Published on Jan 02, 2026 Updated 0 Hours ago

যুদ্ধ যখন ক্রমবর্ধমানভাবে ডেটা-নির্ভর হয়ে উঠছে, তখন কৌশলগত এজ কম্পিউটিং সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সুরক্ষিত করতে সক্ষম করে, যা ডেটা স্থানান্তরের বিলম্ব কমায় এবং দ্রুততর, আরও স্থিতিস্থাপক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করে।

এগিয়ে চলা: কৌশলগত সামরিক এজ কম্পিউটিংয়ের গুরুত্ব

অপারেশন সিন্দুর ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধকৌশলের জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এবং অভিযানগত সমন্বয়ের জন্য সমন্বিত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন করে, সেনাবাহিনী পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে আধিপত্য ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই অভিযানটি সুরক্ষিত, শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের গুরুত্বকেও তুলে ধরেছে, বিশেষ করে যখন সেনাবাহিনী আকাশ, স্থল, সমুদ্র, সাইবার, মহাকাশ এবং তথ্য পরিসরজুড়ে একাধিক যুগপৎ বিপদের বিরুদ্ধে একটি দ্রুত এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করেছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন যুদ্ধের ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছে, তখন যুদ্ধপ্রস্তুতি নিশ্চিত করার জন্য তাদের যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে, এজ কম্পিউটিং (‌edge computing) সেনাবাহিনীর যোগাযোগ সক্ষমতা জোরদার করার সম্ভাবনা তৈরি করে। যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং সংরক্ষণের সুযোগ দিয়ে, এজ কম্পিউটিং সম্ভাব্যভাবে সময় ও সম্পদ সাশ্রয় করতে পারে এবং ফলস্বরূপ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। বিশ্বজুড়ে সেনাবাহিনীগুলি ৫জি-এর ক্রমবর্ধমান প্রসার এবং গণনা সক্ষমতার অগ্রগতির সুবিধা নিয়ে এজ কম্পিউটিং-এর ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এই নিবন্ধটি কৌশলগত এজ কম্পিউটিং-এর সম্ভাবনা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে।

রিমোট ক্লাউড থেকে এজ পর্যন্ত

বর্তমানে সামরিক যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের উপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে সাধারণত সংবেদনশীল সামরিক ডেটা দূরবর্তী সার্ভারে সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যা প্রায়শই মাঠ পর্যায়ে ডেটা তৈরির স্থান থেকে অনেক দূরে অবস্থিত থাকে। এই মডেলটি সামরিক প্রেক্ষাপটে তিনটি মৌলিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে: লেটেন্সি, নিরাপত্তা এবং সংযোগ।

প্রথমত, এবং সম্ভবত যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়, তা হল নেটওয়ার্ক সংযোগের উপর নির্ভরতা। শহুরে এবং উচ্চ ঘনত্বের টেলিকম নেটওয়ার্ক এলাকার সুরক্ষিত ক্লাউড পরিবেশের বিপরীতে, সামরিক অভিযানগুলো প্রায়শই প্রত্যন্ত বা সীমান্ত অঞ্চলে পরিচালিত হয় যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল বা নেটওয়ার্ক কভারেজ সীমিত থাকে। যেহেতু ক্লাউড কম্পিউটিং স্থিতিশীল এবং উচ্চ-গতির সংযোগের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তাই এই পরিস্থিতিতে এর কার্যকারিতা তীব্রভাবে হ্রাস পায়।


এটি মূলত কৌশলগত এজ ক্লাউড কম্পিউটিং ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিকে বিকেন্দ্রীকরণ করে। সম্মুখসারির সেন্সর এবং সিস্টেম থেকে প্রাথমিক বা ‘র’ ডেটা একটি দূরবর্তী সার্ভারে পাঠানোর পরিবর্তে, এজ কম্পিউটিং ডেটাকে স্থানীয়ভাবে, এর উৎসস্থলের কাছাকাছি প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ দেয়।



দ্বিতীয় প্রধান সমস্যাটি হল লেটেন্সি বা ডেটা স্থানান্তরের বিলম্ব। যুদ্ধক্ষেত্রে, দ্রুত, মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত সামরিক অভিযানের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর অর্থ হলো, ডেটা সংগ্রহ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেকার সময় অবশ্যই ন্যূনতম হতে হবে। ক্লাউড সিস্টেমের ক্ষেত্রে এটি কখনও কখনও একটি সমস্যা হতে পারে, কারণ ডেটা উৎসস্থল থেকে ক্লাউডে পৌঁছনোর আগে সেটির উপর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হতে পারে।

পরিশেষে, সাইবার আক্রমণ, তথ্য চুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ ডেটার উপর বিদেশি নজরদারির হুমকি রয়েছে। অনেক সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে, যা ক্লাউডের মাধ্যমে প্রেরিত যোগাযোগ এবং ডেটাকে শত্রুপক্ষের আক্রমণের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা পরিষেবা আবিষ্কার করে যে রাশিয়ান সেনাবাহিনী রাজধানী কিয়েভের ওয়েবক্যামগুলো হ্যাক করেছে, যা ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রম এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগুলির অবস্থান সম্প্রচার করছিল। রাশিয়ার সেনাবাহিনী এই অর্জিত তথ্য ব্যবহার করে ওই স্থানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করে। সামরিক তথ্যের গোপনীয়তা এবং সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনা করলে, এই ক্ষেত্রে যে কোনও তথ্য লঙ্ঘন বা ক্ষতি অভিযানটির অখণ্ডতা এবং কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য বিশাল ঝুঁকি তৈরি করে।

সুতরাং, যদিও ক্লাউড কম্পিউটিং কিছু সুবিধা প্রদান করে, একটি যুদ্ধক্ষেত্রের ক্রমাগত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এই ধরনের ক্লাউড সিস্টেমের বাইরে একটি পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে। অন্য কথায়, ভবিষ্যতের সংঘাতগুলোতে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করা ক্রমশই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজনে এজ কম্পিউটিং

এই জরুরি চ্যালেঞ্জগুলির একটি শক্তিশালী সমাধান হিসেবে এজ কম্পিউটিং আবির্ভূত হয়েছে। এটি মূলত কৌশলগত এজ ক্লাউড কম্পিউটিং ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিকে বিকেন্দ্রীকরণ করে। সম্মুখসারির সেন্সর এবং সিস্টেম থেকে ‘র’ ডেটা একটি দূরবর্তী সার্ভারে পাঠানোর পরিবর্তে, এজ কম্পিউটিং ডেটাকে স্থানীয়ভাবে, এর উৎসস্থলের কাছাকাছি প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ দেয়। আধুনিক সরঞ্জাম, সেন্সর এবং কম্পিউটার সরাসরি যেখানে ডেটা তৈরি হয়, অর্থাৎ সামরিক নেটওয়ার্কের তথাকথিত "এজ"-এ স্থাপন করার ফলেই এই স্থানীয়করণ সম্ভব হয়েছে।

এজ ক্লাউড সিস্টেমগুলি বিশেষ করে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কম ব্যান্ডউইডথ বা সংযোগের ধারাবাহিকতা না থাকলেও সেগুলি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, যা প্রায়শই প্রত্যন্ত সীমান্ত বা প্রতিকূল অঞ্চলে প্রয়োজন হয়। এর অর্থ হল, নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ অভিযানগুলি নির্বিঘ্নে চলতে পারে, যা সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশেও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমা সংকুচিত করা এবং বিলম্ব কমানো। এজ কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক ডেটা সংগ্রহ এবং ফলস্বরূপ পদক্ষেপের মধ্যেকার সময়ের ব্যবধান নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়। যখন প্রতিটি মাইক্রোসেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়, যেমনটা প্রায়শই সামরিক সংঘাতে ঘটে, তখন এই হ্রাসকৃত বিলম্ব অমূল্য প্রমাণিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে যেখানে ভুলের সুযোগ খুব কম এবং কমান্ডারদের রিয়েল-টাইমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেখানে এজ সিস্টেমগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।


এজ ক্লাউড সিস্টেমগুলি বিশেষ করে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কম ব্যান্ডউইডথ বা সংযোগের ধারাবাহিকতা না থাকলেও সেগুলি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, যা প্রায়শই প্রত্যন্ত সীমান্ত বা প্রতিকূল অঞ্চলে প্রয়োজন হয়। এর অর্থ হল, নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ অভিযানগুলি নির্বিঘ্নে চলতে পারে, যা সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশেও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।



এজ কম্পিউটিং সংবেদনশীল ডেটা স্থানীয়ভাবে রাখে, যা প্রতিপক্ষের দ্বারা অপব্যবহারযোগ্য আক্রমণের ক্ষেত্রগুলোকে হ্রাস করে। যেহেতু তথ্য প্রায়শই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক বা কেন্দ্রীভূত সার্ভারের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয় না, তাই তথ্য আটকের সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে কমে যায়। অধিকন্তু, ডেটা অন্য কোথাও প্রেরণের আগে বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সিস্টেমের ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করার আগে এনক্রিপ্ট এবং পরিশুদ্ধ করা যেতে পারে, যা অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করে।

একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা

সামরিক ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের এই প্রচেষ্টা কোনও দূরবর্তী আকাঙ্ক্ষা নয়। বরং, এটি বর্তমান সামরিক অগ্রগতির একটি কেন্দ্রীয় বিন্দু।

উদাহরণস্বরূপ, চিন সক্রিয়ভাবে এই সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এজ কম্পিউটিং সমাধানে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে, বিভিন্ন ধরনের সেন্সর এবং প্ল্যাটফর্ম থেকে ডেটা একত্রিত করছে এবং এই বিশ্লেষণগুলি গোয়েন্দা, নজরদারি এবং লক্ষ্য নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। চিনের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রও ৫জি নেটওয়ার্ক চালু করছে, যা দ্রুত, স্বল্প-বিলম্বের ডেটা প্রক্রিয়াকরণ সক্ষম করে এবং উন্নত মাল্টি-অ্যাক্সেস এজ কম্পিউটিংকে সহজতর করে। ২০১৭ সালের প্রথম দিকেই একটি স্টেট কাউন্সিল রিপোর্টে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে ৫জি বেশ কয়েকটি সামরিক ক্ষেত্রে "রিয়েল-টাইম সহযোগী এআই"-এর ভিত্তি হবে।

এই ৫জি মেরুদণ্ডটি মাল্টি-অ্যাক্সেস এজ কম্পিউটিংকে সমর্থন করে, যেখানে স্বায়ত্তশাসিত প্ল্যাটফর্মগুলো (ড্রোন এবং চালকবিহীন যানবাহনসহ)  ঘটনাস্থলেই দক্ষ ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং এআই-চালিত বিশ্লেষণ সম্পন্ন করে। চিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত, তাদের "থ্রি বডি কম্পিউটিং কনস্টেলেশন"-এর মাধ্যমে, যা একটি কক্ষপথে প্রেরিত উপগ্রহ নেটওয়ার্ক এবং এজ কম্পিউটিং পরিকাঠামোকে মহাকাশে নিয়ে আসে, যার ফলে স্বায়ত্তশাসিত রিয়েল-টাইম ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা তৈরি হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও দ্রুত এই সক্ষমতা ব্যবহার করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিরক্ষা বিভাগ সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্ষেত্রীয় পরিকাঠামোতে এজ সলিউশনকে একীভূত করছে। ডিফেন্স ইনফরমেশন সিস্টেমস এজেন্সির অধীনে জয়েন্ট অপারেশন এজ ক্লাউডগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশী সামরিক ঘাঁটিগুলির বিভিন্ন আন্তঃসংযুক্ত এজ কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম দেখা গিয়েছে। ২০২৫ সালের প্রোজেক্ট কনভার্জেন্সেও মার্কিন সেনাবাহিনীর
১৮ এয়ারবোর্ন কোর বেশ কয়েকটি এজ নোড সলিউশন পরীক্ষা করেছে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই প্রযুক্তিগুলি মোতায়েন করা হলে তাদের কার্যক্ষেত্রীয় নমনীয়তা বাড়াতে পারে। লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানটি বিমান চালনায় এজ কম্পিউটিংয়ের আরেকটি উদাহরণ, কারণ এতে একটি ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাপারচার সিস্টেম রয়েছে যা হুমকি শনাক্তকরণের জন্য স্থানীয়ভাবে ১০ টেরাবাইট পর্যন্ত ডেটা প্রক্রিয়া করতে সক্ষম।

অন্য সামরিক বাহিনীগুলিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের অগ্রণী দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছে।

ইউরোপে, উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) যৌথ অভিযানে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রাখার পদ্ধতিগুলো অন্বেষণ করার জন্য "কৌশলগত প্রান্তে এজ কম্পিউটিং" বিষয়ে একটি গবেষণা গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেছে। একইভাবে, অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য একটি নিরাপদ কৌশলগত ক্লাউড কম্পিউটিং সক্ষমতা বিকাশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে  নেক্সিয়াম ডিফেন্স ক্লাউড এজ-এর মাধ্যমে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

স্বদেশী উদ্ভাবন এবং ভারতের জন্য ভবিষ্যৎ পথ

ভারতও তার সামরিক বাহিনীতে এজ এআই সক্ষমতা সম্পন্ন সরঞ্জামগুলোকে একীভূত করতে শুরু করেছে, যেখানে দেশীয় উদ্ভাবনের উপর ক্রমবর্ধমান জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (এমওডি) প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিভাগের
২০২২ সালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, রিয়েল-টাইম বিশ্লেষণের জন্য এজ কম্পিউটিং ব্যবহারকারী বেশ কয়েকটি পরবর্তী প্রজন্মের সামরিক সরঞ্জামের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলোর পরীক্ষামূলক ব্যবহারও করা হয়েছে।

ভারতীয় সামরিক বাহিনী যত বেশি সংযুক্ত প্ল্যাটফর্ম ও সিস্টেম মোতায়েন করবে, সেগুলির সর্বোত্তম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এজ কম্পিউটিং তত বেশি করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



এরকমই একটি উদাহরণ হল এজ কম্পিউটিং দ্বারা চালিত ব্ল্যাডই-এস আইএসআর প্ল্যাটফর্ম, যা শ্রবণযোগ্য, দৃশ্যমান বা পাঠ্য ইনপুট বিশ্লেষণ করতে পারে, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং প্রয়োগ করতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য তৈরি করতে পারে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলো
কাইমেরা-২২ স্মার্ট ক্যামেরা, যা এজ এআই দ্বারা সক্ষম এবং এটিকে নজরদারি ও শত্রু ড্রোন বা বিপদ দ্রুত শনাক্ত করার জন্য মোতায়েন করা যেতে পারে। ডিপক্যাচ এজ এআই-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি একাধিক ক্যামেরাকে একত্রে কাজ করতে সক্ষম করে, যা ন্যূনতম মানবিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নির্ণয় এবং বিপদ শনাক্তকরণের জন্য এআই-কে কাজে লাগায়।

উদ্ভাবনী বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বেও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আইডিয়াফোর্জ-এর মতো ভারতীয় সংস্থাগুলি, যারা একটি শীর্ষস্থানীয় ইউএভি সরবরাহকারী, তারা ইতিমধ্যেই ড্রোনগুলোকে রিয়েল-টাইম নজরদারি ডেটা বিশ্লেষণের জন্য অনবোর্ড প্রসেসিং -এর মাধ্যমে সজ্জিত করেছে। একইভাবে, লেটেন্ট এআই-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে ইনফারকিউ অনবোর্ড বিপদ শনাক্তকরণ এবং শ্রেণিবিন্যাস প্রযুক্তি তৈরি করেছে।

সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীও এজ কম্পিউটিংকে ৩৩টি বিশেষ প্রযুক্তির মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে তারা গ্রহণ করবে। ভারতের বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডের কারণে, এজ কম্পিউটিং ক্ষমতার বিকাশ দেশটির জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে এবং সামরিক বাহিনীকে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম করবে। এছাড়াও, এটি সম্মুখসারির ইউনিটগুলিকে উপলব্ধ একাধিক ডেটা স্ট্রিম ব্যবহার করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রের একটি ব্যাপক চিত্র পেতে সাহায্য করবে। ভারতীয় সামরিক বাহিনী যত বেশি সংযুক্ত প্ল্যাটফর্ম ও সিস্টেম মোতায়েন করবে, সেগুলির সর্বোত্তম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এজ কম্পিউটিং তত বেশি করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি নেটওয়ার্ক বিঘ্নের মুখেও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব করে তুলবে।

এজ কম্পিউটিং থেকে সম্পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচিত এটিকে ‘ইনোভেশনস ফর ডিফেন্স এক্সেলেন্স’ উদ্যোগে একটি প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা। এটি দেশীয় কোম্পানি এবং স্টার্টআপগুলিকে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে এই ক্ষেত্রে সমাধান তৈরি করতে সহায়তা করবে। আগামী দিনের তথ্য-প্রাধান্যপূর্ণ যুদ্ধ পরিবেশে, এজ কম্পিউটিং ক্ষমতা নিঃসন্দেহে একটি জোরালো শক্তি গুণক হিসেবে কাজ করবে।



সমীর পাটিল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির ডিরেক্টর।

ধ্রুব ব্যানার্জি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণা ইন্টার্ন।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.