Published on Sep 25, 2025 Updated 0 Hours ago

চিন যখন বিশ্বব্যাপী প্রভাবযুক্ত জৈবপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করছে, তখন ভারতকে এই বিজ্ঞান ও কৌশলগত ক্ষেত্রে তার স্থান নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।

চিনের বায়োটেক শিল্পের বিবর্তন: গুঁড়ি মেরে বসা বাঘ, লুকিয়ে থাকা ড্রাগন

এটি চায়না ক্রনিকলস সিরিজ -‌এর ১৭৫তম ‌নিবন্ধ



জৈবপ্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান প্রযুক্তি যা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে, উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা বহন করে। তবে জৈবপ্রযুক্তি শক্তিধর হিসেবে চিনের আধিপত্য 
জৈবনিরাপত্তা  সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ কথন দ্বারা বিদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈষম্যমূলক বা ক্ষতিকারক উদ্দেশ্যে জিনগত তথ্যের ব্যবহার, এবং সম্প্রতি  জৈবপ্রযুক্তি তে একটি সম্ভাব্য 'ডিপসিক মুহূর্ত' — কারণ চিনা সংস্থাগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে উদ্ভাবনী ও বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক পণ্য তৈরি করছে। যদিও এই উদ্বেগগুলি বৈধ, চিনের জৈবপ্রযুক্তি অগ্রগতি — প্রযুক্তিগত ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে — দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসাবে এই ক্ষেত্রের প্রাথমিক স্বীকৃতি প্রতিফলিত করে। এটি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং আধুনিকীকরণকে উৎসাহিত করার জন্য জৈবপ্রযুক্তির ক্ষমতাকে তুলে ধরে, এবং একটি জৈবপ্রযুক্তি শক্তি হিসেবে ভারতের আকাঙ্ক্ষার জন্য অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।


জৈবপ্রযুক্তি শক্তিধর হিসেবে চিনের আধিপত্য জৈবনিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ আখ্যান দ্বারা বিদ্ধ হয়েছে।



প্রযুক্তিগত বিভাজনের ক্রমবর্ধমান হুমকি

বায়োটেক কেন্দ্র হিসেবে চিনের ভূমিকা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কথনগুলি বায়োএথিক্স ও বায়োসিকিউরিটি-‌কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণের মধ্যে রয়েছে — মানব ভ্রূণ ক্রিস্পআর (ক্লাস্টারড রেগুলারলি ইন্টারস্পেসড শর্ট প্যালিনড্রোমিক রিপিটস) জিন-এডিটিং
কেলেঙ্কারি, কোভিড-১৯-‌এর উৎপত্তি সনাক্ত করার জন্য জেনেটিক তথ্য ভাগাভাগিতে স্বচ্ছতার অভাব, এবং সিন্থেটিক বায়োলজির প্রয়োগের চাঞ্চল্যকর চিত্রায়ণ। ফলস্বরূপ, বাইডেনের  যুগের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) বায়োসিকিওর আইনে বলা হয় সে দেশের কোম্পানিগুলি কিছু চিনা বায়োটেক ফার্মের সঙ্গে ব্যবসা করলে ফেডারেল তহবিল পাবে না। ট্রাম্প প্রশাসন চিনের মতো উদ্বেগজনক দেশগুলিতে বিদেশি সংস্থাগুলি দ্বারা পরিচালিত বিপজ্জনক লাভ-অফ-ফাংশন গবেষণার জন্য ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেয়। বায়োসিকিওর আইনের পরিণতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছু চিনা কোম্পানির উপকরণ ও সরঞ্জাম আমদানি নিষিদ্ধ করে, যার মধ্যে ছিল শীর্ষস্থানীয় জিনোমিক্স ফার্ম, বিজিআই গ্রুপ (পূর্বে বেজিং জিনোমিক্স ইনস্টিটিউট নামে পরিচিত)। চিন তার মার্কিন প্রতিযোগী ইলুমিনা থেকে সরঞ্জাম আমদানি নিষিদ্ধ করে প্রতিক্রিয়া জানায়। অতএব, প্রযুক্তিগত বিচ্ছিন্নতা  কৌশলের  অংশ হিসেবে এখন জৈবপ্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে এর বিপুল সুবিধাগুলি থেকে মনোযোগ সরে যায়। তবে, চিনকে আর শুধু জেনেরিক ওষুধের কেন্দ্র বা পশ্চিমী ওষুধের অনুকরণকারী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। পরিবর্তে, এটি জৈবিক, জিন-সম্পাদনা থেরাপি এবং লক্ষ্যযুক্ত ক্যান্সার থেরাপিতে উদ্ভাবন-ভিত্তিক গবেষণায় ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে।

জৈবপ্রযুক্তিতে চিনের শ্রেষ্ঠত্ব

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (
এএসপিআই)-‌এর একটি তথ্যচালিত প্রকল্প ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ট্র্যাকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এসঅ্যান্ডটি) ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে। এই ট্র‌্যাকার অনুসারে চিন জৈবপ্রযুক্তিতে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে সাংহাই ও নিউ জার্সির একটি বিশ্বব্যাপী বায়োটেক কোম্পানি হুইডা জিন থেরাপিউটিক্স কর্তৃক বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকিউলার অবক্ষয় রোধে বিশ্বের প্রথম ক্রিস্পআর-ক্যাস১৩ আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) সম্পাদনা-ভিত্তিক থেরাপির উন্নয়ন। চিনে পরিচালিত প্রথম মানব-পরীক্ষার উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফলের ভিত্তিতে এটি সম্প্রতি মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চিনা ওষুধ প্রস্তুতকারক আকেসো দ্বারা তৈরি অ-ক্ষুদ্র কোষ সংক্রান্ত ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য একটি ইমিউনোথেরাপি হিসাবে আইভনস্কাইম্ব  তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত ক্যান্সারের ওষুধগুলির মধ্যে একটি পেমব্রোলিজুমাব (কিট্রুডা)-‌কে ছাড়িয়ে গেছে। অতি সম্প্রতি, একটি মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত ওষুধ আবিষ্কারের স্টার্ট-আপ ইনসিলিকো মেডিসিন বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণরূপে উৎপাদিত এআই-আবিষ্কৃত ওষুধ রেন্টোসারটিব তৈরির মাধ্যমে শিরোনামে এসেছে। এর রাসায়নিক পরীক্ষা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলি চিনে পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে ইনসিলিকো মেডিসিন একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সাফল্যগুলি জৈব চিকিৎসা গবেষণা এবং শিল্পের মধ্যে স্পষ্ট সেতুবন্ধন। এটি একটি শক্তিশালী ক্লিনিকাল গবেষণা পরিকাঠামো, জীবন বিজ্ঞানে দক্ষ একটি বিশাল প্রতিভা পুল, এবং উচ্চমানের গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য নিবেদিত বিজ্ঞান পার্ক ও শিল্প ক্লাস্টারগুলিতে বৃহৎ আকারের বিনিয়োগের মাধ্যমে সহজতর হয়েছে।


রাসায়নিক পরীক্ষা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলি চিনে পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে ইনসিলিকো মেডিসিন একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে।



একটি উদীয়মান উত্থান

চিনের জৈব প্রযুক্তি শিল্পের বিবর্তন রাতারাতি ঘটেনি। দেং জিয়াওপিংয়ের 'উন্মুক্তকরণ ও সংস্কার' নীতির অধীনে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশীয় উন্নয়নকে অগ্রভাগে রেখেছিল। চিনের
৮৬৩ প্রোগ্রা , অথবা ১৯৮৬ সালে চালু হওয়া জাতীয় উচ্চ প্রযুক্তি গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচি দেশীয় চাহিদা মেটাতে জৈব প্রযুক্তি শিল্পের পরিকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতা তৈরির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল, এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও জ্ঞান স্থানান্তরকে উৎসাহিত করার জন্য শেনজেনের মতো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে। এই প্রচেষ্টার ফলে চিন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) প্রস্তুতকারক হয়ে ওঠে।

তা সত্ত্বেও, সীমিত বাণিজ্যিক পথ, নিয়ন্ত্রক বাধা এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক ওষুধ আবিষ্কারের অভাবের কারণে একটি খণ্ডিত বায়োটেক নীতি বাস্তুতন্ত্র চিনকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসাবে বায়োটেক-‌কে রাখার জন্য একাধিক নীতি চালু করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। 'মেড ইন চায়না ২০২৫' উদ্যোগ (২০১৫) শিল্প ও উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণের উপর জোর দিয়েছিল; 'হেলদি চায়না ২০৩০' পরিকল্পনা জনসংখ্যার স্বাস্থ্য উন্নত করার উপায় হিসেবে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গবেষণায় বায়োটেককে অন্তর্ভুক্ত করেছিল (২০১৬); এবং একটি
অগ্রাধিকার পর্যালোচনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া কর্মসূচি  ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দ্রুত নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিশ্চিত করেছিল (২০১৬)। তার উপর, 'হাই-এন্ড ফরেন ট্যালেন্টস প্ল্যান'-এর ছত্রছায়ায়, চিনের ব্রেন গেন নীতিগুলি  বিদেশ থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ কর্মীদের — বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা ও ছাত্রদের — নিয়োগের দিকে চালিত করেছিল, যা  চিনের প্রতিভা পুল এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছিল। জীবন বিজ্ঞানের সেরা অনুশীলনের সংস্কার, যার মধ্যে অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা নির্ধারণ এবং প্রয়োগ সংক্রান্ত গবেষণাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য পিয়ার পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এই ব্রেন গেন নীতিগুলির জন্য সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া, ডিপসিকের প্রবেশ, যা এআই সম্প্রদায়কে চমকে দিয়েছে, চিনে শিক্ষিত গবেষকদের প্রচেষ্টার প্রতিনিধিত্ব করে, যাদের মাত্র এক-চতুর্থাংশ চিনে ফিরে আসার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। ডিপসিক শুধু সাড়া-জাগানো প্রযুক্তিতে চিনের দক্ষতাকেই চিহ্নিত করেনি, বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে চিন তার প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য বিদেশী প্রশিক্ষণের উপর কম নির্ভরশীল, যা জৈবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।


জীবন বিজ্ঞানের সেরা অনুশীলনের সংস্কার, যার মধ্যে অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা নির্ধারণ এবং প্রয়োগ সংক্রান্ত গবেষণাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য পিয়ার পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এই ব্রেন গেন নীতিগুলির জন্য সম্ভব হয়েছে।



২০২৫ সালের মার্চ মাসে, চিন একটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-ভিত্তিক বিনিয়োগ বাহন হিসাবে জাতীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গাইডেন্স তহবিল প্রতিষ্ঠার কথা
ঘোষণা করেছে , যার লক্ষ্য ১ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (১৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সংগ্রহ করা। এই তহবিলটি বায়োটেক এবং এআই-‌সহ সাড়া-জাগানো প্রযুক্তিতে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করবে। এই বছরের 'দুই অধিবেশন' সভায় চিনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি মডেলের উপর নতুন করে জোর দেওয়া হয়েছে, যা 'নতুন মানের উৎপাদনশীল শক্তির' বিকাশের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই পদ্ধতিটি ' উদ্ভাবনকে একটি অগ্রণী ভূমিকা প্রদান করে', এবং জৈবপ্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনসহ এই ক্ষেত্রটিতে তার বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির জন্য চিনের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে।

ভারতের জন্য শিক্ষা

২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারতের জৈবপ্রযুক্তি শিল্প ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন নীতিমালা —
বায়োই৩ (অর্থনীতি, পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের জন্য জৈবপ্রযুক্তি) এবং বায়ো-রাইড (বায়োটেকনোলজি গবেষণা উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন) — জৈবপ্রযুক্তি- চালিত অর্থনীতির জন্য ভারতের নীতিগত সারিবদ্ধতা প্রতিফলিত করে। ভারতের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপি হিসাবে নেক্সকার৯-এর উন্নয়ন, হিমোফিলিয়ার জন্য প্রথম-মানুষের মধ্যে জিন থেরাপি পরীক্ষা পরিচালনা, এবং সম্প্রতি ভারতের প্রথম জিন-সম্পাদিত ধানের জাতের উৎপাদন।

তবে, ভারতের জৈবপ্রযুক্তি উন্নয়নের গতিপথ চিনের তুলনায় উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।
জৈবপ্রযুক্তি সার্বভৌমত্ব অর্জন, বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভরতা হ্রাস, এবং বহিরাগত বাধা থেকে প্রয়োজনীয় সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা করার জন্য উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শতাংশ হিসেবে ভারতের গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় ০.৭ শতাংশ, যেখানে চিন ব্যয় করে ২.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণের জন্য ভারত সরকার সম্প্রতি এক লক্ষ কোটি ভারতীয় রুপির গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল এবং ডিপটেক ফান্ড অফ ফান্ডস  ঘোষণা করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করা  প্রয়োজন। তা ছাড়া, উদীয়মান জৈবপ্রযুক্তি ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগ সীমিত থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক গবেষণা এবং শিল্প অংশীদারদের মধ্যে সেতুবন্ধন শক্তিশালী করা প্রয়োজন। জটিল, অপ্রয়োজনীয় এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে এবং ভারতকে তার বৈশ্বিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে অক্ষম করে তোলে;‌ তাই বিভিন্ন জাতীয় সংস্থার মধ্যে নিয়ন্ত্রক পথের সমন্বয় সাধন করা জরুরি। পরিশেষে, মার্কিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিশেষ করে নতুন আন্তর্জাতিক ছাত্র ভিসা বিধি এবং অভিবাসন নিয়ম কঠোর করা, ভারতকে তার প্রতিভা শোষণ এবং নিজের জৈবপ্রযুক্তি বাস্তুতন্ত্রকে লালন করার জন্য একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সুযোগ প্রদান করে।


জৈবপ্রযুক্তি সার্বভৌমত্ব অর্জন, বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভরতা হ্রাস, এবং বহিরাগত বাধা থেকে প্রয়োজনীয় সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা করার জন্য উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



জৈবপ্রযুক্তি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি যা রোগীদের জন্য জীবন রক্ষাকারী এবং জীবন পরিবর্তনকারী থেরাপি তৈরি করতে পারে। ভারতে জৈবপ্রযুক্তির নীতি আলোচনার ভিত্তি হওয়া উচিত জৈবপ্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও নমনীয় পথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুরক্ষা ব্যবস্থা বিবেচনা করা। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলি ইঙ্গিত দেয় যে জৈবপ্রযুক্তি একটি বৃহত্তর প্রযুক্তিগত বিচ্ছিন্নতা কৌশলের অংশ। তবে, এই বিপদ ভারতকে তার জৈবপ্রযুক্তি বাস্তুতন্ত্রের সম্প্রসারণ থেকে বিরত রাখতে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির বিকাশ শক্তির উৎস, যা জৈবপ্রযুক্তির 'ডিপসিক মুহূর্ত'টিকে দখলের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে।



লক্ষ্মী রামকৃষ্ণন অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.