এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় লোয়ি ইনস্টিটিউট-এ।
শুধু বাণিজ্য বাধা বাড়ানোর পরিবর্তে, দেশগুলির উচিত চিনের ভর্তুকি পরবর্তীতে কোথায় যাবে, তা অনুমান করে প্রতিযোগিতায় নামা।
১৯৯৪ সালে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা দেশটির আর্থিক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করে দেয়। তার আগে পর্যন্ত কর আরোপ ও ব্যয়ের সিংহভাগ ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারগুলির হাতেই ছিল। সংস্কারের পর এই নিম্ন-স্তরের সরকারগুলিকে একই ব্যয়ের দায়িত্ব বজায় রেখেও কর রাজস্বের অনেকটা বড় অংশ বেজিং-এ জমা দিতে হত।
প্রায় একই সময়ে যখন চিনের উৎপাদন শিল্পের অভাবনীয় উত্থান ঘটছিল, তখন সাধারণ পরিবারগুলি মধ্যবিত্ত আয়ের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। কিন্তু আর্থিক দমনপীড়ন এবং অনিশ্চিত বাজারের কারণে তাদের সঞ্চয় রাখার জন্য একটি নিরাপদ স্থানের প্রয়োজন ছিল। ১৯৯৮ সালে চিন আবাসিক সম্পত্তি কেনা-বেচাকে বৈধতা দেয়। স্থানীয় সরকারগুলির জরুরি ভিত্তিতে রাজস্বের প্রয়োজন ছিল এবং পরিবারগুলিরও সম্পদের প্রয়োজন ছিল। রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলি সরকারি জমি বিক্রির জন্য নিখুঁত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়। মাইক বার্ড তাঁর ‘দ্য ল্যান্ড ট্র্যাপ: এ নিউ হিস্ট্রি অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস ওল্ডেস্ট অ্যাসেট’ গ্রন্থে যেমনটা যুক্তি দিয়েছেন, এই দু’টি সিদ্ধান্তই চিনের রিয়েল এস্টেট উত্থানের সূচনা করেছিল। ২০০৮ সালের পর সস্তা ঋণ একটি বিশাল বুদবুদকে ইন্ধন জোগায়, যা অবশেষে ২০২১-২২ সালে ফেটে যায়।
এই দু’টি সম্পর্কিত সাদৃশ্য চিনের রিয়েল এস্টেট সুপার-সাইকলের চেয়েও গভীর বিষয়কে প্রকাশ করে। বৈদেশিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা রয়েছে যে, চিনে যা কিছু ঘটে, তা সবই পরিকল্পিত। সুতরাং, এ কথা স্পষ্ট যে, ১৯৯০-এর দশকে প্রথমে জমিকে নগদীকরণ করা এবং তার পর ২০১০-এর দশক জুড়ে এতে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল বেজিং-এর সিসিপি অভিজাতদের দ্বারা গৃহীত একটি সক্রিয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু চিনের বেশির ভাগ বিষয়ের মতোই নীতির প্রকৃত ফলাফল ছিল উদ্দেশ্যমূলক এবং অনিচ্ছাকৃত পরিণতির একটি সংমিশ্রণ।
চিনের উৎপাদন ক্ষমতা এবং শিল্পনীতির ব্যাপকতার কারণে রফতানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন মডেলটি কার্যত বাতিল হয়ে গিয়েছে।
অধিকাংশ ভাষ্যকারই ক্রমশ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছেন যে, এর মূল কারণ হল চিনের রাজনৈতিক অর্থনীতির মডেল। এই মডেলে আর্থিক দমননীতির বৈশিষ্ট্য রয়েছে – যা কম আমানতের হার এবং মজুরির মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয় – এবং এই বৈষম্যকে প্রণোদনা, ভর্তুকি ও ঋণের আকারে উৎপাদন শিল্পে প্রবাহিত করা হয়। এই মডেলের মাধ্যমে চিনের নীতি নির্ধারকরা রফতানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেন, কিন্তু তার জন্য তাঁরা সাধারণ পরিবারগুলিকে তুলনামূলক ভাবে দরিদ্রই রাখেন। এটি কোনও স্থির মডেল নয়। যখন কোনও একটি শিল্প সম্পৃক্ততার পর্যায়ে পৌঁছয়, তখন ভর্তুকির সিংহভাগ অন্য একটি শিল্পে স্থানান্তরিত হয়। আর এই চক্র চলতেই থাকে।
কয়েক বছর আগে যখন চিনের রিয়েল এস্টেট বুদবুদ ফেটে যায়, তখন কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারগুলি সেই সমস্ত বিনিয়োগকে ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ পরিকল্পনায় তালিকাভুক্ত অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক খাতের পাশাপাশি উচ্চ-গতির রেল, ইলেকট্রনিক যানবাহন, সৌরশক্তি, ব্যাটারি, ঔষধশিল্প, স্বচালিত যানবাহনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে পুনঃনির্দেশিত করে।
২০২০ সাল পর্যন্ত রিয়েল এস্টেট খাতে আনুমানিক ৬-৭ ট্রিলিয়ন আরএমবি বিনিয়োগ হয়েছিল, যেখানে এই শিল্পখাতে বিনিয়োগ এসেছিল প্রায় ১ ট্রিলিয়ন আরএমবি।
মোদ্দা কথা হলো... ‘মেড ইন চায়না’ উদ্যোগটি ২০১৫ সালে চালু হয়েছিল। কিন্তু ২০২০-২১ সালের দিকে যখন আবাসন খাতে ধস নামে, তখনই এই বিনিয়োগ সেই সমস্ত শিল্পের দিকে পুনঃনির্দেশিত হয়, যেগুলি এখন চিন ও বিশ্ব অর্থনীতিতে রাজত্ব করছে। ২০২৩ সাল নাগাদ এই শিল্পে বিনিয়োগের অংশ বেড়ে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন আরএমবি-তে পৌঁছেছিল এবং আবাসন খাতের অংশ ছিল এক ট্রিলিয়নেরও কম।
চিনের শিল্পনীতির পরিধি বিস্ময়কর এবং এটি এখন সক্রিয় ভাবে উত্তর গোলার্ধের শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলিতে অবশিল্পায়নের দিকে চালিত করছে। এ দিকে, উন্নয়নশীল বিশ্ব আরও শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। চিনের উৎপাদন ক্ষমতা এবং শিল্পনীতির ব্যাপকতার কারণে রফতানি-নির্ভর প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন মডেলটি কার্যত বাতিল হয়ে গিয়েছে।
চিনের অর্থনীতি নিজেও এই বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনৈতিক মডেলের নেতিবাচক দিকগুলি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। চিনের অর্থনীতি একটি গভীর মুদ্রা-সঙ্কোচন চক্রে আটকে আছে। সর্বোপরি, বিভিন্ন খাতে অবক্ষয় বা ‘নেইজুয়ান’-এর সমস্যা এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে, পলিটব্যুরো ও সরকারকে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা, লাগামহীন মূল্যযুদ্ধ ও সর্বনিম্ন মূল্যের প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবস্থান নিতে হয়েছে। সৌরশক্তি থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও ব্যাটারি পর্যন্ত… একটার পর একটা খাত অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে, যার লক্ষণ হল রাজস্ব এবং উৎপাদনের পরিমাণে (বেশির ভাগই রফতানি) বৃদ্ধি। কিন্তু প্রতিষ্ঠান-স্তরের মুনাফায় প্রায় কোনও বৃদ্ধিই হচ্ছে না।
অটোমোবাইল, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক যান (ইভি) খাতটি চিনের প্রকৃত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সমস্যাটিকে তুলে ধরে। ২০২৫ সাল নাগাদ গাড়ির ভর্তুকি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের মোট রাজস্বের ৩ শতাংশ এবং মোট গাড়ি বিক্রির ৭ শতাংশ আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। রোডিয়াম গ্রুপের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এখানে পরিহাসের বিষয় হল এই, যে ভর্তুকিগুলো গাড়ির বিক্রি বাড়াচ্ছে, সেগুলোই সম্ভবত গাড়ি প্রস্তুতকারকদের মধ্যে ‘অন্তঃবিকাশমূলক প্রতিযোগিতা’কে (ইনভলিউশনারি কম্পিটিশন) উৎসাহিত করছে এবং পুরো খাতজুড়ে গাড়ির বিক্রয়মূল্য কমিয়ে দিচ্ছে।’
এখানে চিনা নীতিনির্ধারকদের আসলে নেতিবাচক হিসেবে চিত্রিত করা ও অভ্যন্তরীণ মুদ্রা-সঙ্কোচন ঘটানো ও তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে বাকি বিশ্বের জন্য উৎপাদন খাতকে অপ্রতিযোগিতামূলক করে তোলার জন্য তাঁদের দায়ী করাটা বেশ লোভনীয়। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চিনের অংশ এখন এতটাই বড় যে, এই ধরনের কঠোর বাগাড়ম্বরপূর্ণ বয়ানের আর অবকাশ নেই। সিসিপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে হুবেই-এর একজন টাউনশিপ কর্মকর্তা পর্যন্ত… চিনা নীতিনির্ধারকরা একটি বিকল্প উন্নয়ন মডেল-সহ বিশ্বের কথা কল্পনাও করতে পারেন না। তাঁরা এই ভয় পান যে, ঝুঁকিটা অনেক বেশি এবং যদি বিকল্প মডেলটি কাজ না করে বা বাস্তবায়িত হতে খুব বেশি সময় নেয়, তবে এটি এক ধরনের ব্যাপক রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
এটি বাকি বিশ্বের জন্য একটি অপেক্ষাকৃত কঠোর নীতিগত বিকল্প রেখে যায়: হয় কিছুই না করা অথবা চিনা আমদানির বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক বাধা বাড়ানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সেই পুরনো মুদ্রাস্ফীতিকে মেনে নেওয়া।
তবুও আর একটি বিকল্প আছে বলে মনে হয়। ধরা যাক, অদূর ভবিষ্যতে চিনা মডেলের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই এখন যখন একের পর এক খাত পরিপূর্ণতায় পৌঁছবে, তখন দেশগুলির আগে থেকেই অনুমান করা উচিত যে, সরকারি ভর্তুকি এবং ব্যাঙ্ক ঋণ কোন খাতের দিকে পুনঃনির্দেশিত হতে পারে। এটিই হবে প্রথম পদক্ষেপ।
পরবর্তী পদক্ষেপ হল সেই খাতগুলির মধ্যে কোনওটির — ধরা যাক পাঁচ বছর পরে হলেও — যদি নিজের অর্থনীতি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠার সক্ষমতা রাখে, তা বেছে নেওয়া। বিদ্যমান আর্থিক সীমাবদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে, সেই নির্বাচিত খাতগুলির জন্য সরকারের উচিত গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), উৎপাদন প্রণোদনা এবং সস্তা ঋণে উৎসাহ প্রদান করা। প্রয়োজনে, বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ ব্যবহার করা উচিত। তবে তা করা জরুরি কৌশলগত ভাবে, যাতে প্রয়োজনীয় মূলধনী পণ্য এবং উপকরণ প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আমদানি করা যায়। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বেশির ভাগ দেশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো হয়ে উঠেছিল। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো শিল্পনীতির অভিজ্ঞ দেশগুলির ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। তাই এটা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, এই শতাব্দীর প্রথমার্ধে দেশগুলিকে তাদের নাগরিকদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ পেতে হলে চিনের মতোই হতে হবে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় লোয়ি ইনস্টিটিউট-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Srijan Shukla is an Associate Fellow working with the geoeconomics and the forums team. His research focuses on domestic and international political economy. In the ...
Read More +