বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা সামষ্টিক শক্তি, উদ্যোক্তা রাষ্ট্র, বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খল এবং ভূ-অর্থনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে ভারতকে স্থিতিস্থাপকতা থেকে অপরিহার্যতার দিকে চালিত করে।
২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকোনমিক সার্ভে বা ইএস) এমন এক সময়ে পেশ করা হয়েছে, যখন বিদ্যমান বহুমাত্রিক সঙ্কট আরও বেশি পরিমাণে ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন, বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং অতি-বিশ্বায়নের সুস্পষ্ট পশ্চাদপসরণের ফলে তীব্রতর আকার ধারণ করেছে। এই বৈশ্বিক হতাশার প্রেক্ষাপটে ভারত যে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বছরের পর বছর ধরে এই সমীক্ষাটি নিছক একটি আর্থিক হিসেবের প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর্যায় থেকে বিকশিত হয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য একটি কৌশলগত পথরেখা প্রণয়ন এবং অসংখ্য প্রতিকূল শক্তিকে অতিক্রম করার উপায় উদ্ভাবনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষাও এর ব্যতিক্রম নয়; বরং এটি আরও বেশি স্বতন্ত্র— এটি ভারতের উত্থানের জন্য একটি নতুন মতাদর্শগত কাঠামোকে তুলে ধরেছে। উন্নয়নের আখ্যানে বড় ধরনের উল্লম্ফনেই এটি স্পষ্ট: একটি রক্ষণাত্মক ‘স্থিতিস্থাপকতা’র দৃষ্টান্ত থেকে আক্রমণাত্মক এবং উচ্চাভিলাষী ‘অপরিহার্যতা’র দৃষ্টান্তে উত্তরণ ঘটেছে। বিভক্ত বিশ্বে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তি।
অর্থনৈতিক সমীক্ষাটি স্পষ্ট করে দর্শায় যে, এই পরিবর্তন ভারতীয় অর্থনীতির সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃঢ়তার কারণেই সম্ভব হয়েছে। সমীক্ষাটিতে ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ অনুমান করা হয়েছে এবং মধ্যমেয়াদে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা সমস্ত প্রধান অর্থনীতির মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি ২০২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে জিডিপির ৪.৪ শতাংশের আর্থিক ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রার মাধ্যমে আর্থিক একত্রীকরণের দ্বারা সমর্থিত। খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি হ্রাসের কারণে খুচরো মূল্যস্ফীতি ১.৭ শতাংশে তীব্র ভাবে হ্রাস পাওয়ায় দেশের অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত এক ঈর্ষণীয় অবস্থানে পৌঁছেছে — অর্থাৎ উচ্চ প্রবৃদ্ধি, নিম্ন মূল্যস্ফীতি!
ষোলটি অধ্যায়ে উপস্থাপিত অপরিহার্যতার নতুন কৌশলগত মতবাদটি ভারতকে ‘আমদানি প্রতিস্থাপন থেকে কৌশলগত স্থিতিস্থাপকতা’ এবং অবশেষে ‘কৌশলগত অপরিহার্যতা’র দিকে চালিত করার জন্য একটি স্তরভিত্তিক কাঠামোর কথাই বলে। অবশ্য এটি সম্ভব হবে না যদি না ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবাগুলি এমনভাবে বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে (গ্লোবাল ভ্যালু চেন বা জিভিসি) একীভূত হয়, যা তার অর্থনীতিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ, অপ্রতিস্থাপনযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত করে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষাটিতে এ-ও দর্শানো হয়েছে যে, উদ্যোক্তার অন্তর্নিহিত প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেই ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি ভূমিকা হ্রাস করে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার সরলীকৃত পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। বরং প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা’কে যথেষ্ট পরিমাণে বাড়াতে হবে। কারণ সম্পদ নয়, এটিই প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করে। এটি এমন একটি ‘উদ্যোক্তাসুলভ রাষ্ট্রের’ পক্ষে সওয়াল করে, যা হিসেব-নিকেশ করে ঝুঁকি নিতে পারে, অনিশ্চয়তাকে কাঠামোবদ্ধ করতে পারে এবং আমলাতান্ত্রিক ঝুঁকিবিমুখতা কমাতে প্রকৃত ভুল ও অসদাচরণের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।
সমীক্ষাটিতে ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ অনুমান করা হয়েছে এবং মধ্যমেয়াদে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা সমস্ত প্রধান অর্থনীতির মধ্যে সর্বোচ্চ।
এই প্রেক্ষাপটে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ প্রবৃদ্ধির একটি চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে। এই সমীক্ষায় রাজ্য জুড়ে ৬৩০টিরও বেশি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা এবং কমপ্লায়েন্স হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বিষয়ক টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা কমানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, অর্থনৈতিক সমীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণকে রাষ্ট্রের প্রত্যাহার হিসেবে নয়, বরং প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ফলাফলের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার শক্তিশালীকরণ হিসেবে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা পশ্চিমি বিশ্বের সম্পদ-নির্ভর ‘ফ্রন্টিয়ার মডেল’ সংক্রান্ত প্রতিযোগিতার পথে না হেঁটে, এআই কৌশলকে ‘একটি নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরের পদ্ধতি’ হিসেবে তুলে ধরেছে। এটি একটি এআই অর্থনৈতিক পরিষদের (এআই ইকোনমিক কাউন্সিল) মাধ্যমে সম্ভব হতে পারে, যা ‘ফ্রুগাল এআই’, অ্যাপ্লিকেশন-নির্দিষ্ট স্বল্প পরিসরের মডেল এবং ডিজিটাল পাবলিক পণ্যের উপর মনোযোগ দেবে। এটি দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিও প্রশমিত করতে পারে।
ক্ষেত্রভিত্তিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি
উৎপাদন ক্ষেত্রে একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হল ইনপুট ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে ব্যয় ও প্রতিযোগিতামূলকতার মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে অর্থনৈতিক সমীক্ষাটির দৃষ্টিভঙ্গি, যাকে সমীক্ষায় প্রয়োজনীয় অথচ অপ্রতুল শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, অর্থনৈতিক সমীক্ষা পদ্ধতিগত শৃঙ্খলার গুণমান বাস্তবায়নের জন্য উন্নত উৎপাদনের ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে এবং ইলেকট্রনিক্স ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে পিএলআই প্রকল্পের সাফল্যকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত অর্থনীতির উদারীকরণের পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হল পরিষেবা খাত — যা স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি — এবং এটি মোট মূল্য সংযোজনের (গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড বা জিভিএ) ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এই খাতের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়কে গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি), পেশাদার পরামর্শ এবং ‘উৎপাদনের পরিষেবাভিত্তিককরণ’-এর মতো উচ্চ-মূল্যের রফতানির দিকে কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে চালিত হওয়ার কথা ভাবা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষাটিতে একটি অস্থির বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি পরিবেশে ভারতের বাণিজ্য স্থিতিস্থাপকতার কথা তুলে ধরা হয়েছে এবং সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেকর্ড রফতানি কর্মক্ষমতা ও পরিষেবা খাতের স্থিতিশীল ভূমিকা কেবল স্বল্পমেয়াদি সুরক্ষা প্রদান করে।
কৃষি ক্ষেত্রের দিকে নজর রাখলে দেখা যাবে, অর্থনৈতিক সমীক্ষাটি খাদ্য নিরাপত্তা থেকে আয় নিরাপত্তা পর্যন্ত কৃষিক্ষেত্রে আলোচনাকে প্রসারিত করেছে। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতা ও কৃষকদের কল্যাণ নির্ভর করবে সবুজ বিপ্লবের অধীনে প্রচারিত চিরাচরিত সম্পদ-নিবিড় ফসলের চেয়ে ডাল ও তৈলবীজের দিকে ফসল বৈচিত্র্যায়নের উপর। এর জন্য জল-নিবিড় ফসলকে উৎসাহিত করে এমন পরিবেশগত ভাবে বিকৃত ভর্তুকি কাঠামোর সংশোধন করা এবং স্মার্ট উপজাতি চাষাবাদ ও গ্রামের সাধারণ সম্পদের পুনরুজ্জীবনের প্রতি নতুন করে নীতিগত মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে, অর্থনৈতিক সমীক্ষাটিতে একটি অস্থির বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি পরিবেশে ভারতের বাণিজ্য স্থিতিস্থাপকতার কথা তুলে ধরা হয়েছে এবং সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেকর্ড রফতানি কর্মক্ষমতা ও পরিষেবা খাতের স্থিতিশীল ভূমিকা কেবল স্বল্পমেয়াদি সুরক্ষা প্রদান করে। ‘হার্ড কারেন্সি’ মর্যাদার ক্ষেত্রে একটি বিশ্বাসযোগ্য উত্তরণ আসলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্য রফতানিতে স্থিতিশীল উদ্বৃত্ত অর্জনের উপর নির্ভর করে।
এই সমীক্ষাটিতে নগরায়ণকে নিছক বসবাস সংক্রান্ত প্রশ্ন হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে ভারতের উন্নয়ন গতিপথের একটি পদ্ধতিগত পুনর্গঠন উপস্থাপন করা হয়েছে। নগর স্থানীয় সংস্থাগুলিতে ক্রমাগত শাসনতান্ত্রিক ঘাটতি একত্রীকরণ অর্থনীতির বাস্তবায়নকে ব্যাহত করেছে, যার ফলে মেয়রদের ক্ষমতায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এর পাশাপাশি বৃহত্তর আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে শক্তিশালী জবাবদিহিতার সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
জলবায়ু অভিযোজন এবং মানব পুঁজি
আখ্যানের শ্রেষ্ঠ অংশটি এটিই। অর্থনৈতিক সমীক্ষাটিতে গ্লোবাল নর্থের প্রশমন-কেন্দ্রিক আলোচনাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং ভারতের জলবায়ু কার্যক্রমের কেন্দ্রে অভিযোজনকে স্থাপন করা হয়েছে। বিপুল অভিযোজন অর্থায়নের ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে, এটি উদ্ভাবনী অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। তবে এ কথাও স্বীকার করা উচিত ছিল যে, এমনকি মানব পুঁজি বিনিয়োগও জলবায়ু অর্থায়নের সমতুল্য। তবে এ বার যা আকর্ষক তা হল, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা হিসেবে ‘ডিজিটাল আসক্তি’ এবং তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান স্থূলতার অতিমারিকে একটি নতুন সংযোজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সমীক্ষায় স্ক্রিন টাইম এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারকে জ্ঞানগত অবক্ষয় এবং কর্মশক্তির উৎপাদনশীলতা হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এবং বয়স-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কীকরণ লেবেলের মতো নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভূ-অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু
এই সমীক্ষার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ধারণাগত উদ্ভাবন হল একটি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে ‘কৌশলগত অপরিহার্যতা’য় আগ্রাসী ভূ-রাজনৈতিক সাধনী হিসেবে ‘আত্মনির্ভরতা’কে রূপান্তরিত করা। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির (স্তর ১ এবং ২ শিল্পক্ষেত্র) জন্য বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে গভীর একীকরণের পক্ষে সওয়াল তুলে সমীক্ষাটিতে অর্থনৈতিক নীতিকে ভারতের বিদেশনীতির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ করা হয়েছে। পরিণত বাস্তববাদ নিহিত রয়েছে এই স্বীকৃতির মধ্যেই যে, ইন্দো-প্যাসিফিকের শতক হয়ে ওঠার আখ্যান স্বনির্ভরতা থেকে নয়, বরং এমন একটি বিশ্বের কারখানায় পরিণত হওয়া থেকে আসবে, যাকে উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়।
উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য জলবায়ু ঝুঁকির মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর অক্ষমতার সমালোচনাটি তীক্ষ্ণ ও প্রয়োজনীয়। তবে অভিযোজনের জন্য অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের উপর নির্ভরতা একটি আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এ বিষয়টি সমীক্ষায় স্বীকার করে নেওয়া হলেও এর সম্পূর্ণ সমাধান করা হয়নি, যা বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলির সংস্কারের অব্যাহত প্রয়োজনীয়তাকে দর্শায়।
উন্নয়নের ‘ব্ল্যাক বক্স’: কিছু প্রশ্ন
কিছু প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি। প্রথমত, দ্বিতীয় অধ্যায়ে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা নিয়ে সমীক্ষার স্বীকৃত মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। তবে রাজনৈতিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জটি রয়েই যায়: সক্রিয় তদন্তকারী সংস্থা-সহ একটি কোলাহলপূর্ণ গণতন্ত্রে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ‘নিরাপদ পরিসর’ তৈরি করার কথা বলা যত সহজ, করা ততটাই কঠিন। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক পরিকাঠামো হিসেবে নগরায়ণের কথা বলতে গিয়ে সমীক্ষাটিতে ভারতীয় শহরগুলির আর্থিক দুর্বলতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বড় শহরগুলিতে নিজস্ব উৎস থেকে রাজস্ব (ওন সোর্স রেভিনিউ বা ওএসআর) ব্যয়ের ৪০ শতাংশেরও কম মেটানোয়, প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে শহরগুলির যে ধারণা, তা রাজ্য এবং কেন্দ্রের উপর তাদের আর্থিক নির্ভরতার কারণে সীমিত হয়ে পড়েছে। পৌর বন্ড ও সম্পত্তি কর সংস্কারের আহ্বান অর্থনৈতিক ভাবে যুক্তিযুক্ত হলেও রাজনৈতিক ভাবে সংবেদনশীল। ৭৪তম সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক পুনরুজ্জীবন ছাড়া শহরগুলির অর্থনৈতিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সেগুলি প্রশাসনিক ভাবে স্থবির থেকে যেতে পারে। তৃতীয়ত, উৎপাদন খাত নিয়ে আলোচনা করার সময় সমীক্ষাটিতে উচ্চ-মূল্যের পরিষেবাগুলোর (ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডিজাইন, অর্থায়ন, স্বাস্থ্য এবং জ্ঞান-নিবিড় রফতানি) ক্রমবর্ধমান জটিলতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান ভাবে একই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রক চাহিদার কথা প্রদর্শন করে। চতুর্থত, রাজ্য-স্তরের আর্থিক জনতুষ্টিবাদকে একটি সার্বভৌম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার সময়, উপদেশ এবং স্বচ্ছতার বাইরে রাজ্যগুলির প্রণোদনাগুলিকে নতুন করে সাজানোর জন্য নীতিগত উপকরণের দিকে তেমন মনোযোগ দেওয়া হয়নি।
উপসংহারে যা বলা যায়
এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, ইএস ২০২৫-২৬ একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন এবং একটি কৌশলগত ইস্তেহার… দুই রূপেই বিকশিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের উন্নয়ন পথের জন্য কর্মসূচি নির্ধারণ করে। এর মূল অবদান হল একটি একক প্রাতিষ্ঠানিক এবং ভূ-অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণকে নতুন ভাবে উপস্থাপন করা। এর প্রধান সীমাবদ্ধতা নিহিত রয়েছে কার্যকারিতার গভীরতায়, যা এর উচ্চ-স্তরের প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারতের জটিল যুক্তরাষ্ট্রীয়, নিয়ন্ত্রক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট নীতিগত উপকরণগুলির মধ্যকার দূরত্ব থেকে স্পষ্ট।
নীলাঞ্জন ঘোষ অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Nilanjan Ghosh heads Development Studies at the Observer Research Foundation (ORF) and serves as the operational and executive head of ORF’s Kolkata Centre. He ...
Read More +