Author : Arpan Tulsyan

Published on Jan 24, 2026 Updated 0 Hours ago

শিক্ষকদের সময় হল ভারতের সবচেয়ে দুর্লভ শিক্ষাগত সম্পদ। একটি অভিযোজিত শিক্ষক সহায়তা ব্যবস্থা হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে সমতা বজায় রাখা এবং শ্রেষ্ঠত্বকে উৎসাহিত করা সম্ভব, বিশেষ করে সীমিত সম্পদযুক্ত পরিস্থিতিতে।

প্রত্যেক শিক্ষকের সহযোগী: সমতা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা গভীর দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতাগুলির সঙ্গে লড়াই করে চলেছে: শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, শিক্ষকের তীব্র অভাব (বিশেষ করে দূরবর্তী গ্রামীণ অঞ্চলে), অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপ এবং ব্যাপক ভাষাগত বৈচিত্র্য। সম্প্রতি, একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমগ্র শিক্ষা অভিযান (এসএসএ) দ্বারা অর্থায়িত স্কুলগুলিতে ১০ লক্ষ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৫০,০০০টি শূন্যপদ প্রাথমিক নিম্ন-প্রাথমিক স্তরে। যদি সমস্ত সরকারি স্কুলকে বিবেচনায় নেওয়া হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, র্নাটকে শিক্ষক পদে ৫৫,০০০টি শূন্যপদের কথা জানানো হয়েছে, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে আরও শিক্ষক অবসর নেওয়ার পর প্রায় ,০০,০০০- পৌঁছতে পারে। সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে আর একটি তথ্য ইউডিআইএসই+ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, প্রায় শতাংশ সরকারি স্কুল মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয়। ঝাড়খণ্ডের মতো কিছু রাজ্যে ৩০. শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় একক-শিক্ষক প্রতিষ্ঠান, যেখানে কয়েকটি স্কুলে একাধিক শ্রেণিতে ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে।

দিকে, শিক্ষকরা তাঁদে সময়ের একটি বড় অংশ -শিক্ষণমূলক কাজে ব্যয় করেন, যেমন কাগজপত্র তৈরি, ডেটা আপলোড, সরকারি কর্মসূচি এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালন, যার ফলে পাঠদানের সময় নষ্ট হয়। শুধুমাত্র মধ্যাহ্নভোজ সংক্রান্ত কার্যক্রমেই শিক্ষকদের প্রতিদিন আনুমানিক . থেকে ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে শিক্ষকরা তাঁদে সময়ের ৩৩. শতাংশ মূল শিক্ষণ কার্যক্রমে (পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, প্রতিকারমূলক শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, পরীক্ষার খাতা দেখা এবং খেলাধুলো বা সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম) এবং ২১. শতাংশ প্রকৃত পাঠদানে ব্যয় করেন। বাকি ৪০-৪৫ শতাংশ সময় -শিক্ষণমূলক কাজে ব্যয় হয়।

এআই সাধনীগুলি প্রশাসনিক কাজের চাপ কমাতে পারে, বহু-শ্রেণির শিক্ষাদান পরিচালনা করতে সাহায্য করতে পারে, শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী প্রতিক্রিয়া প্রদান করতে পারে, পেশাগত বিকাশে সহায়তা করতে পারে এবং শিক্ষকদের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে পারে।

রকম দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতিতে এবং যে পরিস্থিতির সহজে সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেখানে শিক্ষাগত উৎকর্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হল: আমরা কী ভাবে শিক্ষকদের কাজের বোঝা কমাতে পারি, তাঁদে সময় বাঁচাতে পারি, শিক্ষার মান বজায় রাখতে পারি এবং শিক্ষার সমতা নিশ্চিত করতে পারি? একটি কৌশলগত উপায় হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যদি চিন্তাভাবনা করে এআই ডিজাইন করা হয়, তা হলে এটি একজন শিক্ষকের সহযোগী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে। এআই সাধনীগুলি প্রশাসনিক কাজের চাপ কমাতে পারে, বহু-শ্রেণির শিক্ষাদান পরিচালনা করতে সাহায্য করতে পারে, শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী প্রতিক্রিয়া প্রদান করতে পারে, পেশাগত বিকাশে সহায়তা করতে পারে এবং শিক্ষকদের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে পারে।

কেন এআই এবং কী ভাবে সম্ভব?

এআই ভারতের শিক্ষানীতির দৃষ্টিভঙ্গির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০ স্পষ্ট ভাবে প্রযুক্তি একীকরণ এবং ডিজিটাল শিক্ষাকে উৎসাহিত করে। নিপুণ ভারত-এর মতো উদ্যোগ যা লক্ষ্য হল মৌলিক শিক্ষাদান - ইতিমধ্যেই বৃহৎ পরিসরে রোগ নির্ণয় এবং প্রতিকারমূলক সহায়তার জন্য এআই ব্যবহার শুরু করেছে। রাজ্য সরকারগুলো শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলি (আইবিএম, ইন্টেল-সহ) সঙ্গে সক্রিয় ভাবে অংশীদারিত্ব করছে। ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট শিক্ষাক্ষেত্রে একটি এআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি, সমগ্র ব্যবস্থা জুড়ে একটি কর্মসূচিকেই দর্শায়।

গবেষণায় ভারতে শিক্ষকদের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল দক্ষতার কথাও উঠে এসেছে। কেরল এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলি যথাক্রমে ৮৭ এবং ৭৫ শতাংশ শিক্ষককে আইসিটি-ভিত্তিক শিক্ষাপদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যদিও বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার মতো রাজ্যগুলি পিছিয়ে আছে, যেখানে ৪০ শতাংশেরও কম শিক্ষক পর্যাপ্ত ডিজিটাল প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তবে উপজাতীয় অঞ্চলের গবেষণাগুলি থেকে জানা যায় যে, তরুণ শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে শক্তিশালী দক্ষতা রয়েছে। তাই প্রাক-চাকরি প্রশিক্ষণে তুলনামূলক ভাবে দুর্বল সক্ষমতার ক্ষেত্রগুলিতে আরও লক্ষ্যভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া উচিত যেমন সহযোগিতামূলক শিক্ষাদানের সুবিধার্থে এআই সরঞ্জামগুলির কৌশলগত বা প্রতিফলিত একীকরণ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান বা সুরক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষতা।

সাময়িক প্রশাসনিক সংস্কার বা অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক আউটসোর্সিংয়ের বিপরীতে এআই পরিমাপযোগ্য, অভিযোজনযোগ্য সাধনী সরবরাহ রা দরকার, যা শিক্ষকদের সামগ্রিক ভাবে সহায়তা করে, রুটিনমাফিক কাজগুলিকে স্বয়ংক্রিয় করে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ব্যক্তিগতকৃত সহায়তা প্রদান করে।

সুতরাং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যখন একটি সুস্পষ্ট নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং প্রাক-চাকরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন এটি উপরোক্ত পরস্পর সংযুক্ত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার জন্য একটি অনন্য অবস্থানে রয়েছে সাময়িক প্রশাসনিক সংস্কার বা অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক আউটসোর্সিংয়ের বিপরীতে এআই পরিমাপযোগ্য, অভিযোজনযোগ্য সাধনী সরবরাহ রা দরকার, যা শিক্ষকদের সামগ্রিক ভাবে সহায়তা করে, রুটিনমাফিক কাজগুলিকে স্বয়ংক্রিয় করে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ব্যক্তিগতকৃত সহায়তা প্রদান করে।

বেশ কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যেই এই সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে:

র্নাটকে চালু হওয়া শিক্ষা কো-পাইলট আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে, এটি তাঁদে পাঠ পরিকল্পনা তৈরির সময় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে দিয়েছে, যা প্রায় ৪০ মিনিট থেকে ১০ মিনিটে নেমে এসেছে ফলে শুধুমাত্র এই একটি কাজেই তাঁদে ৭০-৮০ শতাংশ সময় সাশ্রয় হচ্ছে।

• ‘সহায়ক হল একটি এআই-চালিত শিক্ষণ সহকারী, যা বিশেষ ভাবে বহু-ধরনে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সহায়তা করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি পাঠ্যক্রমের নথি পড়তে বুঝতে পারে, বিভিন্ন শ্রেণির জন্য ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্কশিট তৈরি করতে পারে, আকর্ষ গল্প তৈরি করতে পারে এবং হিন্দি, মরাঠি ইংরেজির মতো একাধিক ভাষায় সাড়া দিতে পারে, যা শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের শেখার চাহিদা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে সহায়তা করে।

• ‘টিচমিন্ট হল এমন একটি ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম, যা এআই-চালিত শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার বৈশিষ্ট্যগুলিকে একীভূত করে মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় উপস্থিতি, হোমওয়ার্ক ট্র্যাকিং এবং শিক্ষার্থী বিশ্লেষণ। এটি একাধিক আঞ্চলিক ভাষা সমর্থন করে এবং এর মোবাইল-ফার্স্ট পদ্ধতির কারণে বাজেট স্কুল গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা শিক্ষকদের আরও দক্ষতার সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করতে সহায়তা করে।

• ‘প্রেপএআই শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের স্তর অনুযায়ী মূল্যায়ন তৈরি করতে, ব্যক্তিগতকৃত প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে এবং একটি ধারাবাহিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি গ্রেডিংয়ের সময় কমিয়ে দেয়, যা শিক্ষকদের ব্যক্তিগতকৃত নির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের উপর বেশি মনোযোগ দিতে সুযোগ করে দেয়। যদিও এই সাধনীগুলি তুলনামূলকভাবে নতুন, তবে ভারতীয় শ্রেণিকক্ষগুলিতে এর প্রভাব ইতিমধ্যেই অনুভূত হচ্ছে।

এই সাধনীগুলি তুলনামূলক ভাবে নতুন হলেও এর প্রভাব ইতিমধ্যেই সুস্পষ্ট। শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে, এআই-সহায়তায় পাঠ পরিকল্পনা, মূল্যায়ন এবং শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা উল্লেখযোগ্য সময় বাঁচায়, যা সরাসরি শিক্ষাদান, পরামর্শদান এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের দিকে পরিচালিত করা যেতে পারে। ম্যাককিনসে একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, সামগ্রিক ভাবে প্রযুক্তি শিক্ষকদের ২০-৩০ শতাংশ সময় বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে, যা পরিবর্তে শ্রেণিকক্ষের নির্দেশনার জন্য উৎসর্গ করা যেতে পারে।

Every Teacher S Ally Harnessing Ai For Equity And Excellence

উৎস: ম্যাককিনসে, ২০২০

এই উন্নয়নগুলি উপর ভিত্তি করে সামনের চ্যালেঞ্জ হল শিক্ষক-কেন্দ্রিক সহায়তা ব্যবস্থা হিসেবে এআই-কে কী ভাবে প্রসারিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়। তাই নীতি কাঠামোকে অবশ্যই পাইলট প্রকল্পগুলি ঊর্ধ্বে উঠে স্থিতিশীল, নৈতিক এবং প্রেক্ষাপট-সংবেদনশীল এআই গ্রহণের কৌশল তৈরি করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে এআই সাধনীগুলিকে পাঠ্যক্রম মূল্যায়ন মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, দুর্বল অঞ্চলগুলিতে শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা জোরদার করা, বহুভাষিক বহু-শ্রেণি সংক্রান্ত উপযোগিতা নিশ্চিত করা এবং তথ্যের গোপনীয়তা অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতার জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা। এর মাধ্যমে এআই একটি সম্ভাবনাময় পরীক্ষা থেকে একটি পদ্ধতিগত সহায়ক শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে, যা শিক্ষকদের শিক্ষাদান, পরামর্শদান এবং ন্যায়সঙ্গত শিক্ষার ফলাফলের উপর মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে। পরবর্তী অংশে এই মর্মে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে, এআই-সহায়তায় পাঠ পরিকল্পনা, মূল্যায়ন এবং শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা উল্লেখযোগ্য সময় বাঁচায়, যা সরাসরি শিক্ষাদান, পরামর্শদান এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের দিকে পরিচালিত করা যেতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রত্যেক শিক্ষকের মিত্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নীতিগত সুপারিশসমূহ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে শ্রেণিকক্ষে বাস্তব প্রভাবে রূপান্তরিত করতে হলে, নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই শিক্ষক-কেন্দ্রিক এবং দৃঢ় কৌশল বাস্তবায়ন করতে হবে। নিম্নলিখিত সুপারিশগুলি শিক্ষকদের শিক্ষা প্রদান সংক্রান্ত কাজের চাপ কমানো, শিক্ষার মান শক্তিশালী করা এবং ভারত জুড়ে ন্যায়সঙ্গত শিক্ষার ফলাফল প্রচারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর একটি পথনির্দেশিকা প্রদান করবে।

. নীতিমালায় এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জামগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত যা শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা, বহু-শ্রেণির পরিবেশ এবং ভাষাগত বৈচিত্র্য বিবেচনা করে শিক্ষকদের সহায়তা করে। রাজ্যগুলি উচিত সুস্পষ্ট নির্দেশক এবং ফলাফল-সহ স্বচ্ছ অনুমোদন কাঠামো তৈরি করা, যা স্কুলগুলিকে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমাধান বেছে নিতে সাহায্য করবে যা পরিমাপযোগ্য, কার্যকর এবং স্থানীয় শিক্ষাগত প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য শিক্ষা গবেষণা প্রশিক্ষণ পরিষদ (এসসিইআরটি) দ্বারা পরিচালিত একটি কেন্দ্রীভূত পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিবেদন ব্যবস্থা সহায়ক হবে, যা রিয়েল-টাইমে পাইলট প্রকল্পের কার্যকারিতা ট্র্যাক করবে এবং পরিমাণগত তথ্য (ব্যবহারের পরিসংখ্যান) সংগ্রহ গুণগত প্রতিক্রিয়া (শিক্ষক/শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা) নথিভুক্ত করবে।

. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়তাযুক্ত পাঠ পরিকল্পনা, মূল্যায়ন নকশা, সহযোগিতামূলক শিক্ষার সুবিধা প্রদান, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের মতো ক্ষেত্রগুলিতে শিক্ষকদের লক্ষ্যভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাক-চাকরি এবং চাকরিরত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমালোচনামূলক সম্পৃক্ততা এবং এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের উপর কাঠামোগত মডিউল অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

. সহায়ক এবং টিচমিন্টের মতো সাধনীগুলি প্রমাণ করে যে, অভিযোজনযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মগুলি শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্যকে কার্যকর ভাবে মোকাবিলা করতে পারে। নীতিমালায় এমন অভিযোজনযোগ্য এবং বহুভাষিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমাধান তৈরির জন্য উৎসাহিত করা উচিত, যা শিক্ষকদের গ্রামীণ উপজাতীয় স্কুল-সহ প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাকে ব্যক্তিগতকৃত করার সুযোগ দেবে।

. নীতিমালায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজগুলোকে সহজ করার মাধ্যমে -শিক্ষণমূলক কাজের বোঝা কমানো উচিত। উদাহরণস্বরূপ, উপস্থিতি ট্র্যাকিংয়ের জন্য রিয়েল-টাইম ডিজিটাল রেজিস্টার, স্কুল ব্যবস্থাপনা/রাজ্য কর্তৃপক্ষের জন্য স্বয়ংক্রিয় প্রতিবেদন তৈরি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা, মধ্যাহ্নভোজের রেকর্ডের ডিজিটাল রক্ষণাবেক্ষণ, স্বচ্ছতা প্রতিবেদন এবং সমীক্ষার তথ্য জমা দেওয়ার মাধ্যমে প্রচার বা পরিদর্শনের সময় কাগজের কাজ কমানো যেতে পারে।

. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের পাশাপাশি স্কুলগুলিতে ব্যবহৃত সমস্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জামগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নৈতিক মান, গোপনীয়তার সুরক্ষা এবং জবাবদিহিতার কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জামগুলিতে শিক্ষার্থী শিক্ষকের তথ্য সুরক্ষার জন্য স্বচ্ছ অ্যালগরিদম এবং কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত।

. পাইলট কর্মসূচি বাড়লেও শিক্ষকতার মান, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং সমতার উপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব মূল্যায়ন করার জন্য সেগুলি ক্ষেত্রে কঠোর পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন থাকা উচিত। পাইলট প্রকল্পগুলি থেকে প্রাপ্ত এই শিক্ষাগুলি সফল মডেলগুলিকে জাতীয় পর্যায়ে প্রসারিত করতে ব্যবহার করা উচিত, পাশাপাশি অকার্যকর পদ্ধতিগুলো সংশোধন বা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

. সরকারগুলি উচিত প্রযুক্তি সংস্থা, এডটেক স্টার্টআপ এবং এনজিওগুলোর সঙ্গে কেবল সংগ্রহ-ভিত্তিক অংশীদারিত্বের বাইরে গিয়ে গতিশীল সহ-সৃষ্টি এবং জবাবদিহিতা-ভিত্তিক অংশীদারিত্বের মডেলে অগ্রসর হওয়া। নীতি নির্ধারক, শিক্ষক এবং ডেভেলপারদের উচিত স্কুলগুলিতে যৌথ ভাবে সমাধানের পরীক্ষা করা এবং বিশেষ করে সীমিত সম্পদসম্পন্ন স্কুলগুলির জন্য সাশ্রয়ী উচ্চ-প্রভাবশালী সমাধানগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। শিক্ষকদের মতামতের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলও তৈরি করা উচিত, যাতে সমাধানগুলি জবাবদিহিমূলক থাকে এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তিত বাস্তবতা শিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয় এবং যা শিক্ষকদের সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।

পরিমাপযোগ্য, অভিযোজনযোগ্য এবং নৈতিকভাবে প্রয়োগ করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডিজিটাল যুগে শিক্ষাকে মানব-কেন্দ্রিক রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং একই সঙ্গে ভারতের শ্রেণিকক্ষ জুড়ে সমতা জোরদার করতে এবং শ্রেষ্ঠত্বকে উৎসাহিত করতে পারে। সময় বাঁচিয়ে এবং সক্ষমতা বাড়িয়ে এটি নিশ্চিত করে যে, প্রত্যেক শিক্ষক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ শিক্ষাদান এবং পরামর্শদানের পরেই মনোযোগ দিতে পারেন।

 


অর্পণ তুলসিয়ান ওআরএফ-এর সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির (সিএনইডি) সিনিয়র ফেলো।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.