বেজিং ওয়াশিংটনের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির পুনর্বিন্যাসকে পশ্চাদপসরণের পরিবর্তে সীমাবদ্ধতা-চালিত সংকোচন হিসেবে ব্যাখ্যা করে, যা চিনের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং নির্বাচিত সামরিক প্রভাব বিস্তারের জন্য কৌশলগত ক্ষেত্র তৈরি করছে।
বিগত দুই দশকে এশিয়ার প্রতি মার্কিন নীতি, অন্তত বাকচাতুর্যের পর্যায়ে, এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার দিকে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়েছে। জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রেসিডেন্সির পর, যা মূলত ইরাক এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্বারা প্রভাবিত ছিল, ওবামা প্রশাসন ২০১১ সালে একটি কৌশলগত পুনর্গঠন হিসেবে “পিভট টু এশিয়া” ঘোষণা করেন। এই নীতি এশিয়াকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি কেন্দ্রীয় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে, যার জন্য ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সম্পৃক্ততার পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন ছিল।
এই পিভটের লক্ষ্য ছিল মার্কিন মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ থেকে পূর্ব এশিয়ার দিকে সরিয়ে আনা, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে এবং চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে প্রতিহত করতে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হয়। আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং এর পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী সুসংহত করা এই পদ্ধতির মূল স্তম্ভ ছিল।
এর অর্থনৈতিক দিকটি প্রস্তাবিত ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি)-এর উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা বাস্তবায়িত হলে একটি প্রধান আঞ্চলিক বাণিজ্য কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক নিয়মকানুন নির্ধারণ, এবং বৃহত্তর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে একটি ভারসাম্যের সম্ভাবনা তৈরি করত।
তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর, টিপিপি সফল হয়নি, এবং ওয়াশিংটনে অগ্রাধিকারের পরিবর্তন—বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়—এশিয়ার উপর কৌশলগত মনোযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ২০১৭ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে চিনকে একটি “সংশোধনবাদী শক্তি” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে দিয়ে এই অঞ্চলকে নতুন করে সাজাতে চায়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার বাধা সত্ত্বেও, এই বৃহত্তর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে একত্রিত করে কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ (কোয়াড) পুনরুজ্জীবিত করতেও অবদান রেখেছিল। বাইডেন প্রশাসন এই কাঠামোটি বজায় রেখেছে, ফিলিপাইনসের মতো অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসারিত করেছে, এবং সম্ভাব্য চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ট্রাম্প ২.০ এবং মার্কিন কৌশলগত অগ্রাধিকারের পুনর্গঠন
ট্রাম্প ২.০-এর অধীনে দ্বিদলীয় ঐকমত্যে একটি সুস্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএস) মনরো মতবাদের “ট্রাম্প করোলারি”র মাধ্যমে পশ্চিম গোলার্ধের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে, এবং একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি তুলনামূলকভাবে সীমিত মনোযোগ দিয়েছে। চিনকে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে স্বীকার করা হলেও, তাকে ‘পদ্ধতিগত বিপদ’ হিসেবে কম এবং প্রায়-সমকক্ষ প্রতিযোগী হিসেবে বেশি চিত্রিত করা হয়েছে, যেখানে আদর্শগত সংঘাতের পরিবর্তে ‘পারস্পরিক সুবিধাজনক’ সম্পর্কের দিকে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের উপর প্রাথমিকভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএস) মনরো মতবাদের “ট্রাম্প করোলারি”র মাধ্যমে পশ্চিম গোলার্ধের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে, এবং একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি তুলনামূলকভাবে সীমিত মনোযোগ দিয়েছে।
২০২৬ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল (এনডিএস) একটি অনুরূপ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে, যেখানে দেশের প্রতিরক্ষা এবং পশ্চিম গোলার্ধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনকে প্রতিরোধ করাকে একটি গৌণ উদ্দেশ্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এটি চিনকে "বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী দেশ" হিসেবে তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ও মূল্যবোধ-বর্জিত ভাষায় বর্ণনা করে, এবং পূর্ববর্তী কৌশলগুলিতে তুলে ধরা জবরদস্তিমূলক বা আগ্রাসী কার্যকলাপের উল্লেখ এড়িয়ে যায়। লক্ষণীয়ভাবে, এতে তাইওয়ান বা অন্যান্য নির্দিষ্ট সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি; পরিবর্তে, এটি চিনকে আঞ্চলিক আধিপত্য অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে "প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খল বরাবর প্রতিরক্ষার কড়া প্রতিবন্ধকতা"র উপর জোর দেয়। এই পরিভাষাটি তাইওয়ান প্রণালী, দক্ষিণ চিন সাগর, এবং সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের মতো এলাকা জুড়ে প্রতিবন্ধকতামূলক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিলেও তাইওয়ানের অনুপস্থিতি মার্কিন প্রতিশ্রুতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বেজিংয়ের ব্যাখ্যা: ভেঙে পড়া নয়, বাধ্যবাধকতা
বেজিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই নথিগুলো মার্কিন সম্পদের সীমাবদ্ধতা, অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার, এবং প্রতিযোগিতার সম্পূর্ণ পরিত্যাগের পরিবর্তে অতি-বিস্তার থেকে সরে আসার প্রতিফলন ঘটায়। চিনা বিশ্লেষকেরা ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলকে (এনএসএস) একটি অন্তর্বর্তীকালীন নথি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা উদার আন্তর্জাতিকতাবাদ থেকে রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদের দিকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে বিদেশনীতি সংকীর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত জাতীয় স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার উপর কেন্দ্রীভূত হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিটি মূল স্তম্ভ হিসেবে ব্যাপক বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি ও জোট থেকে সরে এসে সার্বভৌমত্ব, ব্যয়-দক্ষতা এবং ফলাফল-ভিত্তিক পরিণতির ওপর জোর দেয়। বেজিং এটিকে চিনের ধৈর্যশীল ও অবিচল সম্পৃক্ততার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের বৈধতা হিসেবে দেখে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন ওয়াশিংটনকে অন্যমনস্ক ও অপ্রত্যাশিত মনে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের অভাবের ধারণাকে আরও জোরদার করছে। প্রতিবেদনগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সিস্টেমের আংশিক পুনঃস্থাপন করা হয়েছে—যা মূলত উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য স্থানান্তরিত উপাদানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অভিযানটি ২০২৬ সালের শুরুতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, নৌসম্পদ এবং প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলিকে দুর্বল করতে এবং পারমাণবিক উত্তেজনা প্রতিরোধ করার জন্য শুরু করা হয়েছে। সাময়িক হলেও, এই পুনঃস্থাপন—যা সিওলের বিরোধিতার মুখে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে—বৃহত্তর কৌশলগত সমন্বয় ছাড়াই সংকট ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়, যা সম্ভবত মার্কিন নির্ভরযোগ্যতার উপর আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। ওয়াশিংটন ক্রমাগত দাবি করে চলেছে যে তারা ইন্দো-প্যাসিফিক এবং প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খলের ওপর ‘লেজার ফোকাসড’ রয়েছে; তবে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অব্যাহত চাপের মধ্যে এই পদক্ষেপগুলো সীমিত সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
বেজিং বহুপাক্ষিকতার প্রতি ট্রাম্পের সংশয়কে—যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি থেকে সরে আসা এবং মিত্রদের উপর অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে—অনিশ্চয়তার আরও একটি প্রমাণ হিসেবে দেখে। মিত্র ও অংশীদারেরা বৃহত্তর বোঝা ভাগাভাগির জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, যেখানে ২০২৫ সালের এনএসএস এবং ২০২৬ সালের এনডিএস ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারদের, বিশেষ করে কোরীয় উপদ্বীপের অংশীদারদের, একটি বৃহত্তর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছে যা সম্ভবত অন্যান্য অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি নমনীয়তা দেবে। এই আরও লেনদেনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অংশীদারিত্বের উপর চাপ সৃষ্টি করার ঝুঁকি তৈরি করে এবং এক ধরনের কৌশলগত সংকোচনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
বেজিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই নথিগুলো মার্কিন সম্পদের সীমাবদ্ধতা, অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার, এবং প্রতিযোগিতার সম্পূর্ণ পরিত্যাগের পরিবর্তে অতি-বিস্তার থেকে সরে আসার প্রতিফলন ঘটায়।
চিনের জন্য এই পরিস্থিতি কাজে লাগানোর মতো একটি সুযোগ তৈরি করে। পণ্ডিতরা ইঙ্গিত দেন যে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাহ্যিক সংঘাত বা অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা নিয়ে ব্যস্ত বা ‘অন্যমনস্ক’ বলে মনে হয়, তখন আঞ্চলিক কূটনৈতিক নেটওয়ার্কগুলি চিনের বৃহত্তর সম্পৃক্ততার দিকে ঝুঁকে পড়ে। যেসব রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করে, তারা প্রায়শই অনিশ্চয়তার মোকাবিলা করার জন্য তাদের বাহ্যিক জোটগুলোতে বৈচিত্র্য আনে, যা বেজিংকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নিজেকে তুলনামূলকভাবে আরও অনুমানযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম করে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেজিংয়ের বহুমুখী প্রতিক্রিয়া
বেজিং-এর ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বহুমুখী যোগাযোগের সম্ভাবনা রয়েছে:
❅ অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং বহুপাক্ষিক প্রভাব বিস্তার
বলপ্রয়োগের উপর নির্ভর না করে চিন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি), এবং অন্যান্য বাণিজ্য কাঠামোর মাধ্যমে আঞ্চলিক একীকরণকে আরও গভীর করতে চায়। ওয়াশিংটনের লেনদেন-কেন্দ্রিক জোট এবং সংরক্ষণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে, চিন নিজেকে বহুপাক্ষিকতার রক্ষক হিসেবে তুলে ধরে। চিনা বিশ্লেষকেরা আরও উল্লেখ করেন যে, পশ্চিম গোলার্ধের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ অব্যাহত থাকলে আসিয়ান অর্থনীতিগুলোকে আরও কাছে টানার সম্ভাব্য সুযোগ রয়েছে।
❅ নির্বাচিত সামরিক প্রভাব বিস্তার
আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ভঙ্গুর বা জোটনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষিণ চিন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালীর মতো বিতর্কিত এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হবে। এটি বেজিংকে এমন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গভীর করতে সাহায্য করে, যারা আনুষ্ঠানিক মার্কিন জোট বা গণতান্ত্রিক জোটবদ্ধতার চাপ দ্বারা কম সীমাবদ্ধ।
❅ আঞ্চলিক ঝুঁকি হ্রাসকে কাজে লাগানো
যেহেতু জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারত আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে এবং কোয়াডের মতো ক্ষুদ্র-পাক্ষিক সহযোগিতা প্রসারিত করছে—যদিও ট্রাম্প ২.০-এর অধীনে তা নিছক কথার কথা—দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলি অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক দিক থেকে চিনের আরও কাছাকাছি আসতে পারে। মার্কিন কৌশলগত বিচ্যুতির ধারণা মধ্যম শক্তিগুলিকে স্বাধীনভাবে আঞ্চলিক শৃঙ্খলা স্থিতিশীল করতে উৎসাহিত করছে, যা জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় প্রসারিত করছে।
চিনা কৌশলবিদেরা সতর্ক থাকছেন; তাঁরা এই পরিবর্তনকে মার্কিন আধিপত্যের পতনের সংকেত হিসেবে না দেখে, বরং তাকে আরও সুসংহত ও টেকসই করার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন। এনএসএস এবং এনডিএস প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খল বরাবর প্রতিরোধ, প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং মিত্রদের মধ্যে বৃহত্তর দায়িত্ব ভাগাভাগির উপর জোর দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। সম্পূর্ণ পিছু হটার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে, এবং বেজিং এমন কোনও পদক্ষেপ এড়িয়ে চলছে যা উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে, চিনের ভূখণ্ডগত দৃঢ়তা এবং অপ্রতিসম আঞ্চলিক সম্পর্ক একটি চিন-কেন্দ্রিক ব্যবস্থার উপর পূর্ণ আস্থাকে সীমিত করে চলেছে।
ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) ভিত্তিতে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় অর্ধেকের অধিকারী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল একবিংশ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নির্ণায়ক ক্ষেত্র হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। বেজিং মনে করে, ওয়াশিংটনের ‘পিভট টু এশিয়া’ নীতি থেকে সরে আসা—অর্থাৎ পশ্চিম গোলার্ধের ওপর অধিক মনোযোগ, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মতো মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ক্রমাগত সম্পৃক্ততা, এবং আরও সংযত বাগাড়ম্বর—তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করছে।
উপসংহার
বেজিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্রাম্প ২.০-এর অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপাত পশ্চাদপসরণ—যা ২০২৫ সালের এনএসএস-এ গোলার্ধভিত্তিক অগ্রাধিকার, ২০২৬ সালের এনডিএস-এ চিনকে নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন ও তাইওয়ানকে বাদ দেওয়া, অপারেশন এপিক ফিউরির মধ্যে থাড ক্ষেপণাস্ত্রের পুনঃস্থাপন এবং জোটের ক্ষেত্রে আরও লেনদেনমূলক প্রত্যাশার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে—কৌশলগত প্রতিযোগিতা হ্রাসের পরিবর্তে সুযোগের ইঙ্গিত দেয়। এটি ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত ওয়াশিংটনের বিপরীতে একটি অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল, বহুপাক্ষিক অংশীদার হিসেবে চিনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। বেজিং সম্ভবত বহুমুখী সম্পৃক্ততা ত্বরান্বিত করবে, যার মধ্যে রয়েছে বিআরআই এবং আরসিইপি-র মাধ্যমে অর্থনৈতিক গভীরতা বৃদ্ধি, নির্বাচিত সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বিদ্যমান সতর্কতামূলক আচরণকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ।
যদিও প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খল বরাবর মার্কিন প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং চলমান অর্থনৈতিক সংঘাত অব্যাহত থাকায় এই অঞ্চলে চিনের পূর্ণ আধিপত্যের সম্ভাবনা সীমিত, তবুও মার্কিন মনোযোগের অভাবের এই ধারণা এই অঞ্চলে চিনের প্রভাব বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
যদিও প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খল বরাবর মার্কিন প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং চলমান অর্থনৈতিক সংঘাত অব্যাহত থাকায় এই অঞ্চলে চিনের পূর্ণ আধিপত্যের সম্ভাবনা সীমিত, তবুও মার্কিন মনোযোগের অভাবের এই ধারণা এই অঞ্চলে চিনের প্রভাব বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই, এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বেজিংয়ের অর্জিত সাফল্যকে প্রতিহত করার জন্য ধারাবাহিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র-বহুপাক্ষিক কাঠামোতে বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং সুস্পষ্ট কৌশলগত সংকেত প্রদানের মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। অন্যথায়, মার্কিন কৌশলগত চ্যুতির ধারাবাহিকতা থেকে ক্রমশ আরও চ্যুতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা ধীরে ধীরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গতিপ্রকৃতিকে চিনের অনুকূলে নতুন রূপ দেবে।
ডঃ শ্রীপর্ণা পাঠক ও পি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির চিন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং উত্তর-পূর্ব এশীয় অধ্যয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
উপমন্যু বসু মানব রচনা আন্তর্জাতিক গবেষণা ও অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Sriparna Pathak is Professor of China Studies and the founding Director of the Centre for Northeast Asian Studies at O.P. Jindal Global University (JGU), ...
Read More +
Upamanyu Basu is an Assistant Professor of Politics and International Relations at the Manav Rachna International Institute of Research and Studies. He is currently pursuing ...
Read More +