পারমাণবিক বিমানবাহী রণতরীর দিকে চিনের পদক্ষেপ পিএলএএন-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করে — তার নিকটবর্তী সমুদ্রের বাইরে সহনক্ষমতা, নাগাল ও শক্তি প্রক্ষেপণ সম্প্রসারণ।
এটি ‘চায়না ক্রনিকলস ’ সিরিজের ১৮৮তম প্রবন্ধ
চিনের একটি পারমাণবিক বিমানবাহী রণতরী (ক্যারিয়ার) নির্মাণের প্রতিবেদিত পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (পিএলএএন) তার রণতরী উন্নয়ন কর্মসূচিতে একটি সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে, যেখানে সহনক্ষমতা (এনডিওরেন্স), নাগাল ও স্থায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। যদিও পিএলএএন-এর নতুন কমিশনড রণতরী, সিএনএস ফুজিয়ান, বিমান ও রণতরী প্রযুক্তিতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চিহ্নিত করে, এটি প্রচলিত শক্তিসম্পন্ন, এবং জীবাশ্ম জ্বালানি দ্বারা চালিত, যা এর অন-স্টেশন সহনক্ষমতা দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে, এবং একে একটি দুর্বল লজিস্টিক লেজের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে। ফলস্বরূপ, পিএলএএন যদি চিনের নিকটবর্তী সমুদ্রের বাইরে, এমনকি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে, তার কার্যক্রম প্রসারিত করে তবে এই রণতরীগুলি বাধার সম্মুখীন হবে।
চিনের একটি পারমাণবিক বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (পিএলএএন) তার রণতরী উন্নয়ন কর্মসূচিতে একটি সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে।
বেজিংয়ের 'দূর সমুদ্র সুরক্ষা' লক্ষ্যের জন্য — বিশেষ করে ভারত মহাসাগর এবং তার বাইরেও পরিচালনা করার জন্য — পারমাণবিক রণতরী একটি অপরিহার্য ক্ষমতা। অতএব, এখানে দুটি প্রশ্ন উঠে আসে যা এই আলোচনাকে রূপ দেবে: চিন কত দ্রুত পারমাণবিক চালনা, তড়িৎ চৌম্বকীয় উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (ইএমএএলএস), এবং ক্যারিয়ার বিমান চালনাকে একটি সুসঙ্গত নৌ-কৌশলে সংযুক্ত করতে পারে? আঞ্চলিক নৌবাহিনীগুলির, বিশেষ করে ভারতীয় নৌবাহিনীর, এই পরিস্থিতির জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
পরিকল্পনা তালিকায় বিমানবাহী রণতরী
ছবি ১: চিনের বিদ্যমান রণতরী
সূত্র: ন্যাশনাল সিকিউরিটি জার্নাল
ছবি ২: ফুজিয়ান কমিশনিংয়ে শি জিনপিং
সূত্র: চায়না মিলিটারি অনলাইন
চিন ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে একটি উচ্চ-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে তার সর্বশেষ রণতরী ফুজিয়ানকে কমিশন করে। এই রণতরীটি ইএমএএলএস এবং জে-৩৫ স্টেলথ ফাইটার, জে-১৫টি হেভি স্ট্রাইক ফাইটার এবং কেজে-৬০০ এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (এইডব্লিউঅ্যান্ডসি) বিমান, এবং সেইসঙ্গে হেলিকপ্টার দিয়ে সজ্জিত, যা পিএলএএন-এর নীল জলের বিমান চলাচলের ক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি। ফুজিয়ান ইতিমধ্যেই তার স্টেলথ ফাইটার উৎক্ষেপণের জন্য ইএমএএলএস ব্যবহার করেছে, যা নৌ-বিমান চলাচলে একটি রেকর্ড স্থাপন করেছে। তবে, রণতরীটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আত্মবিশ্বাসী, নিয়মিত পরিচালনার জন্য বহু বছরের পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন নৌ-পরিচালনা মতবাদের সংযুক্তকরণের প্রয়োজন হবে।
বেজিংয়ের 'দূর সমুদ্র সুরক্ষা' লক্ষ্যের জন্য — বিশেষ করে ভারত মহাসাগর এবং তার বাইরেও পরিচালনা করার জন্য — পারমাণবিক রণতরী একটি অপরিহার্য ক্ষমতা।
তবুও, এই ফ্ল্যাটটপ চিনের বিদ্যমান দুটি স্কি-জাম্প ক্যারিয়ার লিয়াওনিং এবং শানডং-এর তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করে। উভয়ই যথাক্রমে ২০১২ এবং ২০১৯ সালে কাজে প্রবেশ করেছিল, এবং প্রাথমিকভাবে পিএলএএন-এর প্রথম প্রজন্মের রণতরী কমান্ডার এবং নৌ-বিমানচালকদের প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। এই প্রথম প্রজন্মের রণতরী পরিচালকেরা সিনিয়র পদে স্থানান্তরিত হওয়ার সাথে সাথে, পিএলএএন নীল জল বিমান চালনায় অভিজ্ঞতামূলক এবং পরিচালনাগত গভীরতা অর্জন করতে শুরু করেছে। যাই হোক, সতর্কতা মূল কর্মক্ষম দর্শন হিসেবে রয়ে গিয়েছে, কারণ পরিপক্ব প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের অভাবে বেজিং ক্রমবর্ধমান দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং আক্রমণাত্মক পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেয়ে ঝুঁকি-প্রতিরোধী রণতরী পরিচালনার উপর জোর দিয়েছে।
পারমাণবিক রণতরীর প্রয়োজনীয়তা
সিএনএস ফুজিয়ান এবং এর সহযোগী জাহাজগুলি যখন পিএলএএন-এর নৌ-বিমান চলাচল ক্ষমতায় অগ্রগতির চিহ্ন তুলে ধরছে, তখনও তারা একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হচ্ছে: একটি প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত বাষ্প টারবাইন প্রপালশন সিস্টেম। ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই সর্বশেষ যুদ্ধজাহাজটি আটটি বয়লার দ্বারা ক্ষমতায়িত যা চারটি বাষ্প টারবাইন চালনা করে, এবং তা আনুমানিক ২৮০,০০০ শ্যাফ্ট হর্সপাওয়ার বা ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি চারটি প্রপেলার শ্যাফ্ট সরবরাহ করে। এই কনফিগারেশনটি ফুজিয়ানকে সর্বোচ্চ ৩০ নট গতিতে চালাতে পারে, যা একটি ভাল বৈশিষ্ট্য। তবে, এটি পারমাণবিক যুদ্ধজাহাজের সহনক্ষমতা ও টেকসই গতির তুলনায় অনেক কম।
তাছাড়া, স্টিম টারবাইন প্রপালশন সিস্টেমগুলি স্বভাবতই জ্বালানি-নিবিড়, এবং যখন রণতরীটি উচ্চ-গতির পরিচালনে রূপান্তরিত হয় তখন তাদের ব্যবহার তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। চিনের স্টিম-টারবাইন ক্যারিয়ারগুলি সাধারণত ৮,০০০ টনেরও বেশি জাহাজ জ্বালানি এবং ৭,০০০-৮০০০ টনেরও বেশি বিমান জ্বালানি বহন করে। ১৮ নটের সাশ্রয়ী ক্রুজ গতিতে, ফ্ল্যাটটপটি প্রতিদিন গড়ে ৪০০ টন জ্বালানি খরচ করে। উচ্চ-গতির সময়, দৈনিক জ্বালানি খরচ সর্বোচ্চ ১,১০০ টন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই দহন হারে, ক্যারিয়ারের থিয়েটারের ভিতরের সহনক্ষমতা প্রায় ১৫-১৮ দিন বজায় থাকবে। যেহেতু রণতরীটি তার যুদ্ধ দলের মূল অংশ হিসেবে কাজ করে, এবং ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, সাবমেরিন ও রিপ্লেনিশমেন্ট জাহাজ দ্বারা এসকর্ট করা হয়, তাই সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা প্রচণ্ড হবে।
এই দহন হারে, ক্যারিয়ারের থিয়েটারের ভিতরের সহনক্ষমতা প্রায় ১৫-১৮ দিন বজায় থাকবে।
তাই, দক্ষিণ চিন সাগর (এসসিএস) এবং কাছাকাছি জলসীমায়, বিশেষ করে প্রথম এবং দ্বিতীয় দ্বীপপুঞ্জের আশেপাশে, বেজিংয়ের জন্য কার্যক্রম সুবিধাজনক এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। চিন সরবরাহ জাহাজের মাধ্যমে তার রণতরীগুলিকে টিকিয়ে রাখতে পারে, এবং একই সঙ্গে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরক্ষামূলক পরিসরের মধ্যেও রাখতে পারে। স্বল্প সময়ের উচ্চ-গতির অভিযানের জন্য, রণতরীগুলি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে আরও এগিয়ে যেতে পারে।
যাই হোক, দ্বিতীয় দ্বীপপুঞ্জ শৃঙ্খলের বাইরে বা ভারত মহাসাগরের দিকে যে কোনও পদক্ষেপ কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ লজিস্টিক লেজগুলি দীর্ঘায়িত হয় এবং দুর্বল হয়ে যায়। ভারত মহাসাগরে জ্বালানি, বিশ্রাম, মেরামত এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তার জন্য চিনা প্রচেষ্টা অস্পষ্ট থাকে। জিবুতি এই অঞ্চলে একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য চিনা ঘাঁটি, যেখানে চট্টগ্রাম, হাম্বানটোটা এবং গোয়াদরে প্রবেশাধিকার পাইপলাইনে রয়েছে। অতএব, ভারত মহাসাগরে প্রচলিত জ্বালানি-চালিত রণতরীর ঝাঁক মোতায়েন করা এখনও একটি অপ্রতুল বিকল্প।
তার উপর জাহাজের জ্বালানি বহনের প্রয়োজনীয়তা এবং সেইসঙ্গে দহন বায়ু ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য স্থান বাদ যায় বলে পারমাণবিক জাহাজে উপলব্ধ অভ্যন্তরীণ আয়তন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই জায়গাটি অতিরিক্ত অস্ত্র, বিমান, বিমান জ্বালানি মজুদ রাখার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, যা পিএলএএন-এর উপস্থিতির সহনক্ষমতা, নাগাল এবং স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে। অতএব, বেজিং তার টেকসই দূর সমুদ্র অভিযানের জন্য পারমাণবিক রণতরী অপরিহার্য বলে মনে করে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি — পারমাণবিক চালনা
সিএনএস ফুজিয়ানের মাধ্যমে বেজিং ইতিমধ্যেই একটি বিশ্বাসযোগ্য ইএমএএলএস উৎক্ষেপণ ক্ষমতা এবং তিন-ক্যারিয়ার নৌ-বাহিনী মোতায়েনের জন্য কার্যকরী পরিপক্বতা প্রদর্শন করেছে। তৃতীয় এবং প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে কঠিন স্তম্ভ হল পরমাণু-চালিত বৃহৎ ফ্ল্যাটটপ, যার জন্য এখনও কাজ চলছে।
চিন ১৯৫৮ সালে চায়না ইনস্টিটিউট অফ অ্যাটমিক এনার্জি-তে নৌ-পারমাণবিক চুল্লি উন্নয়ন শুরু করে প্রোগ্রাম ০৯-এর [১] অধীনে। ১৯৭০ সালের মধ্যে চিনা প্রকৌশলীরা একটি কার্যকর প্রোটোটাইপ চুল্লি তৈরি করেছিলেন, যা ১৯৭৪ সাল থেকে হান-শ্রেণির পারমাণবিক আক্রমণ সাবমেরিন (এসএসএন)-এর কার্যকরী পরিষেবায় প্রবেশ করে। চিনা প্রকৌশলীরা জার্মান বাণিজ্যিক জাহাজ অটো হান এবং সোভিয়েত আইসব্রেকার লেনিনের উপর চাপযুক্ত জল চুল্লি (পিডব্লিউআর) অধ্যয়ন করেছিলেন, এর সরলতা এবং দৃঢ়তার জন্য অনুপ্রেরণা হিসাবে পরবর্তীটিকে গ্রহণ করেছিলেন।
প্রথম দুটি হান-শ্রেণির এসএসএন-এর মধ্যে ছিল ৪৮ এমডব্লিউটি রেটিংযুক্ত চুল্লি, আর পরবর্তী জলযানগুলি প্রায় ২৪ নট গতিতে জলের তলা দিয়ে যাওয়ার প্রায় ১১ এমডব্লিউই উৎপাদনকারী ৫৮ এমডব্লিউটি প্ল্যান্ট পেয়েছিল। পরবর্তী প্রজন্মের সাবমেরিন, টাইপ ৯৩ এবং ৯৪, দুটি ৭৫ এমডব্লিউটি ক্ষমতার রিঅ্যাক্টর দিয়ে সজ্জিত ছিল, যা ২৮-৩০ নট গতিতে টিকে থাকার জন্য ২২ এমডব্লিউই বিদ্যুৎ উৎপাদন করত।
সর্বশেষ টাইপ ৯৫ এবং ৯৬ জলযানগুলি রাশিয়ান ওকে-৬৫০ রিঅ্যাক্টর গোত্রের একটি একক রিঅ্যাক্টর বহন করে বলে ধরা হয়, যা ৩২ নট গতিতে টিকে থাকার জন্য ২০০ এমডব্লিউটি এবং ৩৩ এমডব্লিউই বিদ্যুৎ উৎপাদন করত। যাই হোক, এই রিঅ্যাক্টরটিও ১০০,০০০ টন পারমাণবিক বিমানবাহী জাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির চেয়ে কম, যার উচ্চ উৎপাদিত উৎপাদন হার, ক্যাটাপল্ট, সেন্সর, জাহাজ-পরিষেবা পাওয়ার লোড এবং বৃদ্ধির মার্জিন রয়েছে। অতএব, পিএলএএন-কে উচ্চতর শক্তি ঘনত্ব সহ আরও ভাল রিঅ্যাক্টর তৈরি করতে হবে।
বহুল আলোচিত এসিপি ১০০ ছোট মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) অথবা লিংলং ১, যা ৩৮৫ এমডব্লিউটি এবং ১২৫ এমডব্লিউই উৎপন্ন করে, তা কার্যক্ষেত্রগত ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রোধ করার একটি বিকল্প। তবে, লিংলং ১ রিঅ্যাক্টরগুলি কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (৩ শতাংশ) ব্যবহার করে এবং এতে ২৪ মাসের একটি রিফুয়েলিং চক্র থাকে, যা রণতরী চালনার জন্য অনুকূল নয়। পরিবর্তে, রিপোর্ট অনুসারে, চিন লংওয়েই বা ড্রাগন মাইট প্রকল্পের অধীনে সিচুয়ান প্রদেশের লেশানে রণতরীর বিমান চালনার জন্য একটি প্রোটোটাইপ নৌ-চুল্লি তৈরি করছে। এই প্রকল্পে লিংলং ১ এসএমআর এবং সর্বশেষ সাবমেরিন রিঅ্যাক্টরের প্রযুক্তি সংযুক্ত করার আশা করা হচ্ছে।
ছবি ৩: পরবর্তী রণতরীর সঙ্গে ফুজিয়ানের তুলনা

সূত্র: সোহু.কম
প্রত্যাশিত আগমন এবং আঞ্চলিক প্রভাব
তাই ভবিষ্যতের রণতরীটি পারমাণবিক শক্তিচালিত হবে বলে চিনের ঘোষণা অবশ্যই বৃহত্তর কৌশলগত ও শিল্প প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। পশ্চিমী গণমাধ্যমগুলি বলছে ডালিয়ান শিপইয়ার্ডে বেজিং তার ভবিষ্যতের পারমাণবিক রণতরী তৈরির ইঙ্গিতপূর্ণ লক্ষণ প্রকাশ করেছে, তবে চিনের তরফ থেকে তার চালনা স্থাপত্য বা চুল্লির নকশা সম্পর্কে কোনও স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। চিনা প্রকৌশলীরা হয়তো একটি এসএমআর নৌ-চালিত করার চেষ্টা করছেন অথবা ফ্ল্যাটটপ চালনার জন্য একটি সাবমেরিন গোত্রের চুল্লিকে আরও পরিমার্জন করছেন।
ভারত মহাসাগরে ভবিষ্যতের চিনা পারমাণবিক ক্যারিয়ার যুদ্ধ গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক সামুদ্রিক ভারসাম্যের জন্য একটি অশুভ পরিবর্তন চিহ্নিত করবে।
উভয়ের জন্যই নিবিড় স্থল-ভিত্তিক পরীক্ষা, জাহাজ-ভিত্তিক সিস্টেমের সঙ্গে একীকরণ এবং সেইসঙ্গে সামুদ্রিক চালনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা প্রয়োজন। একটি বিশ্বাসযোগ্য ক্যারিয়ার-রেটেড চুল্লির অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, চিনের পারমাণু রণতরী কর্মসূচি নির্মীয়মান স্তরে রয়েছে। অতএব, সমস্ত রাজনৈতিক এবং শিল্প তারকা পরিকল্পনার জন্য একত্রিত হলেও, তার পারমাণবিক বিমানবাহী ক্যারিয়ারটি পরিপক্ব হতে কমপক্ষে আরও এক দশক সময় নেবে।
তা সত্ত্বেও, ভবিষ্যতে ভারত মহাসাগরে চিনের পারমাণবিক রণতরী গোষ্ঠীর কার্যক্রম আঞ্চলিক সামুদ্রিক ভারসাম্যের জন্য এক অশুভ পরিবর্তন চিহ্নিত করবে। গত কয়েক বছর ধরে চিনের পৃষ্ঠতল যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী জাহাজগুলির ঘোরাফেরা ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলের নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। কাজেই, ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নোটিশ টু এয়ার মিশন (নোটাম) টেলিমেট্রি ও ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহের জন্য কাছাকাছি অবস্থান করা একটি চিনা আইএসআর জাহাজের কথা জানতে পেরেছে। তাদের তুলনামূলকভাবে বর্ধিত সহনক্ষমতা, নাগাল এবং স্থায়িত্ব-সহ চিনের পরমাণু চালিত রণতরীগুলি ভারতের জন্য এই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে তুলবে। ভারতীয় নৌবাহিনীকে, যারা ভারত মহাসাগরকে তার নিজস্ব জলসীমা হিসাবে বিবেচনা করে, এই অঞ্চলে চিনের যে কোনও দুঃসাহসিক অভিযানকে প্রতিহত করার পাশাপাশি পূর্ব-প্রতিরোধ (ডেটারেন্স) এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য বৃহত্তর বিমানবাহী রণতরী এবং পারমাণবিক আক্রমণকারী সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করতে হবে।
অতুল কুমার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড চাইনিজ স্টাডিজের ফেলো।
[১] জন ডব্লিউ লুইস এবং জু লিতাই, চায়না’জ স্ট্র্যাটেজিক সিপাওয়ার: দ্য পলিটিক্স অফ ফোর্স মডার্নাইজেশন ইন দ্য নিউক্লিয়ার এজ, (স্ট্যানফোর্ড, সিএ: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৪), ২৩.
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Atul Kumar is a Fellow in Strategic Studies Programme at ORF. His research focuses on national security issues in Asia, China's expeditionary military capabilities, military ...
Read More +