প্রযুক্তি ভারতের বয়স্কদের ক্ষমতায়িত করতে পারে — কিন্তু ডিজিটাল দক্ষতা ছাড়া, তাঁদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই ব্যবধান পূরণ করা জরুরি।
বার্ধক্যের অনেক অসুবিধা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ স্বাস্থ্য ঝুঁকি, শারীরিক ও পরিচিতিমূলক অবক্ষয়, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, এমনকি দারিদ্র্যও। যদিও এই চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে কিছু, বিশেষ করে বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বর্ধিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি, ভারতে বয়স্ক কল্যাণ সংক্রান্ত আলোচনায় প্রধানত স্থান পেয়েছে, বয়স্ক কল্যাণে প্রযুক্তির ভূমিকা প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়। আজ একজন গড়পড়তা ব্যক্তি কাজ, তথ্য, শিক্ষা, বিনোদন, সামাজিকীকরণ, এবং এমনকি প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করেন। প্রযুক্তি জনসেবা প্রদানের উন্নতিও করেছে এবং ভারতের জনকল্যাণ ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যযুক্ত পদ্ধতিগত ফাঁকগুলিও দূর করেছে। সংক্ষেপে, স্বাধীন জীবনযাপন এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য প্রযুক্তির প্রাপ্যতা অপরিহার্য। তবে, প্রযুক্তির বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তোলা এবং সমাজের দুর্বল অংশগুলিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতাও রয়েছে। এটি বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলির বয়স্কদের জন্য সত্য, যাদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রাপ্যতা কম এবং প্রায়শই প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব থাকে।
আজ একজন গড়পড়তা ব্যক্তি কাজ, তথ্য, শিক্ষা, বিনোদন, সামাজিকীকরণ এবং এমনকি প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করেন।
আনা মারিয়া ক্যারিলো সুবিক-এর মতো বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন যে বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা এবং আর্থ-সামাজিক পটভূমির মতো বিষয়গুলি ডিজিটাল বর্জনের ক্ষেত্রে অবদান রাখে। অতএব, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি ছোট অংশ, যাঁরা উচ্চশিক্ষিত এবং ধনী, তাঁরা প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা পেতে পারেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন, এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাধীন জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু বিশ্বব্যাপী তরুণ ও বৃদ্ধদের মধ্যে একটি বিশাল ডিজিটাল বৈষম্য রয়েছে, যা ধূসর ডিজিটাল বৈষম্য নামেও পরিচিত। বয়স্কদের মধ্যে, বয়স্ক মহিলাদের, বিশেষ করে যাঁরা অশিক্ষিত, উন্নয়নশীল দেশগুলির গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত, এবং তফসিলি বর্ণের মতো প্রান্তিক গোষ্ঠী থেকে আসা, তাঁদের ডিজিটাল সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো উন্নত অঞ্চলেও, অল্প বয়সী পুরুষ ও মহিলাদের তুলনায় ৫৫-৭৪ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে মাত্র অর্ধেক বা তার বেশি মৌলিক ডিজিটাল দক্ষতা রয়েছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল লিঙ্গ বৈষম্য আরও বিস্তৃত। উচ্চ প্রযুক্তির প্রবেশ তাঁদের জন্য আরও বহিষ্করণ ও প্রান্তিকীকরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ডিজিটালাইজেশনের ফলে বয়স্কদের টিকিট বুক করা বা বার্ধক্য ভাতা দাবি করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে, যার ফলে তাঁরা অন্যদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বয়স্ক ব্যক্তিরাও ডিজিটাল স্ক্যাম ও অনলাইন আর্থিক জালিয়াতির শিকার হচ্ছেন।
বয়স্কদের জন্য কাজ করে এমন একটি অলাভজনক সংস্থা এজওয়েল ফাউন্ডেশন-এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুসারে, ভারতের প্রায় ৮৫ শতাংশ বয়স্ক ব্যক্তি ডিজিটালভাবে নিরক্ষর (অর্থাৎ, ৭৬.৫ শতাংশ বয়স্ক পুরুষ এবং ৯৫ শতাংশ বয়স্ক মহিলা)। আরও, গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি ডিজিটালভাবে নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তি মনে করেন যে ডিজিটাল দক্ষতার অভাব তাঁদের সুস্থতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং বিচ্ছিন্নতা ও প্রান্তিকীকরণের কারণ হয়। প্রায় ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে, তাঁদের পরিবারের ছোট সদস্যরা তাঁদের জীবনধারা বা ভাষা বুঝতে না পারার কারণে তাঁদের এড়িয়ে চলেন, যার পিছনে আছে প্রযুক্তি ও গ্যাজেটের ব্যাপক প্রভাব। বিশেষজ্ঞ বাসবদত্তা জেনা এবং তত্ত্বমসি পাল্টাসিং দেখেছেন যে বয়স্ক ভারতীয়দের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) গ্রহণ কম হওয়ার পিছনে ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাবই প্রধান কারণ। তার উপর, ভারতে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মধ্যে একটি বিশাল ডিজিটাল বৈষম্য রয়েছে।
ভারতের বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তা তাঁদের বেশিরভাগ কার্যকলাপ উপভোগ করতে, স্বাবলম্বী হতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, এবং সমাজের স্বাধীন ও অবদানকারী সদস্য হিসাবে তাঁদের ধারণা পরিবর্তন করতে সহায়তা করবে।
স্বাধীন জীবনযাপন, প্রজন্মের মধ্যে বন্ধন, এবং সামগ্রিকভাবে সুস্থতার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা বিবেচনা করে বয়স্কদের মৌলিক প্রযুক্তিগত এবং ডিজিটাল দক্ষতা দিয়ে সজ্জিত করে ধূসর ডিজিটাল বিভাজন দূর করা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তা তাঁদের বেশিরভাগ কার্যকলাপ উপভোগ করতে, স্বাবলম্বী হতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, এবং সমাজের স্বাধীন ও অবদানকারী সদস্য হিসাবে তাঁদের ধারণা পরিবর্তন করতে সহায়তা করবে। ভারতের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৬০ এবং ৭০-এর দশকের বয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাঁরা শারীরিকভাবে সুস্থ এবং কাজ করতে সক্ষম। ভারতে পেনশনের কম কভারেজের কারণে, দীর্ঘায়ু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে দীর্ঘ বছর ধরে কাজ করতে হবে। সর্বশেষ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা তাঁদের কর্মসংস্থানের ক্ষমতাও উন্নত করবে এবং বৃদ্ধ বয়সে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত হতে সাহায্য করবে।
বয়স্কদের দীর্ঘ এবং আরও পরিপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করার জন্য একটি সম্প্রদায়-ভিত্তিক ডিজিটাল সক্ষমতা-নির্মাণ কর্মসূচি অপরিহার্য।
ভারতে জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এসেছিল ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ১৯৬৪-৬৫ সালের কোঠারি কমিশন রিপোর্টের মাধ্যমে। এতে বলা হয়েছিল, "একটি আধুনিকীকরণের পথে চলা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে, শিক্ষাকে একটি সমাপ্তিযোগ্য বিষয় হিসাবে নয়, বরং একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।" জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০ প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা এবং ক্রমাগত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের মানসিকতা গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছে। এনইপি প্রাপ্তবয়স্কদের এমন একটি পাঠ্যক্রম কাঠামোর উপর জোর দেয় যা গুরুত্বপূর্ণ জীবন দক্ষতাগুলিকে প্রভাবিত করবে, যার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সাক্ষরতা, আর্থিক সাক্ষরতা, বাণিজ্যিক দক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা সচেতনতা, এবং আইসিটি-সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি। দুর্ভাগ্যবশত, ভারতে বয়স্কদের কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন শেখার এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ কম। ভারত সরকারের ডিজিটাল সাক্ষরতা অভিযান (দিশা) বা ভারতের জাতীয় ডিজিটাল সাক্ষরতা মিশন নাগরিকদের আইটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে, জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করতে, এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে সহায়তা করার জন্য মৌলিক আইসিটি দক্ষতা প্রদানের গুরুত্ব স্বীকার করে। এই প্রকল্পের অধীনে, প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যকে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা দিয়ে সজ্জিত করা হবে। তবে, এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র ৬০ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের জন্য। ভারত যেহেতু ক্রমবর্ধমান আয়ু এবং মৃত্যুহার হ্রাসের কারণে জনসংখ্যার বৃদ্ধ হওয়ার অনিবার্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই এটি নিশ্চিত করতে হবে যে সকল বয়সের মানুষ প্রযুক্তিগতভাবে ক্ষমতায়িত। বয়স্কদের দীর্ঘ এবং আরও পরিপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করার জন্য একটি সম্প্রদায়-ভিত্তিক ডিজিটাল সক্ষমতা-নির্মাণ কর্মসূচি অপরিহার্য। বয়স্কদের জন্য ডিজিটাল সক্ষমতা-নির্মাণ কর্মসূচি তৈরি করার সময়, ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের তাদের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সুবিক জোর দিয়ে বলেন যে ডিজিটাল সক্ষমতা-নির্মাণ কর্মসূচিগুলি চাহিদাভিত্তিক এবং যাঁরা এর লক্ষ্য সেই জনসংখ্যার নির্দিষ্ট চাহিদা অনুসারে তৈরি করা উচিত। বয়স্কদের প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বিরত রাখতে সামাজিক নিয়মগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি বিশেষ করে বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে সত্য হতে পারে, যাঁরা হয় নিরক্ষর অথবা মাত্র কয়েক বছরের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছেন। অতএব, বয়স্কদের জীবন চালনাকারী সামাজিক নিয়মগুলি পরিবর্তন করার জন্যও প্রচেষ্টা চালানো উচিত।
মালঞ্চ চক্রবর্তী অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং ডেপুটি ডিরেক্টর (গবেষণা)।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Malancha Chakrabarty is Senior Fellow and Deputy Director (Research) at the Observer Research Foundation where she coordinates the research centre Centre for New Economic ...
Read More +