তাই-কম্বোডিয়া সীমান্তে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিনের নীরব কূটনীতি অস্থিরতা পরিচালনা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য গঠনের চেয়ে সংঘাত সমাধানের উপর কম মনোযোগী একটি কৌশলকেই প্রকাশ করে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে কুয়ালালামপুরে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের সময় একটি অস্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে তাই-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে। আসিয়ান সভাপতি হিসেবে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে বিদ্যমান সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধ করার জন্য কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। উভয় দেশই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও তাইল্যান্ড এটিকে শান্তি চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কম্বোডিয়া আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে।
তাইল্যান্ড ৭ ডিসেম্বর তাই ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দলকে অতর্কিত আক্রমণের অভিযোগ করেছে, যার ফলে দুই সৈন্য আহত হয়েছে। অন্য দিকে, কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে যে, তাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সাধারণ নির্বাচনের আগে তাঁর নির্বাচনী সম্ভাবনা জোরদার করার জন্য সংঘাত বাড়িয়ে তুলছেন। পারস্পরিক অভিযোগ এবং গভীর অবিশ্বাসের এই পটভূমিতে, সর্বশেষ দফায় লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
তাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী এ বার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে যতক্ষণ না তারা বিশ্বাস করে যে, কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী আর সীমান্তে হুমকি তৈরি করছে না। তাইল্যান্ডের আধিকারিকরা ব্যক্তিগত ভাবে যুক্তি দিয়েছেন যে, জুলাইয়ের সংঘর্ষের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি না হলে কম্বোডিয়া কোনও যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে না।
সেই কঠোর অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছিল ১৩ ডিসেম্বর, যখন তাই এফ-১৬ বিমানগুলি পুরসাত প্রদেশের মে তেউক নদীর উপর চিন-নির্মিত একটি সেতুতে বোমাবর্ষণ করে, যার ফলে কম্বোডিয়ার দক্ষিণ সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমান হামলায় একটি ক্যাসিনোর কাছে বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করে যে, এটি সামরিক কম্যান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বিদ্যমান সংঘাতে বেজিংয়ের ভূমিকা সবচেয়ে ভাল ভাবে বোঝা যায় বিশ্ব মঞ্চে তারা কী প্রকল্প পেশ করছে তা দিয়ে নয়, বরং তারা সাবধানে কোন কোন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলেছে, তা দিয়ে। চিনের দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত ধৈর্য এবং প্রভাব বিস্তারের জন্য সীমিত অস্থিরতার সহনশীলতার উপর নির্ভর করে আসছে।
পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। তাইল্যান্ড এমন উন্নত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত, যা কম্বোডিয়ার কাছে নেই। ১৬ ডিসেম্বর তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র দাবি করেন যে, নমপেন প্রথমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করুক, যুদ্ধবিরতি বাস্তবে ধারাবাহিক ভাবে বাস্তবায়িত হোক এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ল্যান্ডমাইন পরিষ্কার করার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাক।
এই ঘটনাপ্রবাহের মাঝেই চিন পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিরাগত শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। ১৮ ডিসেম্বর বেজিং আলোচনা সহজতর করতে এবং এই অঞ্চলে ‘শান্তি’ হিসাবে বর্ণিত প্রচারের জন্য এক বিশেষ দূত পাঠায়। তাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া উভয়ের সঙ্গেই দৃঢ় সম্পর্কযুক্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে চিন নিজেকে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। তবে বেজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি সতর্ক বলে মনে হচ্ছে, সংঘাতের গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক চালিকাশক্তি মোকাবিলার চেয়ে স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
চিনের নীরব মধ্যস্থতা
জুলাইয়ের সংঘাতের সময় চিনের ফরেন মিনিস্টার ওয়াং ই ২৫ জুলাই বেজিংয়ে অ্যাসোসিয়েশন ফর সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) সেক্রেটারি জেনারেল কাও কিম হোর্নের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের আলোচনার সময় ওয়াং চিনকে একটি অ-ঔপনিবেশিক সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে চিত্রিত করেন এবং সীমান্ত বিরোধকে পশ্চিমা উপনিবেশবাদের উত্তরাধিকার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আসিয়ানকে এই সংঘাতের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।
চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রক পরে নিশ্চিত করে যে, তাদের এশীয় বিষয়ক বিশেষ দূত (স্পেশ্যাল এনভয় ফর এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স) জুলাইয়ের শেষের দিকে শান্তি আলোচনাকে উৎসাহিত করার জন্য তাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া উভয় দেশেই সফর করেছিলেন, যদিও সেই সময়ে রাষ্ট্রদূতের নাম প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। সেপ্টেম্বরে পরবর্তী সফরে রাষ্ট্রদূতকে দেং জিজুন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা সত্ত্বেও চিনের প্রচেষ্টা অবমূল্যায়িত ছিল এবং তেমন আন্তর্জাতিক মনোযোগ পায়নি।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পরে ৩০ অক্টোবর বুসানে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছিলেন যে, চিন বিরোধ সমাধানে ‘নিজস্ব উপায়ে’ কম্বোডিয়া এবং তাইল্যান্ড উভয়কেই সহায়তা করেছে। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই এই বিবৃতিটি প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক আখ্যানে প্রাধান্য পেয়েছিল এবং কার্যকর ভাবে বেজিংয়ের মধ্যস্থতার ভূমিকাকে উপেক্ষা করে গিয়েছিল।
এই অনালোচিত পদ্ধতি সত্ত্বেও চিন উভয় পক্ষের উপর যথেষ্ট প্রভাব বজায় রাখে। কম্বোডিয়া চিনা অস্ত্রের একটি প্রধান গ্রাহক এবং বেজিংয়ের সঙ্গে গভীর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া এবং রিম নৌ ঘাঁটিতে চিনা প্রবেশাধিকারের খবর। ন্যাটো-বহির্ভূত মার্কিন মিত্র তাইল্যান্ডও চিনা অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য ক্রেতা। ২০২৪ সালে তাইল্যান্ড চিন থেকে তার মোট অস্ত্র আমদানির ৪৩ শতাংশ আমদানি করেছিল। যদিও তাই বাহিনী সর্বশেষ সংঘর্ষের সময় মার্কিন তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বলে জানা গিয়েছে।
চিনের স্বার্থ উত্তেজনা সম্পূর্ণ রূপে দূর করার মধ্যে নয়, বরং তা যাতে পরিচালনাযোগ্য এবং বাহ্যিক ভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে তা নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত। এই পদ্ধতি একটি অপরিহার্য বহিরাগত শক্তি হিসেবে চিনের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
বিদ্যমান সংঘাতে বেজিংয়ের ভূমিকা সবচেয়ে ভাল ভাবে বোঝা যায় বিশ্ব মঞ্চে তারা কী প্রকল্প পেশ করছে তা দিয়ে নয়, বরং তারা সাবধানে কোন কোন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলেছে, তা দিয়ে। চিনের দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত ধৈর্য এবং প্রভাব বিস্তারের জন্য সীমিত অস্থিরতার সহনশীলতার উপর নির্ভর করে আসছে। এটি সরাসরি সংঘাত সমাধানের পরিবর্তে কৌশলগত পরিবেশ পরিচালনা বা গঠনের উপর জোর দেয়।
এ কথা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, তাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘাত থেকে চিন লাভবান হয় না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য বেজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে উভয় দেশই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর (বিআরআই) অধীনে, যেখানে এই অঞ্চলে প্রধান অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলি বিদ্যমান রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বিআরআই অবকাঠামো প্রকল্পগুলিকে হুমকির মুখে ফেলতে থাকবে এবং বাণিজ্য করিডোরগুলিকে ব্যাহত করবে।
তবে চিনের স্বার্থ উত্তেজনা সম্পূর্ণ রূপে দূর করার মধ্যে নয়, বরং তা যাতে পরিচালনাযোগ্য এবং বাহ্যিক ভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে তা নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত। এই পদ্ধতি একটি অপরিহার্য বহিরাগত শক্তি হিসেবে চিনের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এই প্রেক্ষিতে গঠনমূলক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চিনের ভূমিকার উপর জোর দিয়ে, উভয় পক্ষের মধ্যে সংযমকে উৎসাহিত করার জন্য ১৮ ডিসেম্বর দেং জিজুনকে আবারও পাঠানো হয়েছিল। চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যে, তাইল্যান্ডের সৈন্যরা সংঘর্ষের সময় কম্বোডিয়ান সৈন্যদের কাছ থেকে চিনের তৈরি ট্যাঙ্ক-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রকে নিরস্ত করেছে। বেজিং পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, উভয় দেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের লক্ষ্যে নয় এবং সীমান্ত সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
আসিয়ান দ্বারা মধ্যস্থতার সীমাবদ্ধতা
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও আসিয়ান ব্লকের ঘূর্ণায়মান সভাপতি হিসেবে মালয়েশিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে। যদিও বাস্তব অগ্রগতি খুব কমই হয়েছে, তবে তাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ২২ ডিসেম্বর আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে সম্মত হয়েছিলেন, যা কুয়ালালামপুরে আলোচনা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরির জন্য একটি মঞ্চ হিসাবে তৈরি করেছে। মালয়েশিয়ার প্রাইম নিনিস্টার আনোয়ার ইব্রাহিম বারবার উভয় পক্ষকে ‘সংলাপ, প্রজ্ঞা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসিয়ান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
যাই হোক, আসিয়ানের ভূমিকা কাঠামোগত ভাবে সীমিতই থেকেছে। ঐকমত্য এবং হস্তক্ষেপ না করার প্রতি এর প্রতিশ্রুতি এটিকে আলোচনাকে সহজতর করার অনুমতি দিলেও ফলাফল কার্যকর করার অনুমতি দেয় না। তবে এই সীমাবদ্ধতাগুলি আসিয়ানকে চিনের জন্য একটি আকর্ষক মঞ্চ করে তোলে। আসিয়ান-নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়াগুলি সঙ্কটগুলিকে আঞ্চলিক ভাবে সীমাবদ্ধ রাখে এবং সমাধানগুলি প্রক্রিয়াগত ভাবে ধীর করে। এর পাশাপাশি আবার বহিরাগত শক্তিদের, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের, সিদ্ধান্তমূলক হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত করে।
ব্যাঙ্কক আবার জোর দিয়ে বলেছে যে, শান্তি আলোচনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা চিনের মধ্যস্থতার ফসল নয়, বরং উভয় পক্ষের পারস্পরিক সিদ্ধান্তেরই প্রতিফলন ঘটায়। ব্যাঙ্কক আরও বলেছে যে, প্রক্রিয়াটি বহিরাগত চাপ দ্বারা নয়, বরং স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত শর্ত দ্বারা পরিচালিত হয়।
২২ ডিসেম্বরের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, উভয় দেশ ২৪ ডিসেম্বর যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বৈঠক করবে। তাইল্যান্ড জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা দৃঢ় প্রতিশ্রুতি, একটি স্পষ্ট বাস্তবায়ন কাঠামো এবং মাইন অপসারণের অগ্রগতির দ্বারা সমর্থিত একটি ‘প্রকৃত যুদ্ধবিরতি’ চাইছে। তাইল্যান্ডের ফরেন মিনিস্টার সিহাসাক ফুয়াংকেটকিও জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুদ্ধবিরতি ‘শুধু ঘোষণা করা যাবে না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।’ উল্লেখযোগ্য ভাবে, ব্যাঙ্কক আবার জোর দিয়ে বলেছে যে, শান্তি আলোচনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা চিনের মধ্যস্থতার ফসল নয়, বরং উভয় পক্ষের পারস্পরিক সিদ্ধান্তেরই প্রতিফলন ঘটায়। ব্যাঙ্কক আরও বলেছে যে, প্রক্রিয়াটি বহিরাগত চাপ দ্বারা নয়, বরং স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত শর্ত দ্বারা পরিচালিত হয়।
উভয় পক্ষ ২৭ ডিসেম্বর তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছতে সম্মত হলেও কিছু উত্তেজনা রয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড থেকে ২৫০টি মানবহীন ড্রোনের অনুপ্রবেশ নিয়ে তাইল্যান্ড উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে নিতান্তই ‘ছোট সমস্যা’ বলে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে যে, কম্বোডিয়া এটির জোরদার তদন্ত করছে। তবে সংযম যদি বজায় না রাখা হয়, তা হলে এই ধরনের অবিশ্বাসের ঘটনাগুলিই ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করার ঝুঁকি তৈরি করে। ৩১ ডিসেম্বর তাইল্যান্ড ১৮ জন কম্বোডিয়ান সৈন্যকে মুক্তি দিয়েছে এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার সম্ভাবনা তাই স্পষ্ট।
তাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সীমান্ত সঙ্কট এই অঞ্চলে মধ্যস্থতার সীমাবদ্ধতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। আঞ্চলিক সংস্থা, বহিরাগত শক্তি এবং পক্ষগুলির বর্তমান প্রচেষ্টা এমন একটি সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করে, যা সমাধানের পরিবর্তে বরং পরিচালিত হচ্ছে। আপাতত, স্থিতিশীলতা আস্থার উপর কম এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির সতর্কতার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়ার উপরই বেশি নির্ভর করে।
শ্রীপর্ণা ব্যানার্জি অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Sreeparna Banerjee is an Associate Fellow in the Strategic Studies Programme. Her work focuses on the geopolitical and strategic affairs concerning two Southeast Asian countries, namely ...
Read More +