Published on Jul 08, 2024 Updated 0 Hours ago

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর বর্ধিত নির্ভরতা এমএসএমই ক্ষেত্রে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। সাইবার বিমা এই ঝুঁকি কমাতে এমএসএমই-র জন্য একটি সহায়ক ব্যবস্থা হিসাবে কাজ করতে পারে।

সাইবার বিমা: এমএসএমই-র জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা

প্রযুক্তি এক অভূতপূর্ব হারে অগ্রসর হচ্ছে, এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রজুড়ে সুবিধা প্রদান করছে। যাই হোক, এই দ্রুত অগ্রগতি সাইবার নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরে, কারণ ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসছে। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায়শই উদীয়মান অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে, কারণ তারা অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে সহায়তা করে। তারা ছোট ব্যবসায় নিযুক্ত লক্ষ লক্ষ পরিবারের আয়ের উৎস হিসাবে কাজ করে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে

যাই হোক, কোভিড-‌১৯ অতিমারির মধ্যে
অসংখ্য এমএসএমই তাদের অনলাইন ক্রিয়াকলাপে রূপান্তরের সময় সাইবার আক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। দ্রুত বিকশিত প্রযুক্তির উত্থান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি  এমএসএমই ক্ষেত্রে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতিতে তাদের তাৎপর্য বিবেচনা করে, এমএসএমই-‌গুলিকে সুরক্ষিত করা অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে, সাইবার বিমা এমএসএমইগুলির জন্য একটি সহায়তা ব্যবস্থা হিসাবে কাজ করতে পারে।


একটি দেশের অর্থনীতিতে তাদের তাৎপর্য বিবেচনা করে, এমএসএমই-‌গুলিকে সুরক্ষিত করা অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে, সাইবার বিমা এমএসএমইগুলির জন্য একটি সহায়তা ব্যবস্থা হিসাবে কাজ করতে পারে।



সচেতনতা থেকে কর্মপরিসর

সাইবার বিমা, যাকে প্রায়শই
সাইবার দায় বিমা হিসাবে উল্লেখ করা হয়, সাইবার আক্রমণ দ্বারা সৃষ্ট ঝুঁকিগুলি হ্রাস করার জন্য ব্যবসার একটি সম্ভাব্য সুরক্ষা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। সাইবার হুমকি এবং ডেটা লঙ্ঘনের কারণে আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে ব্যবসাগুলিকে রক্ষা করা এর লক্ষ্য। আর্থিক ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত সাইবার বিমা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ব্যবসাগুলিকে তাদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে সংস্থান এবং সহায়তা প্রদান করে। সাইবার বিমা সম্পর্কে সচেতনতা আমাদের দেশে ক্রমবর্ধমান ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবুও অনেক এমএসএমই এর তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন নয়। প্রাথমিক হুমকি একই রয়ে গিয়েছে, বিশেষ করে ভারতে, যেহেতু ব্যবসাগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করছে এবং সাইবার হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এটি সক্রিয় হুমকি-‌শিকার সহ শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়, যার অর্থ সাইবার নিরাপত্তা পরিপক্বতা বাড়ানোর উপযোগী সরকারি কাঠামো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্রমাগত হুমকির পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

এমএসএমই মন্ত্রক এই লক্ষ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ করেছে। এটি এমএসএমই-‌কে প্রযুক্তি ও গুণমান উন্নয়ন সহায়তা প্রদান এবং প্রযুক্তি আধুনিকীকরণের জন্য ক্রেডিট-লিঙ্কড ক্যাপিটাল সাবসিডি প্রদানের
একটি প্রকল্প শুরু করেছে। যাই হোক, এই প্রকল্পগুলি ভারতে ছোট ব্যবসা যে সব সাইবার হুমকির মুখোমুখি হয় তার জন্য সাইবার বিমা বাজারের নিশ্চয়তা দেয় না।


হ্যাকাররা প্রায়ই আর্থিক লাভের জন্য ব্যবসাগুলিকে টার্গেট করে, প্রায়শই র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের মাধ্যমে, এবং তা এমএসএমই-‌গুলির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি তৈরি করে।



কার্যকর
সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সচেতনতা বাড়াতে এবং সাইবার হুমকি থেকে ব্যবসার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সাইবার হুমকির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য সিস্টেমের ঝুঁকিগুলির সনাক্তকরণ, অগ্রাধিকার প্রদান, পরিচালনা এবং নিরীক্ষণের একটি বিশদ প্রক্রিয়া জড়িত। এই পদ্ধতিটি যেমন  সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য অবিচ্ছেদ্য, তেমনই উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের তাদের উদ্যোগের সবচেয়ে সংবেদনশীল সম্পদের উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং সাইবার বাধার প্রতিক্রিয়া জানাতে সহায়তা করে। হ্যাকাররা প্রায়ই আর্থিক লাভের জন্য ব্যবসাগুলিকে টার্গেট করে, প্রায়শই র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের মাধ্যমে, এবং তা এমএসএমই-‌গুলির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি তৈরি করে। অতএব, সাইবার বিমার ক্ষেত্রটি বিশ্লেষণ করা এবং সাইবার হুমকি প্রতিরোধ ও প্রশমিত করার জন্য একটি স্বচ্ছ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।

সাইবার বিমার পক্ষে যুক্তি

ভারতে সাইবার অপরাধ যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, রিপোর্ট করা ঘটনাগুলি
২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আকাশচুম্বী ১২১ শতাংশ হয়েছে , যা ভারতকে বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় সর্বাধিক সাইবার অপরাধ-আক্রান্ত দেশ হিসাবে স্থাপন করেছে। উপরন্তু, কোভিড-১৯ অতিমারির পরে ডিজিটাল অপারেশনে রূপান্তর এমএসএমই-‌গুলিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সাইবার হুমকির বিষয়ে সচেতনতার অভাব এবং অপ্রতুল প্রযুক্তিগত সহায়তা। একটি প্রধান ভারতীয় এফএমসিজি হলদিরামের উপর সাম্প্রতিক র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণ সাইবার হুমকির সামনে এমএসএমই-‌র দুর্বলতার উদাহরণ দেয়৷ আক্রমণটি কোম্পানির সার্ভারকে লক্ষ্যবস্তু করে, এবং হ্যাকাররা ৭৫০,০০০ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এই ঘটনাটি এমএসএমই-‌গুলির জন্য শক্তিশালী সাইবার বিমা নীতির গুরুত্বকে বোঝায়। সাইবার বিমা এইভাবে ডেটা লঙ্ঘনের মতো সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘন, সাইবার আক্রমণ, ব্যবসায় বাধা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া সংযোগের ঘটনাগুলির মতো ফার্স্ট-‌পার্টি এবং থার্ড-পার্টি উভয় দায়গুলির কভারেজ প্রদান করতে পারে। যাই হোক, এই নীতিগুলির সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য শিল্পনির্দিষ্ট প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে।


সাইবার বিমা এইভাবে ডেটা লঙ্ঘনের মতো সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘন, সাইবার আক্রমণ, ব্যবসায় বাধা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া সংযোগের ঘটনাগুলির মতো ফার্স্ট-‌পার্টি এবং থার্ড-পার্টি উভয় দায়গুলির কভারেজ প্রদান করতে পারে।



ভারতে চারটি প্রধান ধরনের সাইবার বিমা কভারেজ রয়েছে , যার মধ্যে আছে ব্যবসায়িক বাধা সম্পর্কিত প্রত্যক্ষ আর্থিক ক্ষতি, জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) অনুবর্তিতার সঙ্গে জড়িত আইনি ফিগুলির জন্য নিয়ামক তদন্ত কভারেজ। উপরন্তু, বিমার মধ্যে রয়েছে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট খরচের পাশাপাশি গোপনীয়তা ও ডেটা দায়বদ্ধতার ক্ষতিজনিত এমন দাবিসমূহ যার কারণ কোম্পানির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো ত্রুটি। এই কভারেজগুলি বিমা কোম্পানির পরিষেবা প্রদানকারীর সঙ্গে সমন্বয় করে সংকটের সময় গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থা জড়িত।

সারণি ১: সাইবার বিমা কভারেজের প্রকার

কভারেজের প্রকার

বিস্তারিত

ফার্স্ট পার্টি খরচের কভারেজ

এটি আর্থিক ক্ষতি, ব্যবসায় বাধা খরচ, পুনরুদ্ধারের খরচ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত খরচ কভার করে।

নিয়ামক তদন্ত কভারেজ

এটি মামলার সাথে জড়িত আইনজীবীদের আইনি ফি পরিশোধ করে।

ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট খরচ

 এটি নিরাপত্তা পরামর্শ, ক্রেডিট এবং আইডেন্টিটি থেফ্ট মনিটরিং, র‌্যানসমওয়্যার ও সাইবারস্ট্যাকিং কভার করে। 

থার্ড পার্টি আইনি দায়বদ্ধতা কভারেজ

এই কভারেজ গোপনীয়তা এবং ডেটা দায়বদ্ধতার দাবি অন্তর্ভুক্ত করে।

সূত্র:‌ লেখকের নিজস্ব

 

সাইবার হুমকি প্রশমনে সাইবার বিমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও, ভারতের অনেক এমএসএমই এখনও এতে বিনিয়োগ করতে পারেনি।

মএসএমই-‌র অগ্রগতি রক্ষা করা

মিডিয়া
রিপোর্টগুলি ভারতে ছোট ব্যবসার উপর সাইবার আক্রমণের বর্ধিত ঝুঁকি তুলে ধরে, বিশেষ করে যাদের প্রায় ৫০০ জন কর্মী আছে। এই ব্যবসাগুলি জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুলাই ২০২২-‌এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার৷ এই ফলাফলগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, সাইবার বিমা পলিসির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ সাইবার বিমা প্রদানকারী, যার মধ্যে অংশীদার এবং পরিষেবা প্রদানকারী যেমন ব্যাঙ্ক এবং ইক্যুইটি তহবিলগুলি অন্তর্ভুক্ত, তাদের উচিত দুর্বলতা শনাক্ত করার জন্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা এবং ছোট ব্যবসার সম্মুখীন হওয়া নির্দিষ্ট ঝুঁকিগুলিকে শ্রেণিবদ্ধ করা। অতিরিক্তভাবে, এই ছোট ব্যবসাগুলির কর্মীদের ফিশিং প্রচেষ্টা এবং সাইবার সতর্কতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তা ছাড়া, সাইবার বিমা নীতিগুলির অব্যাহত প্রাসঙ্গিকতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সেগুলিকে নিয়মিত আপডেট করা উচিত।



ছোট ব্যবসাগুলির কর্মীদের ফিশিং প্রচেষ্টা এবং সাইবার সতর্কতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।



যেহেতু সাইবার বিমা কোম্পানিগুলি এই ক্ষেত্রে নতুন প্রবেশকারী, এবং বেশিরভাগই বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ করে, তাই অনেক এমএসএমই সেগুলিতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয় না। এই পরিপ্রেক্ষিতে, সংস্থা ও ব্যক্তিদের সাইবার বিমা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য এমএসএমই মন্ত্রককে অবশ্যই বিমা কভারেজ সম্পর্কিত নীতিগত বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে এই কভারেজগুলি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির অগ্রগতি ও বিবর্তনের সদা পরিবর্তনশীল হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সুরক্ষা ঝুঁকির মাত্রা মূল্যায়ন করে বিমার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে বোঝাপড়ার ব্যবধানে অবদান রাখে।



ভৈরবী কাশ্যপ ডেকা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একজন রিসার্চ ইন্টার্ন

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.