একের পর এক বিশ্বব্যাপী সংঘাতপূর্ণ ঘটনা বেজিং-এ এই বিষয়ে পুনর্মূল্যায়নের সূত্রপাত করেছে যে, মার্কিন শক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে না কি এক বলিষ্ঠ পুনরুত্থানের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল তেহরানের ওপর বিমান হামলা চালায় এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও প্রেসিডেন্টের ভবনকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তখন চিনের কৌশলগত মহলে একটি তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে: মার্কিন শক্তি কি হ্রাস পাচ্ছে না কি পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে? বৃহৎ শক্তিগুলির এই প্রতিযোগিতার পর্বে ওয়াশিংটন কি হারছে না কি জিতছে?
আমেরিকার পতনের আখ্যান, চিনের উত্থানের দাবি
এই বিতর্কের প্রেক্ষাপট খুঁজে পাওয়া যায় অক্টোবর ২০২৫-এর ট্রাম্প-শি বুসান শীর্ষ সম্মেলনে, যার পরে চিনের কৌশলগত মহলে একটি ক্রমবর্ধমান ঐকমত্য তৈরি হয় যে, চিন মূলত বাণিজ্য যুদ্ধে জয়ী হয়েছে এবং সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি কৌশলগত অচলাবস্থায় টেনে এনেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে, ওয়াশিংটনের বছরের পর বছর ধরে সর্বোচ্চ চাপও বেজিংকে সিস্টেমিক ইস্যুগুলিতে পিছু হটতে বাধ্য করতে পারেনি; বরং, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে এবং উৎপাদনশীলতা কমিয়েছে। এই ব্যাখ্যা অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসন বুঝতে পেরেছিল যে কঠোর কৌশলের মাধ্যমে চিন-মার্কিন প্রতিযোগিতায় জয় নিশ্চিত করার সম্ভাবনা কম, এবং চিনের শর্তে চিনের সঙ্গে সমঝোতা করা ছাড়া তাদের আর কোনও উপায় ছিল না।
চিনা পণ্ডিতরা যুক্তি দেন যে এটি মার্কিন-চিন সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর ভিত্তি হল এই ধারণা যে, স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় গভীর পরিবর্তন ঘটছে, যেখানে চিনের ক্ষমতা ও অবস্থান নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, চিন ক্ষমতার এই পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের সময় তার বর্ধিত প্রভাব প্রদর্শন করতে ও কাজে লাগাতে চেয়েছে, এবং চিন-মার্কিন প্রতিযোগিতায় সক্রিয়ভাবে আখ্যান তৈরি ও অ্যাজেন্ডা নির্ধারণ করেছে।
সেই অনুযায়ী, চিনা গণমাধ্যমগুলি “প্রাচ্যের উত্থান ও পাশ্চাত্যের পতন” সম্পর্কিত আখ্যান এবং “চিনা মডেল মার্কিন মডেলের চেয়ে বেশি কার্যকর, বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং উন্নত”—এই দাবিকে জোরালোভাবে প্রচার করেছে। চিনা কৌশলগত মহলে আলোচনা ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের বাইরে গিয়ে জি২ কাঠামোর অধীনে সম্ভাব্য ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন “কিল লাইন” আলোচনাটি চিনা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে যুক্তি দেওয়া হয় যে, “ট্রাম্পের আমেরিকা কোনও সমৃদ্ধ আমেরিকা নয়, বরং এমন এক দেশ যেখানে শিল্পগুলিতে জং ধরেছে, আর্থিক পুঁজি একচেটিয়া হয়ে উঠেছে, আর সমাজের সকল স্তরে শোষণ চরমে পৌঁছেছে,” এবং “শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সামরিক শক্তি ধরে রাখা আর পরিকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে”— যা থেকে বোঝা যায় যে, “বিশ্ব ইতিমধ্যেই একটি মার্কিন-পরবর্তী এবং পশ্চিম-পরবর্তী যুগে প্রবেশ করেছে”।
কৌশলগত আত্মবিশ্বাস থেকে কৌশলগত উদ্বেগ
তবে, বছরের শুরুতে ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চিনা জনমতের ধারায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছিল, কারণ ভাষ্যকারেরা উল্লেখ করতে শুরু করেন যে, বাণিজ্য যুদ্ধে চিনের আপাত বিজয় সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলি চিনের জন্য একাধিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে ছিল জার্মানিতে হামবুর্গ বন্দর অধিগ্রহণে শেয়ারের মালিকানা হারানো, নেদারল্যান্ডসে নেক্সপেরিয়াকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতা, অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন বন্দরের ইজারা বাতিলের সম্ভাবনা, এবং সম্প্রতি সিকে হাচিসন হোল্ডিংসের পানামার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চিনের বৈদেশিক বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক বাজারে তার সংস্থাগুলির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শিল্প সংযোগ ও সরবরাহ শৃঙ্খল, তার বাণিজ্য পথ এবং তার সম্পদ সরবরাহ নেটওয়ার্কগুলি ট্রাম্প ২.০-এর অধীনে অভূতপূর্ব ঝুঁকির সম্মুখীন বলে মনে করা হচ্ছিল। সমালোচকেরা যুক্তি দেন যে, মার্কিন-চিন সম্পর্কের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের প্রচারণা সত্ত্বেও, চিনা সরকার বিদেশে কর্মরত চিনা সংস্থাগুলির অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করতে অক্ষম বলে প্রতীয়মান হচ্ছিল।
কিছু চিনা পণ্ডিত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটার ব্যাপক দাবি সত্ত্বেও ট্রাম্প ২.০ প্রকৃতপক্ষে একাধিক ক্ষেত্রে "জয়ী" হয়েছে।
কিছু চিনা পণ্ডিত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটার ব্যাপক দাবি সত্ত্বেও ট্রাম্প ২.০ প্রকৃতপক্ষে একাধিক ক্ষেত্রে "জয়ী" হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এই দৃষ্টিকোণ থেকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছিল এবং কোনও উল্লেখযোগ্য পরিণতির সম্মুখীন হয়নি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছে। তাদের মতে, ট্রাম্প ২.০ বিশ্বজুড়ে চড়া শুল্ক আরোপ করলেও তার কোনও অর্থপূর্ণ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং, অনেক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অধিকন্তু, চিন-মার্কিন সম্পর্ক স্থিতিশীল করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের খামখেয়ালিপনা এবং জাপান, ফিলিপিন্স ও তাইওয়ানকে চিনের বিরুদ্ধে অস্ত্রসজ্জিত করার স্পষ্ট উদ্দেশ্য স্বীকার করা সত্ত্বেও, চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে।
বেজিং এই উপসংহার টেনেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটার তত্ত্বটি অতিরঞ্জিত। পিছু হটার পরিবর্তে, যুক্তরাষ্ট্র চিনের দিকে অগ্রসর হওয়া ও উত্তেজনা বৃদ্ধির কৌশল অনুসরণ করছে বলেই মনে করা হচ্ছে, যদিও সেই উত্তেজনা বৃদ্ধির তীব্রতা, পদ্ধতি এবং গতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এই মূল্যায়নে, ট্রাম্প ২.০ এমন একগুচ্ছ ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে যা চিনের বৈদেশিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিন্যাসকে সার্বিকভাবে প্রভাবিত করছে, এবং এর ফলে চিনের বৃহত্তর বিশ্বায়ন কৌশল ও তার প্রতিষ্ঠানগুলির আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
চায়না সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিক এক্সচেঞ্জেস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ চেন ওয়েনলিং এবং সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের সাম্মানিক ডিন ইয়ান শুয়েতোং -এর মতো চিনা পণ্ডিতেরা যুক্তি দেন যে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখনও অপ্রতিরোধ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি রয়েছে। তাদের মূল্যায়নে, চিন নিঃসন্দেহে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাঠামোগত অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে, তাঁরা যুক্তি দেন, ট্রাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ দর কষাকষির কৌশল অবলম্বনের ইচ্ছা—যা চিন-মার্কিন অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাকে সামরিক সংঘাতে রূপ দিতে পারে—এই ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যে দুই দেশের মধ্যে সামগ্রিক জাতীয় শক্তির ক্ষেত্রে এখনও একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধান বিদ্যমান। একই সঙ্গে, তাঁরা মনে করেন যে চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তির ব্যবধান কমে আসা একটি অপরিবর্তনীয় প্রবণতা। তাঁরা পরামর্শ দেন যে, যদি চিন আরও কয়েক বছর "নিজের কাজকর্ম ভালভাবে পরিচালনা করে", তাহলে ভবিষ্যতের মার্কিন প্রশাসনগুলির কাছে চিনের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আগের মতোই আরও নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।
“শান্তিপূর্ণ উত্থান” এবং প্রতিরোধমূলক অবস্থানের পুনর্মূল্যায়ন
ভেনেজুয়েলা ও পানামা সংকট একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই যুক্তি দিয়েছেন যে ট্রাম্প ২.০-এর বারবার উস্কানির বিরুদ্ধে চিন যদি এখন জোরালো জবাব না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার সুযোগ সে হারাবে।
৩ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর তিন দিন পর, চিনের সামরিক সংবাদ সংস্থা চিনা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় “ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল হামলা থেকে পাঁচটি শিক্ষা” শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। নিবন্ধটিতে বলা হয় যে, সবচেয়ে মারাত্মক লুকনো বিপদ হল অভ্যন্তরীণ শত্রু; সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল হিসাব হল শান্তির প্রতি অন্ধ বিশ্বাস; সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হল শ্রেষ্ঠ অস্ত্রশক্তির যুক্তি; সবচেয়ে নিষ্ঠুর স্ববিরোধিতা হল বিজয়ের বিভ্রম; এবং চূড়ান্ত নির্ভরতা আত্মনির্ভরশীলতার মধ্যে নিহিত। কিছু চিনা কৌশলবিদ সেই মুহূর্তে পিএলএ-র এই বার্তাটিকে জাতির প্রতি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা জাতিকে তার "শান্তির অসুস্থতা" থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানায়।
ওয়াশিংটনের বর্তমান কঠোর ও কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব শক্তির প্রকৃত পুনরুত্থানকে প্রতিফলিত করে না; বরং, এটি চিনের তুলনায় ক্রমহ্রাসমান অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ঘাটতি পূরণ, অনুভূত দুর্বলতাগুলি কাটিয়ে ওঠা, আলোচনায় সুবিধা অর্জন, এবং এর আধিপত্যবাদী অবস্থান বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা।
চিনা পণ্ডিতদের মতে এই বছর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড—যার মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে চাপ সৃষ্টি, পানামায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিরোধ এবং ইরানের ওপর হামলা—এই কঠোর সত্যটিই স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বৃহৎ শক্তিগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার একটি যুগ এসে গিয়েছে। তাঁরা যুক্তি দেখান যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী উদারনৈতিক কাঠামো, যা অনেক রাষ্ট্র একসময় স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছিল, তা এখন গুরুতর চাপের মধ্যে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, অর্থনীতি উন্মুক্ত করার পর থেকে চিন তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে শান্তি ও স্থিতিশীলতার মধ্যে কাজ করেছে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ প্রত্যাশাগুলি সেই প্রশান্তি দ্বারাই গঠিত হয়েছে। তাঁদের মূল্যায়নে, বর্তমান পরিবর্তনগুলির কারণে বেজিংয়ের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির একটি মৌলিক পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে।
তাঁরা যুক্তি দেন যে, চিনকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সেই অবস্থানকে স্বীকার করতে হবে, যাকে তাঁরা বিশ্বের "সবচেয়ে যুদ্ধবাজ রাষ্ট্র" হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটনের বর্তমান কঠোর ও কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব শক্তির প্রকৃত পুনরুত্থানকে প্রতিফলিত করে না; বরং, এটি চিনের তুলনায় ক্রমহ্রাসমান অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতামূলকতার ঘাটতি পূরণ, অনুভূত দুর্বলতাগুলি কাটিয়ে ওঠা, আলোচনায় সুবিধা অর্জন, এবং এর আধিপত্যবাদী অবস্থান বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা। তাঁরা যুক্তি দেখান যে, প্রেসিডেন্ট পদে যিনিই থাকুন না কেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হতে পারে। এমন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে চিনা পণ্ডিতেরা বলেন যে, বেজিংকে অবশ্যই তার "শান্তিপূর্ণ উত্থান"-এর কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে এবং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এই মাসের শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বহু-প্রত্যাশিত চিন সফর বিলম্বিত করার সিদ্ধান্তকে অবশ্যই দুই পক্ষের মধ্যে চলতি ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। এর তাৎক্ষণিক কারণগুলির মধ্যে থাকতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততা, হরমুজ প্রণালীতে প্রহরা মিশন এবং নতুন ধারা ৩০১ তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যে মতপার্থক্য, আর সেইসঙ্গে প্যারিসে চিন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার ষষ্ঠ পর্বে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া।
একই সঙ্গে বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায় যে, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের আগে একে অপরের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে উভয় পক্ষই একটি “বিজয়ী” আখ্যান তৈরি করতে চাইছে, এবং যথাসম্ভব দর কষাকষির হাতিয়ার সংগ্রহ করছে। নিজেদের “বিজয়ী” ঘোষণা করার জন্য কোনও পক্ষ কতদূর যেতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন হওয়ায়, ভারতের জন্য এই উচ্চ-ঝুঁকির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অন্তরা ঘোষাল সিং অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Antara Ghosal Singh is a Fellow at the Strategic Studies Programme at Observer Research Foundation, New Delhi. Her area of research includes China-India relations, China-India-US ...
Read More +