Expert Speak Raisina Debates
Published on May 31, 2026 Updated 0 Hours ago


দূষণ শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়; এটি একটি পরিমাপগত সংকট। যতক্ষণ না ভারত তার উৎপাদনশীলতা এবং সম্পদ গণনার মধ্যে পরিবেশগত বাহ্যিক প্রভাবগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবে ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া উৎপাদনশীল ভিত্তিকে বৃদ্ধির বাহ্যিক সংখ্যাগুলি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে থাকবে।

পুঁজি হিসেবে নির্মল বায়ু: ভারতের অগ্রগতি পরিমাপের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা

ভারত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদের স্থাপত্য বিষয়ক তিন পর্বের ধারাবাহিকের প্রথম পর্ব।


উদারীকরণ-পরবর্তী ‌যুগের বেশিরভাগ সময় ধরে ভারত তার অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা পরিমাপ করেছে জিডিপি, শ্রম উৎপাদনশীলতা এবং মোট উপাদান (‌ফ্যাক্টর)‌ উৎপাদনশীলতার মতো পরিচিত গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে। এই পরিমাপকগুলি নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী এবং রেটিং এজেন্সি — সবার জন্যই একটি ড্যাশবোর্ড হিসেবে কাজ করেছে। তবে, শ্রমিক, পরিকাঠামো এবং মানব পুঁজির উপর দূষিত বায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবগুলি যখন হিসেবের মধ্যে আনা হয়, তখন ভারতের উৎপাদনশীল ভিত্তির চিত্রটি প্রচলিত পরিমাপকগুলির চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন দেখায়। বিশ্বের ৩০টি সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে ২১টিই এই দেশে অবস্থিত, এবং দূষণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ল্যানসেট কমিশনের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী ভারতে বায়ু দূষণের বার্ষিক অর্থনৈতিক ব্যয় জিডিপির ৩-৬ শতাংশ।

এর তাৎপর্য নিছক এই নয় যে ভারত একটি জনস্বাস্থ্যগত সংকটের সম্মুখীন। এটা স্পষ্ট যে দেশের কিছু আপাত অগ্রগতিকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, এবং উভয় বিষয় ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহৃত পরিমাপকগুলিতে এর অন্তর্নিহিত মূলধনের ক্ষয়ের কিছু অংশ বাদ পড়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) অধীনে গড়ে ওঠা অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ কাঠামোটি   ঠিক এই ব্যবধানটি পূরণ করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল: এটি একটি অর্থনীতির উৎপাদিত, মানব ও প্রাকৃতিক মূলধনের মজুত-ভিত্তিক পরিমাপ, যা প্রকাশ করে যে বর্তমান উৎপাদন উৎপাদনশীল সম্পদে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হচ্ছে, না কি সেগুলির নীরব ক্ষয়ের মাধ্যমে। ইউএনইপি-র সাম্প্রতিকতম মূল্যায়ন নিশ্চিত করে যে, ভারতের ভৌত ও মানব মূলধন ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও এর প্রাকৃতিক মূলধন হ্রাস পেয়েছে   — দূষিত বায়ু, যা একদিকে যেমন এই ক্ষয় প্রতিফলিত করে, তেমনই অন্যদিকে সেই মানব মূলধনের স্তম্ভকেই আঘাত করে এটিকে ত্বরান্বিত করে যার মাধ্যমে অন্যথায় পরিবেশগত ক্ষতি পূরণ করা যেত।

ভারতের উৎপাদনশীলতার জরিমানা

কণা পদার্থ (‌পার্টিকুলেট ম্যাটার)‌ এবং শ্রমিকের উৎপাদনের মধ্যে সম্পর্কটি এখন আর অনুমাননির্ভর নয়। লন্ডনের ‘আল্ট্রা লো এমিশন জোন’   (‌ইউএলইজেড)‌, যা বিশ্বের অন্যতম কঠোরভাবে পরীক্ষিত বায়ু-মানের নিয়ন্ত্রক, অসুস্থতাজনিত ছুটি ১৮.৫ শতাংশ এবং শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার ঘটনা ১০.২ শতাংশ কমিয়েছে, যার ফলে বার্ষিক জনস্বাস্থ্য খাতে ৩৭ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি সাশ্রয় হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইউএলইজেড-এর ভিত্তিস্তরটি ইতিমধ্যেই ভারতের বেশিরভাগ শহরের তুলনায় দশগুণ বেশি পরিচ্ছন্ন ছিল। নয়াদিল্লির পিএম২.৫-এর মাত্রা নিয়মিতভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকাকে প্রায় ৩০ গুণ ছাড়িয়ে যায়, যা থেকে বোঝা যায় যে তুলনামূলক ভারতীয় পদক্ষেপগুলির উৎপাদনশীলতা ডিভিডেন্ড লন্ডনের চেয়ে যথেষ্ট বেশি হতে পারে।


একটি পরিচ্ছন্ন অর্থনীতি অধিক উৎপাদনশীল হয়, এবং এর সুফল অসংগঠিত ও আধা-আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের কাছেই বেশি পৌঁছয় — যা নির্মল বাতাসকে উৎপাদনশীলতার জন্য উপলব্ধ সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত বিনিয়োগগুলির মধ্যে অন্যতম করে তোলে।



বিশ্ব ব্যাঙ্কের সংশ্লিষ্ট একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে যে, সূক্ষ্ম কণার বার্ষিক সংস্পর্শ বৃদ্ধি জেলা-স্তরের জিডিপির বার্ষিক বৃদ্ধি প্রায় ০.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে দেয় — যা ইঙ্গিত করে যে ভারতের ঘোষিত বৃদ্ধির হার পদ্ধতিগতভাবে প্রকৃত অগ্রগতিকে অতিরঞ্জিত করে দেখায়। এই ক্ষতি পাঁচটি ক্ষেত্রের মাধ্যমে ঘটে: কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেও কাজ না করা (প্রেজেন্টিজম), কর্মস্থলে অনুপস্থিতি (অ্যাবসেন্টিজম), অকালমৃত্যু, স্বাস্থ্যসেবা খাতে বর্ধিত ব্যয় এবং উপভোক্তা ব্যয়ে মন্দা। এর প্রতিটিই প্রকৃতপক্ষে মানব পুঁজির উপর এক ধরনের কর — এবং এমন একটি অর্থনীতিতে যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মী স্বাস্থ্য বিমা বা সবেতন ছুটি ছাড়াই অসংগঠিত বা আধা-আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, সেখানে এর প্রভাব তীব্রভাবে পশ্চাৎমুখী।

রাজ্যস্তরের   ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ অ্যানালিসিস’ এই বণ্টনগত বিন্যাসকে সুস্পষ্ট করে তোলে: বায়ু দূষণের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ রাজ্য জিডিপির সর্বনিম্ন ০.৬৭ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২.১৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে, যার সবচেয়ে ভারী বোঝাটি পড়ে উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের উপর — ঠিক সেই রাজ্যগুলিতেই, যাদের মাথাপিছু আয় সবচেয়ে কম। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, দূষণ কোনও একরূপ বাহ্যিক ব্যাঘাত নয়, বরং এটি একটি পশ্চাৎমুখী অভিঘাত যা আঞ্চলিক পুঁজির বৈষম্যকে বাড়িয়ে তোলে — এই পর্যবেক্ষণটি উপ-দেশীয় অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ (আইডব্লিউ) মূল্যায়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যায়, যেখানে নিম্ন-আইডব্লিউ রাজ্যগুলি ধারাবাহিকভাবে দুর্বল মানব ও ভৌত পুঁজির সঙ্গে অবনমিত পরিবেশগত পরিস্থিতিকে একত্র করে।

বাহ্যিক প্রভাব থেকে সম্পদে রূপান্তর: ইএপি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদের দৃষ্টিকোণ

গভীরতর বিশ্লেষণাত্মক পদক্ষেপটি হল বায়ুর গুণমানকে একটি সাধারণ জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসাবে বিবেচনা করা বন্ধ করে উৎপাদনশীল ভিত্তির একটি কঠিন উপাদান হিসাবে বিবেচনা করতে শুরু করা। এটিই হল পরিবেশগতভাবে সামঞ্জস্যকৃত উৎপাদনশীলতা (ইএপি)-র অবদান, যা বর্তমানে ওইসিডি দ্বারা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। ইএপি নির্গমন ও দূষণকে নেতিবাচক উৎপাদন হিসেবে গণ্য করে, ছায়া মূল্যের মাধ্যমে সেগুলির মূল্য নির্ধারণ করে, এবং পরিমাপকৃত মূল্য সংযোজন থেকে এই খরচগুলি বাদ দেয়। এর ফলাফল চমকপ্রদ: পেট্রোলিয়াম পরিশোধন, বিমান পরিবহণ, খনি এবং বেশ কয়েকটি ভারী-শিল্প খাত, যেগুলি প্রচলিত মানদণ্ডে লাভজনক বলে মনে হয়, দূষণের খরচ অন্তর্ভুক্ত করার পর সেগুলির প্রকৃত উৎপাদনশীলতা নেতিবাচক হয়ে যায়। মূলধন বরাদ্দের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ — প্রচলিত উৎপাদনশীলতার সংকেত দ্বারা পরিচালিত বিনিয়োগ এমন খাতগুলির দিকে আকৃষ্ট হতে পারে, যেগুলি আরও পূর্ণাঙ্গ হিসাব অনুযায়ী উৎপাদনের চেয়ে বেশি সামাজিক মূল্য ভোগ করে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ এই অন্তর্দৃষ্টির জন্য একটি বৃহত্তর কাঠামো প্রদান করে। যেখানে ইএপি প্রবাহ-ভিত্তিক উৎপাদনশীলতার পরিমাপকে সংশোধন করে, সেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ আদতে উৎপাদিত, মানব এবং প্রাকৃতিক মূলধনকে একটি একক সমন্বিত পোর্টফোলিও হিসেবে বিবেচনা করে মজুত-ভিত্তিক সম্পদের পরিমাপকে সংশোধন করে। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারির নির্দেশে পরিচালিত  ‘জীববৈচিত্র্যের অর্থনীতি পর্যালোচনা’র মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করেছে যে, এ হল এমন এক কাঠামো যেখানে একটি মূলধন মজুত হ্রাস করে অন্যটিকে স্ফীত করার মাধ্যমে বৃদ্ধি অর্থায়ন করা হয় — এটি গঠনগতভাবে অসম্পূর্ণ এবং একটি আন্তঃপ্রজন্ম হস্তান্তর। পরিবেশগত অর্থনীতির ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একটি বিষয় তুলে ধরেছে: উৎপাদিত এবং প্রাকৃতিক মূলধন অসম্পূর্ণ বিকল্প, বিশেষ করে যেখানে ঘন শহুরে অববাহিকায় বায়ুর অবক্ষয়ের মতো ক্ষতি এমন একটি সীমায় পৌঁছয় যার পরে ভৌত-মূলধন সঞ্চয় আর বিশ্বাসযোগ্যভাবে ক্ষতিপূরণ করতে পারে না। ইউএনইপি-র সাম্প্রতিকতম মূল্যায়ন দেখায় যে, পূর্ববর্তী অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ প্রতিবেদনের অনুমানের তুলনায় ভারতের প্রাকৃতিক মূলধন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও এর ভৌত এবং মানব মূলধন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে — এমন একটি চিত্র যা দেখায় বায়ুর মানের উন্নতি পরিবেশগত ক্ষতির ক্ষতিপূরণকারী মানব-মূলধনের অর্জনকে রক্ষা করার মাধ্যমে অর্থপূর্ণভাবে শক্তিশালী হতে পারে।


এই দৃষ্টিকোণ থেকে, দূষণ কোনও একরূপ বাহ্যিক ব্যাঘাত নয়, বরং এটি একটি পশ্চাৎমুখী অভিঘাত যা আঞ্চলিক পুঁজির বৈষম্যকে বাড়িয়ে তোলে — এই পর্যবেক্ষণটি উপ-দেশীয় অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ (আইডব্লিউ) মূল্যায়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যায়, যেখানে নিম্ন-আইডব্লিউ রাজ্যগুলি ধারাবাহিকভাবে দুর্বল মানব ও ভৌত পুঁজির সঙ্গে অবনমিত পরিবেশগত পরিস্থিতিকে একত্র করে।



এই পুনর্গঠন শুধু তাত্ত্বিক নয়। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক হিসাব ব্যবস্থা (সিইইএ)-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ন্যাচারাল ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ভ্যালুয়েশন অফ ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস (এনসিএভিইএস)’ প্রকল্পের অধীনে সবুজ সম্পদ হিসাব চালু করেছে। যা এখনও অনুপস্থিত তা হল, উৎপাদনশীলতার পরিমাপকে এবং ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার পাইপলাইনের মতো সরকারি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম দ্বারা গৃহীত খাত-ভিত্তিক পুঁজি বরাদ্দের সিদ্ধান্তে বায়ুর গুণগত মানের ক্ষতিকে অন্তর্ভুক্ত করা।

তিন স্তরে নীতি

তিনটি কার্যকরী পরিবর্তন এই বিশ্লেষণাত্মক পুনর্গঠনকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তরিত করবে। প্রথমত, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পরিসংখ্যান দপ্তরগুলিকে আমদানি করা বৈশ্বিক ক্ষতির অনুমানের পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যগত বোঝা প্রতিফলিত করে এমন ছায়া মূল্য ব্যবহার করে ভারত-নির্দিষ্ট পরিবেশগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ উৎপাদনশীলতার ধারা তৈরি করতে হবে। ভারতের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত ছায়া মূল্য ছাড়া, ইএপি গাঙ্গেয় সমভূমির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে বায়ুমণ্ডলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ কম করে দেখানোর ঝুঁকি তৈরি করে, যেখানে দূষণের সংস্পর্শ এবং অনানুষ্ঠানিক কার্যকলাপ উভয়ই জটিল আকার ধারণ করে।

দ্বিতীয়ত, ভারতের উচিত বায়ুর গুণমান সংক্রান্ত নিয়মকানুনকে পরিবেশগত বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে মানব-মূলধন বিনিয়োগ হিসেবে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লির বাইরে অন্য প্রধান মহানগরগুলিতে স্বল্প নির্গমন অঞ্চল সম্প্রসারণ করা, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ বায়ুর গুণমান এবং বায়ুচলাচলের মান বাধ্যতামূলক করা, এবং এইচভিএসি আধুনিকীকরণের সঙ্গে এসএমই  কর ছাড়ের সুবিধা যুক্ত করা। পরীক্ষামূলক স্বল্প নির্গমন অঞ্চলগুলিতে অসুস্থতাজনিত ছুটি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যবহার এবং উৎপাদনের উপর শ্রমিক-স্তরের পর্যবেক্ষণ ঠিক সেই ধরনের তথ্য-প্রমাণ তৈরি করবে যা লন্ডনের ইউএলইজেড বর্তমানে সরবরাহ করে,  এবং এটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত কারণের পরিবর্তে উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে পরিচ্ছন্ন বায়ুর জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন তৈরিতে সাহায্য করবে।


এ হল এমন এক কাঠামো যেখানে একটি মূলধন মজুত হ্রাস করে অন্যটিকে স্ফীত করার মাধ্যমে বৃদ্ধি অর্থায়ন করা হয় — এটি গঠনগতভাবে অসম্পূর্ণ এবং একটি আন্তঃপ্রজন্ম হস্তান্তর।



তৃতীয়ত, ভারতের উচিত উপ-দেশীয় স্তরে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ সূচক  পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা। ভারতীয় রাজ্যগুলির জন্য একটি উপ-দেশীয় অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ সূচকের উপর প্রাথমিক কাজ দেখিয়েছে যে কীভাবে নীতি আয়োগের এসডিজি ড্যাশবোর্ডকে একটি স্টক-ভিত্তিক সূচক কাঠামো হিসাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। একটি উপ-দেশীয় অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ সূচক, যা বায়ু দূষণের মূল্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে, তা প্রাধান্যপ্রাপ্ত বৃদ্ধির র‍্যাঙ্কিং এবং প্রকৃত সম্পদ সঞ্চয়ের মধ্যেকার পার্থক্যকে উন্মোচিত করবে, যার ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় রাজস্ব কাঠামোকেও প্রভাবিত করবে।

গভীরতর বিষয়টি হল, বৃদ্ধি ও পরিবেশের মধ্যেকার আপেক্ষিক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের ধারণাটিকে এখন অর্থনৈতিক প্রশ্নের পরিবর্তে পরিমাপগত প্রশ্ন হিসেবেই ক্রমশ বেশি করে বোঝা হচ্ছে। একটি পরিচ্ছন্ন অর্থনীতি অধিক উৎপাদনশীল হয়, এবং এর সুফল অসংগঠিত ও আধা-আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের কাছেই বেশি পৌঁছয় — যা নির্মল বাতাসকে উৎপাদনশীলতার জন্য উপলব্ধ সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত বিনিয়োগগুলির মধ্যে অন্যতম করে তোলে। ভারতের ক্রমবিকাশমান পরিসংখ্যানগত কাঠামো এই বিশ্লেষণমূলক রূপান্তরকে অনুসরণ না করে বরং নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশটিকে উপযুক্ত অবস্থানে রেখেছে। বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী, উৎপাদনশীলতার এই সুফল যথেষ্ট পরিমাণে এবং বণ্টনগতভাবে প্রগতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিরিজের পরবর্তী পর্বে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্তরের পরিমাপ থেকে সরে এসে প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক খাতের স্তরে এর অনুসিদ্ধান্তের দিকে দৃষ্টিপাত করা হবে: কীভাবে মূলধন বরাদ্দের নির্দেশক আর্থিক অনুপাতগুলিকেই একই অন্তর্ভুক্তিমূলক-সম্পদের যুক্তি প্রতিফলিত করার জন্য পুনর্গঠন করা যায়।



সৌম্য ভৌমিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকনমিক ডিপ্লোম্যাসি (সিএনইডি)-এর ফেলো এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রধান।


ডিসক্লেমার

এই নিবন্ধটি টোকিও ফাউন্ডেশনের ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের এসওয়াইএলএফএফ রিসার্চ গ্রান্ট (এসআরজি) দ্বারা সমর্থিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শের উপর ভিত্তি করে রচিত। লেখক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে একজন প্রাক্তন এসওয়াইএলএফএফ ফেলো হিসেবে এই অনুদানের জন্য যোগ্য ছিলেন, এবং এই অনুদানটি লেখককে নাইরোবিতে ইউএনইপি সদর দফতরে এবং ভারত ও বিদেশের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সংস্থার সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ কাঠামোর কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম করেছে।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.