Expert Speak Health Express
Published on Mar 30, 2026 Updated 0 Hours ago

জাতীয় এইচআইভি গড় হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও, ভারতের উত্তর-পূর্বে মাদক-প্রবণ হটস্পটগুলি দেখায় যে কেন সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতি হ্রাস এবং শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমন্বয় সাধন করা উচিত।

ভারতের উত্তর-পূর্বে মাদক ও এইচআইভি: একটি অসম মহামারী

ভারতের হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) মহামারীর মানচিত্রটি দেখার সময় চোখ উপরের ডানদিকে না আসা পর্যন্ত আশ্বস্ত থাকা যায়। জাতীয়ভাবে, ২০২৩ সালের ভারতে এইচআইভি হিসাব অনুসারে প্রাপ্তবয়স্কদের (১৫-৪৯ বছর) প্রাদুর্ভাব ০.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০১০ সাল থেকে ২৫.৪ মিলিয়নের কিছু বেশি মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত ছিলেন, এবং নতুন সংক্রমণ  প্রায় ৪৪ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে অ্যাকুয়ার্ড ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম বা এডস সম্পর্কিত মৃত্যুও প্রায় ৭৯ শতাংশ  কমেছে। তবে, এই মসৃণ জাতীয় বক্ররেখা উত্তর-পূর্বে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতাকে আড়াল করে। মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরের মতো রাজ্যগুলি দেশে এডস প্রাদুর্ভাবের তালিকার শীর্ষে রয়েছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের হার যথাক্রমে প্রায় ২.৭, ১.৩ এবং ১.০ শতাংশ, যা ভারতীয় গড়ের বেশ কয়েকগুণ বেশি। গত তিন দশক ধরে শুধুমাত্র মিজোরামেই ৩২,০০০ এরও বেশি এইচআইভি পজিটিভ কেস এবং ৫,৫০০-‌এরও বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। 


ভূগোল অনেক কিছু ব্যাখ্যা করে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি মায়ানমার এবং বৃহত্তর গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের মধ্যে একটি সরু করিডোর তৈরি করেছে, যা আফিম পপি চাষ এবং ক্রমবর্ধমানভাবে সিন্থেটিক ড্রাগ উৎপাদনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি। ভুট্টা এবং ঝুম চাষের জন্য ব্যবহৃত পাহাড়ি এলাকাগুলি পপি ক্ষেতকে টিকিয়ে রাখে; পপির বীজের ক্যাপসুল ব্যবহার করে কৃষকেরা আফিম ল্যাটেক্স আহরণ করে যা হেরোইন তৈরির জন্য পরিশোধিত হয়, এবং দীর্ঘদিন ধরে পাচারের রুট ধরে মাদক এই অঞ্চলে আসে এবং এর মধ্য দিয়ে পরিবহণ করা হয়। মণিপুর, আসাম এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে মাদকের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে  ব্যাপক প্রচারিত ধরপাকড় হয়েছে। কাস্টমস এবং প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে যে, শুধুমাত্র ২০২৪-২৫ সালে উত্তর-পূর্বে শত শত কিলোগ্রাম মেথামফেটামিন ট্যাবলেট, হেরোইন এবং গাঁজা আটক করা হয়েছে, একই সঙ্গে নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট (এনডিপিএস) মামলাও বেড়েছে। বিশ্ব এডস দিবসে (১ ডিসেম্বর) ভারতের জন্য তাৎক্ষণিক পরীক্ষা ছিল মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যে শক্তি ঢেলে দেওয়া হয়েছে তা কি এই অর্থনীতির ছায়ায় বসবাসকারী মানুষদের রক্ষা করার জন্য একটি টেকসই প্রচেষ্টার সঙ্গে মানানসই?


এইচআইভি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরও বেশি আঘাত হানে

এইচআইভি একটি রেট্রোভাইরাস যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করে, এবং ধীরে ধীরে সাধারণ সংক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। অবশেষে, যদি ভাইরাসটি নির্ণয় করা না হয় এবং অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) দিয়ে চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে যে রোগীদের গুরুতর, প্রায়শই জীবনের জন্য বিপদস্বরূপ সংক্রমণ এবং ক্যান্সার হতে পারে। এই অগ্রসর পর্যায়টিকে এডস বলা হয় এবং এটি কেবল ভাইরাসের উপস্থিতি দ্বারা নয়, বরং এটি শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। নীতিগত দিক থেকে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এইচআইভি এখন সময়মত চিকিৎসার মাধ্যমে একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসেবে পরিচালিত হতে পারে, অন্যদিকে এডস ইঙ্গিত দেয় যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা শুরু করতে বা ব্যক্তিদের যত্নে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।



উত্তর-পূর্ব কোনও বিচ্ছিন্ন অস্বাভাবিকতা নয়, বরং একটি বৃহত্তর প্যাটার্নের অংশ যেখানে মাদক-প্রভাবিত সীমান্ত এবং ট্রানজিট রাজ্যগুলি অসামঞ্জস্যপূর্ণ এইচআইভি বোঝা বহন করে।



এই পার্থক্যগুলি রাজ্যগুলির মানচিত্রায়ণ না করা পর্যন্ত বিমূর্ত দেখায়। টেবিল ১ দেখায় যে উত্তর-পূর্বাঞ্চল জাতীয় চিত্র থেকে কতটা স্পষ্টভাবে আলাদা। সর্বভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কদের এইচআইভির প্রাদুর্ভাব যেখানে ০.২ শতাংশ, মিজোরামে তা ২.৭৩ শতাংশ (জাতীয় গড়ের প্রায় ১৩.৬ গুণ), নাগাল্যান্ডে ১.৩৭ শতাংশ (প্রায় সাত গুণ) এবং মণিপুরে ০.৮৭ শতাংশ (চার গুণেরও বেশি)। মেঘালয় (০.৪৩ শতাংশ) এবং ত্রিপুরা (০.৩৭ শতাংশ) জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ, আর অরুণাচল প্রদেশ (০.২৫ শতাংশ) জাতীয় গড়ের চেয়ে সামান্য বেশি। শুধু অসম (০.১৩ শতাংশ) এবং সিকিম (০.১১ শতাংশ) জাতীয় গড়ের নিচে আছে।  ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক ব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস সহ পঞ্জাবকে উত্তর-পূর্বের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রাদুর্ভাব ০.৪২ শতাংশ, যা মেঘালয়ের মতো এবং ত্রিপুরার চেয়ে বেশি। এটি জোর দিয়ে বলে যে উত্তর-পূর্ব কোনও বিচ্ছিন্ন অস্বাভাবিকতা নয়, বরং একটি বৃহত্তর প্যাটার্নের অংশ যেখানে মাদক-প্রভাবিত সীমান্ত এবং ট্রানজিট রাজ্যগুলি অসামঞ্জস্যপূর্ণ এইচআইভি বোঝা বহন করে।

সারণী ১: যেখানে এইচআইভি সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে: নির্বাচিত ভারতীয় রাজ্যগুলিতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রাদুর্ভাব এবং নতুন সংক্রমণ
Drugs And Hiv In India S Northeast An Uneven Epidemic
সূত্র: এইচআইভি হিসাব ২০২৩ ফ্যাক্টশিট , জাতীয় এডস নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (এনএসিও); লেখক দ্বারা সংগৃহীত


*প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রাদুর্ভাব ১৫-৪৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

*পিএলএইচআইভি হল এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী মানুষ।

টেবিল ২-এ দেখানো হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে, সমগ্র ভারতে বার্ষিক নতুন সংক্রমণ প্রায় ৪৪ শতাংশ এবং এডস-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার প্রায় ৭৯ শতাংশ কমেছে। মণিপুর, মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ড এই ধরনটিকে ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত করে বা সামান্য পিছিয়ে রয়েছে: তিনটিতেই মৃত্যু প্রায় ৬৯-৭৮ শতাংশ কমেছে। অসম ও মেঘালয় আরও মিশ্র মধ্যম স্থানে অবস্থিত। বর্ণালীর অন্য প্রান্তে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ ও ত্রিপুরা, যেখানে নতুন সংক্রমণ যথাক্রমে প্রায় ৪৭০ ও ৫২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মৃত্যু ২১৪ এবং ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি  পেয়েছে। এই বৃদ্ধির কিছু অংশ সম্ভবত ব্যবস্থার মধ্যে ইতিমধ্যে বিদ্যমান অন্য কিছুর প্রতিফলন করে, কারণ ভারতের ২০২৩ সালের এইচআইভি হিসাব নিয়মিত প্রোগ্রামের তথ্য এবং বর্ধিত পরীক্ষার উপর নির্ভর করে। অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা এবং পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলিতে মডেলটি পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছিল, কারণ ইতিমধ্যেই এআরটি-তে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা পূর্ববর্তী সমীক্ষা-ভিত্তিক অনুমানকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত যে পূর্ববর্তী রাউন্ডগুলিতে সংক্রমণের সঠিক সংখ্যা হিসাবের মধ্যে আসেনি। এনএসিপি-পাঁচ (জাতীয় এডস এবং যৌন সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যায়) কিন্তু উচ্চ-সংক্রমিত উত্তর-পূর্ব জেলাগুলিতে সম্প্রদায়-ভিত্তিক স্ক্রিনিং এবং লক্ষ্যনির্ভর পরীক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে, তাই আরও ভাল রিপোর্টিং এবং আরও সক্রিয় কেস-ফাইন্ডিং প্রায় নিশ্চিতভাবেই শতাংশ বৃদ্ধিকে বাড়িয়ে তুলছে।


সারণী ২: কিছু রাজ্যে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ কমেছে এবং অন্যগুলিতে বৃদ্ধি পেয়েছে: এইচআইভি এবং এডস মৃত্যুর পরিবর্তন (২০১০-২০২৩)
Drugs And Hiv In India S Northeast An Uneven Epidemicসূত্র:  এইচআইভি হিসাব ২০২৩ ফ্যাক্টশিট , জাতীয় এডস নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (এনএসিও); লেখক দ্বারা সংগৃহীত

যে প্যাটার্নটি উঠে আসছে তা হল পুরনো কেন্দ্রস্থল এবং নতুন সীমান্ত। মণিপুর, মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ডে, পরীক্ষা এবং অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপিতে টেকসই বিনিয়োগ মৃত্যুকে নির্ণায়কভাবে হ্রাস করেছে, এবং নতুন সংক্রমণকে নিম্নগামী বা মৃদুভাবে হ্রাসের পথে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে সামগ্রিক প্রকোপ উচ্চ রয়ে গিয়েছে, কারণ পিএলএইচআইভি-র বৃহৎ দল দীর্ঘকাল বেঁচে থাকে। বিপরীতে, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ এবং এই অঞ্চলের বাইরের পঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলি উদীয়মান বা পুনরুত্থিত হটস্পটের মতো দেখায়, যেখানে এইচআইভি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষমতার চেয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়েছে, যার ফলে একইসঙ্গে নিম্ন স্তর থেকে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এডস নির্মূল করার জন্য ভারতের প্রচেষ্টা বিপরীতমুখী হচ্ছে: কিছু উচ্চ-সংক্রমণযুক্ত রাজ্যে পরিপক্ব কর্মসূচি স্পষ্টতই জীবন বাঁচাতে কাজ করলেও অন্য রাজ্যগুলিতে ঝুঁকির নতুন ক্লাস্টারগুলি ইঙ্গিত দেয় যে প্রতিরোধ, ক্ষতি হ্রাস এবং চিকিৎসার কভারেজ এখনও পরিবর্তিত মাদক ও যৌন নেটওয়ার্কের থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এটি আর নিছক ‘‌সূচ’‌ মহামারী নয়, যদিও মাদক এখনও গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মিজোরামে, অ-‌নিরাপদ যৌন অভ্যাস এখন এইচআইভি সংক্রমণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী, যার প্রায় ৩০ শতাংশ এখনও ইন্ট্রাভেনাস মাদক ব্যবহার (আইডিইউ) এবং একই সূচের বারংবার ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত। অসমও একই ছবি প্রতিফলিত করে: অসম রাজ্য এডস নিয়ন্ত্রণ সমিতির নতুন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক ব্যবহার প্রধান কারণ হিসেবে হেটারোসেক্সুয়াল সংস্পর্শকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা ২০২৩-২৪ সালে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের প্রায় ৬৫ শতাংশের জন্য দায়ী।


চিত্র ১: কিছু রাজ্যে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ কমেছে এবং অন্যগুলিতে বৃদ্ধি পেয়েছে: এইচআইভি এবং এডস মৃত্যুর পরিবর্তন (২০১০-২০২৩)
Drugs And Hiv In India S Northeast An Uneven Epidemic
সূত্র:  এইচআইভি হিসাব ২০২৩ ফ্যাক্টশিট , জাতীয় এডস নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (এনএসিও); লেখক দ্বারা দৃশ্যায়িত

যদি টেবিল ২ নতুন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর পরিবর্তন কীভাবে ঘটেছে তা তুলে ধরে, চিত্র ১ দেখায় যে সময়ের সাথে সাথে এই চাপগুলি কীভাবে জমা হয়েছে। ভারতের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এইচআইভির প্রাদুর্ভাব হ্রাস পেলেও, বেশ কয়েকটি উত্তর-পূর্ব রাজ্য বিপরীত দিকে অগ্রসর হয়। মিজোরাম ১.৭৯ থেকে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। মেঘালয় এবং ত্রিপুরা নিম্ন প্রারম্ভিক বিন্দু থেকে একই রকম ঊর্ধ্বমুখী গতিপথ দেখায়, একই সময়ের মধ্যে প্রায় তিনগুণ বা তার বেশি, এবং অরুণাচল প্রদেশ ছয় গুণেরও বেশি বৃদ্ধি দেখায়, ০.০৪ থেকে ০.২৫ শতাংশে। অসম, সিকিম এবং এই অঞ্চলের বাইরে পঞ্জাব ধীর কিন্তু অবিচল বৃদ্ধি দেখায়, ২০২৩ সালের মধ্যে পঞ্জাবের প্রাদুর্ভাব দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ০.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। শুধুমাত্র মণিপুর এবং, ভিন্নভাবে, নাগাল্যান্ড জাতীয় বক্ররেখার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। একত্রে নেওয়া হলে, চিত্র ১ এমন একটি ভারত দেখায় যেখানে সামগ্রিক রেখা নীচের দিকে বাঁকছে, এমনকি বেশ কয়েকটি উত্তর-পূর্ব রাজ্য তাদের নিজস্ব উত্থানের পথ অনুসরণ করে।

ক্ষতি হ্রাস এবং সীমান্ত চ্যালেঞ্জ

যদিও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা যাচ্ছে, তবুও এটা স্পষ্ট যে শুধুমাত্র প্রয়োগ-নেতৃত্বাধীন পদ্ধতিগুলি অপ্রতুল হতে পারে। সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে ব্যাপক মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, কিন্তু এর ফলে এইচআইভি সংক্রমণের পরিমাণ হ্রাস পায়নি। সংক্রমণ কমাতে হলে স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য এবং অর্থ মন্ত্রক; মাদকদ্রব্য সংস্থা; উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়ন মন্ত্রক; এবং রাজ্য সরকারগুলিকে একটি যৌথ স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার অধীনে একত্রিত করার জন্য একটি সমন্বিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য। একটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য কৌশল প্রয়োজন। ক্ষতি হ্রাস জোরদার করাকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, এবং এতে ওপিওয়েড সাবস্টিটিউশন থেরাপি (ওএসটি) কভারেজ সম্প্রসারণ এবং যক্ষ্মা ও হেপাটাইটিস কর্মসূচির সঙ্গে এইচআইভি পরিষেবাগুলিকে সংযুক্ত করতে হবে। অনিরাপদ ইনজেকশন পদ্ধতিগুলি এই অঞ্চলের এইচআইভি মহামারীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি; এর উৎস থেকে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করলে জীবন বাঁচানো যাবে এবং ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সমান্তরালভাবে, জনসম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন প্রচারণা এবং যত্ন বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্থানীয় জনসম্প্রদায়ের সংহতির শক্তিশালী ঐতিহ্যের অর্থ হল অ-‌সরকারি সংস্থা, যুব গোষ্ঠী, গির্জা এবং সমবয়সী নেটওয়ার্কগুলি লুকনো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছনোর জন্য উপযুক্ত জায়গায় রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলিকে তহবিল এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত করলে প্রতিরোধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা যাবে, কলঙ্ক কমানো যাবে এবং নিশ্চিত করা যাবে যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণরা পিছিয়ে থাকবে না।



অনিরাপদ ইনজেকশন পদ্ধতি এই অঞ্চলের এইচআইভি মহামারীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি; এর উৎসস্থলে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করলে জীবন বাঁচানো যাবে এবং ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।



একটি পরিপূরক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে টেকসই স্বাস্থ্য ক্ষমতা এবং নজরদারি গড়ে তোলা। এখানকার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শক্তিশালী ক্লিনিক, মোবাইল স্বাস্থ্য ইউনিট এবং রিয়েল-টাইম রোগ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। এই বিনিয়োগ এইচআইভি প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষম করবে, বিশেষ করে মাদক পরিবহণ রুট বরাবর। পরিশেষে, নীতিনির্ধারকদের সীমান্ত জনস্বাস্থ্যকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্থিতিস্থাপকতার বিষয় হিসাবে রূপ দেওয়া উচিত। উত্তর-পূর্বে মাদক এবং এইচআইভি-‌র যুগ্ম সংকট ভারতের বৃহত্তর স্থিতিশীলতার জন্য বিপদস্বরূপ। এই সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে মহামারী নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডার অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হলে তা বৃহত্তর রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি এবং সম্পদ একত্রিত করতে সহায়তা করবে। এই ধরনের পুনর্গঠন একটি সমন্বিত পদ্ধতিকে উৎসাহিত করে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে স্বাস্থ্য প্রচারের সঙ্গে সংযুক্ত করে উত্তর-পূর্বের এইচআইভি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভারতের সামগ্রিক স্বাস্থ্য স্থিতিস্থাপকতা উভয়কেই ‌শক্তিশালী করে।



কে.এস. উপলব্ধ গোপাল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের সহযোগী ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.