Expert Speak Raisina Debates
Published on Apr 28, 2026 Updated 8 Hours ago

চিনের স্মার্ট সিটি প্রকল্প ডিজিটাল শাসনব্যবস্থাকে নজরদারি, সামরিক সংমিশ্রণ এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি রপ্তানির সঙ্গে একীভূত করছেযা নিয়ন্ত্রণ, তথ্য এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে

চিনের স্মার্ট সিটি গড়ার প্রচেষ্টা: সিটি ব্রেনকে আয়ত্ত করা

২০২৪ সালের মে মাসে চিন ২০২৭ সালের মধ্যে নগর জীবনে ডিজিটাল রূপান্তর অর্জনের লক্ষ্যে স্মার্ট শহরগুলির উন্নয়নের জন্য নির্দেশিকা জারি করে। পঞ্চদশ বর্ষীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশমালায়ও এর উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি প্রস্তাব করেছে:  “আমাদের [চিনের] উচিত শহরগুলির পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, নগর নবায়নকে এগিয়ে নিতে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা, এবং উদ্ভাবনী, বাসযোগ্য, সুন্দর, স্থিতিস্থাপক, সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ও স্মার্ট জনকেন্দ্রিক আধুনিক শহর গড়ে তোলা।”

আনুষ্ঠানিকভাবে, চিনা সরকার প্রাথমিকভাবে নিরাপদ শহর (‌“সেফ সিটি”)‌ শব্দটি ব্যবহার করত, যা পরবর্তীতে “স্মার্ট সিটি” শব্দে রূপান্তরিত হয় এবং এমনকি একত্রে “স্মার্ট সেফ সিটি” হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। চিনের স্মার্ট সিটি নীতিতে, ব্যাপক অর্থে নিরাপত্তার দিকটিই  মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে (যার মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী হুমকি পর্যন্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা উভয় দিকই অন্তর্ভুক্ত)। চিনা কোম্পানিগুলি নিজেদেরকে সমাধান প্রদানকারী হিসেবে তুলে ধরছে — যেমন সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নরিনকো, যা ‘নিরাপদ ও স্মার্ট শহর’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তাদের পণ্যের তালিকায় স্মার্ট সিটি যুক্ত করছে। নগর পরিকল্পনাতেও একটি কেন্দ্রীভূত পদ্ধতি রয়েছে — যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষামূলক স্মার্ট শহরগুলি চিহ্নিত করে এবং স্থানীয় সরকারগুলি তার বাস্তবায়ন করে। নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে চিনের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যার বৈশিষ্ট্য হল সর্বোচ্চ সংখ্যক সিসিটিভি। যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সাল নাগাদ চিনে প্রায় ২০ কোটি নজরদারি ক্যামেরা ছিল এবং ২০২১ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৫৬ কোটিতে পৌঁছনোর কথা ছিল। চিনের দৃষ্টিকোণ থেকে, সাংহাইয়ের এসওএম সিটি ডিজাইন প্র্যাকটিসের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট প্রিন্সিপালনাইফেই সান যুক্তি দেন,  “স্মার্ট সিটি উন্নয়ন চিনের নগর কেন্দ্রগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ তারা ডিজিটাল রূপান্তর এবং উৎপাদনশীলতার এক নতুন ধারার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে” এবং “[এটি] আমাদের মেগাসিটিগুলির জন্য আরও দক্ষ ও বুদ্ধিমান শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে।”


যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সাল নাগাদ চিনে প্রায় ২০ কোটি নজরদারি ক্যামেরা ছিল এবং ২০২১ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৫৬ কোটিতে পৌঁছনোর কথা ছিল।



যদিও চিনের স্মার্ট শহরগুলির সাম্প্রতিক সংখ্যা অজানা, ডেলয়েটের ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিশ্বজুড়ে ১,০০০-এরও বেশি স্মার্ট শহর পরিকল্পনা বা উন্নয়নের পর্যায়ে ছিল, যার মধ্যে চিন প্রায় ৫০০টি পরীক্ষামূলক শহর নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল, এবং এর পরেই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইউএস), ই‌ওরোপ এবং ভারত। ২০১৬ সাল নাগাদ চিনে ৫৪২টি পরীক্ষামূলক স্মার্ট শহর উন্নয়নের পর্যায়ে ছিল এবং ২০১৮ সাল নাগাদ বাস্তব রূপ পাওয়া স্মার্ট শহরের সংখ্যা প্রায় ৪০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তার উপর, স্মার্ট শহরগুলি শুধু অভ্যন্তরীণ নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বেজিং বিশ্বজুড়ে তার স্মার্ট সিটি প্রযুক্তি প্রচার ও স্থাপন করছে। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত ২০২০ সালের একটি সমীক্ষায় মোট ১০৬টি দেশে স্মার্ট সিটি উন্নয়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ৩৪টি ভিন্ন চিনা সংস্থার স্মার্ট সিটি প্রযুক্তি রপ্তানির ৩৯৮টি নথিভুক্ত ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে

এই আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণে, চিন ভবিষ্যতের শহরগুলোর জন্য ‘সিটি ব্রেন’ (城市大脑) এবং স্মার্ট শহরের ব্যবস্থাপনার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক ডিজিটাল টুইন তৈরির উপর জোর দিয়ে আসছে। ‘সিটি ব্রেন’,  যা আজকের স্মার্ট শহরগুলির মূল ভিত্তি, তা হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি), ব্লকচেন, ডিজিটাল টুইনস এবং অগমেন্টেড রিয়্যালিটি (এআর)-র মতো প্রযুক্তির এক জটিল জাল। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ, চিন ‘সিটি ব্রেন ৩.০’ চালু করে, যা এআই ডিপসিক-আর১ মডেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হল শহরের টহল ব্যবস্থা এবং ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি করা। এতে অতি-উচ্চ ভোল্টেজ (ইউএইচভি) সঞ্চালনের জন্য একটি স্মার্ট গ্রিড এবং বন্যা প্রতিরোধ ও কার্বন শোষণের জন্য একটি স্পঞ্জ সিটি ডিজাইন (海绵城市) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সবই সিটি ব্রেন সিস্টেমের মধ্যে সমন্বিত। এছাড়াও চিন প্রযুক্তি-চালিত কৃষি, ৫জি নেটওয়ার্কের প্রসার এবং গ্রামীণ সাইবার-সংস্কৃতি উদ্যোগের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল ভিলেজ’ (数字乡村) নামক একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করছে। ২০২৪ সালের মে মাসে, সেন্ট্রাল সাইবারস্পেস অ্যাফেয়ার্স কমিশনের অধীনে চিনের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রক ‘ডিজিটাল ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট গাইডলাইনস ২.০’ প্রকাশ করে


‘সিটি ব্রেন’, যা আজকের স্মার্ট শহরগুলির মূল ভিত্তি, তা হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি), ব্লকচেন, ডিজিটাল টুইনস এবং অগমেন্টেড রিয়্যালিটি (এআর)-র মতো প্রযুক্তির এক জটিল জাল।



একটি স্মার্ট সিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি), ক্যামেরা, ড্রোন এবং সেন্সর ব্যবহার করে, যেগুলির গোয়েন্দা, নজরদারি এবং অনুসন্ধান (আইএসআর) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ রয়েছে। এই উচ্চ-প্রযুক্তির পরিকাঠামো অভ্রান্ততা ও দ্রুততা বৃদ্ধি করে, এবং পাল্টা আক্রমণের বিলম্বের হার কমিয়ে সামরিক অভিযান ও যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করে। সামরিক ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ বিস্তৃত হলে দেখা যায়, স্মার্ট সিটির কার্যক্রমগুলিতে মেগাসিটিগুলির সঙ্গে সাইবার সংযুক্তিকরণ এবং তেমন পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের মোকাবিলা করার জন্য সেনাবাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। একটি ‘স্মার্ট সিটি’ নির্মাণে বেজিং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেমন জিনানে পরিকাঠামোগত পরিকল্পনার জন্য ৪-ডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন, গুয়াংঝুতে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়ার তথ্য ব্যবহার, এবং শিয়ংআন নিউ এরিয়াতে একটি ডিজিটাল টুইন নির্মাণ। এই ডিজিটাল নগরগুলিতে রিয়েল-টাইম আপডেটের জন্য বিপুল পরিমাণ ডেটা এবং নেটওয়ার্ক ব্যান্ডউইডথের প্রয়োজন হয়। চিন যা তৈরি করতে চাইছে তা হল একটি ‘সিটি ব্রেন’ — স্মার্ট সিটির একটি উন্নত সংস্করণ — যা একটি স্মার্ট সিটির ভৌত পরিকাঠামো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করবে। এটি ডেটার গোপনীয়তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে যখন চিনের সামরিক-বেসামরিক সংমিশ্রণ কৌশলের অধীনে সামরিক প্রয়োগের সঙ্গে এটি যুক্ত হয়। এছাড়াও, বেজিং-এর নীতি প্রাদেশিক সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয়-স্তরের ব্যাপক প্রচেষ্টা, যার লক্ষ্য ২০৪৫ সালের মধ্যে ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের ডিজিটাল ব্রেনকে (世界数字大脑) সংযুক্ত করা। সুতরাং, ভবিষ্যতের সামরিক কমান্ড ব্রেন ব্যবস্থা তৈরির জন্য সিটি ব্রেনের একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে, যেখানে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য গুপ্তচরবৃত্তি, অন্তর্ঘাত এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের উপর ভিত্তি করে, গবেষকরা বেজিং-এর স্মার্ট সিটি নির্মাণকে কয়েকটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। প্রথম, ‘জ্ঞান-প্রযুক্তি-শাসিত শহর’, যা ন্যূনতম মানবিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়নকে (আরঅ্যান্ডডি) কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়, ‘সামগ্রিক শহর’, যা সমস্ত প্রয়োগ পরিসরকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করে, যেমনটি বেজিং এবং ঝুহাই-এর মতো জায়গায় দেখা যায়। তৃতীয়, একটি ‘সবুজ শহর’ কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর জোর দেয় এবং জনসম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। চতুর্থ, সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তির জন্য সীমিত আইসিটি পরিকাঠামোর উপর নির্ভরতার দ্বারা চিহ্নিত। পরিশেষে, এই প্রেক্ষাপটে উদীয়মান প্রযুক্তিতে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা খুবই কম দেখা যায়। এই শ্রেণিবিন্যাসগুলি দেখায় যে, স্মার্ট সিটি বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃণমূল-ভিত্তিক ও বিকেন্দ্রীভূত পদ্ধতির বিপরীতে, চিনের পদ্ধতিটি কেন্দ্রীভূত ও শীর্ষভিত্তিক, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ আমেরিকার তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ।


এই উচ্চ-প্রযুক্তির পরিকাঠামো অভ্রান্ততা ও দ্রুততা বৃদ্ধি করে, এবং পাল্টা আক্রমণের বিলম্বের হার কমিয়ে সামরিক অভিযান ও যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করে।



হুয়াওয়ে, আলিবাবা এবং বাইদুর মতো চিনা কোম্পানিগুলো স্মার্ট সিটি উদ্যোগের প্রচার ও রপ্তানিতে আইবিএম, সিসকো এবং জিপিএস-এর মতো তাদের পশ্চিমা সমকক্ষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। ফলস্বরূপ, চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্মার্ট সিটি রপ্তানিতে আধিপত্যের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলিতে। অন্যান্য দেশে স্মার্ট সিটি নির্মাণের প্রকল্পগুলি আইওটি, ক্লাউড কম্পিউটিং, ৫জি, এআই, সেন্সর এবং ডেটা সেন্টারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন থেকে প্রযুক্তি ও সংস্থা সংগ্রহ করে থাকে। চিনা সংস্থা হুয়াওয়ে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করছে, যারা ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চিনের শুরু করা ৩৪টি প্রকল্পের মধ্যে ২৮টিতে জড়িত। নিয়ন্ত্রণ ও নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের উপস্থিতিকে তথ্য অনুপ্রবেশ, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত করেছে, এবং যুক্তি দিয়েছে যে ৩৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১৩টিতে চিনা গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি টেকসই বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়নের জন্য বেজিংয়ের সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগাচ্ছে। এর থেকে বোঝা যায় যে, এই অঞ্চলে চিনের উপস্থিতি সরাসরি মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে। ব্যাপক নজরদারি এবং পরিকাঠামোর মধ্যে স্বৈরাচারী মূল্যবোধের বিস্তারের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপদ অনুভব করে। যেহেতু চিনের স্মার্ট শহরগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়, তাই কোম্পানিগুলিকে সরকারের সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নিতে হয়।

চিনের উন্নয়নের পরিধি ও গতি উদ্বেগজনক। স্মার্ট পরিকাঠামোর জন্য বেজিংয়ের প্রচেষ্টা স্থায়িত্ব, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা এবং নির্ভরশীলতার অ্যাজেন্ডাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা এর নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চিনের স্মার্ট পরিকাঠামো কীভাবে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিমণ্ডলকে প্রভাবিত করছে, সেদিকে আরও মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন আছে। স্মার্ট শহর তৈরির জন্য চিনের প্রচেষ্টা শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন বস্তুগত প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর একটি দ্বৈত উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথম পদক্ষেপ হল আধুনিকীকরণ এবং প্রযুক্তিগত আধিপত্য অর্জন, যার সঙ্গে রয়েছে বিশ্বের ডিজিটাল ব্রেনকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বেজিং তার শহর ও গ্রামগুলিকে যথাক্রমে ‘নতুন স্মার্ট শহর’ এবং ‘ডিজিটাল গ্রাম’-এ রূপান্তরিত করতে সামরিক-বেসামরিক সংমিশ্রণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রভাবে একটি শক্তিশালী ফায়ারওয়াল, এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা (যেমন ডিপসিক) ব্যবহার করছে। এই মডেলটি অভ্যন্তরীণ আধুনিকীকরণ এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চল ও বিশ্বজুড়ে চিনা প্রযুক্তিগত মূল্যবোধ ও মান রপ্তানির বাইরেও বিস্তৃত, যা চিনকে ভবিষ্যতের সাইবার-সক্ষম পরিকাঠামোর নিয়ম ও মানকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে বৈধতা দেয়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এটি গণ-‌নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং চিনের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর উপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার বিষয়টিকে তুলে ধরে।



অমৃতা যশ ভারতের কর্ণাটকের মণিপালে অবস্থিত মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস, হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড আর্টস, মণিপাল অ্যাকাডেমি অফ হায়ার এডুকেশন (ইনস্টিটিউশন অফ এমিনেন্স)-এর ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

নিষ্ঠা কুমারী সিং ভারতের কর্ণাটকের মণিপালে অবস্থিত মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস, হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড আর্টস, মণিপাল অ্যাকাডেমি অফ হায়ার এডুকেশন (ইনস্টিটিউশন অফ এমিনেন্স)-এর ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ডক্টরাল ক্যান্ডিডেট এবং ডঃ টিএমএ পাই ফেলো।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.