শিথিল প্রয়োগ এবং রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন কম প্রতিবেদন সিডব্লিউসি-র মূল প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করে দেয় — রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য এখন আরও কঠোর ও সপ্রতিভ যাচাইকরণ প্রয়োজন।
১৯৯৭ সালে কার্যকর হওয়া রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (সিডব্লিউসি) রাসায়নিক অস্ত্রের উন্নয়ন, ব্যবহার এবং মজুত নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। চুক্তিটি কার্যকর করার পাশাপাশি, সিডব্লিউসি রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা (ওপিসিডব্লিউ) প্রতিষ্ঠা করে। সিডব্লিউসি যুদ্ধক্ষেত্রে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং বিদ্যমান মজুত নষ্ট করার জন্য বিশ্বব্যাপী নিবেদিত প্রয়াসের পরিচায়ক। তবে, অসঙ্গতিগুলি অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণভাবে চুক্তিটি কার্যকর করা এবং কনভেনশনের প্রতি তাদের অনুবর্তিতা সংক্রান্ত স্ব-প্রতিবেদনের জন্য পৃথক জাতিরাষ্ট্রগুলির উপর অত্যধিক নির্ভরতার কারণে। নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন এবং আক্রমণাত্মক তদারকির অভাব রাসায়নিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের দিকে অগ্রগতি অর্জন করা অনেক কঠিন করে তুলেছে।
সিডব্লিউসি যুদ্ধক্ষেত্রে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং বিদ্যমান মজুত নষ্ট করার জন্য বিশ্বব্যাপী নিবেদিত প্রয়াসের পরিচায়ক।
প্রতিবেদনে অসঙ্গতি
ইরান
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় রাসায়নিক যুদ্ধের বিধ্বংসী প্রভাব প্রত্যক্ষ করার পর, ইরান ১৯৮০-র দশকে এই অভিজ্ঞতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাসায়নিক অস্ত্র উন্নয়নে বিনিয়োগ করে।
তারপর থেকে, ইরান রাসায়নিক অস্ত্রের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে এবং ফার্মাসিউটিক্যাল-ভিত্তিক এজেন্ট (পিবিএ) তৈরি করে আরও গোপন এবং পরিশীলিত পথে এগিয়ে গিয়েছে। এই পিবিএ-গুলি এমন পদার্থের পণ্য যা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা বৈধ — যেমন অ্যানেস্থেটিক — এবং অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে অক্ষম বা হত্যা করতে সক্ষম। ইরানের বিরুদ্ধে হিজবুল্লা, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং ইরাকি শিয়া মিলিশিয়াদের মতো সংস্থাগুলিতে পিবিএ পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
১৯৯৭ সালে সিডব্লিউসি অনুমোদনের পর ওপিসিডব্লিউ-র তত্ত্বাবধানে ইরান তার রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত ধ্বংসের কথা ঘোষণা করে। তবে, এর বিপরীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দপ্তরের প্রতিবেদন, ২০২১ (মার্কিন ডিওএস প্রতিবেদন) বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইরানের এখনও অপ্রকাশিত রাসায়নিক অস্ত্রের ক্ষমতা থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কম করে রিপোর্ট করা বিদ্যমান মজু্ত, উৎপাদন কেন্দ্র সংক্রান্ত ঘোষণা, এবং সামরিক ব্যবহারের জন্য পিবিএ-র সম্ভাব্য উন্নয়নের অভিযোগ। সিডব্লিউসি মেনে চলা এবং রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করার উপর ইরানের জোর সত্ত্বেও, ক্রমাগত সন্দেহ বর্তমান যাচাইকরণ ব্যবস্থার ত্রুটিগুলির দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করে।
রাশিয়া
পিবিএ নিয়ে রাশিয়ার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ২০০২ সালের মস্কো থিয়েটার হোস্টেজ ক্রাইসিসে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে রাশিয়ান বিশেষ বাহিনী চেচেন সন্ত্রাসীদের অক্ষম করার জন্য কারফেন্টানিল এবং রেমিফেন্টানিল — ফেন্টানিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত রাসায়নিক — ব্যবহার করেছিল। গ্যাসটি ১০০ জনেরও বেশি পণবন্দিকে হত্যা করে, যা পিবিএ-র মারাত্মক ক্ষমতা তুলে ধরে। রাশিয়া তখন থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যার চেষ্টায় নোভিচকের মতো অত্যাধুনিক স্নায়ু এজেন্ট ব্যবহারে জড়িত, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যে (ইউকে) সের্গেই স্ক্রিপাল এবং ২০২০ সালে বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনিকে বিষ প্রয়োগের ঘটনা।
উপরে উল্লিখিত লক্ষ্যনির্ভর হত্যাকাণ্ডে অঘোষিত কার্যকলাপ, ইউক্রেনে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ এজেন্টের অপব্যবহার এবং নোভিচক ব্যবহারের উল্লেখ করে ২০২১ সালের মার্কিন ডিওএস রিপোর্টে বলা হয় যে রাশিয়া সিডব্লিউসি মানছে না।
২০১৭ সালে রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের কথা ঘোষণা করা সত্ত্বেও, রাশিয়া পূর্বে ৪০,০০০ মেট্রিক টন এই ধরনের অস্ত্র মজুত রেখেছিল। তারা সম্পূর্ণ রাসায়নিক অস্ত্রের মজু্ত ধ্বংস করেছে বলে রাশিয়ার ২০১৭ সালের ঘোষণা ওপিসিডব্লিউ নিশ্চিত করেছিল। যাই হোক, উপরে উল্লিখিত লক্ষ্যনির্ভর হত্যাকাণ্ডে অঘোষিত কার্যকলাপ, ইউক্রেনে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ এজেন্টের অপব্যবহার এবং নোভিচক ব্যবহারের উল্লেখ করে ২০২১ সালের মার্কিন ডিওএস রিপোর্টে বলা হয় যে রাশিয়া সিডব্লিউসি মানছে না।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঘটনা
অন্য উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলির জন্য দায়ী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সিরিয়া, যা ২০১৩ সালে রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (সিডব্লিউসি)-এ যোগদান এবং তার মজুত ধ্বংস করার কথা ঘোষণা করার পরেও ওপিসিডব্লিউ ও রাষ্ট্রপুঞ্জের একাধিক তদন্তে ধরা পড়েছে যে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি হামলায় তারা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস) সিরিয়াকে সিডব্লিউসি মেনে না চলার জন্য দায়ী করে চলেছে। তা সত্ত্বেও, আসাদ সরকারের পতনের পর, সিরিয়া বর্তমানে অঞ্চলের অস্থিরতা সত্ত্বেও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে চলেছে।
২০২১ সালের মার্কিন ডিওএস রিপোর্ট অনুসারে, যদিও চিনের সম্মতি ব্যাপক ওপিসিড্বলিউ পরিদর্শনের আগে সম্পূর্ণরূপে যাচাই করা যায় না, তবে দেশটি বর্তমানে লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত নয়।
উত্তর কোরিয়া, যে সিডব্লিউসি-তে স্বাক্ষরকারীও নয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য ও সক্রিয় রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি রয়েছে বলে মনে করা হয়।
ইজরায়েল বা মিশর কেউই সিডব্লিউসি-তে অংশ নেয় না। যদিও ঐতিহাসিক অভিযোগ অতীতে আক্রমণাত্মক কর্মসূচির ইঙ্গিত দেয়, তাদের বর্তমান রাসায়নিক অস্ত্র সক্ষমতার অবস্থা অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
বরং, উত্তর কোরিয়া, যে সিডব্লিউসি-তে স্বাক্ষরকারীও নয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য ও সক্রিয় রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি রয়েছে বলে মনে করা হয়। ২০১৭ সালে ভিএক্স এজেন্টের সাহায্যে কিম জং ন্যামের হত্যাকাণ্ড এই বিপদকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
শক্তিশালী যাচাইকরণ ও স্বচ্ছতার দিকে
রাসায়নিক অস্ত্রের প্রতিবেদনে অসঙ্গতি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উল্লেখযোগ্য হুমকি, এবং এ শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়। অসম্পূর্ণ বা ভুল ঘোষণা ওপিসিডব্লিউ-র জন্য তার বর্তমান ক্ষমতায় অনুবর্তিতা নিশ্চিত করা আরও কঠিন করে তোলে। এটি আন্তর্জাতিক আস্থা নষ্ট করে, এবং সিডব্লিউসি-কে সমর্থন করার জন্য রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞাকে দুর্বল করে। এই ধরনের অসঙ্গতিগুলির সমাধান নিশ্চিত করার জন্য, রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দৃশ্যপট নিম্নলিখিত উপায়ে বিকশিত হতে হবে:
❅ স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দ্বারা ওপিসিডব্লিউ-র মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি করা
ওপিসিডবলিউ-কে অঘোষিত পরিদর্শন করার জন্য আরও কর্তৃত্ব দিতে হবে এবং গোয়েন্দা সূত্রের বিস্তৃত পরিসরের প্রাপ্যতা উন্নত করতে হবে। ইন্টারপোলের মতো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাহিনীর সঙ্গে এর মিথস্ক্রিয়া, এবং রাসায়নিক ও বিষাক্ত পদার্থের বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য চুক্তিগুলির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সাধারণ ডাটাবেসগুলির — যেমন রটারডাম কনভেনশন, বাসেল কনভেনশন, এবং অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ — ব্যবহার এ ক্ষেত্রে অপরিহার্য। এই সুবিধাগুলি পূর্বসূরি রাসায়নিকের চলাচলের উপর ভিত্তি করে সংস্থাটিকে প্রাথমিকভাবে বিচ্যুতি দ্রুত সনাক্ত করতে সক্ষম করবে।
❅ স্বাধীন যাচাইকরণ সংস্থা তৈরি করা
দেশীয় সরকারগুলি থেকে স্বাধীনভাবে অর্থায়নের ভিত্তিতে স্বাধীন যাচাইকরণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা বা উন্নত করা হলে তা নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পারে, রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে পারে, এবং রাষ্ট্রীয় ঘোষণাপত্রগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। একটি বহুস্তরীয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অনুবর্তিতার জন্য পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতার উপর আস্থা বৃদ্ধি করবে।
❅ বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রসার
রাসায়নিক অস্ত্রের হুমকি আবিষ্কার এবং সমাধান বিকাশে বিশ্বব্যাপী অ্যাকাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্পিয়েজ কনভারজেন্স সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা কনসোর্টিয়া গঠন এবং দেশগুলির মধ্যে সেরা অনুশীলনের বিনিময় করা হলে তা নতুন হুমকি সনাক্ত করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন রাসায়নিক এজেন্ট, নতুন যুগের প্রযুক্তির প্রভাব ও সনাক্তকরণ, দূষণমুক্তকরণ এবং যাচাইকরণ প্রযুক্তি উন্নত করা। যৌথ গবেষণা রসায়ন ও রসায়ন-সম্পর্কিত শাখায় দায়িত্বের একটি নৈতিক সংস্কৃতিকেও উৎসাহিত করে।
রাষ্ট্রগুলিকে বাধ্য করা উচিত বৃহৎ পরিমাণ বা সন্দেহজনক রাসায়নিক লেনদেন সম্পর্কে ওপিসিডব্লিউ-কে অবহিত করতে এবং পূর্বসূরি রাসায়নিকগুলির আমদানি, রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ পরিচালনার উপর কঠোর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে।
❅ দ্বৈত-ব্যবহারের রাসায়নিক বাণিজ্য আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ
একটি অব্যবহৃত কিন্তু মূল হাতিয়ার হল বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দ্বৈত-ব্যবহারের রাসায়নিক বা পিবিএ-র বাণিজ্য ট্র্যাক করা। রাষ্ট্রগুলিকে বাধ্য করা উচিত বৃহৎ পরিমাণ বা সন্দেহজনক রাসায়নিক লেনদেন সম্পর্কে ওপিসিডব্লিউ-কে অবহিত করতে এবং পূর্বসূরি রাসায়নিকগুলির আমদানি, রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ পরিচালনার উপর কঠোর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে। শুল্ক ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতা অবৈধ রাসায়নিক অস্ত্র-সম্পর্কিত বাণিজ্য নেটওয়ার্কগুলি উন্মোচন ও বিচ্ছিন্ন করতেও সহায়তা করতে পারে।
রাসায়নিক অস্ত্রের বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা শুধু চুক্তি ও ঘোষণার উপর নয়, বরং যাচাই করার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। সঠিক, স্বচ্ছ প্রতিবেদন এবং কার্যকর তদারকি ছাড়া সিডব্লিউসি-র মূল প্রতিশ্রুতি সব সময়েই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য, যাচাইকরণের মানগুলি বিকশিত হতে হবে। এর অর্থ হল ওপিসিডব্লিউ-কে নির্ণায়কভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলি দেওয়া, স্বাধীন সংস্থাগুলির সঙ্গে তদারকি জোরদার করা, এবং স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
শ্রবিষ্ঠ অজয়কুমার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির সহযোগী ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Shravishtha Ajaykumar is an Associate Fellow at the Centre for Security, Strategy, and Technology. Her research areas include Chemical, Biological, Radiological, and Nuclear (CBRN) strategy ...
Read More +