ভারতের শহুরে পরিবহণ ব্যবস্থা যানজটপূর্ণ এবং অদক্ষ। ওপেন ডেটা এবং ওপেন নেটওয়ার্ক শহরগুলিতে গতিশীলতা, দক্ষতা এবং যাত্রীসুবিধার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
ভারতের বড় শহরগুলির সামনে গতিশীলতার সমস্যা শহুরে গাফিলতির তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে এবং একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভারতের শহুরে গতিশীলতার পরিস্থিতি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং তা আরও খারাপ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। রাস্তাগুলি গাড়িতে ঠাসা; যানজট বারবার অচলাবস্থার সৃষ্টি করার হুমকি দিচ্ছে; বাতাস আরও দূষিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে, সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি শহরগুলির সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের উপর প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, জাতীয় মোট আভ্যন্তর উৎপাদনে (জিডিপি) শহরগুলির অবদান একটি নির্দিষ্ট স্তরে স্থির হয়ে আছে এবং ৬২ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। এই ধরনের শহরগুলির সামনে প্রশ্ন হল, শহরগুলি আরও ঘনবসতিপূর্ণ এবং বিশৃঙ্খল হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে শহরের গতিশীলতা দ্রুততর, নিরাপদ এবং অনুকূল হতে পারে।
উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক এবং উন্মুক্ত ডেটার সুবিধা
এই পরিস্থিতিতে, উন্মুক্ত ডেটা এবং উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা গতিশীলতার কিছু চ্যালেঞ্জ সমাধানে সাহায্য করতে পারে। ‘উন্মুক্ত’ শব্দটি যেমনটি বোঝায়, এগুলি হল এমন ডেটা এবং নেটওয়ার্ক যা পরিবহণ ক্ষেত্রের যে কেউ অবাধে ব্যবহার করতে, পুনরায় ব্যবহার করতে এবং পুনঃবিতরণ করতে পারে। সর্বজনীন প্রবেশাধিকার এবং সর্বজনীন স্বচ্ছতা এই ধারণার প্রধান বৈশিষ্ট্য। শহুরে গতিশীলতার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনকে চালিত করতে এবং পরিষেবার গুণমান, দক্ষতা ও যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওপেন ডেটা সরবরাহ করতে পারে রিয়েল-টাইম পরিবহণ তথ্য, যানজট সম্পর্কে এলাকা-ভিত্তিক বিবরণ, পথের পরিকাঠামোর একটি তালিকা, আর সেইসঙ্গে যাত্রীদের ব্যবহারের ধরন।
ওপেন নেটওয়ার্কগুলি বিভিন্ন পরিবহণ মাধ্যম এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের মধ্যে নির্বিঘ্ন সমন্বয় সক্ষম করতে পারে।
অন্যদিকে, ওপেন নেটওয়ার্কগুলি বিভিন্ন পরিবহণ মাধ্যম এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের মধ্যে নির্বিঘ্ন সমন্বয় সক্ষম করতে পারে। যেহেতু বাড়ি, অফিস, রাস্তা এবং সর্বজনীন স্থানসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ডেটা তৈরি হয়, তাই এই ডেটা সংগ্রহ করতে এবং প্রক্রিয়াকরণের পর এর থেকে মূল্য তৈরি করতে হলে এই কাঠামোটিকে শহরের আনাচে-কানাচে পৌঁছতে হবে। তবে, ডেটা সংগ্রহ, মানসম্মতকরণ এবং স্ট্রিমিং একটি জটিল প্রক্রিয়া, যার জন্য উচ্চ স্তরের দক্ষতার প্রয়োজন।
যেখানে গণপরিবহণ অনুপস্থিত, সেখানে প্যারাট্রানজিটের গুরুত্ব
উপরের ধারণাটির সঙ্গে সম্পর্কিত হল ট্যাক্সি, অটোরিকশা এবং বাইক-ট্যাক্সির মতো প্যারাট্রানজিট গতিশীলতা পরিষেবাগুলির সর্বোত্তম ব্যবহার। এটি বিশেষ করে শহরতলি এলাকা এবং যে সমস্ত শহর ও নগরে গণপরিবহণ নেই বা বাসের সংখ্যা অপ্রতুল, সেগুলির জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য। এটি একটি বাস্তব সত্য যে ভারতের শহরগুলির মধ্যে মাত্র কয়েকটিতেই গণপরিবহণ ব্যবস্থা উপলব্ধ। মোটের উপর ৬০টি মহানগর, ৫০০,০০০ বা তার বেশি জনসংখ্যার মোটের উপর ১০০টি শহর এবং ১০০,০০০ জনসংখ্যার প্রায় ৪৫০টি শহরের মধ্যে মাত্র ১২৭টিতে কোনও না কোনও ধরনের বাস পরিবহণ ব্যবস্থা রয়েছে। দেশব্যাপী মোট শহুরে বাসের সংখ্যা মোটের উপর ৪৬,০০০, যা আনুমানিক ৫৪০ মিলিয়ন শহুরে জনসংখ্যাকে পরিষেবা দেয়, যার প্রায় ৮০ শতাংশ শীর্ষ আটটি শহরে কেন্দ্রীভূত। মোটের উপর ১৯টি শহরে মেট্রো-রেল পরিষেবা রয়েছে। অন্য শহরগুলি সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত পরিবহণ বা প্যারাট্রানজিটের উপর নির্ভরশীল, যদিও আরও অনেক শহর মেট্রো রেল, মেট্রো লাইট এবং মেট্রো নিও ব্যবস্থা তৈরির কথা বিবেচনা করছে।
এইভাবে ভারতের বেশিরভাগ শহরে গণপরিবহনের অনুপস্থিতি বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সরকারি সমর্থনের অভাবের কারণে সীমিত না হয়ে অবদান রাখার একটি সুযোগ তৈরি করে দেবে।
সৌভাগ্যবশত, যেহেতু উন্মুক্ত ডেটা এবং উন্মুক্ত নেটওয়ার্কের উপযোগিতা এই শহরগুলির ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য, তাই যে কোনও উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্মে একীভূত করার জন্য প্যারাট্রানজিট পরিবহণ মাধ্যমগুলিকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। এই ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা অনেক শহরাঞ্চলে যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে পারে এবং প্যারাট্রানজিট গতিশীলতার উন্নতি ঘটাতে পারে। এগুলির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ব্যক্তিগত পরিবহণের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করবে। তবে, মনে রাখতে হবে যে এই শহুরে বসতিগুলিতে হয়তো মূল্যবান ডেটা নাও থাকতে পারে। নতুন ধরনের ডেটা এবং প্রযুক্তির প্রসার, এবং সেই সঙ্গে এখনকার সর্বজনীন সেল ফোনের ব্যবহার নতুন পরিষেবা ও পরিবহণ ডেটা তৈরির সুযোগ তৈরি করে। বেসরকারি সংস্থা ও কোম্পানিগুলির ভূমিকা অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়, এবং বেসরকারি পরিষেবা প্রদানকারী ও ডেটা সংগ্রহকারীদের মধ্যে অংশীদারিত্বের জন্য অর্থায়ন করা যেতে পারে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ বর্ধিত ও উন্নততর পরিষেবা থেকে অর্জিত রাজস্ব দিয়ে। এটি তাদের, উদাহরণস্বরূপ, একটি পুরো জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শহরজুড়ে প্রক্রিয়াগুলিকে মানসম্মত করা এবং সমন্বিত প্ল্যাটফর্মটিকে প্রসারিত করার সুযোগও দেবে। এইভাবে ভারতের বেশিরভাগ শহরে গণপরিবহণের অনুপস্থিতি বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সরকারি সমর্থনের অভাবের কারণে সীমিত না হয়ে অবদান রাখার একটি সুযোগ তৈরি করে দেবে।
গণপরিবহণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংগৃহীত ডেটা
ওপেন ডেটা এবং ওপেন নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে নগর প্রশাসনগুলির অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে শহরগুলি বাস পরিষেবা পরিচালনা করে এবং ক্রমাগত বিভিন্ন ধরনের ডেটা সংগ্রহ করে। দুর্ভাগ্যবশত, ভারতে ‘নগর’ বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে রাজ্যের বিষয়, এবং তাই নগর পরিবহণ রাজ্য সরকারগুলির এক্তিয়ারভুক্ত। তবে, কিছু রাজ্য আইন শহরগুলিকে গণপরিবহণ পরিচালনার জন্য বাস পরিবহণ সংস্থা স্থাপন করার অনুমতি দিয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের দ্বাদশ তফসিলে, যেখানে পৌরসভার কার্যাবলি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সেখানে পরিবহণের কোনও উল্লেখ নেই। অতএব, যদিও পরিবহণ প্রযুক্তির হস্তক্ষেপের জন্য শহরজুড়ে মানসম্মত ডেটা ফরম্যাটের প্রয়োজন হবে, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় কাঠামোর এক বিভ্রান্তিকর চিত্র তুলে ধরে।
এই ঘাটতিগুলি পূরণ করার জন্য উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং ক্রমবর্ধমান ডেটা তৈরি বা ব্যবহার করার জন্য অতীতে আর কখনও এত বিপুল সংখ্যক সরঞ্জাম ছিল না।
এছাড়াও, বেশিরভাগ শহরই কর্তৃপক্ষের গুরুতর বিভাজনের সম্মুখীন হয়, যা পরিবহণ ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, শহুরে পরিবহণের সঙ্গে শহুরে স্থানীয় সংস্থা (ইউএলবি), রাজ্য আধা-সরকারি সংস্থা এবং সরকারি বিভাগগুলোর একটি মিশ্রণ জড়িত থাকে, যার প্রতিটি এর নির্দিষ্ট দিকগুলি পরিচালনা করে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নীতি, ডেটার মালিকানা এবং ডেটা স্ট্যান্ডার্ডের ক্ষেত্রে বহুবিধতার জন্ম দেয়। তাই, এই পরিস্থিতির জন্য শহর-নির্দিষ্ট কাস্টমাইজেশন এবং ব্যাপক সমন্বয় সাধনের প্রয়োজন হবে।
একটি বিকল্প হল শহরগুলির বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রক্রিয়াগুলিকে মানসম্মত করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়া এবং একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা নাগরিকদের জন্য উপলব্ধ করা যেতে পারে। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কঠিন, কারণ শহরগুলি আর্থিকভাবে দুর্বল। ফলস্বরূপ, বেশিরভাগ শহরই পরিবহণ বা পরিবহণ প্রযুক্তি প্রয়োগে কোনও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করতে হিমশিম খাবে। তাছাড়া, উন্মুক্ত ডেটা সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞও সহজলভ্য নয়। সুতরাং, বেসরকারি সংস্থাগুলিকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যার মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগও একটি যুক্তিসঙ্গত হারে মুনাফা অর্জন করতে পারে।
তবে, এতেও সমস্যা দেখা দেয়। এটা জানা যায় যে ভারতের অনেক শহরে মৌলিক নগর পরিবহণ সংক্রান্ত ডেটা, যেমন রুট এবং স্টপ সম্পর্কিত তথ্য অনুপস্থিত থাকতে পারে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে অসুবিধা তৈরি করে। কারণ ভারতীয় শহরগুলিতে কোনও বাস্তব পরিবহণ পরিকল্পনা বা পরিবহণ নেটওয়ার্কগুলির মধ্যে সমন্বয়সহ কার্যকর গণপরিবহণ পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না।
উন্মুক্ত ডেটা এবং উন্মুক্ত নেটওয়ার্কগুলির সর্বোত্তমভাবে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রের এমন একটি আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা তাদের মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত ডেটার ব্যবহার বিনামূল্যে ভাগ করে নিতে বাধ্য করবে।
ডিজিটাল বিপ্লব এই সমস্যা সমাধানের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এই ঘাটতিগুলি পূরণ করার জন্য উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং ক্রমবর্ধমান ডেটা তৈরি বা ব্যবহার করার জন্য অতীতে আর কখনও এত বিপুল সংখ্যক সরঞ্জাম ছিল না। নতুন ধরনের ডেটা এবং প্রযুক্তির বিস্তার, যার মধ্যে সেল ফোনের দ্রুত প্রসারও অন্তর্ভুক্ত, নতুন পরিষেবা তৈরি করা এবং গণপরিবহণের অনুপলব্ধ ডেটা পূরণ করার সুযোগ তৈরি করে। উপরন্তু, উন্নত প্রযুক্তি এবং বৃহৎ পরিসরের উৎপাদনের কারণে এখন ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করতে আগের চেয়ে কম খরচ হয়।
উন্মুক্ত ডেটা এবং উন্মুক্ত নেটওয়ার্কের জন্য আইনের প্রয়োজনীয়তা
গুগল, উবার, ওলা এবং চলো-র মতো বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থাগুলি ক্রমবর্ধমান হারে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করছে এবং বিভিন্ন পরিবহণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পরিষেবা প্রদান করছে। তবে, এই বেসরকারি উদ্যোগগুলির অনেকের ক্ষেত্রেই, ডেটা এবং পরিবহণ খাতে এই ডেটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জ্ঞান অত্যন্ত মূল্যবান পণ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, যা প্রায়শই উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হয়। এছাড়াও, লোকেশন-ভিত্তিক অ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ডেটা সংগ্রহ করা গুরুতর গোপনীয়তার উদ্বেগ তৈরি করে। উন্মুক্ত ডেটা এবং উন্মুক্ত নেটওয়ার্কগুলির সর্বোত্তমভাবে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রের এমন একটি আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা তাদের মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত ডেটার ব্যবহার বিনামূল্যে ভাগ করে নিতে বাধ্য করবে।
রমানাথ ঝা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Ramanath Jha is Distinguished Fellow at Observer Research Foundation, Mumbai. He works on urbanisation — urban sustainability, urban governance and urban planning. Dr. Jha belongs ...
Read More +