-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
বেজিং এবং পিয়ংইয়ং তাদের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনছে, কিন্তু এটি কৌশলগত সুবিধা না কি একটি প্রকৃত কৌশলগত পরিবর্তন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কিম জং-উন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বেজিং সফর করেন। এই সফরটি বেজিং এবং পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলার বিষয়টিকেই চিহ্নিত করে, যে সম্পর্কটি ২০১৯ সালে শি-র পূর্ববর্তী সফরের পর থেকে বেশ শীতল ছিল। নেতা পর্যায়ে পৌঁছনো বোঝাপড়ার উপর ভিত্তি করে বেজিং ও পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত নিজ নিজ উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকগুলি আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে এবং ব্যাপক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য আলোচনার পরিধি প্রসারিত করেছে। যদিও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তবে এই প্রচেষ্টাগুলি কৌশলগত সমন্বয় না কি কৌশলগত সারিবদ্ধতার প্রতিফলন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শি-কিম সৌহার্দ্য
কিম জং-উন এবং শি জিনপিং যথাক্রমে ২০১১ ও ২০১৩ সালের দিকে প্রায় একই সময়ে তাঁদের নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উভয় নেতাই তাঁদের দেশ শাসন করছেন, যার মধ্যে বিদেশনীতি পরিচালনাও অন্তর্ভুক্ত এবং দু’জনেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শি ছিলেন ২০১৯ সালে ১৪ বছরের বিরতির পর উত্তর কোরিয়া সফরকারী প্রথম চিনা নেতা, যা ছিল ২০১৮ সালে বেজিংয়ে কিম জং-উনের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরের প্রতিদান। এই সফরটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের রাজনৈতিক ইচ্ছাকে দর্শায়। নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার প্রতি চিনের সমর্থনের কারণে চিন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বর্তমানে ভিন্ন পরিস্থিতিতে একই চরিত্রে একই চিত্রনাট্যের পুনরভিনয় দেখা যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যা কিম-শি সৌহার্দ্যের আর একটি আখ্যান। তবে এ বার উদ্দেশ্য এবং বিষয়বস্তু বিবেচনা করে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।
নেতাদের বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী চোয়ে সন হুই বেজিং সফর করেন এবং ডিপিআরকে-র ক্ষমতাসীন দলের ৮০তম বার্ষিকী উদ্যাপনে যোগ দিতে চিনা প্রিমিয়ার লি কিয়াংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর আসলে নেতার তরফে দেওয়া কৌশলগত নির্দেশনার উপর ভিত্তি করে সম্পর্ক গভীর করার জন্য উভয় পক্ষের ইচ্ছাকেই তুলে ধরে। উল্লেখযোগ্য ভাবে এই শেষোক্ত সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দীর্ঘ সময়ের মধ্যে প্রথম উচ্চ-পর্যায়ের সফর এবং চিনা প্রিমিয়ারের ১৬ বছরের মধ্যে প্রথম সফর। সর্বশেষ সফরটি ছিল ২০২৩ সালের সামরিক মহড়ায় পলিটব্যুরোর সদস্য লি হংঝংয়ের। চোয়ের বিবৃতিতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মোড়ের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, নেতাদের মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকটি ‘গণতান্ত্রিক কোরিয়া ও চিনের সম্পর্কের উন্নয়নের পথ নির্দেশ করেছে’ এবং তারা ‘কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধি, বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদান বাড়ানো এবং বাস্তবসম্মত সহযোগিতা গভীর করা’র জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বর্তমানে ভিন্ন পরিস্থিতিতে একই চরিত্রে একই চিত্রনাট্যের পুনরাভিনয় দেখা যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যা কিম-শি সৌহার্দ্যের আর একটি আখ্যান। তবে এ বার উদ্দেশ্য এবং বিষয়বস্তু বিবেচনা করে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।
উদ্দেশ্য স্পষ্ট এবং এর সারবস্তুও সেই রকমই। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, সুর ও গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষের জন্য এই সম্পর্কের গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াং চো-কে বলেছেন, ‘চিন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে [উত্তর কোরিয়ার] সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করতে ইচ্ছুক’ এবং চো উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘একটি নতুন ও উচ্চতর স্তরে’ উন্নীত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এর প্রতিদান দিয়েছেন।
বাণিজ্যই প্রকৃত মাপকাঠি
রাজনৈতিক সারবস্তু ছাড়াও বাণিজ্যের পরিসংখ্যানও এই দাবিকে সমর্থন করে যে, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের দিকেই এগোচ্ছে। বেজিং এবং পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য মূলত তার বাইরেই ছিল (কোভিড-পূর্ববর্তী স্তরে ফিরে এসেছে), যা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কারণকেই দর্শায়। প্রথমত, বেজিংয়ে উত্তর কোরিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রাসঙ্গিকতার ধারাবাহিক স্বীকৃতি; দ্বিতীয়ত, তার নিকটতম প্রতিবেশীর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব। এটি চিনা বিদেশনীতির বাস্তববাদকে প্রকাশ করে: শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তাকে সমর্থন করা এবং পিয়ংইয়ংয়ের দুঃসাহসিক কার্যকলাপকে সীমিত করার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
চিত্র ১: চিন ও উত্তর কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান

উৎস: চিনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ কাস্টমস
*চিত্র ১-এ উপস্থাপিত তথ্যটি ২৪ জুলাই থেকে ২৫ অগস্টের মধ্যে চিনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার মোট বাণিজ্য এবং চিন থেকে তার আমদানিকে চিত্রিত করে।
চিনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ কাস্টমস অনুসারে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত চিনের সঙ্গে মোট বাণিজ্য ১.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা অতিমারির পূর্ববর্তী স্তরের সমান। একই সময়ে পিয়ংইয়ং আট বছর পর তার দ্রুততম মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৩.৭ শতাংশ অর্জন করেছে, যা উৎপাদন, খনি এবং নির্মাণ শিল্পের বৃদ্ধির দ্বারা চালিত হয়েছে। সামগ্রিক সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং চিন থেকে আমদানির দ্বারা চালিত হবে। ট্রেন, উড়ান, শ্রম এবং স্থল ডাকপথ পুনরায় চালু করার মতো কিছু সাম্প্রতিক ঘটনা পণ্য চলাচল এবং গতিশীলতার সহজীকরণকে তুলে ধরে।
বেজিং এবং পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য মূলত তার বাইরেই ছিল (কোভিড-পূর্ববর্তী স্তরে ফিরে এসেছে), যা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কারণকেই দর্শায়। প্রথমত, বেজিংয়ে উত্তর কোরিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রাসঙ্গিকতার ধারাবাহিক স্বীকৃতি; দ্বিতীয়ত, তার নিকটতম প্রতিবেশীর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব।
কিমের জন্য চিনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আর একটি কারণ হল তার অভ্যন্তরীণ লক্ষ্য অর্জনে চিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিম যখন তার ‘আঞ্চলিক উন্নয়ন ২০*১০ নীতি’র (১০ বছরে প্রতি বছর ২০টি শহর ও কাউন্টিতে আধুনিক কারখানা স্থাপন) মাধ্যমে আরও উন্নয়নের জন্য চাপ দিচ্ছেন, যা সম্প্রতি সমুদ্র সৈকতের রিসর্ট এবং অভ্যন্তরীণ নির্মাণকাজের মাধ্যমে দেখা গিয়েছে এবং চিনের কাছ থেকে আরও সরবরাহের প্রয়োজন হবে। দুই দেশের মধ্যে উন্নত সম্পর্ক যে কোরিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিরবচ্ছিন্ন রাখবে, সে কথা নিশ্চিত। সীমান্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি চিনে পোশাক কারখানা এবং অন্যান্য পেশায় নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকরা আরও সুবিধা পাবে, যা রেমিট্যান্সকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এটি কি কৌশলগত পুনর্গঠনের সূচনা?
জনপ্রিয় ধারণার বিপরীতে, আদর্শগত সখ্যের চেয়ে বাস্তবসম্মত হিসেব-নিকেশই উত্তর কোরিয়া এবং চিনের কৌশলগত সম্পর্ককে চালিত করেছে। তাদের মতপার্থক্য এবং অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও উভয় দেশই সর্বদা একে অপরকে কাছে রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তাই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে চিনের উদ্বেগ উপেক্ষা করাটা উত্তর কোরিয়ার জন্য বিরক্তির কারণ হলেও, এটি কখনওই সম্পর্ককে লাইনচ্যুত করেনি। ২০২১ সালে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তিটি আরও ২০ বছরের জন্য সম্প্রসারণ করা আসলে চিনের জন্য উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
এর থেকে বোঝা যায় যে, কাঠামোগত পরিস্থিতিই চিনের জন্য উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার জন্য দায়ী এবং উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রেও এর বিপরীতটি সত্য (বাণিজ্য এবং স্থিতিশীলতার জন্য চিনের উপর নির্ভরতা)। যদিও নেতৃত্ব পর্যায়ে সমর্থন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা, শক্তিশালী করা এবং গভীর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে তাদের অনাগ্রহ সম্পর্কের স্থিতিকে বিরূপ ভাবে প্রভাবিত করেনি। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক গতিশীলতা এবং নেতৃত্বের সমর্থন সম্পর্ক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এটি সাম্প্রতিক কিম-লি বৈঠকে দৃশ্যমান ছিল, যেখানে লি মন্তব্য করেন, ‘[কিম এবং শি] শীর্ষ নেতাদের কৌশলগত নির্দেশনায় চিন-ডিপিআরকে বন্ধুত্ব সম্পর্কের উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।’ তবে, এই কৌশলগত পরিবর্তনের চালিকাশক্তি কী?
জনপ্রিয় ধারণার বিপরীতে, আদর্শগত সখ্যের চেয়ে বাস্তবসম্মত হিসেব-নিকেশই উত্তর কোরিয়া এবং চিনের কৌশলগত সম্পর্ককে চালিত করেছে। তাদের মতপার্থক্য এবং অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও উভয় দেশই সর্বদা একে অপরকে কাছে রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
ক্রমবিকাশমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তিনটি প্রবণতার প্রেক্ষাপটে বিচার করা অত্যন্ত জরুরি: পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থা (দ্বিমেরু), আঞ্চলিক রাজনৈতিক গতিশীলতা (বহুমেরু) এবং অভ্যন্তরীণ বাধ্যবাধকতা। বর্তমানে চিন পূর্ব এশীয় অঞ্চলে উত্তর কোরিয়া-সহ সমমনস্ক দেশগুলির একটি বৃহত্তর জোট গঠন করছে, যা বেজিংকে আরও বেশি কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করতে সাহায্য করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক যখন সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে, তখন বেজিং উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব উপলব্ধি করছে। এই প্রচেষ্টাটি ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং-উনের পুনঃআলোচনাকে দুর্বল করারও একটি উপায়।
গত বারের মতো - যখন চিন ট্রাম্প-কিম বৈঠককে সক্রিয় ভাবে স্বাগত জানিয়েছিল এবং সমর্থন করেছিল – এ বার তারা কোনও প্রকার ভূমিকা পালন করতে অস্বীকার করেছে। পরিবর্তে, চিন এই সুযোগটি ব্যবহার করে তার সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। উদাহরণস্বরূপ, কিমকে পাঠানো এক বার্তায় শি জিনপিং বলেছেন, ‘চিন এবং ডিপিআরকে-এর উচিত কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করা।’ কিছু চিনা বিশ্লেষক জোর দিয়ে বলেছেন যে, বেজিং নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র-সহ উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটিকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
অন্য দিকে, উত্তর কোরিয়া মনে করে যে, চিনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের জন্য এটিই উপযুক্ত সময়। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কিমের সিদ্ধান্তকে চালিত করছে: প্রথমত, চিনা সহায়তার মাধ্যমে ভেঙে পড়া অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য অর্জন করা; দ্বিতীয়ত, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার পর্যায় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চিনের (এবং রাশিয়ার) সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ককে কাজে লাগানো; এবং তৃতীয়ত, একটি 'আরও ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব ব্যবস্থা' গড়ে তোলার জন্য চিনের সঙ্গে কাজ করা।
গত বারের মতো - যখন চিন ট্রাম্প-কিম বৈঠককে সক্রিয় ভাবে স্বাগত জানিয়েছিল এবং সমর্থন করেছিল – এ বার তারা কোনও প্রকার ভূমিকা পালন করতে অস্বীকার করেছে। পরিবর্তে, চিন এই সুযোগটি ব্যবহার করে তার সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। উদাহরণস্বরূপ, কিমকে পাঠানো এক বার্তায় শি জিনপিং বলেছেন, ‘চিন এবং ডিপিআরকে-এর উচিত কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করা।’
এর সুফল ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। কুচকাওয়াজে চিনা প্রিমিয়ার এবং রুশ প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিম তাঁর প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই বার্তা দিয়েছেন যে, পিয়ংইয়ংকে কূটনৈতিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। উপরন্তু, তাদের উপস্থিতি উত্তর কোরিয়ার সামরিক আধুনিকায়নকেও - যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত - বৈধতা দিয়েছে। কিম বহুপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে এবং ভিয়েতনাম, লাওস ও ইরানের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দেখা করে কূটনৈতিক সুযোগগুলিকেও কাজে লাগাচ্ছেন।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি (চিন এবং উত্তর কোরিয়ার জন্য) এবং উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, এটিও সম্ভব যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত হতে থাকবে। অর্থনৈতিক বাণিজ্য পুনরায় শুরু হওয়া এই যুক্তিকেই সমর্থন করে। তা সত্ত্বেও, সম্পর্কের অবস্থা আরও ভাল ভাবে মূল্যায়ন করার জন্য আসল পরীক্ষাটা ফলাফলের মধ্যেই নিহিত। চিন-উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে, বাস্তবতা তথ্য ও পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকোনো, যা বর্তমানে স্থিতাবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তবে এই কৌশলগত পরিবর্তনটি গভীরতর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত হবে কি না (যেমনটা রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে), তা নির্ভর করবে বাহ্যিক কারণগুলির উপর, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিরাপত্তা অবস্থান এবং সামরিক আধুনিকায়নের উপর।
অভিষেক শর্মা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের জুনিয়র ফেলো।
নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Abhishek Sharma is a Junior Fellow with the ORF’s Strategic Studies Programme. His research focuses on the Indo-Pacific regional security and geopolitical developments with a ...
Read More +