যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সহযোগিতাকে তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মতো কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করছে, তাই আফ্রিকার দেশগুলি আরও ন্যায়সঙ্গত ও স্থিতিশীল শর্তকে সুনিশ্চিত করতে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস) গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তার নতুন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি — আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি (এএফজিএইচএস) — চালু করেছে। এটি চালু হওয়ার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দু’ডজনেরও বেশি দেশের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এই কৌশলটির লক্ষ্য হল স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন সহায়তার ঘাটতিগুলি মোকাবিলা করা। এটি দর্শায় যে, মার্কিন স্বাস্থ্য সহযোগিতা ক্রমবর্ধমান ভাবে দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে গঠিত হচ্ছে, যেখানে রোগজীবাণু সম্পর্কিত তথ্য (প্যাথোজেন ইনফর্মেশন) ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য (হেলথ ডেটা) থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পর্যন্ত ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলি প্রধান ভূমিকা পালন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা প্রসারিত করলেও এএফজিএইচএস-এর গতিপথ এখনও নির্ধারিত হয়নি। কারণ এটি এমন এক সময়ে উন্মোচিত হচ্ছে, যখন আফ্রিকার দেশগুলি বহুপাক্ষিক বৈশ্বিক স্বাস্থ্য আলোচনায় আরও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে আরও ন্যায্য শর্তে আলোচনার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।
বহুপাক্ষিকতা থেকে দ্বিপাক্ষিকতায় রূপান্তর
গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা ডব্লিউএইচও কিংবা হু) থেকে তাদের প্রত্যাহার এবং ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএড) ও প্রেসিডেন্ট’স ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এডস রিলিফ-এর (পিইপিএফএআর বা পেপফার) ব্যাপক পুনর্গঠন ও তহবিলে কাটছাঁট। এই উদ্যোগগুললি প্রায়শই বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে (লো অ্যান্ড মিডল ইনকাম কান্ট্রিজ বা এলএমআইসি) এইচআইভি, যক্ষ্মা (টিবি), ম্যালেরিয়া ও টিকাদানের বিষয়টি সুনিশ্চিত করার জন্য বৃহৎ আকারের কর্মসূচিতে ব্যাপক ভাবে অর্থায়ন করেছে। তবে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং বিচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থা ও সমান্তরাল সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির জন্য এগুলি সমালোচিতও হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে দেখলে গেলে এ হেন উদ্বেগগুলি মোকাবেলার একটি প্রতিকার হিসেবে এএফজিএইচএস-কে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এএফজিএইচএস-এর লক্ষ্য হল বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে সহ-অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং সময়-কেন্দ্রিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলি প্রশমিত করা। এটি বৃহত্তর জাতীয় মালিকানা এবং আত্মনির্ভরশীলতার উপর জোর দেয় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে বিশেষ ভাবে অগ্রাধিকার দেয়। এ হেন উদ্যোগটি চালু হওয়ার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে ২৬টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছে। সম্মিলিত ভাবে, এই চুক্তিগুলিতে ২০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৭.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাপক দেশগুলির তরফে সহ-বিনিয়োগ হিসেবে এসেছে। এই দেশগুলির বেশিরভাগই পূর্বে ইউএসএইড এবং পেপফার থেকে সাহায্য পেত।
এএফজিএইচএস-এর লক্ষ্য হল বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে সহ-অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং সময়-কেন্দ্রিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলি প্রশমিত করা। এটি বৃহত্তর জাতীয় মালিকানা এবং আত্মনির্ভরশীলতার উপর জোর দেয় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে বিশেষ ভাবে অগ্রাধিকার দেয়।
নতুন কৌশলটি কী ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার একটি প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হল উগান্ডা। প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি পাঁচ বছর মেয়াদি সহযোগিতামূলক চুক্তির অধীনে এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হল সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব নজরদারি ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দেশের স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটালকরণের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়া এবং উগান্ডার স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করা। এ ছাড়াও, এর উদ্দেশ্য হল স্বাস্থ্যখাতে অর্থায়নের দায়িত্ব জাতীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করা, যার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও আত্মনির্ভরশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনা
দীর্ঘদিনের উন্নয়নমূলক উদ্বেগগুলি মোকাবেলার পাশাপাশি, এই চুক্তিগুলি একটি বড় নীতিগত পরিবর্তনকেও দর্শায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্যখাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। এএফজিএইচএস-এর অধীনে স্বাস্থ্য সহযোগিতা ক্রমবর্ধমান ভাবে ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে, যেখানে আলোচনাগুলি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিয়ে সমান্তরাল আলোচনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এই চুক্তিগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি স্থগিত হয়েছে, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বা পুনরায় আলোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো বা ডিআরসি) সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি। ইবোলা ও এমপক্সের বারবার প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হয়ে এই উদীয়মান স্বাস্থ্য হুমকিগুলি মোকাবিলা করার জন্য দেশটির একটি সমন্বিত জাতীয় রোগ নজরদারি ব্যবস্থা এবং উন্নত মানের পরীক্ষাগার সংক্রান্ত শৃঙ্খল-সহ স্থিতিশীল স্বাস্থ্য সহায়তা প্রয়োজন। চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা কয়েক মাস ধরে চলএলো ডিআরসি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের প্রবাহ নিশ্চিতকারী একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর, চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকটি (মউ) ফেব্রুয়ারির শেষে স্বাক্ষরিত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং একে স্বাস্থ্য সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার মার্কিন জেদ নিছকই আশ্চর্যজনক নয়। এএফজিএইচএস নথিটি আফ্রিকায় মার্কিন স্বাস্থ্য সহায়তাকে এই অঞ্চলে চিনের প্রভাব ও স্বার্থের প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরে।
খনিজ-সমৃদ্ধ আফ্রিকান দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করার ওয়াশিংটনের অভিপ্রায় আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের জন্য চিনের উপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং একে স্বাস্থ্য সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার মার্কিন জেদ নিছকই আশ্চর্যজনক নয়। এএফজিএইচএস নথিটি আফ্রিকায় মার্কিন স্বাস্থ্য সহায়তাকে এই অঞ্চলে চিনের প্রভাব ও স্বার্থের প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরে। উল্লেখ্য যে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থগুলি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অত্যাবশ্যকীয় কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে, যার প্রয়োগ রয়েছে উদীয়মান প্রযুক্তি, জ্বালানি রূপান্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তায়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে (ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি বা এনএসএস) এগুলির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আফ্রিকায় বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মজুত রয়েছে, যা দেশটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। চিন আফ্রিকার খনি সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যাপক ভাবে বিনিয়োগ করেছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ লিথিয়াম ও কোবাল্ট এবং ৯০ শতাংশ বিরল মৃত্তিকা উপাদান ও গ্রাফাইট পরিশোধনের দায়িত্বে রয়েছে।
গিনির সঙ্গে হওয়া এএফজিএইচএস চুক্তিটি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) চুক্তির অনুরূপ, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের বিষয়ে একটি অংশীদারিত্ব চুক্তির পর সমঝোতা স্মারকটি (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই সব কিছুই দর্শায় যে, কী ভাবে স্বাস্থ্য সহায়তা সংক্রান্ত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থগুলি একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত দু’মাসে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিরল মৃত্তিকা খনিজ সরবরাহ শুরু হলেও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ নিয়ে এ হেন অংশীদারিত্ব বর্তমানে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের আদালতে সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কারণ এই চুক্তিটি ওয়াশিংটনকে কঙ্গোর খনিজ ভাণ্ডারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দেয় এবং দেশটির খনি খাতের ব্যবস্থাপনায় সরাসরি মার্কিন তত্ত্বাবধানের সুযোগ করে দেয়।
অসম চুক্তি
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য এবং রোগজীবাণু সম্পর্কিত তথ্যে প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেনিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি স্থগিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে এটি মামলাধীন রয়েছে। কারণ এর এমন কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি উঠেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রোগজীবাণু সম্পর্কিত তথ্য এবং রোগীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যে প্রবেশাধিকার দেয়। জাম্বিয়ার সঙ্গে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা চলছে। কারণ স্মারকলিপির পাঁচ বছরের মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও এতে দেশটির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ১০ বছরের জন্য ভাগ করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং এটি খনি খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে চুক্তিটিও একই ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এটিকে ‘অসম’ (বা অ্যাসিমেট্রিকাল) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ এতে পারস্পরিকতা ছাড়াই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবাধ প্রবেশাধিকার, সুবিধা বণ্টনের কোনও নিশ্চয়তা না থাকা এবং খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে লিথিয়ামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারের দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গিনির সঙ্গে হওয়া এএফজিএইচএস চুক্তিটি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) চুক্তির অনুরূপ, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের বিষয়ে একটি অংশীদারিত্ব চুক্তির পর সমঝোতা স্মারকটি (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
কিছু চুক্তিতে এমন ধারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মার্কিন জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে স্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলিকে স্থগিত বা বাতিল করার সুযোগ দেয়। নাইজেরিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি — যা পাঁচ বছরের জন্য ৫.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি স্বাস্থ্য সহযোগিতা প্যাকেজ — খ্রিস্টান ধর্মভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রাধান্য দেয় এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কথিত ধর্মীয় সহিংসতা মোকাবিলায় নাইজেরিয়ার প্রতি মার্কিন প্রত্যাশাকেই তুলে ধরে। এই উদাহরণগুলি দর্শায় যে, এএফজিএইচএস-কে এমন ভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য সহযোগিতা আলোচনাকে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে — বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং ডেটা গভর্ন্যান্স বা তথ্য প্রশাসনের সঙ্গে —যুক্ত করে, যা এই ব্যবস্থাগুলির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
সমান্তরাল ব্যবস্থা এবং অসম সুবিধা-বণ্টন
এই ব্যবস্থাগুলি আফ্রিকান মহাদেশের দর কষাকষির ক্ষমতার বিভাজন এবং এর আঞ্চলিক নজরদারি ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার দুর্বল হয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর (আফ্রিকা সিডিসি) মতো সংস্থাকে - যা সমন্বয়কারী ক্ষমতা-সহ একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা - দ্বিপাক্ষিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে প্রায় একপাশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহাদেশীয় সমন্বয় সুনিশ্চিত করতে আফ্রিকা সিডিসি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাদা ভাবে আলোচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে এমন সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরির ঝুঁকি রয়ে গিয়েছে, যা আঞ্চলিক সমন্বয়কে বাধাগ্রস্ত করে।
এ ছাড়াও, বিশ্ব স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তথ্যের কৌশলগত সম্পদ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় এই উদ্বেগও রয়েছে যে, আফ্রিকান দেশগুলির দেওয়া তথ্য মার্কিন ওষুধ সংস্থাগুলি সংগ্রহ করতে পারে, নতুন ওষুধ বা প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তা ব্যবহার করতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে মার্কিন বাজারের চেয়ে বেশি দামে তা আবার উৎপত্তিস্থলের দেশগুলিতেই বিক্রি করে দিতে পারে। এ হেন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে আফ্রিকান প্রতিষ্ঠানগুলির আঞ্চলিক উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওষুধের বাজারে বৈষম্য কমানোর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।
পিএবিএস-এর সর্বশেষ খসড়াটি আফ্রিকার দেশগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে সময়মতো রোগজীবাণু সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে বাধ্য করে, কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সুবিধার কোনও নিশ্চয়তাই প্রদান করে না। অতিমারির সময় ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিকস এবং ডায়াগনস্টিকস-এর (ভিটিডি) জন্য ন্যূনতম বিধান বাধ্যতামূলক। খসড়াটিতে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার (পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অফ ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন বা পিএইচইআইসি) সময় ওষুধের সংস্থাগুলির উপর ভিটিডি সরবরাহ করার বিষয়ে কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অতিমারি চুক্তির পরিশিষ্ট — প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট-শেয়ারিং (পিএবিএস) ব্যবস্থা — নিয়ে আলোচনার কারণে এই ঘটনাপ্রবাহ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জিম্বাবুয়ের মতো দেশগুলি পিএবিএস সংক্রান্ত আলোচনায় সক্রিয় রয়েছে। রোগজীবাণু সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান এবং সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলি পিএবিএস কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর কী ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বা সম্ভাব্য ভাবে এই বিষয়টির বিরুদ্ধাচরণ করবে কি না, সে বিষয়ে জিম্বাবুয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পিএবিএস-এর সর্বশেষ খসড়াটি আফ্রিকার দেশগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে সময়মতো রোগজীবাণু সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে বাধ্য করে, কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সুবিধার কোনও নিশ্চয়তাই প্রদান করে না। অতিমারির সময় ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিকস এবং ডায়াগনস্টিকস-এর (ভিটিডি) জন্য ন্যূনতম বিধান বাধ্যতামূলক। খসড়াটিতে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার (পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অফ ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন বা পিএইচইআইসি) সময় ওষুধের সংস্থাগুলির উপর ভিটিডি সরবরাহ করার বিষয়ে কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করে না। বরং এটি সুবিধা প্রাপ্তি এবং সুবিধা ভাগ করে নেওয়া সংক্রান্ত আলোচনাকে স্বতন্ত্র দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওষুধ প্রস্তুতকারকদের উপরই ছেড়ে দেয়, যার ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলির দর কষাকষির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য রকমের দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্য ফলাফলের নীতিও ক্ষুণ্ণ হয়।
উপসংহার
আফ্রিকান ফেডারেল হেলথ সার্ভিসেস-এর (এএফজিএস) পূর্ববর্তী বিশ্লেষণগুলিতে এই কৌশলের বাণিজ্য-চালিত পদ্ধতির উপর গুরুত্ব আরোপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি আর একটি নতুন মাত্রাও উন্মোচন করেছে। অর্থাৎ কী ভাবে স্বাস্থ্য সহযোগিতা মার্কিন স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনার সঙ্গে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছে।
একই সঙ্গে এই আলোচনাগুলি জুড়ে একটি উদীয়মান বিষয় হল এমন একটি ব্যবস্থা তৈরির বিরুদ্ধে আফ্রিকান দেশগুলির প্রতিরোধ, যেখানে স্বাস্থ্য সুবিধাগুলি হবে ঐচ্ছিক বা অসম ভাবে বণ্টিত। এটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে আফ্রিকান দেশগুলি দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক উভয় ধরনের মঞ্চেই তাদের স্বার্থ তুলে ধরছে। এই প্রেক্ষাপটে এএফজিএইচএস দর্শায় যে, কী ভাবে জনস্বাস্থ্যের উদ্দেশ্য ও কৌশলগত বিবেচনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্য শাসনের রূপরেখা বিকশিত হচ্ছে। এর গতিপথ কেবল মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের উপরই নির্ভর করবে না, বরং আফ্রিকান দেশগুলি ন্যায়সঙ্গত ও স্থিতিশীল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার জন্য তাদের অবস্থানকে কতটা কার্যকর ভাবে কাজে লাগাতে পারে, তার উপরও নির্ভর করবে।
লক্ষ্মী রামাকৃষ্ণন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Lakshmy is an Associate Fellow with ORF’s Centre for New Economic Diplomacy. Her work focuses on the intersection of biotechnology, health, and international relations, with a ...
Read More +