Author : Kamal Davar

Expert Speak Raisina Debates
Published on Mar 18, 2026 Updated 0 Hours ago

দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার ভারত সন্ত্রাসবাদের এক নতুন রূপের সম্মুখীন হচ্ছে: হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদ। তাই, এর নিরাপত্তা প্রস্তুতি সর্বোচ্চ স্তরের হতে হবে।

ভারতে হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা


আধুনিক বিশ্বের অভিশাপ সন্ত্রাসবাদের বিভিন্ন রূপ এবং ব্যাখ্যা রয়েছে; এক জাতির সন্ত্রাসী অন্য জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামী ‌বা এমনকি সমাজ সংস্কারকও হতে পারে। তাদের শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদের কর্মকাণ্ডকে চিহ্নিত করে বিশেষভাবে নিরপরাধদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে হিংস্রতার ব্যবহার, যা কখনও কখনও বিপর্যয়কর পর্যায়ে পৌঁছয়। দুঃখের বিষয়, বহু দশক ধরে এই মহামারীতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের একটি সর্বজনীনভাবে গৃহীত সংজ্ঞায় আসতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অভিশাপ দীর্ঘ সময় ধরে এবং নতুন রূপে মানবজাতিকে পীড়িত করে চলেছে, এবং একটি দেশের নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নতুন পদ্ধতির বিস্ময়কর চরিত্র বোঝা বা তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার আগে নিরীহ মানুষের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

ভারতের পশ্চিমা প্রতিবেশী, পাকিস্তান, মূলত ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য এবং এমনকি ভারতের অন্যান্য অংশে, যার মধ্যে ভারতের কিছু উত্তর-পূর্ব রাজ্যও রয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের গতি অব্যাহত রেখেছে। চিনও যে অতীতে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে তা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদের উত্থান

সন্ত্রাসবাদ হল শত্রু দেশের মৌলিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংবিধানিক, সামরিক বা সামাজিক কাঠামোকে অস্থিতিশীল করা এবং সেগুলিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিজস্ব আদর্শিক উপাদান দিয়ে প্রতিস্থাপন করার জন্য ঘটানো হিংস্র কাজ। যদিও সন্ত্রাসবাদ একটি পুরনো ঘটনা, সন্ত্রাসীরা বিপুল সংখ্যক মানুষকে হতাহত এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সত্ত্বেও এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিতে কার্যত কোনও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বের কিছু দেশ তাদের রাষ্ট্রীয় নীতির একটি হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদের নিয়োগ এবং রপ্তানিকে গ্রহণ করেছে। পাকিস্তান বিভিন্ন উপায়ে, অঞ্চলে এবং তার বাইরেও সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক সমর্থক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তার পরামর্শদাতা চিন যে তার কর্মকাণ্ডের পর্যাপ্ত নিন্দা করেনি, তা দুর্বোধ্য। পাকিস্তানের আগেকার হিতৈষী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বহু বছর ধরে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য পাকিস্তানকে নিন্দা করে আসছে। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক, যার ন্যায্যতা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই প্রমাণ করতে পারে, দেশটি এখন পাকিস্তানের চক্রান্তের ক্ষেত্রে উদাসীন — ঘটনাটি সত্যিই আশ্চর্যজনক এবং পাকিস্তানকে তার ক্ষতিকর কার্যকলাপ তীব্রতর করতে উৎসাহিত করবে।


দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান-মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার ভারত সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের একটি নতুন দিক, যথা "হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদ" অনুভব করেছে।



সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি সাধারণত এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী গোষ্ঠীগুলির চেয়ে এগিয়ে থাকে। উপরন্তু, তারা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য নতুন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করে। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান-মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার ভারত সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদের একটি নতুন দিক, যথা "হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদ" অনুভব করেছে। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর, নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার পার্কিং এলাকার কাছে একটি গাড়ি বিস্ফোরণে এর যাত্রী, অভিযোগ অনুসারে ডাক্তার উমর নবি, এবং আরও ১৪ জন নিহত এবং বহু লোক আহত হয় এবং সম্পত্তির ক্ষতি হয়। ফরিদাবাদের সুপরিচিত আল ফালা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত একই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সদস্য বলে মনে করা হয় এমন আরও তিনজন ডাক্তারকে সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এবং এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। এটি একটি ভয়ঙ্কর এবং গভীরভাবে প্রোথিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে প্রদর্শন করেছিল, যা উচ্চ প্রশিক্ষিত এমন চিকিৎসা কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল যারা বিদেশী হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে তাদের আদেশ পাচ্ছিল। পুলিশ এবং ভারতের এনআইএ দ্রুত পদক্ষেপ করেছিল এবং এই ডাক্তারদের গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি প্রায় ৩,০০০ কেজি বিস্ফোরকও উদ্ধার করেছিল, যা স্পষ্টতই অনেক লক্ষ্যবস্তুতে বিশাল বিস্ফোরণের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। আল ফালা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে 'শ্বেত সন্ত্রাস' বাস্তুতন্ত্র লালন করার জন্য কঠোর তদন্তের অধীনে রয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন স্থানে এনআইএ এবং রাজ্য পুলিশের অভিযানের ফলে অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল এবং পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে, এবং রাইসিন প্লটের অভিযোগসহ রাসায়নিক এজেন্ট তৈরির পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ বাদগাম এলাকায় কিছু জৈশ-ই-মহম্মদের পোস্টারও খুঁজে পেয়েছিল। লাল কেল্লায় বিস্ফোরণের পর জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরক পরিবহণের সময় বাদগাম থানায় আরও নয়জনের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের কার্যকলাপ সম্পর্কে একটি দুঃখজনক ছবি তুলে ধরে। এই দুর্ঘটনাজনিত দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুগুলি এড়ানো সম্ভব ছিল এবং বাজেয়াপ্ত করা বিস্ফোরকগুলি রাখার জন্য আরও ভাল এসওপি তৈরি করা উচিত।


ভারত সবেমাত্র সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের উপর ভিত্তি করে, এবং আশ্চর্যজনকভাবে চিকিৎসা সম্প্রদায়ের উপর ভিত্তি করে, সন্ত্রাসী মডিউলের একটি নতুন দল প্রত্যক্ষ করেছে।


গুরুত্বপূর্ণভাবে, ভারত সবেমাত্র সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের উপর ভিত্তি করে, এবং আশ্চর্যজনকভাবে চিকিৎসা সম্প্রদায়ের উপর ভিত্তি করে, সন্ত্রাসী মডিউলের একটি নতুন দল প্রত্যক্ষ করেছে। এই নতুন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সকলের আঙুল উঠেছে পাকিস্তানের দিকে, যেখানে এখন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নতুন নেতৃত্ব চলছে। মুনির পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘনিষ্ঠতা, এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে তাঁর ব্যাপক সামরিক ও বিচারিক ক্ষমতার জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদনের মাধ্যমে আইনি আবরণ প্রদানে করায় উৎসাহিত বলে মনে হচ্ছে।

ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি

সম্প্রতি চিহ্নিত "হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদ" অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ। সন্ত্রাসবাদের এই রূপটিকে ধর্মীয় এবং কিছুটা রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হয়েছে, যা এই হুমকিকে আরও গভীর করে তোলে। তাই এটি সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য একটি সমগ্র জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন হবে।

সামগ্রিকভাবে, যেহেতু ভারত এখন একটি বিশ্বাসযোগ্য দ্বিমুখী হুমকির মুখোমুখি, এবং "হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদ" বিপদকে আরও জোরদার করছে, তাই ভারতের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সর্বোচ্চ স্তরের হতে হবে। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা ব্যাপকভাবে উন্নত করতে হবে, কারণ তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুধু সামরিক শক্তির উপর নির্ভর করে।


সামগ্রিকভাবে, যেহেতু ভারত এখন একটি বিশ্বাসযোগ্য দ্বিমুখী হুমকির মুখোমুখি, এবং "হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদ" বিপদকে আরও জোরদার করছে, তাই ভারতের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সর্বোচ্চ স্তরের হতে হবে।


ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশ বাহিনীকে তাদের তৃণমূল পর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য অর্জনের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে উন্নত করতে হবে। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে প্রতিপক্ষ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যের ভাগাভাগি সহায়ক প্রমাণিত হবে। সাদা পোশাকের দল এবং প্রতিষ্ঠানগুলিতে অতিরিক্ত গোয়েন্দা প্রচেষ্টার পরিকল্পনা করতে হবে, যার মধ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ভারতের কৌশলগত সংযমের নীতি থেকে শাস্তিমূলক প্রতিরোধের দিকে সরে যাওয়া প্রয়োজন। তবে, আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রেই, দেশটির একটি দৃঢ়, সর্বদা সতর্ক, সন্ত্রাসবাদের প্রতি "শূন্য সহনশীলতা" নীতির অনুসারী হওয়া উচিত, আবার একই সঙ্গে সকল নাগরিকের প্রতি ন্যায্য এবং নিরপেক্ষ থাকা উচিত। সীমান্তের ওপারের প্রচারণার ফাঁদে পা দেওয়া থেকে শিক্ষিত যুবকদের নিরুৎসাহিত করার জন্য একটি সমন্বিত, সুপরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

একটি উদীয়মান বিশ্বশক্তি হিসেবে ভারতকে তার উত্থান ও কল্যাণ বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে সংগঠিত প্রতিপক্ষের সমস্ত প্রচেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করতে হবে। সব ধরনের সন্ত্রাস এবং প্রক্সি যুদ্ধকে পরাজিত করার উপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকা উচিত।



লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামাল দাভার ভারতের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার প্রথম প্রধান ছিলেন এবং একজন বিখ্যাত কৌশলগত বিশ্লেষক।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.