Published on Apr 06, 2026 Updated 0 Hours ago

এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় আরটি-তে।

আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে নয়াদিল্লির এই উদ্যোগ মর্যাদা ও অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়নকে সম্পৃক্ত করে বৈশ্বিক নিয়মকানুন পুনর্লিখনের এক সাহসী প্রচেষ্টাকে দর্শায়।

ভারতের আফ্রিকা উদ্যোগের প্রকৃত অর্থ

এক মাসের ব্যবধানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুটি আফ্রিকান দেশ অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকা  ইথিওপিয়া সফর গতানুগতিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার চেয়েও বেশি কিছুকে প্রতিফলিত করে। সম্মিলিত ভাবে এই সফরগুলি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির এক গভীর বিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়যা জোটনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে এসে গ্লোবাল সাউথ-এর সংহতিতে প্রোথিত এক আত্মবিশ্বাসী কৌশলগত জোটবদ্ধতার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

মজার বিষয় হলদক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইথিওপিয়া উভয়ই ব্রিকস-এর সদস্য এবং ভারত ২০২৬ সালে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক হতে চলেছে। এমন এক সময়ে যখন ব্রিকস জোট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছেতখন এই দুটি দেশের প্রতি ভারতের এই উদ্যোগ গ্লোবাল সাউথ-এর অংশীদারদের পাশে দৃঢ় ভাবে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জনের দৃঢ় সংকল্পকেই তুলে ধরে।

আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের এই সম্পৃক্ততা আস্থাউন্নয়ন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্লোবাল সাউথ-এর নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের ইচ্ছাকেও প্রকাশ করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা  ডিসেম্বর মাসে ইথিওপিয়ায় মোদীর সফর ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং নীতিগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখার ইচ্ছাকেই নির্দেশ করে।

দক্ষিণ আফ্রিকা এবং গ্লোবাল সাউথের মুহূর্ত

তীব্র বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জি২০ সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত হয়। বৃহৎ শক্তিগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতাইউক্রেন গাজায় চলমান সংঘাত এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ক্রমবর্ধমান মোহভঙ্গ বৈশ্বিক শাসনের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ণ করেছে। প্রিটোরিয়া গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বে বৈশ্বিক শাসনের এক বিরল কৌশলগত সুযোগও লাভ করে। ইন্দোনেশিয়াভারত  ব্রাজিলের পর দক্ষিণ আফ্রিকা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির নেতৃত্বে জি২০ সভাপতিত্বের চার বছরব্যাপী চক্রের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়।

এগুলির মধ্যে ভারতের ২০২৩ সালের সভাপতিত্ব একটি বিশেষ ভাবে শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলযা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়যেখানে তিনি ভারতের সফল জি২০ আয়োজন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার অর্জিত শিক্ষার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন।

‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ — যার অর্থ ‘সারা বিশ্ব এক পরিবার’ — আদর্শের অধীনে ভারত এমন সব বিষয়কে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে আসে, যা গ্লোবাল সাউথের জন্য অগ্রাধিকারযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল গণ-অবকাঠামো, জলবায়ু অর্থায়ন, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কের সংস্কার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি।

ভারতের জি২০ সভাপতিত্বকালে উত্তর দক্ষিণ উভয় বিশ্বের দেশগুলি নিয়ে গঠিত এই গোষ্ঠীর প্রতি ভারতের বার্তা ছিল যে, গ্লোবাল সাউথের কোনও সভাপতিত্বকেই রক্ষণাত্মক বা প্রতিক্রিয়াশীল হতে হবে না। বসুধৈব কুটুম্বকম যার অর্থ ‘সারা বিশ্ব এক পরিবার’ — আদর্শের অধীনে ভারত এমন সব বিষয়কে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে আসেযা গ্লোবাল সাউথের জন্য অগ্রাধিকারযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল গণ-অবকাঠামোজলবায়ু অর্থায়নবহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাঙ্কের সংস্কার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি। পরিশেষেগভীর ভূ-রাজনৈতিক বিভেদ সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে নেতাদের ঘোষণাপত্র আদায়ের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য একটি আদর্শ মডেল হিসেবে কাজ করে।

আশ্চর্যজনক ভাবেপ্রিটোরিয়ার জি২০ সভাপতিত্বকে ঘিরে বিরাজমান ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল আরও বেশি অস্থিতিশীল। ইউক্রেন গাজা নিয়ে উত্তেজনা উন্নয়নের অগ্রাধিকারগুলিকে ম্লান করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। অন্য দিকে প্রধান অর্থনীতিগুলিতে বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের প্রতি ক্রমবর্ধমান মোহভঙ্গ উত্তর-দক্ষিণ বিভেদকে আরও গভীর করে তুলছিল। দেখা যাচ্ছেদক্ষিণ আফ্রিকার প্রাথমিক অবস্থান একটি ঐতিহাসিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের দ্বারা শক্তিশালী হয়েছিলযার নেপথ্যে ছিল ভারতেরই মূল চালিকাশক্তি। ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের অধীনেই আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি২০- স্থায়ী সদস্য হিসেবে উন্নীত করা হয়েছিল। আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গ প্রিটোরিয়াকে বৈধতা প্রভাব উভয়ই প্রদান করেছিলযা তাকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে আফ্রিকার অগ্রাধিকারগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ করে দেয়।

ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এমন এক ধরনের আদর্শগত নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলযা আফ্রিকার উদ্বেগগুলিকে বিচ্ছিন্ন ভাবে না দেখে বরং বৃহত্তর আলোচনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিল। ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তর, স্থিতিশীল অবকাঠামো, অতিমারি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের মতো বিষয়গুলিকে সর্বজনীন জনহিতকর বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল জি২০ অ্যাজেন্ডার ‘আফ্রিকীকরণ’ করা নয়বরং এটি দেখানো যেআফ্রিকার উন্নয়নের চ্যালেঞ্জগুলি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জোট গঠন এই পদ্ধতির আর একটি স্তম্ভ ছিল। ২০২৩ সালের ভারতের মতোই দক্ষিণ আফ্রিকাও ব্রিকসআফ্রিকান ইউনিয়ন এবং জি৭৭+চিনের মতো বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে নমনীয় বিষয়ভিত্তিক জোট গঠনের উপর নির্ভর করেছিল। এর মাধ্যমে প্রিটোরিয়া জোট রাজনীতির পরিবর্তে সেতুবন্ধনের প্রতি তার আগ্রহ প্রকাশ করে। ফলস্বরূপএটি আনুষ্ঠানিক জোট ছাড়াই গ্লোবাল সাউথের সম্মিলিত দর কষাকষির ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছিল।

উদ্ভাবন সত্ত্বেও অসম প্রবেশাধিকারের কারণে আফ্রিকার ডিজিটাল অর্থনীতি যেহেতু বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তাই ভারতের ডিজিটাল গণ-অবকাঠামোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রিটোরিয়া ব্রডব্যান্ড, আন্তঃকার্যকরী অর্থপ্রদান, ডিজিটাল পরিচয় এবং সাইবার নিরাপত্তার জন্য মহাদেশীয় কাঠামোকে এগিয়ে নিয়েছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডিজিটাল গণ-অবকাঠামোর উপর মনোযোগের ক্ষেত্রেও ভারতের প্রভাব সুস্পষ্ট ছিল। উদ্ভাবন সত্ত্বেও অসম প্রবেশাধিকারের কারণে আফ্রিকার ডিজিটাল অর্থনীতি যেহেতু বাধাগ্রস্ত হচ্ছেতাই ভারতের ডিজিটাল গণ-অবকাঠামোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রিটোরিয়া ব্রডব্যান্ডআন্তঃকার্যকরী অর্থপ্রদানডিজিটাল পরিচয় এবং সাইবার নিরাপত্তার জন্য মহাদেশীয় কাঠামোকে এগিয়ে নিয়েছিল। এর বার্তা ছিল ডিজিটাল রূপান্তরের নিছক প্রাপক হিসেবে নয়, বরং আফ্রিকাকে বৈশ্বিক ডিজিটাল শাসনের সহ-স্থপতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

ইথিওপিয়া এবং কৌশলগত বৈচিত্র্যকরণ

দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ যদি গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বে ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করেতবে ইথিওপিয়া ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। হর্ন অফ আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে পশ্চিমিদের সঙ্গে ইথিওপিয়া সরকারের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই ১৬-১৭ ডিসেম্বর মোদীর ইথিওপিয়া সফর অনুষ্ঠিত হয়।

এই সফরটি একটি শক্তিশালী প্রতীকী পদক্ষেপের মাধ্যমে শুরু হয়েছিলযখন ইথিওপিয়ার প্রাইম মিনিস্টার আবি আহমেদ মোদীকে ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘গ্রেট অনার নিশান প্রদান করেন। এই পুরস্কারটি একজন বিশ্বনেতা হিসেবে মোদীর নেতৃত্ব এবং ভারত-ইথিওপিয়া সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়। এটি একটি আনুষ্ঠানিক পুরস্কার হলেও এটি আদ্দিস আবাবার সেই ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে যেদেশটি তার বৈদেশিক সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ভারতকে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদারদের মধ্যে স্থান দিতে চায়।

তবে ভারতীয় এবং ইথিওপীয় নেতাদের মধ্যে এটিই প্রথম সাক্ষাৎ ছিল না। মোদীর এই রাষ্ট্রীয় সফরের আগে দুই নেতার মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিলযার মধ্যে জি২০ এবং ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ব আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইথিওপিয়াও ভয়েস অফ দ্য গ্লোবাল সাউথ সামিটস-এর মতো ভারত-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারতের নেতৃত্বের ভূমিকাকে সমর্থন জানায়যা উন্নয়নে সমতা এবং বৈশ্বিক শাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রতি তাদের যৌথ অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।

২০২২ সালে ইথিওপিয়ার আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট-এর (এজিওএ) সুবিধা স্থগিত এবং পরবর্তীতে মানবিক সহায়তা প্রত্যাহার দেশটির রফতানিমুখী বস্ত্র ও চামড়া খাতে মারাত্মক আঘাত হেনেছে।

গুরুত্বপূর্ণ ভাবেএই সফরটি এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছিলযখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইথিওপিয়ার সম্পর্ক অবনতিশীল। ২০২২ সালে ইথিওপিয়ার আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট-এর (এজিওএসুবিধা স্থগিত এবং পরবর্তীতে মানবিক সহায়তা প্রত্যাহার দেশটির রফতানিমুখী বস্ত্র চামড়া খাতে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির কারণে ইথিওপিয়া বাণিজ্য সুবিধাবিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে অনিশ্চয়তার সম্মুখীন।

এই প্রেক্ষাপটেভারত একটি কৌশলগত বৈচিত্র্যময় অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেএমন একটি দেশ যা ইথিওপিয়ার উন্নয়ন যাত্রায় সমকক্ষ হিসেবে অংশীদার হতে পারেদেশটির রফতানি-নির্ভর খাতগুলির জন্য বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে পারে এবং এই সব কিছুই কোনও জবরদস্তিমূলক শর্ত ছাড়াই সম্ভব। আইএমএফ-এর শর্তাবলির ভারে জর্জরিত ইথিওপিয়া ঋণ পুনর্গঠনের জন্য জি২০ কমন ফ্রেমওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হয়ে লাভবান হলেওদেশটির স্থিতিশীল বিনিয়োগের তীব্র প্রয়োজন। ভারতীয় বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা আদ্দিস আবাবাকে একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প প্রদান করতে পারে।

অন্য দিকেইথিওপিয়ার সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব আফ্রিকায় ভারতের চিরাচরিত প্রভাব বলয় পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও ভাল ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চিনতুরস্ক এবং পশ্চিমি শক্তিগুলির ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মুখে ভারত নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে লড়াই করছে এবং ইথিওপিয়ার সঙ্গে তার অংশীদারিত্ব তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

লোহিত সাগর এবং নীল অববাহিকার সংযোগস্থলে ইথিওপিয়ার ভূ-কৌশলগত অবস্থান এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সংযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্রিকসআন্তর্জাতিক সৌর জোটদুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো জোট এবং গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্সের মধ্যে সহযোগিতা এই অংশীদারিত্বকে বৈশ্বিক শাসনে নেতৃত্বের ভূমিকা আরও জোরদার করতে পারে।

চাপ উপেক্ষা করে স্বায়ত্তশাসন চর্চা

মোদ্দা কথা হলক্রমবর্ধমান মার্কিন চাপ সত্ত্বেও মোদীর দক্ষিণ আফ্রিকা ইথিওপিয়া সফর গ্লোবাল সাউথ অংশীদারদের সমর্থনে দাঁড়াতে ভারতের ইচ্ছাকেই তুলে ধরেছে।

ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইথিওপিয়া উভয়ই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ এবং রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। ভারত জানে যে, অর্থনৈতিক ভাবে সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হতে পারে না।

ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ইথিওপিয়া উভয়ই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ এবং রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। ভারত জানে যেঅর্থনৈতিক ভাবে সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হতে পারে না। তবে এটি আফ্রিকাকে সমান মূল্যবান কিছু দিতে পারে: পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে একটি নির্ভরযোগ্য উন্নয়নমুখী অংশীদারিত্ব।

সাম্প্রতিক সফরগুলি বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক ঘটনা ছিল নাবরং অন্তর্ভুক্তিমূলকতামর্যাদা এবং যৌথ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততাকে নতুন রূপ দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ ছিল। এই অবস্থানটি জোটনিরপেক্ষতা থেকে কৌশলগত জোটবদ্ধতার দিকে ভারতের বিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। ভারত বাহ্যিক চাপের পরিবর্তে অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে অংশীদারিত্বকে খোলাখুলি ভাবে বেছে নিচ্ছে।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় আফ্রিকার প্রতি ভারতের এই উদ্যোগ আধিপত্যের উপর নয়বরং অংশীদারিত্বের উপর এবং এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তার নেতৃত্বের দাবিকে শক্তিশালী করে যে, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করার সামর্থ্য নিজেদের কাছেই রয়েছে।

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় আরটি-তে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.