যেহেতু স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, জিনোমিক ডেটা এবং আন্তঃসীমান্ত বৈজ্ঞানিক আদান-প্রদানের উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্যের উপর আস্থা ক্রমশ নির্ভর করবে এই বিষয়টিকে বহনকারী অবকাঠামোগুলিকে সুরক্ষিত রাখা যায় কি না তার উপর।
ছবিসূত্র: গেটি ইমেজেস
এই প্রবন্ধটি ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: যৌথ ঝুঁকির যুগে বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়ানো’ শীর্ষক ধারাবাহিকের একটি অংশ।
২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে একটি নার্সারি চেনের উপর সাইবার আক্রমণের ফলে ৮,০০০-এরও বেশি শিশুর নাম, ঠিকানা এবং ছবি-সহ সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এর ফলস্বরূপ, শিশুদের তথ্য পরিচালনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট সাইবার নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করা হয় এবং ইউকে জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন-এর (ইউকে জিডিপিআর) অধীনে কঠোর ডেটা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার করা হয়। এ বছর বিশ্বব্যাপী অংশীদাররা ২০২৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘স্বাস্থ্যের জন্য একসঙ্গে… বিজ্ঞানের পাশে’র (টুগেদার ফর হেলথ, স্ট্যান্ড উইথ সায়েন্স) মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে তথ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা অব্যাহত রাখতে একত্রিত হয়েছেন। এই প্রতিপাদ্যটি বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক বাস্তুতন্ত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনকেই প্রতিফলিত করে। এখানে বিশ্বাসযোগ্যতা আর কেবল গবেষণালব্ধ প্রমাণের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং ক্রমবর্ধমান ভাবে সেই সব ব্যবস্থার অখণ্ডতার উপর নির্ভরশীল, যা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও তথ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং প্রচার করে। ডিজিটাল এবং জৈবিক অবকাঠামোর উপর এই নির্ভরতা এই ধরনের ব্যবস্থাগুলিকে নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
জিনোমিক ডেটা ডিজিটাইজেশন, স্বচালিত ল্যাব, বিজ্ঞানের জন্য ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বৈশ্বিক ডেটা শেয়ারিং-এর মতো উদ্ভাবনের মাধ্যমে জীবন বিজ্ঞান এবং ডিজিটাল সিস্টেমের সমন্বিতকরণ কেবল বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিতই করেনি, বরং এমন এক নতুন ধরনের ঝুঁকিরও জন্ম দিয়েছে, যা প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তা বা জৈব নিরাপত্তা নীতি দ্বারা মোকাবিলা করা যায় না। সুতরাং, জৈবিক ডেটা এবং আধুনিক বিজ্ঞানকে সমর্থনকারী অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি বা সাইবার জৈব-নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি এবং ‘ওয়ান হেলথ’-এর দৃষ্টিভঙ্গি
‘ওয়ান হেলথ’ দৃষ্টিভঙ্গিটি মানব, প্রাণী এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যের আন্তঃসম্পর্কের উপর আলোকপাত করে। যদিও এই সমন্বিত পদ্ধতিটি বায়োটেকের ভবিষ্যতের জন্য উপকারী, সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি সংক্রান্ত ধারণাগত কাঠামোটি এখনও তার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গ্লোবাল আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম-এর (জিএলইডব্লিউএস+) মতো সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিকাশের মাধ্যমে জুনোটিক রোগের (অর্থাৎ ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস, প্যারাসাইট বা ফাঙ্গির মাধ্যমে কোনও প্রাণী থেকে রোগ যখন মানুষের শরীরে ছড়ায়) নজরদারি সহজতর হয়েছে, যা মানব স্বাস্থ্য, প্রাণী স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্য খাত থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে একত্রিত করে এবং রোগের নজরদারিতে তথ্য পরিকাঠামোর ভূমিকা তুলে ধরে। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর এই ধরনের বর্ধিত নির্ভরতা নতুন ঝুঁকিও তৈরি করে। যদি এই ধরনের কোনও প্ল্যাটফর্ম অসুরক্ষিত হয় এবং সাইবার আক্রমণের শিকার হয়, তবে এটি রোগ পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত তথ্য এবং গবেষণার তথ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও ‘ওয়ান হেলথ’ কাঠামোর মধ্যে সাইবার-বায়ো সিকিউরিটিকে একীভূত করার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি ব্যাপকতর পুনর্কল্পনার প্রয়োজন হবে, যা তথ্যের অখণ্ডতাকে বায়োসিকিউরিটির একটি অপরিহার্য মাত্রা হিসেবে স্বীকার করে।
সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি - যা বায়োসিকিউরিটির একটি সম্প্রসারণ এবং জৈবিক তথ্য, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন সাইবার-ফিজিক্যাল অবকাঠামো সুরক্ষার উপর আলোকপাত করে - তাকে রোগ নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ও সংবেদনশীল জৈবিক তথ্য সুরক্ষায় এবং সিন্থেটিক বায়োলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারনেট অফ থিংস-এর (আইওটি) মতো বিভিন্ন উদীয়মান প্রযুক্তি থেকে উদ্ভূত নানা ঝুঁকি মোকাবিলায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোভিড-১৯ অতিমারি বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে জুনোটিক রোগ পর্যবেক্ষণকারী ডিজিটাল স্বাস্থ্য নজরদারি প্ল্যাটফর্মগুলিকে সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তাকেও তুলে ধরেছে। এ ক্ষেত্রে, বিভিন্ন দেশ গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা-র (জিআইএসএআইডি) মতো সমন্বিত ড্যাশবোর্ড ও জিনোমিক ডেটা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্ব জুড়ে গবেষণাগারগুলি ভাইরাসের সিকোয়েন্সিং সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান করে রিয়েল টাইমে নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিকাশ পর্যবেক্ষণ করছে। এটি এই প্ল্যাটফর্মগুলির সাফল্যে অন্তর্নিহিত ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রদর্শন করে এবং জৈবিক ডেটা সিস্টেম সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরদার করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও ‘ওয়ান হেলথ’ কাঠামোর মধ্যে সাইবার-বায়ো সিকিউরিটিকে একীভূত করার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি ব্যাপকতর পুনর্কল্পনার প্রয়োজন হবে, যা তথ্যের অখণ্ডতাকে বায়োসিকিউরিটির একটি অপরিহার্য মাত্রা হিসেবে স্বীকার করে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ-সুরক্ষিত গবেষণাগারগুলিতে পরিচালনগত ঝুঁকির কার্যকর ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ পরিকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি’ অর্জনের জন্য বহু-অংশীজনভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতি এবং সাইবার-বায়ো সিকিউরিটিকে অগ্রাধিকার প্রদানকারী একটি কাঠামোর এই সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য সুরক্ষা কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে, যা জৈব-নিরাপত্তার ঝুঁকির পাশাপাশি সেগুলির নতুন গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রতিরূপগুলিরও মোকাবিলা করতে সক্ষম।
সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি এবং ক্রমবিকাশমান হুমকির প্রেক্ষাপট
ঝুঁকিটি অবশ্যই শুধু সমসাময়িক প্রযুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস, নিউরোটেকনোলজি এবং এমনকি ইমারসিভ ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো আসন্ন সাধনীগুলির বিকাশ সাইবার-বায়ো সিকিউরিটিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) সরাসরি মস্তিষ্কের সঙ্কেতকে ডিজিটাল সঙ্কেতে রূপান্তরিত করে। যদি এই সঙ্কেতগুলিতে কোনও অনুপ্রবেশ ঘটে, তবে একজন ব্যক্তির চিন্তাভাবনা, উদ্দেশ্য এবং এমনকি শারীরিক কার্যকলাপও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ এবং এমনকি নিয়ন্ত্রণ করতেও নিউরোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়। প্রাপ্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সঠিক ভাবে পরিচালিত না হলে এর অপব্যবহার হতে পারে। ভার্চুয়াল এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটির মতো ইমারসিভ ডিজিটাল প্রযুক্তি একজন ব্যক্তির আচরণগত এবং শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করে। এই প্রতিক্রিয়াগুলি একজন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যের বিশদ চিত্র প্রদান করে, যা তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, চিন্তাভাবনা এবং এমনকি মানসিক অবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই উদাহরণগুলি দেখায় যে, সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি জৈবিক তথ্যের বাইরেও স্নায়বিক এবং জ্ঞানগত তথ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণায় এই প্রযুক্তিগুলোর সংযোজন নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা তথ্য ফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি ঝুঁকি সম্পর্কিত বর্তমান ধারণার বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে এবং উপলব্ধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণেই এই প্রযুক্তিগুলির ব্যাপক ব্যবহারের পূর্বেই মানদণ্ড তৈরির মাধ্যমে এই ঝুঁকিগুলি অনুমান করা প্রয়োজন।
ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) সরাসরি মস্তিষ্কের সঙ্কেতকে ডিজিটাল সঙ্কেতে রূপান্তরিত করে। যদি এই সঙ্কেতগুলিতে কোনও অনুপ্রবেশ ঘটে, তবে একজন ব্যক্তির চিন্তাভাবনা, উদ্দেশ্য এবং এমনকি শারীরিক কার্যকলাপও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
জৈবিক ব্যবস্থা এবং তথ্যের সমন্বিত প্রকৃতি এই ক্ষেত্রটিকে অনুপ্রবেশ, কারসাজি এবং বিঘ্নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই ঝুঁকিগুলি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের কিছু মৌলিক নীতি এবং ২০২৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল ভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করে: অর্থাৎ তথ্য নির্ভুল, ব্যবস্থাগুলি নির্ভরযোগ্য এবং প্রক্রিয়াগুলি সুরক্ষিত। যদি এই নীতিগুলি লঙ্ঘিত হয়, তবে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, এমনকি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে।
তথ্য শাসন, সার্বভৌমত্ব এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উত্তেজনা
জৈবিক তথ্যের শাসনের নিজস্ব কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যান্য ডেটা সেটের মতো নয়, জৈবিক তথ্য তার প্রকৃতির কারণেই শনাক্তযোগ্য। সর্বোপরি, এর প্রভাব কেবল ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নমুনার আত্মীয়স্বজন এবং এমনকি সমগ্র জনগোষ্ঠী পর্যন্ত বিস্তৃত। যদিও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির জন্য বিশ্বজুড়ে তথ্য আদান-প্রদান সময়ের দাবি - যেমনটা কোভিড-১৯ অতিমারির সময় দেখা গিয়েছে - এর অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এটি তথ্য সার্বভৌমত্বকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। যদিও বিভিন্ন দেশ কৌশলগত এবং নিরাপত্তা উদ্দেশ্যে সংবেদনশীল জৈবিক তথ্য সীমাবদ্ধ করতে চায়, তথ্য-জাতীয়তাবাদের উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক বাস্তুতন্ত্রের বিভাজনের কারণ হতে পারে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
যদিও বিভিন্ন দেশ কৌশলগত এবং নিরাপত্তা উদ্দেশ্যে সংবেদনশীল জৈবিক তথ্য সীমাবদ্ধ করতে চায়, তথ্য-জাতীয়তাবাদের উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক বাস্তুতন্ত্রের বিভাজনের কারণ হতে পারে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ইতিমধ্যেই সাইবার-বায়ো সিকিউরিটির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক শাসনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাগুলি খণ্ডিত বা অপ্রতুল। জৈবনিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও নিয়মাবলি - যেমন জৈব অস্ত্র কনভেনশন (বিডব্লিউসি) এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা (আইএইচআর) - সাইবার ও জৈবনিরাপত্তার মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট নয়। একই ভাবে, জৈব বৈচিত্র্য কনভেনশন-এর (সিবিডি) অধীনে থাকা আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও নিয়মাবলি - যার মধ্যে কার্তাজেনা এবং নাগোয়া প্রোটোকল অন্তর্ভুক্ত - সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি মোকাবিলার জন্য অপ্রতুল।
একটি সমন্বিত সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি কাঠামোর লক্ষ্যে
এগুলির ঊর্ধ্বে উঠে দেখলে, বিভিন্ন দেশ জৈবনিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়েছে, যেমন জাতীয় জৈবপ্রযুক্তি নিরাপত্তা কৌশল, জৈব-অর্থনীতি নীতি এবং সাইবার স্থিতিস্থাপকতা কৌশল প্রণয়ন। ভারতে এই কাজের বেশিরভাগই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জৈবপ্রযুক্তি বিভাগ (ডিবিটি) দ্বারা পরিচালিত হয়। সাইবার-বায়ো সিকিউরিটির চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি ব্যাপক এবং সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে ভারতে ডিবিটি এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলি নিম্নলিখিত সুপারিশগুলি অনুসরণ করতে পারে:
১. জৈবিক তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি: ডিবিটি জৈবিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা পরিকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে, যাতে কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য প্রণীত বিদ্যমান তথ্য সুরক্ষা নিয়মাবলির ঊর্ধ্বে উঠে এই ধরনের তথ্যের সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং আরও উন্নত মান নির্ধারণ করা যায়।
২. জৈবিক তথ্য সুরক্ষায় বৈশ্বিক মান উন্নয়ন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির বায়োমেট্রিক তথ্য সুরক্ষায় মান উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তবে এই ক্ষেত্রে ডিবিটি-র দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে এর সূচনা হতে পারে। ডিবিটি এমন মান তৈরি করবে, যা গোপনীয়তা, সমতা এবং সুবিধা বণ্টন-সহ জৈব তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, যাতে ভারতীয় নাগরিকদের তথ্যের পাশাপাশি ভারতীয় গবেষণাও সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভাবে যে মানগুলি তৈরি হবে, তাতেও বিদ্যমান মানগুলির কারণে ভারতের মতো গ্লোবাল সাউথ দেশগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
৩. ওয়ান হেলথ পদ্ধতিতে সাইবার-বায়োসিকিউরিটির অন্তর্ভুক্তি: জাতীয় ওয়ান হেলথ পদ্ধতিতে সাইবার-বায়োসিকিউরিটি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাইবার পরিকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা বিবেচনা করা হয়। এই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে ডিবিটি ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম-এর (সিইআরটি-আইএন) সঙ্গে কাজ করতে পারে।
৪. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা: প্রযুক্তির এই যুগে নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বেসরকারি সংস্থাগুলিকে উপেক্ষা করা যায় না। যেহেতু অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারি সংস্থাগুলির মালিকানাধীন ও পরিচালিত, তাই সাইবার-বায়ো সিকিউরিটির প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ। এটি তথ্য আদান-প্রদান এবং সর্বোত্তম কর্মপন্থা বিকাশে সহায়তা করবে। এ ক্ষেত্রে, ডিবিটি জাপান-সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও অংশীদারিত্বের কথা ভাবতে পারে, যারা ইতিমধ্যেই লোটাস/সাকুরা প্রোগ্রামের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে। এ ছাড়াও, ভবিষ্যতে সহজতর গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য দুই দেশের শিক্ষা ও বেসরকারি খাতে গবেষণা পর্যায় থেকেই সাইবার-বায়ো সিকিউরিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
জীববিজ্ঞান ও ইন্টারনেটের সংমিশ্রণে গঠিত একটি বিশ্বে বসবাসের অর্থ হল, বিজ্ঞানের প্রতি আস্থা এবং একে সমর্থনকারী অবকাঠামোকে আলাদা করা যায় না। আধুনিক বিশ্বে সত্যিকারের অর্থে ‘বিজ্ঞানের পাশে দাঁড়ানোর’ অর্থ হল, একে সমর্থনকারী অবকাঠামোকে সুরক্ষিত করা। যথাযথ সাইবার-বায়ো সিকিউরিটি নীতি না থাকলে, বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অখণ্ডতা এবং স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কার্যকারিতা সর্বদা ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে। সাইবার-বায়ো সিকিউরিটিকে কেবল বর্তমান প্রযুক্তিতে বিদ্যমান ঝুঁকির জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতে আমরা যে বিবর্তিত প্রযুক্তিগুলি দেখতে পাব, সেগুলির জন্যও অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শ্রবিষ্ঠ অজয়কুমার সেন্টার ফর সিকিউরিটি, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Shravishtha Ajaykumar is an Associate Fellow at the Centre for Security, Strategy, and Technology. Her research areas include Chemical, Biological, Radiological, and Nuclear (CBRN) strategy ...
Read More +