ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বিভাজন জরুরিভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এনইপি ২০২০ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তি প্রচার করে এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি-চালিত বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করে শিক্ষাকে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করে।
আজকের ডিজিটাল যুগে, প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষাগত সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে। তবে, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা প্রায়শই ডিভাইসের সীমিত সুযোগ, অবিশ্বস্ত ইন্টারনেট সংযোগ এবং অপ্রতুল ডিজিটাল সাক্ষরতার মতো উল্লেখযোগ্য বাধার মুখোমুখি হয়। কোভিড-১৯-এর সময় এই বৈষম্য চরমে পৌঁছেছিল; দুই বা ততোধিক সন্তানের পরিবার তাদের সন্তানদের ডিভাইস সরবরাহ করতে লড়াই করেছিল। ডিজিটাল বিভাজন বলতে বোঝায় যারা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে এবং কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না তাদের মধ্যে ব্যবধান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গ্রহণ করার সাথে সাথে, ডিজিটাল বিভাজন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে যা শুধু শিক্ষাগত অর্জনকেই বাধাগ্রস্ত করে না, বরং সামাজিক বৈষম্যকেও স্থায়ী করে তোলে। প্রযুক্তি-চালিত বিশ্বে সকল শিক্ষার্থীর সাফল্য ও ক্ষমতায়নের জন্য এই বৈষম্যগুলি মোকাবিলা করা অপরিহার্য।
ডিজিটাল ব্যবহারের গুরুত্ব
আজকের বিশ্বে, ইন্টারনেট আমাদের বিস্তৃত সম্ভাবনা এবং সুযোগের মুখোমুখি করে। এর মধ্যে কিছু শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রকাশিত হয়, যা জীবনের সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত প্রদান করে। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা থেকে ডিজিটাল শিক্ষায় প্রধান পরিবর্তনটি কোভিড-১৯-এর সময় ঘটেছিল। তবে, নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সুযোগের অধিকারী সমবয়সীদের তুলনায় অসুবিধার মধ্যে রয়েছে, যেখানে লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে মেয়েরা আরও বেশি অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মতে, এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে নারী ও মেয়ে, শিশু, যুবক এবং বয়স্করা। ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ)-এর ২০২০ সালের একটি যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিশ্বের স্কুলে যাওয়ার বয়সী শিশুদের (৩-১৭) দুই-তৃতীয়াংশের বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ নেই।
সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ
সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। একটি প্রধান সমস্যা হল ডিভাইসের অভাব, কারণ অনেক শিক্ষার্থীর বাড়িতে ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন নেই। আরেকটি বাধা হল দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ। এমনকি যদি একজন শিক্ষার্থীর কাছে ডিভাইস থাকে, তবুও দুর্বল বা সীমিত ইন্টারনেট সংযোগ এবং বারবার এই ব্যয় বহন করা তার সুযোগ সীমিত করে। কোভিড-১৯-এর সময় সাব-সাহারান আফ্রিকা একটি চমকপ্রদ ডিজিটাল বিভাজনের মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে ৮৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাড়িতে কম্পিউটার ছিল না এবং ৮২ শতাংশের ইন্টারনেট ছিল না। ভারতেও বাধাগুলি অত্যন্ত কঠিন: কোভিড-১৯-এর সময়, মাত্র ২৪ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট অ্যাক্সেস ছিল। এই বৈষম্য শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব ফেলেছিল, এবং মাত্র ২০ শতাংশ স্কুল-বয়সী শিশু দূরবর্তী শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিল।
গত দশকে সরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮% হ্রাস পেয়েছে এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪% বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিজিটাল সাক্ষরতাও একটি উল্লেখযোগ্য বাধা। এনএসএস ৭৮তম রাউন্ডের (২০২০-২১ সালে পরিচালিত) একাধিক নির্দেশক জরিপ অনুসারে, ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে কম্পিউটার সাক্ষরতার হার ২৪.৭ শতাংশ। সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, ডিজিটাল সাক্ষরতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য, একবিংশ শতাব্দীর লক্ষ্য এবং চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি তৈরি করার সময় এনইপি ২০২০ চালু করা হয়েছিল।
ভারতের উদ্যোগ এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০
২০১৫ সালে চালু হওয়া ভারতের ডিজিটাল ইন্ডিয়া ইনিশিয়েটিভ হল একটি বিস্তৃত কর্মসূচি যা দেশকে একটি ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়িত সমাজে রূপান্তরিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে এর লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্যান্ড সংযোগ বৃদ্ধি করা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সম্পদ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া। এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে পাবলিক ওয়াই-ফাই হটস্পট, কমিউনিটি ইন্টারনেট সেন্টার স্থাপন, এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ট্যাবলেট ও ল্যাপটপের মতো ডিভাইস বিতরণ করা, পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচিও প্রদান করা। স্বামী বিবেকানন্দ যুব ক্ষমতায়ন প্রকল্পের আওতায়, উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৬.৭৫ লক্ষ গ্যাজেট (১৯.৮৪ লক্ষ ট্যাবলেট এবং ২৬.৯১ লক্ষ স্মার্টফোন) বিতরণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ডিজিটাল অ্যাক্সেস পয়েন্ট প্রদানের জন্য দেশজুড়ে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, কমন সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি) স্থাপন করা হচ্ছে। জাতীয় ডিজিটাল সাক্ষরতা মিশন (এনডিএলএম) এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ ডিজিটাল সাক্ষরতা অভিযান (পিএমজিদিশা) হল প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের কমপক্ষে একজনকে ডিজিটালভাবে সাক্ষর করে তোলার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
এনইপি ২০২০ হল একবিংশ শতাব্দীর প্রথম শিক্ষানীতি যার লক্ষ্য শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক রূপান্তর আনা, এবং ডিজিটাল শিক্ষা, দক্ষতা ও ন্যায্যতার উপর জোর দেওয়া। এটি প্রবেশাধিকার, ন্যায্যতা, গুণমান, সামর্থ্য এবং জবাবদিহিতার পাঁচটি নির্দেশক স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। এর লক্ষ্য হল প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল সুযোগ প্রদান এবং সকল স্তরে শিক্ষা প্রক্রিয়া এবং ফলাফল উন্নত করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভৌগোলিক বাধা দূর করা। এনইপি ২০২০-এর অধীনে, স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই শেখা, এবং মূল্যায়ন, পরিকল্পনা ও প্রশাসন উন্নত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে মুক্ত ধারণা বিনিময়ের জন্য জাতীয় শিক্ষাগত ও প্রযুক্তিগত ফোরাম (এনইটিএফ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নীতিটিতে আর্থ-সামাজিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীগুলির (এসইডিজি) উপর বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক পটভূমির উপর ভিত্তি করে বৈষম্য দূর করার জন্য সকল শিক্ষার্থীর জন্য ন্যায্য শিক্ষা নিশ্চিত করা।
ভারতে উদ্যোগের প্রভাব
ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের অধীনে, ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা মার্চ ২০১৪ পর্যন্ত ২৫১.৫৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ৯৫৪.৪০ মিলিয়নে পৌঁছেছে। এপ্রিল ২০২৪ পর্যন্ত, ৯৫.১৫ শতাংশ গ্রামে ৩জি/৪জি মোবাইল সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। ডিজিটাল সাক্ষরতা প্রচারের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সিএসসি-র মাধ্যমে বাস্তবায়িত পিএমজিদিশা ভারতজুড়ে ৬.৩৯ কোটি ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
ইন্ডিয়া রিপোর্ট ডিজিটাল এজুকেশন ২০২১ অসংখ্য প্রশংসনীয় উদ্যোগের পাশাপাশি, বিশেষ করে অতিমারির সময়, শিক্ষার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে। তবে এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করে যে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং ফাঁক থেকে গিয়েছে।
ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণের সাথে সাথে শিক্ষা মৌলিক প্রয়োজনের চেয়েও বেশি করে একটি বিশেষাধিকার বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এনইপি ২০২০ এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগগুলি শিক্ষায় ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির জন্য উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে, সাম্প্রতিক তথ্য নীতি এবং অনুশীলনের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান প্রকাশ করে। ইন্টারনেট গ্রাহক এবং ডিজিটালি শিক্ষিত ব্যক্তির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও, ভারতের ১.৪৭ মিলিয়ন স্কুলের মাত্র ৩২.৪ শতাংশের কাছে কার্যকরী কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। মাত্র ২৪.৪ শতাংশ স্কুলে নতুন যুগের দক্ষতা শেখানোর জন্য স্মার্ট ক্লাসরুম রয়েছে। সরকারি এবং গ্রামীণ স্কুলগুলিতে এই বৈষম্য আরও স্পষ্ট, যেখানে পরিকাঠামো এবং ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ বেসরকারি শহুরে প্রতিষ্ঠানগুলির তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এই ব্যবধানের অর্থ হল, নীতিগত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, লক্ষ লক্ষ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ডিজিটাল শিক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এনইপি ২০২০-র অধীনে বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান তৈরি করার চাপ দরিদ্র, গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে, কারণ তারা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সক্ষম হবে না। এটি স্কুলগুলির বেসরকারিকরণকেও ত্বরান্বিত করেছে: গত দশকে, সরকারি স্কুলের সংখ্যা ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং বেসরকারি স্কুল ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণের সাথে সাথে শিক্ষা মৌলিক প্রয়োজনের চেয়েও বেশি করে একটি বিশেষাধিকার বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় পরিকাঠামোর অভাব এনইপি-র অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বাস্তবায়ন জোরদার না করা হলে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দিকে সম্পদ চালিত না করা হলে, ডিজিটাল বিভাজন অব্যাহত থাকবে, যার ফলে অনেক তরুণ ভারতীয় প্রযুক্তি-চালিত ভবিষ্যতের জন্য অপ্রস্তুত থাকবে।
উপসংহার
সঠিক ডিভাইস ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্যের সহজ প্রবেশাধিকার, ইন্টারঅ্যাক্টিভ শেখার সরঞ্জাম ও প্রক্রিয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে, অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এখনও এই সুবিধাগুলি অর্জনের জন্য লড়াই করে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, বিভিন্ন উদ্যোগ চালু করা হচ্ছে। সরকারি কর্মসূচি, সরকারি ও বেসরকারি গোষ্ঠীর মধ্যে অংশীদারিত্ব এবং জনসম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা, সবকিছুই ডিভাইস সরবরাহ, ইন্টারনেট সংযোগ উন্নত করা এবং ডিজিটাল দক্ষতা শেখানোর মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার জন্য কাজ করে। এনইপি ২০২০ শিক্ষায় প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তির উপর মনোযোগ দিয়ে এবং প্রযুক্তি-চালিত বিশ্বের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাকে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। যদিও এটি অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবুও এই উদ্যোগটি এখনও অসঙ্গত তথ্য সংগ্রহ এবং আরও ভাল চলতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
দৃশ্য থেকুম্বাদ অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন ছিলেন
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Drishya Thekkumbad was a Research Intern at the Observer Research Foundation ...
Read More +