধিকারমূলক ফলাফলগুলিকে সমর্থন করার জন্য বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়েছেযা মোট কর্মসূচির ব্যয়ের ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচির অধীনে ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশ বণ্টন করা হয়েছে।

এনএইচএম-এর অধীনে প্রতিটি কর্মসূচিমূলক উপাদানের জন্য একটি সাধারণ এবং নমনীয় আর্থিক তহবিল (ফ্লেক্সিপুলপরিকল্পনা করা হয়েছেযেখানে বাহ্যিক সহায়তা-সহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থান একত্রিত করা হয়েছে। এনটিইপি সংক্রামক রোগের জন্য নমনীয় তহবিলের অধীনে অর্থায়ন করা হয়। রাজ্য স্বাস্থ্য সমিতিগুলিতে (এসএইচএসতহবিল ছাড় করা পূর্ববর্তী বছরগুলির ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল। একই ভাবেরাজ্য স্বাস্থ্য সমিতিগুলি জেলা স্বাস্থ্য সমিতিগুলিতে (ডিএইচএসতহবিল ছাড় দেয়। জেলা স্বাস্থ্য সমিতিগুলি কর্মসূচিমূলক উদ্দেশ্য এবং স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকলাপের জন্য তহবিল বণ্টন করে। তবে স্থানান্তরে বিলম্বের কারণে ব্যয় অনুমোদিত বাজেটের চেয়ে কম হয় এবং তহবিল অব্যবহৃত থেকে যায়যা সারণি - স্পষ্ট।

যক্ষ্মা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার (টিপিটিজন্য বাজেটের মাত্র শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছেযদিও মিলিয়ন পরিবার এর জন্য যোগ্য। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সুপ্ত যক্ষ্মা সংক্রমণ যে কোনও সময় পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।

অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি

অর্থায়নের উৎসের ব্যাপকতা থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু অসামঞ্জস্যতা এর কার্যকারিতা ব্যাহত করছে। ২০২৫ সালের একটি রাইট টু ইনফর্মেশন (আরটিআইআবেদনের জবাবে (ইন্ডিয়া স্পেন্ড কর্তৃক দাখিলকৃত) দেখা যায় যেরোগ নির্ণয় ওষুধের জন্য ব্যয়ের বেশির ভাগই সাম্প্রতিক বছরগুলিতে করা হয়েছেযদিও কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ব্যয়ে কিছুটা হ্রাস ঘটেছিল এবং পূর্ববর্তী বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য রকমের কম অর্থায়ন করা হয়েছিল (চিত্র এবং ) উপরন্তুযক্ষ্মা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার (টিপিটিজন্য বাজেটের মাত্র শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছেযদিও মিলিয়ন পরিবার এর জন্য যোগ্য। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সুপ্ত যক্ষ্মা সংক্রমণ যে কোনও সময় পুনরায় সক্রিয় হতে পারে। দিকেযাদের মধ্যে রোগের কোনও স্পষ্ট লক্ষণ নেইসেই সংক্রমিত ব্যক্তিরাও অজান্তেই রোগটি ছড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘এন্ড টিবি স্ট্র্যাটেজি একটি মূল ভিত্তি হওয়া সত্ত্বেওভারতে যক্ষ্মা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা উপেক্ষিতই রয়ে গিয়েছে।

চিত্র ১: যক্ষ্মা কর্মসূচির অধীনে ওষুধের উপর ব্যয়

Financing India S Fight To End Tuberculosis

উৎস: আরটিআই উত্তর (ইন্ডিয়া স্পেন্ড, ২০২৫)

চিত্র ২: যক্ষ্মা কর্মসূচির অধীনে রোগ নির্ণয়ের উপর ব্যয়

Financing India S Fight To End Tuberculosis

উৎস: আরটিআই উত্তর (ইন্ডিয়া স্পেন্ড, ২০২৫)

ছাড়াওএই কর্মসূচির একটি মূল উপাদান হল এটি নিশ্চিত করা যেব্যক্তিরা যেন পকেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় না করে। এর জন্যএনটিইপি- অধীনে বিনামূল্যে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। নিক্ষয় পোষণ যোজনার মতো প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে রোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ,০০০ টাকা স্থানান্তর করা হয়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত .১৩ কোটি সুবিধাভোগীর মধ্যে ,২০২ কোটিরও বেশি টাকা বণ্টন করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের একটি নমুনা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যেদরিদ্র-বান্ধব বণ্টন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেওযক্ষ্মা আক্রান্ত ৪৫ শতাংশ ব্যক্তি এখনও বিপর্যয়কর ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। বেসরকারি খাত থেকে শনাক্ত হওয়া রোগীদের বিপর্যয়কর ব্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিলযদিও এনটিইপি রোগ নির্ণয় চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ভর্তুকি প্রদান করে। আরও দেখা গিয়েছে যেমোট ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশই ছিল পরোক্ষ ব্যয়। উৎপাদনশীলতা হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র হয়যা যক্ষ্মার ফলাফলের উপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

২০২৪ সালের একটি নমুনা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, দরিদ্র-বান্ধব বণ্টন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও, যক্ষ্মা আক্রান্ত ৪৫ শতাংশ ব্যক্তি এখনও বিপর্যয়কর ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন।

তহবিলের ঘাটতি ছাড়া টাটা ট্রাস্টের মতো সংস্থাইন্ডিয়া হেলথ ফান্ডটিউবারকুলোসিস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন এগেনস্ট টিউবারকুলোসিস অ্যান্ড লাং ডিজিজেস-সহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা যক্ষ্মা প্রতিরোধের কার্যক্রমে অর্থায়ন করছে। সরকার কর্পোরেট সম্পদ একত্রিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পথও তৈরি করেছেযেমন কর্পোরেট টিবি প্লেজনিক্ষয় মিত্র দাতা কর্মসূচি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের জন্য নির্দেশিকা। তবে কর্পোরেট অংশগ্রহণের পূর্ণ সম্ভাবনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সামগ্রিক ভাবেএই আর্থিক ঘাটতিগুলি ভারতে যক্ষ্মা মহামারি অবসানের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

বাহ্যিক সহায়তা ও অংশীদারিত্ব

চিত্র - যেমন দেখানো হয়েছেভারত-সহ বিশ্ব জুড়ে যক্ষ্মা রোগের জন্য তহবিল হ্রাস পাচ্ছে। ২০২৪-২৫ সালে ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর (ইউএসএআইডি) তহবিল প্রত্যাহারের ফলে বেশ কয়েকটি যক্ষ্মা কর্মসূচিতে অপ্রতুল তহবিল দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচওসতর্ক করেছে যেচলমান সহায়তা হ্রাস যক্ষ্মা মোকাবিলায় পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলছে। একটি পিএলওএস গবেষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল প্রত্যাহারের সম্ভাব্য প্রভাবের মডেল তৈরি করা হয়েছে। এই গবেষণা অনুসারে২০২৩ সালে যক্ষ্মা রোগের জন্য মোট বৈশ্বিক তহবিল ছিল . বিলিয়ন মার্কিন ডলারযার ২১ শতাংশ এসেছিল বাহ্যিক উৎস থেকে। ২০২৪ সালেইউএসএআইডি ৪০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং গ্লোবাল ফান্ড ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলযার মধ্যে প্রায় ২৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল। যদি তহবিলের ঘাটতি অব্যাহত থাকেতবে অনুমান করা হচ্ছে যেবছরের মধ্যে ২০ লক্ষেরও বেশি জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতের জন্যস্টপ টিবি পার্টনারশিপের একটি প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যেমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেবিশেষ করে ইউএসএআইডি-এর মাধ্যমে তহবিল বন্ধ হয়ে গেলে তা নিরীক্ষণ এবং সক্রিয় রোগী শনাক্তকরণসম্প্রদায়-ভিত্তিক কার্যক্রমপর্যবেক্ষণ  কার্যকরী গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা সম্পর্কিত কর্মসূচিমূলক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করবে। 

চিত্র ৩: ভারতে যক্ষ্মা প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা পরিষেবার জন্য উপলব্ধ তহবিল

Financing India S Fight To End Tuberculosis

উৎস: ডব্লিউএইচও (২০২৪)

ছাড়াও, টিকা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি আসে কয়েকটি বড় জনহিতকর সংস্থা থেকে। ২০২৩ সালে শুধুমাত্র বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ মোট যক্ষ্মা গবেষণা উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডিতহবিলের প্রায় ৫৩ শতাংশ অবদান রেখেছে। তহবিলের উৎসের বৈচিত্র্যের অভাব যক্ষ্মা রোগের জন্য স্থিতিশীল বিনিয়োগের প্রাপ্যতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মা গবেষণা উন্নয়নের জন্য মোট তহবিলও ওষুধ (২১ শতাংশ), টিকা (১৮ শতাংশ), রোগ নির্ণয় পদ্ধতি (১৭ শতাংশ) এবং মৌলিক বিজ্ঞান (২০ শতাংশ) ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার একটি অংশ মাত্র পাচ্ছে।

২০২৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে যে, চলমান সহায়তা হ্রাস যক্ষ্মা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

তা সত্ত্বেওযক্ষ্মার জন্য তহবিল বৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি রয়েছে। ২০২৩ সালে যক্ষ্মা বিষয়ক রাষ্ট্রপুঞ্জের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিশ্ব নেতারা ২০২৭ সালের মধ্যে ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০২৫ সালে পঞ্চদশ ব্রিকস (ব্রাজিলরাশিয়াভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা) স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে দেশগুলি বহুপাক্ষিক সংস্থা এবং বেসরকারি খাত-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রক্রিয়াকে একত্রিত করার মাধ্যমে যক্ষ্মার জন্য স্থিতিশীল অর্থায়ন জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভবিষ্যতে যা করণীয়

স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের একটি আর্থিক ঘাটতি বিশ্লেষণ অনুসারেকর্মসূচির ফলাফল উন্নত করার জন্য অতিরিক্ত ১০,৬৮৬ কোটি ভারতীয় টাকার তহবিল প্রয়োজন। যক্ষ্মার জন্য অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য কারণ এতে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রতিদান পাওয়া যায়। অনুমান করা হয় যেযক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে করা প্রতিটি ডলার বিনিয়োগের জন্য ৩৩ ডলার ফেরত আসে। স্টপ টিবি পার্টনারশিপের মতেযক্ষ্মা নির্মূল করলে বিশ্বব্যাপী . ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক বিনিয়োগের প্রতিদান পাওয়া যেতে পারে।

যদিও ভারত তার অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়েছেতবুও যক্ষ্মা মহামারিটি সত্যিকার অর্থে নির্মূল করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের তুলনায় তা অনেক কম। ছাড়াও আন্তর্জাতিক তহবিল হ্রাসের বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেএখনও পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি যাতে ব্যাহত না হয়তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সম্পদ সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক রোগের বোঝা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আর্থিক চাপ মোকাবিলার জন্য জনসংখ্যার স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এমন আচরণের উপর স্বাস্থ্য কর আরোপ এবং নির্দিষ্ট তহবিল বরাদ্দ করার সুপারিশ করেছে।

দাতা-নির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরশীলতার দিকে এগিয়ে যেতে হলেভারতকে একটি স্থিতিশীল অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করতে হবেঅতিরিক্ত সম্পদ সংগ্রহ করতে হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের জন্য তহবিলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত সম্পদ সংগ্রহ করাঅর্থায়নের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করাতহবিলের উৎস বহুমুখী করা এবং টিপিটি গবেষণা উন্নয়নসহ কম অর্থায়নপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগ করা ভারতকে তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজনযেখানে এনটিইপি-এর অধীনে প্রায় ৬৫ শতাংশ রোগী প্রথম চিকিৎসা গ্রহণ করেনযা রোগীদের পকেট থেকে খরচ কমানোর জন্য জরুরি। দাতা-নির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরশীলতার দিকে এগিয়ে যেতে হলেভারতকে একটি স্থিতিশীল অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করতে হবেঅতিরিক্ত সম্পদ সংগ্রহ করতে হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের জন্য তহবিলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

 


নিমিশা চাড্ডা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট

 

নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.