-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
জলবায়ু পরিবর্তন ধানের মধ্যে আর্সেনিক দূষণকে আরও গুরুতর করছে, যা ভারত ও তার বাইরেও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করছে, বিশেষ করে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সকল চালের নমুনায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে, যেখানে প্রায় এক চতুর্থাংশেরও বেশি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) খাদ্য সুরক্ষা নির্দেশিকা অতিক্রম করেছে। সুতরাং, এটি উল্লেখ করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে যে, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল আবহাওয়ার ধরন ও কৃষি উৎপাদনশীলতার উপর প্রভাব ফেলছে না, বরং খাদ্য ব্যবস্থায় অদৃশ্য বিপদগুলিকেও বাড়িয়ে তুলছে। এই হুমকিগুলির মধ্যে অন্যতম - যা এখনও ততটা দৃষ্টিগোচর নয় - হল চালে অজৈব আর্সেনিকের পরিমাণ বেড়ে চলার ঘটনা, বিশেষ করে ভারতের প্রেক্ষাপটে, যেখানে চাল একটি খাদ্যতালিকাগত প্রধান পণ্য। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলস্বরূপ ফসল মাটি ও জলের সঙ্গে কী ভাবে মিথস্ক্রিয়া করে, তা প্রভাবিত করছে। তা ছাড়া, এটি ফসলের পুষ্টি ও বিষাক্ত পদার্থের পুনর্বণ্টনকেও প্রভাবিত করছে। তবুও সম্প্রতি ধানে আর্সেনিক দূষণ - যা সর্বদা ভৌগোলিক পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ জলের সংস্পর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত – জলবায়ু সম্পর্কিত সমস্যায় রূপান্তরিত হচ্ছে এবং তা খাদ্য সুরক্ষা ও মানুষের স্বাস্থ্য উভয়কেই প্রভাবিত করছে।
প্রচলিত ধান চাষ পদ্ধতির দ্বারা সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বন্যার সময় বেশির ভাগ বন্যার ক্ষেতে চাষ করা হয়। ফলে ধান কম অক্সিজেনযুক্ত পরিস্থিতিতে ভাল জন্মায়, যা অনিচ্ছাকৃত ভাবে আর্সেনিকের জৈব প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করে। এই ধরনের প্রবণতা - আর্সেনিক দ্বারা দূষিত সেচের জলের ব্যাপক ব্যবহারের দরুন - বিষাক্ত পদার্থকে দ্রবণীয় আকারে রূপান্তরিত করা সম্ভব করে তোলে, যা ধানের শিকড় দ্বারা সহজেই শোষিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এটি আরও তীব্র হয়, যা মাটির রসায়ন, তাপমাত্রা ও জলের ভারসাম্যে পরিবর্তন আনে। এর ফলে জলবায়ু পরিস্থিতি আর্সেনিকের শোষণকে ত্বরান্বিত করেছে। ভারতে সমস্যাটি আরও তীব্রতর হয়। কারণ আর্সেনিকের প্রাদুর্ভাব থাকা অঞ্চলে বন্যার সময় সেচ ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে ভারতে পর্যায়ক্রমে অজৈব আর্সেনিকের গড় ব্যবহার (এখন প্রতি কেজি শরীরের ওজনে ১.৫৪ মাইক্রোগ্রাম অনুমান করা হয়) ২.২১ মাইক্রোগ্রামে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃদ্ধি দুর্বল গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে, যাঁরা নিয়মিত তাদের খাবারে ভাত খান।
বাংলাদেশ, চিন, ভারত, ভিয়েতনাম, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলিতে চালে উচ্চ আর্সেনিকের দরুন এশিয়া বিশেষ ভাবে প্রভাবিত। ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ (২০২৪) জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, চালে আর্সেনিক দূষণের জলবায়ুগত প্রভাব ২০৫০ সালের মধ্যে ভারত-সহ এশিয়ার দেশগুলিতে আজীবন ক্যানসারের ঘটনা (চিনে ১৩.৪ থেকে ১৯.৩ মিলিয়ন) এবং অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রদান করেছে।
অজৈব আর্সেনিক অত্যন্ত বিষাক্ত এবং মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলে প্রাকৃতিক ভাবে উপস্থিত থাকে। ধানের মতো ফসলের মাধ্যমে এটি মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে, যা জলাবদ্ধ এলাকায় শোষিত হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে কম মাত্রায় ব্যবহারের ফলে ত্বক, ফুসফুস ও মূত্রাশয়ের ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং শিশুদের বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা সম্প্রতি আর্সেনিকের কার্সিনোজেনিসিটি পুনর্মূল্যায়ন করেছে, এটি আরও বেশি বলে মনে করেছে এবং জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ভাতে আর্সেনিকের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেনি। তবুও ডব্লিউএইচও এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দ্বারা যৌথ ভাবে পরিচালিত রাষ্ট্রপুঞ্জের (ইউএন) সংস্থা কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন পালিশ করা চালে ০.২ মিলিগ্রাম/কেজি অজৈব আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে। তা সত্ত্বেও বেশির ভাগ অঞ্চলে এই সীমা অতিক্রম করা হয়। বাংলাদেশ, চিন, ভারত, ভিয়েতনাম, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলিতে চালে উচ্চ আর্সেনিকের দরুন এশিয়া বিশেষ ভাবে প্রভাবিত। ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ (২০২৪) জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, চালে আর্সেনিক দূষণের জলবায়ুগত প্রভাব ২০৫০ সালের মধ্যে ভারত-সহ এশিয়ার দেশগুলিতে আজীবন ক্যানসারের ঘটনা (চিনে ১৩.৪ থেকে ১৯.৩ মিলিয়ন) এবং অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রদান করেছে।
এই হুমকি ভারতের রাজ্যগুলিতে এক রকম নয়। এটি দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্নাটক, তামিলনাড়ু এবং কেরালায় সবচেয়ে তীব্র ভাবে বিদ্যমান, যেখানে ধানের ব্যবহার ৬০-৯০ শতাংশ বেশি এবং আর্সেনিক প্রধানত পাওয়া যায় এমন অঞ্চলে, যেখানে বন্যা সেচ পদ্ধতির কারণে ধান আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের জন্য একটি সমন্বিত বহুমুখী প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। খামার পর্যায়ে এর মধ্যে রয়েছে ক্রমাগত বন্যার পরিবর্তে বিকল্প ভেজা ও শুকোনোর সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করে কম আর্সেনিকযুক্ত ধানের জাত নির্বাচন করা এবং আর্সেনিকের জৈব প্রাপ্যতা হ্রাস করার জন্য সিলিকন বা লোহা দিয়ে মাটি সংশোধন করা। উপরন্তু, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিকার নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের অনুশীলনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্কারগুলি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে - যেখানে শিশুদের জন্য চালের শস্য ও শিশুর খাবারে আর্সেনিকের মাত্রার উপর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে - ভারতে চালে আর্সেনিকের মাত্রার জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের অভাব রয়েছে।
স্বীকৃত পরীক্ষাগার থেকে সহজে বোধগম্য ও লব্ধ বিশ্লেষণের শংসাপত্রের (সিওএ) মাধ্যমে খুচরো দোকানগুলিতে আর্সেনিকের স্তরের মতো মানসম্পন্ন চিহ্নিতকারীগুলিকে স্পষ্ট ভাবে তালিকাভুক্ত করা উচিত। এই জাতীয় সিওএগুলি কিউআর কোডের মাধ্যমে প্যাকেজিংয়ে ডিজিটাল ভাবে বিতরণ করা যেতে পারে, যা গ্রাহকদের অবগত করতে সক্ষম করে। সর্বোপরি, সরকারগুলি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব আর্সেনিক পরীক্ষার কিটগুলিকে প্রচার করতে পারে। উপরন্তু, মাটি ও সেচের জলে আর্সেনিকের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য ফিল্ড টেস্ট কিট ব্যবহার করে বিকেন্দ্রীভূত পরীক্ষা ও রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে তথ্য সংগ্রহ করা, আর্সেনিক দূষণের প্রতিকারমূলক প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি করতে পারে। ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো নতুন প্রযুক্তির প্রবর্তন আর্সেনিক দূষণের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও প্রশমনকে রূপান্তরিত করতে পারে। মেশিন লার্নিংয়ের পাশাপাশি আইওটিভিত্তিক মাটি ও জল সেন্সর প্রয়োগ ধান চাষকারী অঞ্চলে ক্রমাগত আর্সেনিকের মাত্রা পর্যবেক্ষণে সহায়তা করতে পারে এবং নির্দিষ্ট সমাধানমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির পূর্বাভাস দিতে পারে। এটি সেচের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবে এবং খামার থেকে ধান তোলা পর্যন্ত… স্বাস্থ্য ঝুঁকির পরিমাণও হ্রাস করবে।
ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও প্রধান শস্যের গুণমান হ্রাস করার জন্য আর্সেনিক দূষণের সমস্যার প্রতিষেধক প্রদানের জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টার জরুরি প্রয়োজন, যা একটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আর্সেনিক সঙ্কট মোকাবিলায় অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হল জনসচেতনতার অভাব। বেশির ভাগ ভোক্তা চালে আর্সেনিক ও এর ব্যবহারের দরুন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত নন। একটি অত্যন্ত সাধারণ ভুল ধারণা হল, পালিশ করা সাদা চালকে মানসম্পন্ন বলে মনে করা, ব্র্যান্ডেড দোকান বা স্থানীয় বাজার (বাজার) থেকে কেনা চালের পুষ্টিগুণকে উপেক্ষা করে নিরাপদ বলে মনে করা। তবে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে প্রচারিত ধানের জাতগুলি - যেমন বাদামী চাল - তাদের তুষে আর্সেনিকের পরিমাণ বেশি থাকে। সচেতনতার এই ব্যবধান দূর করা যেতে পারে উচ্চ চালের ব্যবহারকারী এলাকায় একটি শিক্ষা প্রচারণার মাধ্যমে। প্রচুর পরিমাণে চাল ধুয়ে ফেলা ও ফোটানোর সময় অতিরিক্ত জল ব্যবহার করার মতো সহজ রান্নার পদ্ধতির মাধ্যমে আর্সেনিকের মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, জাপান ও বাংলাদেশে রান্নার ধরন এবং কম আর্সেনিকযুক্ত মাটিতে চাষের ফলে উচ্চ চালের ব্যবহার সত্ত্বেও আর্সেনিকের সংস্পর্শ কম হয়েছে।
এগিয়ে যাওয়ার পথ শক্তিশালী, সমন্বিত ও নীতিভিত্তিক হওয়া দরকার। চালে আর্সেনিকের সুরক্ষা মান নির্ধারণের পাশাপাশি, ভারতের খাদ্য সুরক্ষা এবং মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) জলবায়ু-সহনশীল ধান চাষের জন্য একটি জাতীয় পথনির্দেশিকা তৈরির কথাও বিবেচনা করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থায় বিনিয়োগের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা, যা আর্সেনিক গ্রহণ কমায় এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে। ভারত যখন জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ধানে আর্সেনিক হুমকির ঘটনাটি পরিবেশগত, স্বাস্থ্য ও কৃষি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সামগ্রিক পদ্ধতির জরুরি প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও প্রধান শস্যের গুণমান হ্রাস করার জন্য আর্সেনিক দূষণের সমস্যার প্রতিষেধক প্রদানের জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টার জরুরি প্রয়োজন, যা একটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শোভা সুরি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ফেলো।
তানিয়া ভার্মা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ইন্টার্ন।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Shoba Suri is a Senior Fellow with ORFs Health Initiative. Shoba is a nutritionist with experience in community and clinical research. She has worked on nutrition, ...
Read More +