-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
মাটি থেকে উপকূল পর্যন্ত প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান স্থিতিস্থাপক, ন্যায়সঙ্গত এবং উৎপাদনশীল খাদ্য ব্যবস্থার জন্য একটি স্থিতিশীল পথ প্রদান করে।
জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির ফলে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলি বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থার উপর অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করছে, যা ২০৫০ সালের মধ্যে ৯.১ বিলিয়ন মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আন্তঃসরকারি জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেলের (আইপিসিসি) ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুসারে, জলবায়ু সঙ্কটের মূলে রয়েছে খাদ্য, জমি ও জল ব্যবস্থা, যেখানে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার মতো বেড়ে চলা চরম ঘটনাগুলি ফসলের ফলন ও পুষ্টির মান উভয়ই হ্রাস করছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে তাপপ্রবাহ গমের ফলন ১৫-২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করেছে, যা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য চাহিদা, নগরায়ণ এবং দ্রুত কৃষি সম্প্রসারণের ফলে এই চ্যালেঞ্জগুলি পরিবেশগত চাপ এবং খাদ্য লব্ধতার ক্ষেত্রে বৈষম্যকে তীব্রতর করছে, বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকা ও ভারতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য। এটি স্থিতিশীলতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং পদ্ধতিগত স্থিতিস্থাপকতাকে শক্তিশালী করার জন্য উদ্ভাবনী পদ্ধতির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, বণ্টন এবং ব্যবহার পুনর্বিবেচনার জন্য একটি জরুরি তদন্তের দাবি করে।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে (এনবিএস) ‘প্রাকৃতিক বা পরিবর্তিত স্থলজ, স্বাদু জল, উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীল ব্যবহার এবং পরিচালনার জন্য পদক্ষেপ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলিকে কার্যকর এবং অভিযোজিত ভাবে মোকাবিলা করে এবং একই সঙ্গে মানব কল্যাণ, বাস্তুতন্ত্র পরিষেবা, স্থিতিস্থাপকতা ও জীববৈচিত্র্যের সুবিধা প্রদান করে’ (চিত্র ১)।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে (এনবিএস) ‘প্রাকৃতিক বা পরিবর্তিত স্থলজ, স্বাদু জল, উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীল ব্যবহার এবং পরিচালনার জন্য পদক্ষেপ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলিকে কার্যকর এবং অভিযোজিত ভাবে মোকাবিলা করে এবং একই সঙ্গে মানব কল্যাণ, বাস্তুতন্ত্র পরিষেবা, স্থিতিস্থাপকতা ও জীববৈচিত্র্যের সুবিধা প্রদান করে’ (চিত্র ১)। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩০ বা ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২°সেন্টিগ্রেড সীমার নিচে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যয়-কার্যকর প্রশমনে ৩০ শতাংশ অবদান রাখতে পারে এনবিএস।

সূত্র: প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান
বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান গড় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন এবং তীব্রতর চরম ঘটনা ইতিমধ্যেই ফসল ও পশুপালনের উৎপাদনশীলতা হ্রাস করছে, বিশেষ করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে। অনুমান অনুযায়ী, পশ্চিম ও পূর্ব আফ্রিকায় ফসলের উৎপাদন ২০৩০ সালের মধ্যে ২.৯ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা অভিযোজিত নীতি ও স্থিতিস্থাপক খাদ্য ব্যবস্থার কৌশলগুলির প্রয়োজনীয়তাকেই দর্শায়। ক্রমবর্ধমান গড় তাপমাত্রা মাটির আর্দ্রতা হ্রাস করছে, জলের চাহিদা বৃদ্ধি করছে এবং জলের চাপ তীব্র করছে। এই কারণগুলি কৃষকদের আয় ও খাদ্য নিরাপত্তাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কৃষি বনায়ন, সংরক্ষণ কৃষি এবং ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের মতো এনবিএস, জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি, দূষণ রোধ এবং কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও নির্গমন হ্রাসের মাধ্যমে জলবায়ু প্রশমনে অবদান রেখে এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলার জন্য স্থিতিশীল পথ প্রদান করে।
পুনরুৎপাদনশীল কৃষির গুরুত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ এনবিএস পদ্ধতি এবং জীববৈচিত্র্য, মাটির স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনের উপর জোর দিয়ে বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতার জন্য ক্রমবর্ধমান ভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। ভারতে জিরো বাজেট প্রাকৃতিক কৃষি (জেডবিএনএফ) উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করেছে এবং মাটির স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করেছে। সরকার পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনার (পিকেভিওয়াই) মতো কর্মসূচির মাধ্যমে এটিকে সমর্থন করে, যা প্রশিক্ষণ উদ্যোগ ও ভর্তুকি দিয়ে জৈব চাষ ও মাটির স্বাস্থ্যকে উৎসাহিত করে। চিনে ধান-মাছ-হাঁস চাষের মতো সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা - যা ফসল, জলজ প্রাণী পালন এবং গবাদি পশুকে একত্রিত করে - প্রাকৃতিক কীটপতঙ্গ ও আগাছা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি পুনর্ব্যবহার ও উন্নত মাটির উর্বরতা ব্যবহার করে খাদ্য নিরাপত্তা, উৎপাদনশীলতা এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করে। সামুদ্রিক ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে এনবিএসের ভূমিকা ক্রমশ স্বীকৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য বন্যা ও ঝড়ের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় জীবিকা ও মৎস্যজীবীদের সহায়তা করে। অতএব, এনবিএসের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, উৎপাদনশীলতা/নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ন্যায্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ব্যবস্থায় রূপান্তর করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও, মাত্রায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলির জরুরি সমাধান প্রয়োজন।
চিনে ধান-মাছ-হাঁস চাষের মতো সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা - যা ফসল, জলজ প্রাণী পালন এবং গবাদি পশুকে একত্রিত করে - প্রাকৃতিক কীটপতঙ্গ ও আগাছা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি পুনর্ব্যবহার ও উন্নত মাটির উর্বরতা ব্যবহার করে খাদ্য নিরাপত্তা, উৎপাদনশীলতা এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করে।
প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও প্রকৃতি-ভিত্তিক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক কৃষকের স্থিতিশীল কৃষি পদ্ধতি এবং এর দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা রয়েছে। তাঁরা প্রায়শই মাটির স্বাস্থ্য ও ফসল উৎপাদনশীলতার উপর নেতিবাচক প্রভাবগুলি স্বীকার না করেই অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারের উপর নির্ভর করেন। গবেষণা দর্শিয়েছে যে, কেবলমাত্র উৎপাদনশীলতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা কৌশলগুলি সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা উপেক্ষা করে কৃষি বাস্তুতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের সঙ্গে আপস করে। নাগরিক প্রেক্ষাপটে, খণ্ডিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও বিভক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব আন্তঃক্ষেত্রীয় সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে, জাতীয় নীতি ও স্থানীয় পরিকল্পনা উদ্যোগে এনবিএস-এর একীকরণকে সীমিত করে।
এনবিএস-এর সফল বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও সহায়ক নীতি প্রয়োজন। সরকারগুলিকে প্যারিস চুক্তির অধীনে জাতীয় ভাবে নির্ধারিত অবদান-সহ জাতীয় জলবায়ু এবং খাদ্য কৌশলগুলিতে এনবিএস-কে অন্তর্ভুক্ত করে সক্ষম পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কার্বন ক্রেডিট বা বাস্তুতন্ত্র পরিষেবার জন্য অর্থ প্রদানের (পিইএস) মতো আর্থিক প্রণোদনা কৃষকদের স্থিতিশীল পদ্ধতি গ্রহণের জন্য ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে পারে, যার মধ্যে কৃষি বনায়ন উন্নত হয় এবং পলি ও পুষ্টির প্রবাহ হ্রাস পায়। উদাহরণস্বরূপ, কোস্টারিকার পিইএস প্রোগ্রাম বন সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের পুরস্কৃত করে, আয় ও জীববৈচিত্র্য উভয়ই বৃদ্ধি করে। রাষ্ট্রপুঞ্জের বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দশকের মতো বিশ্বব্যাপী কাঠামোর সঙ্গে এনবিএস-কে একত্রিত করা, নীতিগত একীকরণকে মাত্রায়ন ও শক্তিশালী করতে পারে। এটি ২০৭০ (ভারত) বা ২০৩০ (বিশ্বব্যাপী) নেট-জিরো লক্ষ্য পূরণের জন্য বিনিয়োগের চাহিদাগুলিতে লব্ধতার বিষয়টিকে উন্নত করতে পারে।
কার্বন ক্রেডিট বা বাস্তুতন্ত্র পরিষেবার জন্য অর্থ প্রদানের (পিইএস) মতো আর্থিক প্রণোদনা কৃষকদের স্থিতিশীল পদ্ধতি গ্রহণের জন্য ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে পারে, যার মধ্যে কৃষি বনায়ন উন্নত হয় এবং পলি ও পুষ্টির প্রবাহ হ্রাস পায়।
‘জীববৈচিত্র্য ও মানব কল্যাণের জন্য প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের সুবিধাগুলি সুস্থ বাস্তুতন্ত্র থেকেই আসে’… এই উক্তিটির অনুরণন ঘটিয়ে এনবিএস বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জীবিকা নির্বাহ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্থিতিশীল সমাধান প্রদান করে। আদিবাসী জ্ঞান ব্যবহার করে সম্প্রদায়-চালিত উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং কৃষকদের জন্য শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে - বিশেষ করে নারী এবং আদিবাসী সম্প্রদায় - আমরা এমন সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে পারি, যা প্রকৃতি এবং মানব কল্যাণ উভয়েরই ভিত্তি।
শোভা সুরি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Shoba Suri is a Senior Fellow with ORFs Health Initiative. Shoba is a nutritionist with experience in community and clinical research. She has worked on nutrition, ...
Read More +