-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
ভারত যখন তার অ্যাক্ট ইস্ট নীতি অনুসরণ করছে, তখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ডিজিটাল সংযোগ একটি কৌশলগত সেতু হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যা স্থানীয় আকাঙ্ক্ষাকে আঞ্চলিক সংহতি এবং বিশ্বব্যাপী সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (এনইআর) এবং দেশের বাকি অংশের মধ্যে ভৌত (সড়ক, রেল, আকাশপথ এবং জলপথ) ও জনগণের মধ্যে সংযোগ (পিটুপি), এবং ডিজিটাল সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বেশ কয়েক দশক ধরে ভৌত ও মানসিক বিচ্ছিন্নতা ছিল, ভারত সরকারের অসংখ্য প্রধান নীতি ও প্রকল্পের অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্প্রতি একটি উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি (এইপি), যা ২০১৪ সালে লুক ইস্ট পলিসি থেকে নতুন নামকরণ করা হয়েছিল; ২০১৭-২০১৮ সালে অনুমোদিত নর্থ ইস্ট স্পেশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট স্কিম (এনইএসআইডিএস); এবং ২০১৮ সালে ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চালু হওয়া ‘ডিজিটাল নর্থইস্ট ভিশন ২০২২’। এই নীতিগুলি এই অঞ্চলের একাধিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন এনেছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের ভূ-কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্রুত ডিজিটাল সংযোগ ভৌত এবং জনগণের মধ্যে সংযোগের মতোই অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ভারত সরকারের যোগাযোগ ও গ্রাম উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ডঃ পেম্মাসানি চন্দ্রশেখর ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে ভারতের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সীমান্ত হিসেবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
ডিজিটাল সংযোগ: আশা ও আকাঙ্ক্ষা
২০১৮ সালের ১১ আগস্ট প্রকাশিত ‘ডিজিটাল নর্থইস্ট ভিশন ২০২২’-এ কোনও নির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দের কথা বলা হয়নি; বরং এর বাস্তবায়ন এই অঞ্চলের ডিজিটাল ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীল। উল্লেখযোগ্যভাবে, পিএম-ডেভআইএনই প্রকল্প ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ সাল পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিকাঠামো এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৬,৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়াও, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতিটি রাজ্যে ডিজিটাল পরিকাঠামো, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, আইটি ও আইটিইএস, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং স্টার্টআপ প্রসারের জন্য একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভিশন ২০২২ দলিলে নাগরিকদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নের জন্য একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, যার লক্ষ্য হল ডিজিটাল সংযোগের প্রসার, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে রূপান্তরিত করা। এতে আটটি ডিজিটাল অগ্রাধিকার ক্ষেত্রও চিহ্নিত করা হয়েছে: ডিজিটাল পরিকাঠামো, ডিজিটাল পরিষেবা, ডিজিটাল ক্ষমতায়ন, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকে উৎসাহিত করা, বিপিও সহ আইটি ও আইটিইএস-কে উৎসাহিত করা, ডিজিটাল পেমেন্ট, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ এবং সাইবার নিরাপত্তা।
ভিশন ২০২২ দলিলে নাগরিকদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নের জন্য একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, যার লক্ষ্য হল ডিজিটাল সংযোগের প্রসার, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে রূপান্তরিত করা।
এই ভিশনে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলির উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেমন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমস্ত প্রত্যন্ত গ্রামে উচ্চ-গতির ব্রডব্যান্ড এবং মোবাইল সংযোগ প্রদান, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ডিজিটাল পরিষেবা প্রদান এবং অনলাইন পেমেন্টকে উৎসাহিত করা। এটি একটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম, ডেটা রিপোজিটরি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার (এনডিসি) স্থাপনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক হাব তৈরি করে ই-গভর্নেন্স পরিষেবা, জিওস্পেশিয়াল অ্যাপ্লিকেশন এবং উন্নয়ন-সম্পর্কিত কার্যক্রমকে আরও উন্নত করবে। ‘ডিজিটাল নর্থইস্ট ভিশন’ চালু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে ডিজিটাল গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) এখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি বহুল ব্যবহৃত পেমেন্ট মাধ্যম। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মোট ১৫ লক্ষ ব্যবসায়ীর মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করেছেন। সংক্ষেপে, এই ভিশন নথির লক্ষ্য হল জীবনযাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করা এবং এই অঞ্চলের অব্যবহৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে একটি বড় পরিবর্তন আনা।
সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
ডিজিটাল সংযোগ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য, বিশেষ করে তরুণ, শিক্ষার্থী এবং উদ্যোক্তাদের জন্য একটি আশীর্বাদ বলে মনে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারছে। যে তরুণ উদ্যোক্তারা নিজেদের স্টার্ট-আপ চালু করতে চান, তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলিসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ই-কমার্সের অংশ হতে পারছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, এটি দেশের বাকি অংশের তুলনায় এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে অনুভূত বিচ্ছিন্নতাবোধ কমিয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি সংযোগকে উৎসাহিত করবে। ডিজিটাল সংযোগ ভারতের সর্বত্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূগোল ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বৃহত্তর সচেতনতা তৈরিতেও সাহায্য করেছে। পর্যটনও বিকশিত হয়েছে, এবং ভারত ও বিদেশের অন্যান্য অংশ থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যটকদের আগমন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক গ্রামে এখনও ইন্টারনেট সংযোগ নেই এবং অনেকের কাছে এখনও মোবাইল সংযোগও পৌঁছয়নি।
তা সত্ত্বেও, বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সমাধান করা প্রয়োজন। দুর্বল সংযোগ এবং পরিকাঠামোগত ঘাটতিই প্রধান বাধা। যেহেতু এই অঞ্চলের ভূখণ্ড বন্ধুর ও অসম, এবং এটি বন্যা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ, তাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এছাড়াও, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায়শই অপ্রতুল থাকে। নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের কারণে বিদ্যুৎ না থাকলে মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে না। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ নেই এবং অনেকের কাছে এখনও মোবাইল সংযোগও পৌঁছয়নি। ২০২২ সালে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মোবাইল সংযোগবিহীন গ্রামের সংখ্যার দিক থেকে সিকিম ৬৫.৯৪ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে ছিল এবং আসাম ১০.৮৮ শতাংশ নিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। মোবাইল সংযোগ থাকা সত্ত্বেও, মানুষকে ধীরগতির ইন্টারনেটের সম্মুখীন হতে হয়, যা পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে আরও তীব্র হয়। এছাড়াও, কম্পিউটার, রাউটার, মোডেম, টেলিফোন লাইন, ডেটা সেন্টার এবং নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীসহ প্রযুক্তিগত সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে। এই অঞ্চলে সফল ডিজিটাল পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য দক্ষতার ঘাটতি কমানোও প্রয়োজন।
ভবিষ্যৎ করণীয়
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ডিজিটাল সংযোগের জন্য বেশ কয়েকটি পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত সরকারের উচিত বিদ্যমান প্রকল্প ও নীতিমালার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে এবং তাদের নির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে আরও অনেক জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা। এই ধরনের উদ্যোগে আর্থিক ভর্তুকি, সাশ্রয়ী নেটওয়ার্ক, নেটওয়ার্ক সংযোগের নির্ভরযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব, কার্যকর গ্রাহক পরিষেবা, সম্ভাব্য পরিষেবাগুলির জন্য স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের চার্জ মকুব এবং প্রয়োজনে বেসরকারি ক্ষেত্র ও সরকারের মধ্যে সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
ভারত সরকারের উচিত বিদ্যমান প্রকল্প ও নীতিমালার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে এবং তাদের নির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে আরও অনেক জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা।
ডিজিটাল সংযোগ এই অঞ্চলকে একীভূত করতে, নাগরিকদের ক্ষমতায়িত করতে এবং ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট নীতির অনুঘটক হিসেবে কাজ করে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদানের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডঃ পেম্মাসানি চন্দ্রশেখর উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আসিয়ান-এর ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ভারতের প্রাকৃতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা ৯৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংযোগ, প্রচুর নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সবুজ ডেটা সেন্টারের জন্য উপযুক্ত জলবায়ু দ্বারা সমর্থিত। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কার্যকর ডিজিটাল সংযোগ আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য এবং অন্যান্য সম্পর্ক জোরদার করতে পারে। এছাড়াও, এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তরুণদের সুযোগ অন্বেষণ করতে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে অনুপ্রাণিত করবে। ডিজিটাল সংযোগ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের এবং ভারতের বাকি অংশের মধ্যে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি দূর করে ঐক্যের অনুভূতি জাগাতেও সাহায্য করতে পারে।
অনুরাধা ওইনাম ইম্ফলের ইম্ফল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Anuradha Oinam is an Assistant Professor in Political Science Department at Imphal College, Imphal. She completed her MPhil and PhD from CIPOD, School of ...
Read More +