ঋণ পুনর্গঠন, অনুদান ও সহায়তা, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং গভীরতর বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্ক চিনকে মলদ্বীপে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা তৈরি করতে সহায়তা করছে।
৩০ নভেম্বর ২০২৫ মলদ্বীপ সরকার রাসমালে প্রকল্পকে ত্বরান্বিত করে, যা একটি বৃহৎ পরিসরে ভূমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ এবং যা পরবর্তীতে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য চিনা সহায়তা পাবে। এই পদক্ষেপটি মোহাম্মদ মুইজ্জুর রাষ্ট্রপতিত্বে মলদ্বীপে চিনের অর্থনৈতিক উপস্থিতির এক বৃহত্তর পরিবর্তনকেই দর্শায়। মলদ্বীপে চিনের কার্যপদ্ধতিকে চারটি বৃহত্তর প্রবণতায় শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে: নতুন ঋণের চেয়ে ঋণ পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া; অনুদান এবং সহায়তার উপর মনোনিবেশ করা; বাণিজ্যিক চুক্তি নিশ্চিত করা; এবং অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংযোগ গভীর করা। এই সম্পৃক্ততাগুলি দর্শায় যে, নতুন ঋণ প্রদান এবং মেগা-অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়নে সীমিত আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও, বেজিং তার প্রভাব বৃদ্ধি করছে এবং মলদ্বীপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা তৈরি করছে।
ঋণ পুনর্গঠন
প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের মেয়াদে (২০১৩-২০১৮) মলদ্বীপে চিনা উপস্থিতি এবং প্রভাব উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়কালে সরকার মেগা-অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য ঋণ এবং রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি আকারে চিনের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য ঋণ নিয়েছিল, যার আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যখন কোভিড-১৯ অতিমারি দেশটিতে আঘাত হানে, তখন ইব্রাহিম সোলিহের পরবর্তী প্রশাসন চিনা ঋণ পরিশোধ করতে শুরু করে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে যখন মোহাম্মদ মুইজ্জু দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি দুর্বল কর্মক্ষমতা এবং উচ্চ ঋণের দ্বারা চিহ্নিত অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। বেজিংয়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর নির্ভর করে মুইজ্জু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঋণ পুনর্গঠন ও অতিরিক্ত ঋণ চেয়েছিলেন। বর্তমানে মলদ্বীপের ঋণ দেশটির জিডিপি-র ১৩১ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
পূর্ববর্তী পর্যায়ের বিপরীতে - যখন প্রকল্পগুলির অর্থায়ন, নির্মাণ কিছু ক্ষেত্রে চিনা এসওই দ্বারা পরিচালিত হত - বর্তমান সম্পৃক্ততা মূলত নির্মাণের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। প্রকল্পের অর্থায়ন এবং পরিচালনা এখন মলদ্বীপ সরকার বা তৃতীয় পক্ষ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
তবে বেজিং আরও ঋণ দিতে অস্বীকৃত হয়েছে। এর নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে: মেগা-অবকাঠামো প্রকল্পের চেয়ে ছোট ও সুন্দর প্রকল্পের প্রতি চিনের অগ্রাধিকার; বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিশ্বব্যাপী মন্দা; মন্ত্রীদের সঙ্গে মতবিরোধ এবং মুইজ্জু ও মলদ্বীপের অর্থনীতির উপর তুলনামূলক ভাবে সীমিত আস্থা। শ্রীলঙ্কায় ঋণ পুনর্গঠনের সময় ঋণের ফাঁদ ও ক্ষতির সঙ্গে জড়িত থাকার উদ্বেগও এই সিদ্ধান্তে অবদান রেখেছিল। তৎকালীন চিনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেছিলেন যে, ঋণ পুনর্গঠন নতুন ঋণ-অর্থায়নকৃত প্রকল্পগুলির জন্য বেশ কয়েকটি অসুবিধা তৈরি করতে পারে।
অসাবধানতাবশত, চিনের বেশির ভাগ মনোযোগ ঋণ পুনর্গঠনের উপর ছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মুইজ্জুর বেজিং সফরের সময় চিন সরকার ঋণ ত্রাণ প্রদানে সম্মত হয়েছিল, যদিও আলোচনা দীর্ঘায়িত হয়েছিল। ইতিমধ্যে ক্রমহ্রাসমান চিনা ঋণের ভাণ্ডার ইঙ্গিত দেয় যে, মলদ্বীপ সরকার তার ঋণ পরিষেবা অব্যাহত রেখেছে। সারণি ১-এ তুলে ধরা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের তৃতীয় পর্যায় (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এবং ২০২৫ সালের তৃতীয় পর্যায়ের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মধ্যে চিনের প্রধান ঋণদাতাদের কাছে প্রায় ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুনঃঅর্থায়ন পেয়েছে মলদ্বীপ। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দ্বিপাক্ষিক ঋণ মুক্তির ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। চুক্তিটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা না হলেও এটি পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং পাঁচ বছরের জন্য চিনা ঋণ স্থগিত করার বিষয়টিকেই দর্শায়, যা কার্যকর ভাবে ঋণের বোঝা পরবর্তী সরকারের উপর স্থানান্তরিত করে।
সারণি ১: মলদ্বীপের ঋণ পরিসেবা
|
ঋণদাতা |
ঋণের ধরন |
২০২৩ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক (মার্কিন ডলার মিলিয়ন) |
২০২৫ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক (মার্কিন ডলার মিলিয়ন) |
|
চিনের এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক |
দ্বিপাক্ষিক ঋণ |
৪৮৫.৫০ |
৪৩৭.৭১ |
|
ব্রাউনস–সিএমইসি |
সার্বভৌম গ্যারান্টি |
৩০.৪৩ |
৫৪.৪৯ |
|
চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক |
১২৯.৫৫ |
১০১.৩৯ |
|
|
দংফাং ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন |
১৪.১৬ |
৬.৮৪ |
|
|
ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক অফ চায়না |
২৭৩.২৮ |
২৫৪.৫১ |
|
|
মোট |
|
৯৩২.৯২ |
৮৫৪.৯৪ |
উৎস: মিনিস্ট্রি অফ ফিন্যান্স অ্যান্ড প্ল্যানিং
অনুদান ও সহায়তা
নতুন ঋণের অভাবে অনুদান ও সহায়তার মাধ্যমে মলদ্বীপে চিনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মুইজ্জু ঘোষণা করেন যে, চিন ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার বেশির ভাগই মালে এবং ভিলিমালেতে রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের বাজেটের পরিসংখ্যান দর্শায় যে, চিন মলদ্বীপে অনুদানের অন্যতম প্রধান উৎস, এমনকি ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে ভারতকেও এ ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সর্বোপরি, ২০২৫ সালের বাজেটে অনুমান করা হয়েছিল যে, ২০২৬ সালে দ্বিপাক্ষিক অনুদানের প্রায় ৮১% চিন থেকে আসবে। এই অস্বাভাবিক অনুমান চিনের বৃহত্তর ঋণ পুনর্গঠন প্রচেষ্টার অধীনে অনুদান প্রক্রিয়াজাত করার সম্ভাবনাকেই দর্শায়।
গত দু’বছরে মলদ্বীপে চিনের অনুদান ও সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে (দ্রষ্টব্য সারণি ২)। এই সহায়তা সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতি এবং মৌলিক অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা এবং ক্রীড়ার মতো খাতে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউ-এর অংশ। এই উদ্যোগগুলি কেবল দেশে চিনের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও প্রভাবই বৃদ্ধি করে না, বরং দ্বীপপুঞ্জের সম্প্রদায়ের অপরিহার্য চাহিদাগুলিও পূরণ করে, জনগণের মধ্যে সদিচ্ছা তৈরি করে এবং মুইজ্জুর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, মলদ্বীপের ধারাবাহিক বন্যা সম্পর্কিত সমস্যা এবং জলের ঘাটতি মোকাবিলায় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট, পানীয় জলের সুবিধা এবং স্টর্মওয়াটার পাম্পের মতো মৌলিক সরঞ্জামগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সারণি ২: চিনা অনুদান এবং সহায়তা
|
প্রকল্পের নাম |
প্রকল্পের প্রকৃতি |
পাওনাদার / ঠিকাদার |
|
সিনামালে ব্রিজ |
৩ বছরের জন্য বিনামূল্যে রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতা বৃদ্ধি |
চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি সেকেন্ড হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি |
|
মালে এবং ভিলিমালের রাস্তা পুনরুন্নয়ন |
অনুদান |
চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি সেকেন্ড হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি |
|
৫০টি কাউন্সিল ভবন নির্মাণ |
অনুদান |
চিন সরকার |
|
ভিলিমালে চিন-মলদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল (১০০ শয্যাবিশিষ্ট) |
অনুদান |
চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি (সিআইডিসিএ) |
|
৫টি দ্বীপে জলশোধন কেন্দ্র (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) |
অনুদান |
চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি (সিআইডিসিএ) |
|
১২টি গ্রিন অ্যাম্বুলেন্স |
দান |
চিন সরকার |
|
১,৫০০ টন মিনারেল ওয়াটার |
দান |
চিন সরকার |
|
৬টি স্টর্মওয়াটার পাম্প |
দান |
চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিএমইসি) |
|
নারকেল গাছের পোকা দমন প্রকল্প |
চিনের তহবিলযুক্ত প্রকল্প, যা চিনা বিশেষজ্ঞদের মলদ্বীপে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাবে এবং একটি কারখানা তৈরি করবে। |
চিন সরকার |
|
ফোনাধু কাউন্সিলে রোড সুইপার (রাস্তা পরিষ্কারে সক্ষম এমন গাড়ি) |
দান |
চিন সরকার |
|
বিটল (বা গুবরে পোকা) নিয়ন্ত্রণের জন্য ল্যাবরেটরি |
চিনা সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প, যার মাধ্যমে একটি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে এবং চিনা কর্মীরা মলদ্বীপের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। |
চাইনিজ |
|
১০টি বেসামরিক যানবাহন/ট্রাক |
দান |
চিন সরকার |
|
আগামী ৫ বছরে ৭২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ল্যাব সরঞ্জাম সরবরাহ |
অনুদান |
চিন সরকার |
|
‘অ-ঘাতক’ (নন-লিথাল) অস্ত্র সরবরাহ |
অনুদান |
চিন সরকার |
|
ক্রীড়া সরঞ্জামের বড় চালান |
৪০০টি ফুটবল, ৩০০টি টেবিল টেনিস র্যাকেট, ১,৫০০টি টেবিল টেনিস বল; ৬০টি করে স্টার্টিং ব্লক, হার্ডলস, |
চিন সরকার |
উৎস: লেখকদের নিজস্ব
চুক্তির নিশ্চিতকরণ
এ ছাড়াও বেশ কিছু চিনা সংস্থা - বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা - ঠিকাদার হিসেবে মলদ্বীপের প্রকল্পগুলিতে জড়িত (দ্রষ্টব্য সারণি ৩)। এই তথ্যসমূহ দর্শায় যে, মলদ্বীপে চিনা এসওই - যেমন চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিএমইসি), চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিআরসিসি) এবং চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের (সিএইচইসি) উপস্থিতি ক্রমশ বেড়েছে। পূর্ববর্তী পর্যায়ের বিপরীতে - যখন প্রকল্পগুলির অর্থায়ন, নির্মাণ কিছু ক্ষেত্রে চিনা এসওই দ্বারা পরিচালিত হত - বর্তমান সম্পৃক্ততা মূলত নির্মাণের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। প্রকল্পের অর্থায়ন এবং পরিচালনা এখন মলদ্বীপ সরকার বা তৃতীয় পক্ষ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক ভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগের উপস্থিতি বেজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থও পূরণ করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষ উপস্থিতি, নজরদারি, ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখা।
চিনের সঙ্গে মলদ্বীপের ঐতিহাসিক ও আদর্শগত সম্পর্কের কারণে দ্বীপদেশটির কাছে চিনা ঠিকাদাররা সহজেই উপলব্ধ। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বৃহত্তর আর্থিক সক্ষমতার সম্ভাবনা বয়ে আনে। একই সঙ্গে চিন এবং তার এসওই-দের জন্য এই চুক্তিগুলি একটি বাণিজ্যিক সুযোগ প্রদান করে। ভূ-রাজনৈতিক ভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগের উপস্থিতি বেজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থও পূরণ করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে শারীরিক উপস্থিতি, নজরদারি, ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখা। সর্বোপরি, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ঠিকাদারদের বিল নিষ্পত্তি করতে সরকারের অক্ষমতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, যার মধ্যে ঋণ ও ইক্যুইটি অদলবদলের সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত।
সারণি ৩: চিনা ঠিকাদার সংস্থা এবং প্রকল্প
|
দ্বীপ |
প্রকল্প |
চিনা সংস্থা |
|
ফুশিদিগগারু ফালহু / রাসমালে |
জমি পুনরুদ্ধার, ৩০,০০০টি সামাজিক আবাসন কেন্দ্র, জল ও পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা এবং রাস্তা নির্মাণ। |
চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিআরসিসি), |
|
ফুনাধু দ্বীপ, ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ভিআইএ) এবং মালে |
মোনোরেলের মাধ্যমে তিনটি দ্বীপকে সংযুক্ত করা (সংযুক্ত আরব আমিরশাহির |
বেজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (বিইউসিজি) |
|
ইধাফুশি, বা দ্বীপ |
১,০০০টি আবাসন কেন্দ্র |
সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন লিমিটেড |
|
হুলহুমালে |
পঞ্চম বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প |
চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিএমইসি) |
|
আদ্দু শহর |
মৎস্য ও সামুদ্রিক লজিস্টিক কেন্দ্র |
চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি (সিআইডিসিএ) |
|
গুলহিফালহু |
রাস্তা এবং পৌর অবকাঠামো - যার মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ শৃঙ্খল, জল ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, রাস্তা উন্নয়ন এবং একটি গ্যাস স্টোরেজ ও বণ্টন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। |
চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিএমইসি) |
|
মালে শহর, ভিলিমালে, |
১৫০ মেগাওয়াট জ্বালানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সমিশন লাইন, যা মলদ্বীপের ‘বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বড় আকারের’ জ্বালানি প্রকল্প। |
চিন সরকার |
|
হুলহুমালে |
হুলহুমালে ইন্টিগ্রেটেড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট জোনে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ৭টি ভবন নির্মাণ |
হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ |
|
ফেলিভারু, ধ. মাদ্ধেলি এবং গধ. ফিয়ারি |
ফেলিভারু: ১০০ টন মাছ প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি নতুন কারখানা, যার মূল্য ৫০ মিলিয়ন ডলার। মাদ্ধেলি: ৫০ টন মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং ১,৫০০ টন কোল্ড স্টোরেজ, যার মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলার। ফিয়ারি: ৩,০০০ টন কোল্ড স্টোরেজ ইউনিট এবং ১০০ টন মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, যার মূল্য ৫০-৭৫ মিলিয়ন ডলার। |
দংফাং ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন |
|
আদ্দু |
হিথাধু এবং হুলহুমিধু দ্বীপের মধ্যে প্রস্তাবিত সেতুর জন্য ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সমীক্ষা, সম্ভাব্যতা এবং বিস্তারিত নকশা অধ্যয়ন |
টিওয়াইলিন ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কনসাল্টিং কোম্পানি লিমিটেড |
উৎস: লেখকদের নিজস্ব
বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্ক
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া চিন-মলদ্বীপ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বিভিন্ন ধরনের পণ্যের উপর শুল্ক প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাণিজ্য ঘাটতি - যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল - অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘পারস্পরিক’ অংশীদারিত্বের উপর ক্রমাগত জোর দেওয়া সত্ত্বেও চিনে মলদ্বীপের রফতানি আমদানির তুলনায় নগণ্য। চিত্র ২-এ দেখানো হয়েছে, মলদ্বীপের রফতানি স্থিতিশীল থেকেছে এবং এফটিএ-র বাস্তবায়ন সত্ত্বেও চিনা আমদানির তুলনায় তা উল্লেখযোগ্য রকমের কম।
চিত্র ২: মলদ্বীপ-চিন বাণিজ্য

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ কাস্টমস (২০২৫ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত)
বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণ এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে মলদ্বীপ সরকার মার্কিন ডলারের রিজার্ভ হ্রাসের চাপের সম্মুখীন হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে আর্থিক সম্পর্ক ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য সহজতর করার জন্য ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পিপলস ব্যাঙ্ক অফ চায়না এবং মলদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক একটি সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর করে। মলদ্বীপের ব্যাঙ্কগুলি এমনকি চিনা ইউয়ান অ্যাকাউন্ট খোলা, আন্তর্জাতিক স্থানান্তর এবং চিনা মুদ্রায় ঋণপত্র জারি করার পাশাপাশি উইচ্যাট পে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। একটি চিনা ব্যাঙ্ক মলদ্বীপে শাখা খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মলদ্বীপের সঙ্গে চিনের সম্পৃক্ততা কৌশলগত ভাবে ছোট, প্রভাবশালী প্রকল্প এবং গভীর অর্থনৈতিক সমন্বিতকরণের দিকে ঝুঁকছে। ঋণ পুনর্গঠন, অনুদান এবং সহায়তা প্রদান, চুক্তি নিশ্চিত করা এবং আর্থিক সংযোগ প্রচার-সহ এর নতুন পদ্ধতি চিনকে কেবল একটি ঋণদাতা বা বিনিয়োগকারী হিসাবেই পরিসর করে দেয় না; বরং উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে।
এই সুযোগগুলি মুদ্রা ও বাণিজ্যের আরও প্রবাহকে সহজতর করতে সাহায্য করে এবং পর্যটন, বাণিজ্য, অর্থায়ন ও মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বৃদ্ধি করে। মলদ্বীপের আমদানিকারকরা এখন সরাসরি ইউয়ানে পণ্য, বিশেষ করে নির্মাণ সামগ্রী এবং ভোগ্যপণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। তবে বৃহৎ বাণিজ্য ঘাটতির কারণে মলদ্বীপ চিনা ইউয়ানের ঘাটতির মুখোমুখি হবে। তাই সরকারকে ইউয়ানে বাণিজ্য বজায় রাখার জন্য চিনা পর্যটকদের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ এবং ঋণের পাশাপাশি মলদ্বীপের রফতানির উপর নির্ভর করতে হবে।
মলদ্বীপের সঙ্গে চিনের সম্পৃক্ততা কৌশলগত ভাবে ছোট, প্রভাবশালী প্রকল্প এবং গভীর অর্থনৈতিক সমন্বিতকরণের দিকে ঝুঁকছে। ঋণ পুনর্গঠন, অনুদান এবং সহায়তা প্রদান, চুক্তি নিশ্চিত করা এবং আর্থিক সংযোগ প্রচার-সহ এর নতুন পদ্ধতি চিনকে কেবল একটি ঋণদাতা বা বিনিয়োগকারী হিসাবেই পরিসর করে দেয় না; বরং উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে। এর পাশাপাশি এটি এমন নির্ভরতা তৈরি করে, যা আগামী বছরগুলিতে মলদ্বীপের অর্থনীতি এবং বৈদেশিক নীতির বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভবিষ্যতে ভারত এবং এই অঞ্চলের জন্য অবশ্যই নতুন অসুবিধা তৈরি করবে।
আদিত্য গৌদারা শিবমূর্তি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
উদিতি লুনাওয়াত অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Aditya Gowdara Shivamurthy is an Associate Fellow with the Strategic Studies Programme’s Neighbourhood Studies Initiative. He focuses on strategic and security-related developments in the South Asian ...
Read More +
Uditi Lunawat is a Research Intern at the Observer Research Foundation. ...
Read More +