Author : Arpan Tulsyan

Published on Nov 06, 2025 Updated 0 Hours ago

কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের উত্থান আশাব্যঞ্জককিন্তু এটি কি প্রকৃত সংস্কারের প্রতিফলন, নাকি এখনও অসম উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শুধুই অভিজাতদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিফলন?

এলিট চালিত না ব্যবস্থাগত পরিবর্তন: কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারত

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংয়ের ২০২৬ সংস্করণে মোট ৫৪টি ভারতীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান (এইচইআই) স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) দিল্লি ১২৩তম স্থান পেয়ে দেশের সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছে। সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ভারত চতুর্থ স্থানে ছিল, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস), যুক্তরাজ্য (ইউকে) চিনের পরে। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেছেন যে এই বছরের র‍্যাঙ্কিং পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে: ২০১৪ সালে মাত্র ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালে ৫৪টি। তিনি এই উন্নতির জন্য জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি), ২০২০-‌ অধীনে প্রবর্তিত রূপান্তরমূলক সংস্কারকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। এই নিবন্ধটি এই দাবির সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করার লক্ষ্যে কাজ করে, এবং একটি প্রশ্ন উত্থাপন করে: কয়েকটি অভিজাত প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কি ভারতীয় উচ্চশিক্ষার একটি বিস্তৃত, সিস্টেম-ব্যাপী ঊর্ধ্বমুখী গতির ইঙ্গিত দেয়?


কী পরিবর্তন হয়েছে?

ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং বৃদ্ধিতে দুটি সমান্তরাল পরিবর্তন অবদান রেখেছে। কিউএস র‍্যাঙ্কিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আরও সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রদানের জন্য তাদের পদ্ধতিকে আরও পরিমার্জিত করেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা  নেটওয়ার্ক, স্থায়িত্ব কর্মসংস্থানের মতো ফলাফলের মতো নতুন সূচকগুলি র‍্যাঙ্কিংকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে। তার উপর, পূর্ববর্তী সূচকগুলিকেও পরিমার্জিত/সংশোধিত করা হয়েছে। যেমন, মোট সাইটেশন গণনা থেকে র‍্যাঙ্কিং পদ্ধতিটি 'প্রতি ফ্যাকাল্টির সাইটেশন গণনা'- পরিবর্তন করা  হয়েছে, যা পড়ার বিষয়গুলি আকারের ভারসাম্য নিশ্চিত করে। এই পদক্ষেপটি লিবারেল আর্টস, সামাজিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল বা প্রযুক্তিতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলিকে উপকৃত করে, যাদের প্রাকৃতিক বা জীবন বিজ্ঞানের তুলনায় কম সাইটেশন থাকে, এবং সেইসঙ্গে কম ফ্যাকাল্টি আছে এমন ছোট প্রতিষ্ঠানগুলিকেও উপকৃত করে। এই পরিবর্তনের কারণে আইআইটি দিল্লি বম্বে তাদের র‍্যাঙ্কিং উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে, যা তাদের গ্লোবাল রিসার্চ আউটপুটকে পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত করেছে। তারা শক্তিশালী প্লেসমেন্ট রেকর্ড  থেকেও উপকৃত হয়েছে এবং এমপ্লয়ার সার্ভেতেও ভাল স্কোর করেছে।


বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংয়ের ২০২৬ সংস্করণে মোট ৫৪টি ভারতীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান (এইচইআই) স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) দিল্লি ১২৩তম স্থান পেয়ে দেশের সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছে।



তার উপর, এই পরিবর্তনগুলি ভারতের বহুমুখী শিক্ষা, গবেষণা উদ্ভাবনের বিস্তৃত নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায়, প্রতিষ্ঠানগুলি কৌশলগতভাবে এবং সক্রিয়ভাবে এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে সক্ষম হয়েছিল এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। এনইপি চালু হওয়ার পর, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিদেশী সহযোগিতা, গবেষণা অংশীদারিত্ব যৌথ প্রকাশনা বৃদ্ধি করেছে, যা 'আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক'-এর অধীনে স্কোর উন্নত করেছে।


বড় চিত্র
 
যদিও শীর্ষস্থানীয় লাভগুলি এখনও আইআইটি এবং কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে কেন্দ্রীভূত, সিস্টেম স্তরে উন্নত কর্মক্ষমতার ইঙ্গিত রয়েছে। আটটি নতুন ভারতীয় প্রতিষ্ঠান কিউএস২৬ র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রবেশ করেছে, যা এই বছর যে কোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন প্রবেশ। এই বছরের মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারী সমস্ত ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ শতাংশ তাদের বিশ্বব্যাপী অবস্থান উন্নত করেছে এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, ভেলোর ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ভিআইটি), ভেলোর এবং চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়। অতএব, এই উর্ধ্বগতি শুধুই আইআইটি-গুলির জন্য নয়।


তা সত্ত্বেও, সর্বাধিক দৃশ্যমান অগ্রগতি নির্দিষ্ট শীর্ষস্তরের প্রতিষ্ঠানগুলির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা তাদের লক্ষ্যগুলিকে এনইপি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। অন্যরা জাতীয় বিশ্বব্যাপী মানদণ্ডের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং, ধীর গতি অনুসরণ করে। উচ্চশিক্ষার বাস্তুতন্ত্র জুড়ে অগ্রগতির গতি অসম থাকলেও, এনইপি গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যে অগ্রগতি করছে তা মধ্যস্তরের প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী নীলনকশা প্রদান করে।

এই ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও, বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে। ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পিছিয়ে রয়েছে: ছাত্র-ফ্যাকাল্টি অনুপাত। অর্থনৈতিক সহযোগিতা উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) এর গড় ১৬:-‌এর তুলনায় ভারতে উচ্চতমস্তরে জাতীয় গড় ছাত্র-ফ্যাকাল্টি অনুপাত  ২৪:১। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘস্থায়ী কর্মী ঘাটতির মতো বাধাগুলির সঙ্গে লড়াই করে, যা শিক্ষাদানের মান এবং গবেষণা আউটপুট উভয়কেই প্রভাবিত করে। বিশ্বব্যাপী ছাত্র বৈচিত্র্যের দিক থেকেও ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলি খারাপ অবস্থানে রয়েছে। যদিও বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তবুও বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা এখনও কম:‌ ২০২৪-২৫ সালে মোটের উপর ৭২,০০০, যেখানে স্টাডি ইন ইন্ডিয়া (এসআইআই) প্রোগ্রামের অধীনে ২০০,০০০ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাছাড়া, উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রণকে সুগম করার জন্য এনইপি দ্বারা কল্পনা করা হায়ার এজুকেশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (এইচইসিআই) স্থাপনে বিলম্ব আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এই শূন্যস্থানগুলি পূরণ করা অপরিহার্য, যাতে ভারতের আন্তর্জাতিকীকরণ শুধু কয়েকটি বিশ্বব্যাপী র‍্যাঙ্কিং পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত না হয়ে বরং একটি সিস্টেম-ব্যাপী রূপান্তরের সঙ্গে হয়।

 
গতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা

উচ্চশিক্ষা বাস্তুতন্ত্র জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিগত সংস্কারে সাম্প্রতিক অর্জনগুলিকে একীভূত করতে, ভারতকে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথমত, ভারতের লক্ষ্যযুক্ত তহবিল, নেতৃস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির  পরামর্শদান, এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মধ্যস্তরের এবং স্টেট পাবলিক ইউনিভার্সিটি-‌গুলিকে সমর্থন করা প্রয়োজন। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতিকে উৎসাহিত করবে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রবেশের পথ প্রশস্ত করবে। দ্বিতীয়ত, অ্যাকাডেমিক কর্মীবাহিনীকে সম্প্রসারিত এবং সমর্থন করা, তাদের নিয়োগ পাইপলাইন তৈরি, তাদের ধরে রাখা এবং ক্রমাগত পেশাদার উন্নয়নকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ভারতের উচিত কৃষি, জীবন বিজ্ঞান হিউম্যানিটিজ-‌এর মতো নির্দিষ্ট বিষয়গুলিতে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বকে উৎসাহিত করা, যাতে বিষয়-নির্দিষ্ট বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে উজ্জ্বলতা অর্জন করা যায়। ডায়াস্পোরা ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ এবং ভিজিটিং ফেলো প্রোগ্রামগুলিকে উৎসাহিত করা এই পরিবর্তনগুলিকে সঠিক দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

উচ্চশিক্ষা বাস্তুতন্ত্র জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিগত সংস্কারে সাম্প্রতিক অর্জনগুলিকে একীভূত করতে, ভারতকে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথমত, ভারতের লক্ষ্যযুক্ত তহবিল, নেতৃস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরামর্শদান, এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মধ্যস্তরের এবং স্টেট পাবলিক ইউনিভার্সিটি-‌গুলিকে সমর্থন করা প্রয়োজন।



চতুর্থত, এসআইআই প্রোগ্রামটি পুনর্গঠন করতে হবে যাতে করে বিভিন্ন ধরনের বিদেশী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রচার বিপণন জোরদার করা যায়, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা যায়, এবং বৃত্তি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যায়। পঞ্চম, একটি বিশ্বব্যাপী পাঠ্যক্রম , আন্তর্জাতিক জ্ঞানব্যবস্থা এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক শিক্ষার পরিবেশ সংযুক্ত করে দেশে আন্তর্জাতিকীকরণ দ্রুত করা সম্ভব। এই পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী দক্ষতা বৃদ্ধি করবে, এবং ভারতের যুবসমাজকে আন্তঃসাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং বিশ্বব্যাপী ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করবে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আরও আকর্ষণ করবে। ষষ্ঠত, এবং সবচেয়ে জরুরিভাবে, ভারতকে  এসআইআই-এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা বাস্তুতন্ত্রের পদ্ধতিগত ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। এসআইআই-কে শুধু নিয়ন্ত্রক কাঠামো সংযুক্ত করার উপরেই নয়, জোর দিতে হবে র‍্যাঙ্কিং সাক্ষরতা বৃদ্ধির উপরও, এবং তার পাশাপাশি মনোনিবেশ করতে হবে যৌথ গবেষণা, ছাত্র ফ্যাকাল্টির গতিশীলতা এবং ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)-তে অবদান ট্র্যাক করার উপর।


পরিশেষে, ভারতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলির ঊর্ধ্বমুখী গতিপথ একটি রিলে- প্রাথমিক পর্যায়কে চিহ্নিত করে, যেখানে সিস্টেম-ব্যাপী অগ্রগতির জন্য লাঠিটি অবশ্যই অন্যদের হাতে তুলে দিতে হবে। আগামী বছরগুলিতে, কাঠামোগত ফাঁকগুলি পূরণ করা এবং সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে একটি সম্মিলিত গতি তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের আসল পরীক্ষার ফল কে শীর্ষে রয়েছে তা দিয়ে নির্ণয় করা হবে না, বরং কতজন এগিয়ে যেতে পেরেছে তা দিয়ে পরিমাপ করা হবে।



অর্পণ তুলসিয়ান সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসির একজন সিনিয়র ফেলো, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Author

Arpan Tulsyan

Arpan Tulsyan

Arpan Tulsyan is a Senior Fellow at ORF’s Centre for New Economic Diplomacy (CNED). With 16 years of experience in development research and policy advocacy, Arpan ...

Read More +