আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাইল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীর সফর ভারত ও তাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অভিপ্রায়কে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতায় রূপান্তরিত করার জন্য একটি যৌথ প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।
নভেম্বর মাসের শেষের দিকে তাইল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকিওর নয়াদিল্লি সফর ভারত-তাইল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। ৩ এপ্রিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার মাত্র সাত মাস পর, এই সফরটি উভয় পক্ষের স্পষ্ট অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দেয় যে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতির ভারে ভারাক্রান্ত হয়েও জড়তার কারণে সীমাবদ্ধ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য। আঞ্চলিক পরিবর্তনের সময়ে - তাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত উত্তেজনা, মায়ানমারে অস্থিরতা এবং মেকং অঞ্চলে সাইবার-জালিয়াতি শৃঙ্খলের বিস্তার - এই সফরটি নিয়মিত কূটনীতির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভারত এবং তাইল্যান্ড আলোচনার ঊর্ধ্বে উঠে অভিন্ন সাধারণ দুর্বলতা এবং অভিন্ন কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তি করে আরও উদ্দেশ্যমূলক অংশীদারিত্ব গঠন করতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং নিরাপত্তা চাপ
পূর্ববর্তী উচ্চ-স্তরের আদান-প্রদানের বিপরীতে এই সফরটি ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উদ্বেগের মধ্যে ঘটেছে। তাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সঙ্গে তার পূর্ব সীমান্তে নতুন করে চাপের মুখোমুখি হচ্ছে। অন্য দিকে মায়ানমারের অব্যাহত সংঘাতের প্রভাব তাইল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে ক্রমবর্ধমান ভাবে প্রভাবিত করছে। তাইল্যান্ড-মায়ানমার-কম্বোডিয়া অক্ষ বরাবর অঞ্চল থেকে পরিচালিত বহুজাতিক সংগঠিত অপরাধ শৃঙ্খলগুলি তাদের কার্যক্রম নাটকীয় ভাবে প্রসারিত করেছে। ভারতের শত শত নাগরিককে জালিয়াতির চক্রান্তে আটকে রাখা বা প্রতারণা করার দরুন ভারত মেকং অঞ্চলের অপরাধমূলক প্রশাসন সংক্রান্ত সঙ্কটে অনিচ্ছুক অংশীদার হয়ে উঠেছে।
এই পটভূমিতে তাইল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীর গত বছরের ৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের ভারত সফরকে অবশ্যই বুঝতে হবে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে তাঁর আলোচনা আনুষ্ঠানিক ছিল না; সেগুলি ছিল অত্যন্ত জরুরি এবং কৌশলগত। এবং এই আলোচনা মূলত ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল প্রতিবেশীকে স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল।
তাইল্যান্ডের গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব এবং ১৭-১৮ ডিসেম্বর ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত অনলাইন জালিয়াতি মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান এবং সহ-আয়োজনের জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো আসলে এই স্বীকৃতিই প্রদর্শন করে যে, একতরফা পদক্ষেপ আর পর্যাপ্ত নয়।
সাম্প্রতিক স্মৃতিতে সম্ভবত প্রথম বারের মতো ভারত-তাইল্যান্ড মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় অর্থনৈতিক কূটনীতিকে ছাপিয়ে গিয়েছে নিরাপত্তা সহযোগিতা। সাইবার-জালিয়াতি – যে বিষয়টিকে এক সময় নেহাতই সামান্য বলে উড়িয়ে দেওয়া হত - এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্দেশীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাচার, ডিজিটাল জালিয়াতি এবং সংগঠিত অপরাধমূলক শৃঙ্খল। তাইল্যান্ডের গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব এবং ১৭-১৮ ডিসেম্বর ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত অনলাইন জালিয়াতি মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান এবং সহ-আয়োজনের জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো আসলে এই স্বীকৃতিই প্রদর্শন করে যে, একতরফা পদক্ষেপ আর পর্যাপ্ত নয়।
ভারতের জন্য এই ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হওয়া নেহাতই ঐচ্ছিক নয়। মায়ানমারের মায়াওয়াডি, কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল অথবা লাওসের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এসইজেডের স্ক্যাম জোন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বারবার উদ্ধার নয়াদিল্লির তার সীমানা ছাড়িয়ে অপরাধ বাস্তুতন্ত্রের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। ভারত ২০২২ সাল থেকে মায়ানমার, কম্বোডিয়া এবং লাওসের স্ক্যাম সেন্টার থেকে শত শত, সম্ভাব্য ২,৫০০-এরও বেশি ভারতীয়কে উদ্ধার এবং প্রত্যাবাসন করেছে। ভৌগোলিক এবং গোয়েন্দা সুবিধের দরুন তাইল্যান্ড সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে।
এই আলোচনায় সীমান্ত উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নীরবতা থাকলেও তাৎপর্যপূর্ণ কথোপকথন একই রকমের উল্লেখযোগ্য ছিল। তাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলি উত্থাপন করেছেন, যা এই আত্মবিশ্বাসকেই প্রতিফলিত করে যে, ভারত কেবল একটি কূটনৈতিক অংশীদার নয়, বরং একটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী। অ্যাসোসিয়েশন ফর সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগর-আন্দামান সাগরের ধারাবাহিকতায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্বকে তাইল্যান্ড ক্রমবর্ধমান ভাবে উদীয়মান নিরাপত্তাহীনতার প্রতি ভারসাম্য বলে মনে করছে।
কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি স্থবির
নিরাপত্তা এই সফরের ক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করলেও অর্থনীতি দ্বিপাক্ষিক অ্যাজেন্ডার কাঠামোগত স্তম্ভ ছিল। উভয় পক্ষই বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং তাইল্যান্ড আবারও তাদের দীর্ঘস্থায়ী ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জোর দিচ্ছে। তবুও এ ক্ষেত্রেই বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাইল্যান্ডের মিনিস্ট্রি অফ কমার্সের মতে, ২০২৪ সালে ভারত ছিল দেশের ১১তম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
ভারত-তাইল্যান্ড অর্থনৈতিক করিডোর অনুন্নত রয়ে গিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি পণ্যের উপর শুল্ক এখনও বেশি। বেশ কিছু অ-শুল্ক বাধা - বিশেষ করে কৃষি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং মোটরগাড়ির উপাদান - বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আরসিইপি-পরবর্তী সময়ে ভারতের নিজস্ব বাণিজ্য নীতি ক্রমবর্ধমান সতর্কতার পাশাপাশি বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে তাইল্যান্ডের প্রত্যাশাকে জটিল করে তোলে।
সংযোগ ব্যবস্থাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং ক্রমাগত বিলম্বের শিকার হচ্ছে। ভারত-মায়ানমার-তাইল্যান্ড ত্রিপাক্ষিক মহাসড়কটি অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে এবং সংঘাত ও শাসন শূন্যতার কারণে মায়ানমারের অংশটি স্থগিত রয়েছে। তাইল্যান্ড এই প্রকল্পটিকে তার ‘লুক ওয়েস্ট’ আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখে এবং ভারতও এর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সংযোগ ব্যবস্থাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং ক্রমাগত বিলম্বের শিকার হচ্ছে। ভারত-মায়ানমার-তাইল্যান্ড ত্রিপাক্ষিক মহাসড়কটি অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে এবং সংঘাত ও শাসন শূন্যতার কারণে মায়ানমারের অংশটি স্থগিত রয়েছে। তাইল্যান্ড এই প্রকল্পটিকে তার ‘লুক ওয়েস্ট’ আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখে এবং ভারতও এর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। যাই হোক, মায়ানমারের অবনতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গিয়েছে।
অতএব এই সফর স্পষ্টতা প্রদান করলেও সতর্কতাও দিয়েছে: অর্থনৈতিক পরিপূরকতা বিদ্যমান, তবে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার জন্য ধৈর্য এবং রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন।
প্রসঙ্গ ইন্দো-প্যাসিফিক
আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পিছনে একটি গভীর কৌশলগত যুক্তি রয়েছে। স্রেথা সরকারের অধীনে তাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রনীতি ইন্দো-প্যাসিফিক গতিশীলতার সঙ্গে আরও বাস্তবসম্মত সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়, যা চিনের বাইরে বৈচিত্র্যময় অংশীদারিত্বের প্রতি আগ্রহ দ্বারা চিহ্নিত। তবুও তাইল্যান্ড আসিয়ানের ‘সহযোগিতামূলক নিরপেক্ষতা’র নীতিতে গভীর ভাবে আবদ্ধ, যা ভারতকে একটি আদর্শ অংশীদার করে তোলে এবং এই সব কিছুই অ-হস্তক্ষেপকারী, উন্নয়নমুখী এবং আসিয়ান কেন্দ্রীয়তার সঙ্গে সংযুক্ত।
ভারতের জন্য তাইল্যান্ড ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সেতুবন্ধন করে এবং আসিয়ান সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রবেশপথ ও বঙ্গোপসাগরে একটি সামুদ্রিক প্রতিবেশীও বটে। তাইল্যান্ডকে ‘মূল্যবান সামুদ্রিক প্রতিবেশী’ হিসেবে ভারতের সমর্থন কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের চাইতেও আরও বেশি কিছু ছিল - এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত ভূপরিসরে নিজেকে আরও দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ভারতের অভিপ্রায়ের প্রকাশ ছিল।
ভারতের জন্য তাইল্যান্ড ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সেতুবন্ধন করে এবং আসিয়ান সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রবেশপথ ও বঙ্গোপসাগরে একটি সামুদ্রিক প্রতিবেশীও বটে।
জরুরি লক্ষ্য দ্বারা আবৃত হলেও সাংস্কৃতিক ও নরম শক্তিসম্পন্ন সম্পর্কগুলি ইতিবাচক কূটনীতির একটি অবমূল্যায়নকারী শক্তি হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন সভ্যতাগত সংযোগ - বৌদ্ধধর্ম, সামুদ্রিক বাণিজ্য, অভিন্ন সাধারণ শিল্পগত ঐতিহ্য - দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে তাইল্যান্ডের জন্য একটি অ-হুমকিপূর্ণ অংশীদার করে তুলেছে। প্রধান শক্তি অংশীদারিত্বের বিপরীতে, ভারত-তাইল্যান্ডের সম্পর্ক প্রভাব বা নির্ভরতার উদ্বেগ দ্বারা আচ্ছন্ন নয়। সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা এবং অভিন্ন সাধারণ ঐতিহ্যের উল্লেখ করে এই সফর সূক্ষ্মভাবে এই ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেছে।
স্থায়ী চ্যালেঞ্জ
উষ্ণতা এবং প্রতীকবাদ সত্ত্বেও ভারত-তাইল্যান্ড সম্পর্ক কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের শিকার হচ্ছে।
প্রথমত, উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারগুলি স্থিতিশীল সম্পৃক্ততাকে সীমাবদ্ধ করেছে। ভারতের লক্ষ্য তার মহাদেশীয় অগ্রাধিকার এবং ঘরোয়া অর্থনৈতিক কর্মসূচি দ্বারা প্রসারিত। তাইল্যান্ডের ঘন ঘন রাজনৈতিক পরিবর্তন চিরাচরিত ভাবে বৈদেশিক নীতির অসঙ্গতি তৈরি করেছে।
দ্বিতীয়ত, মায়ানমার একটি গুরুত্বপূর্ণ যদিও জটিল অংশীদার হিসেবে রয়ে গিয়েছে। ভারত বা তাইল্যান্ড উভয়েরই মায়ানমারের মধ্যে রাজনৈতিক ফলাফলকে অর্থপূর্ণ ভাবে গঠন করার ক্ষমতা নেই। সংঘাত সীমান্ত অর্থনীতিকে ব্যাহত করছে, সংযোগ প্রকল্পগুলিকে বিলম্বিত করছে এবং উভয় দেশ এখন যে অপরাধমূলক শৃঙ্খলগুলিকে ভেঙে ফেলতে চাইছে, তাদের ইন্ধন জোগাচ্ছে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এই দেশটি তার কৌশলগত গভীরতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের জন্য, মায়ানমার তার অ্যাক্ট ইস্ট নীতির প্রবেশদ্বার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থল সেতু। তাইল্যান্ডের জন্য, এটি একটি বাফার এবং একটি পথও বটে – অর্থাৎ শ্রম গতিশীলতা, জ্বালানি আমদানি, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা গঠন করে। মায়ানমারের উপর এই অভিন্ন সাধারণ নির্ভরতা - এর গতিপথকে প্রভাবিত করার সীমিত ক্ষমতার সঙ্গে মিলিত হয়ে - ভারত এবং তাইল্যান্ড উভয়ের জন্যই একটি কাঠামোগত দ্বিধা তৈরি করে। উচ্চ-মনোভাবাপন্ন আঞ্চলিকতার পরিবর্তে দুর্বলতার এই সম্মিলনই নয়াদিল্লি এবং ব্যাঙ্কককে মায়ানমারের বিষয়ে পরামর্শ তীব্র করতে বাধ্য করেছে, যদিও তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভাবে তুলে ধরছে।
তৃতীয়ত, তাইল্যান্ড এবং বৃহত্তর মেকং অঞ্চলে চিনের অপ্রতিরোধ্য অর্থনৈতিক উপস্থিতি ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে, যা ভারতকে বাস্তবে মোকাবিলা করতে হবে। তবে ব্যাঙ্ককের পররাষ্ট্রনীতি ক্রমবর্ধমান ভাবে বৃহৎ শক্তিধর ব্লকগুলির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই বাস্তববাদী অবস্থান ভারতকে আসলে ব্যাঙ্কককে অস্বস্তিকর ভূ-রাজনৈতিক পছন্দগুলি থেকে বেছে নিতে বাধ্য না করে সংযোগ, বাণিজ্য এবং উদীয়মান প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলিতে তাইল্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই সফর নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ভারত-তাইল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন গুরুত্বের প্রতিনিধিত্ব করে - যা কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংযোগ প্রকল্প দ্বারা নয়, বরং অভিন্ন সাধারণ দুর্বলতা দ্বারাও গঠিত। সাইবার অপরাধ প্রয়োগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার উপর মনোযোগ আসলে দর্শায় যে, বর্তমানে ভারত এবং তাইল্যান্ডকে আবদ্ধকারী চ্যালেঞ্জগুলি এক দশক আগে অ্যাক্ট ইস্ট নীতি প্রণয়নের সময় কল্পনা করা চ্যালেঞ্জগুলির তুলনায় যথেষ্ট জটিল।
এই সফরকে ভারত-তাইল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে রোম্যান্টিকতা থেকে বাস্তবতার দিকে উত্তরণের চিহ্ন হিসেবে দেখা উচিত।
এই সফরকে ভারত-তাইল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে রোম্যান্টিকতা থেকে বাস্তবতার দিকে উত্তরণের চিহ্ন হিসেবে দেখা উচিত। ভারত ও তাইল্যান্ড যদি এই মুহূর্তটিকে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, সীমান্ত-নিরাপত্তা সমন্বয়, বাণিজ্য সুবিধা এবং সংযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় রূপান্তরিত করতে পারে, তা হলে এটি ভারতের বিদেশ নীতির পূর্ব প্রান্তে সবচেয়ে অর্থবহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠতে পারে।
এই সফর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান করতে পারেনি। তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে, উভয় পক্ষই ঝুঁকিগুলি স্বীকার করে নিয়েছে এবং ভারত-তাইল্যান্ড অংশীদারিত্ব অবশেষে সম্ভাবনা থেকে কর্মক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শ্রীপর্ণা ব্যানার্জি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sreeparna Banerjee is an Associate Fellow in the Strategic Studies Programme. Her work focuses on the geopolitical and strategic affairs concerning two Southeast Asian countries, namely ...
Read More +