Expert Speak Raisina Debates
Published on Mar 24, 2026 Updated 0 Hours ago

চিনের সবচেয়ে বড় শক্তি অর্থাৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ক্রমশ তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশীয় অর্থনীতিকে ভেঙে দিচ্ছে এবং চিনের বৈদেশিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে।

চিনে বিতর্ক: ‘মেড ইন চায়না’ — আশীর্বাদ না কি অভিশাপ?

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে চিনা গণমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে তাকালে স্পষ্টতই বিজয়ের সুর ফুটে ওঠে। অনেকেই বিশ্বাস করেন যেচিন আসলে এই বাণিজ্য যুদ্ধে জয়লাভ করছে এবং ‘এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি খেলার সমান চিন এখন আরও কার্যকর ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বহিঃ-আঞ্চলিক বাণিজ্য নিয়মগুলি তীব্র করে তুলছেপ্রতিশোধ নিচ্ছে এবং নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। চিন শুধু যে ট্রাম্প প্রশাসনকে তার কয়েকটি শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে তাই নাবরং ওয়াশিংটনকে নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে বাধ্য করেছেযেমন তার সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা প্রকাশ করা, মার্কিন নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সংশয় জাগানোবিশ্বব্যাপী প্রভাব হ্রাস ইত্যাদি। এই সমস্ত কিছুই চিনের জন্য একটি কৌশলগত বিজয়ের ইঙ্গিত দেয় এবং এই সাফল্যের নেপথ্যে মূলত এই যুক্তিই দেওয়া হয় যে, ‘মেড ইন চায়না’- শক্তি কাজ করছে

তাই চিনে জনপ্রিয় আখ্যান হল এই যে, চিন-মার্কিন সমীকরণ আসলে চিনের স্থিতিস্থাপকতাকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে চিনের ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করতে ও চিনকে ‘উদীয়মান শক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করেছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, চিন বিষয়টি উদ্‌যাপন করছে। 

ট্রাম্পের শুল্কের কারণে সৃষ্ট বাধা সত্ত্বেও চিনা রফতানি ভাল গতি বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এর রফতানি শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন বাজারের বেশির ভাগ অংশ হারানোর পরেও চিনের বিশাল বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে চিনের পণ্যের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৭৮৫.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং পুরো বছর ধরে এটি . ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছেযা বিশ্বব্যাপী জিডিপি- শতাংশ। চিনের উৎপাদন এখন বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশএবং এর সামগ্রিক মাত্রা টানা ১৫ বছর ধরে বিশ্বের বৃহত্তম। ইতিমধ্যে, ‘মেড ইন চায়না’ ভারত-সহ অনেক উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি হয়ে উঠেছে। তাই চিনে জনপ্রিয় আখ্যান হল এই যেচিন-মার্কিন সমীকরণ আসলে চিনের স্থিতিস্থাপকতাকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  বিশ্বকে চিনের ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করতে  চিনকে ‘উদীয়মান শক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করেছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যেচিন বিষয়টি উদ্যাপন করছে।

কিন্তু উদ্যাপনটি নিঃসন্দেহে ক্ষণস্থায়ী কারণ চিন অন্যত্র ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছে এবং তা হল তার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি। চিনের উৎপাদনমূলক রফতানি বিশ্বব্যাপী ভাল ফলাফল প্রদর্শন করলেও চিনা পর্যবেক্ষকদের অভিমত এই যেউৎপাদন রফতানির মাধ্যমে চিন যে বিপুল উদ্বৃত্ত অর্থ উপার্জন করেতা চিনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত প্রাণশক্তি যোগাতে সক্ষম হয়নি। এটি হয় কাগজে-কলমে সঞ্চালিত হয় অথবা বিদেশি কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।

চিনের ভেতরে ক্রমবর্ধমান ঐকমত্য রয়েছে যেচিনের অর্থনীতি বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেযা গত ৪০ বছরে কখনও দেখা যায়নি এবং চিনের অর্থনীতি কখনওই অতিমারি থেকে সত্যিকার অর্থে পুনরুদ্ধার করতে পারবে না। কারণ হলপিপিআই (প্রোডিউসার প্রাইস ইনডেক্স) টানা তিন বছর ধরে নেতিবাচক থেকেছে এবং প্রতি মাসেই হ্রাস পাচ্ছে। তিন বছরের নেতিবাচক পিপিআই এবং দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআইচিনের চার দশকের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব মন্দার ইঙ্গিত দেয়। অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গুরুতর হস্তক্ষেপের ফলে দামের ক্রমাগত পতন এবং কর্পোরেট মুনাফার উপর চাপও রয়েছে। ২০২১ সালে শুরু হওয়া রিয়েল এস্টেটের দামের মন্দার দরুন খরচ হ্রাস পাচ্ছে। এখন বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্প শৃঙ্খলগুলি বিদেশে স্থানান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছেবাজার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছেজনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে  খরচও কমছে, ফলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি হচ্ছে।

ঠিক এই পর্যায়ে যখন ভোগ চিনের প্রবৃদ্ধিকে চালিত করার কথা - এবং চিনা জিডিপি-র ৭০-৮০ শতাংশের জন্য দায়ী – তখন প্রবৃদ্ধির বদলে বিশেষ করে গত দু’বছরে ভোগের পরিমাণ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এখন চিনা কৌশলগত মহলে মূল প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলকেন উচ্চ পর্যায়ের সরকারি হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও চিনা ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে যখন মাথাপিছু জিডিপি ১৩,০০০-১৪,০০০ মার্কিন ডলারে পৌঁছয়তখন রফতানি-চালিত প্রভাব ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভোগই প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। বেশির ভাগ উন্নত দেশ বাণিজ্য ঘাটতি চালায় কারণ তাদের ব্যয় করার জন্য বেশি অর্থ থাকেতাই তারা কম রফতানি করে। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টতই ঘটছে না। যদিও তাদের মাথাপিছু জিডিপি ইতিমধ্যে ১৩,০০০-১৪,০০০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে তবে যে মহাসড়ক  বিমানবন্দরগুলি নির্মাণের প্রয়োজন ছিলতার বেশিরভাগই ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ঠিক এই পর্যায়ে যখন ভোগ চিনের প্রবৃদ্ধিকে চালিত করার কথা - এবং চিনা জিডিপি- ৭০-৮০ শতাংশের জন্য দায়ী  তখন প্রবৃদ্ধির বদলে বিশেষ করে গত দুবছরে ভোগের পরিমাণ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

চিনা কৌশলগত মহলে যে ব্যাখ্যাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তা হলসরকারের প্রযুক্তি-জাতীয়তাবাদ - বিশেষ করে ২০১৮ সালের পরে - স্বাধীন উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করার উপর একক মনোনিবেশ করেছে এবং তা বিপরীতমুখী বলে প্রমাণিত হয়েছে। সাংহাই ইউনিভার্সিটি অফ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ইয়াও ইয়াং যুক্তি দিয়েছেন যেচিনা সরকার কোনও ভাবে কঠোর প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের বিকাশকে ভোগঅর্থ  রিয়েল এস্টেট বিকাশের বিপরীতে দাঁড় করিয়েছে। এটি প্রায় এমন যে ভোগ এবং রিয়েল এস্টেটে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করবেযার ফলে চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হেরে যাবে। কিন্তু এখন এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছেযদিও চিনের বর্তমান প্রযুক্তিগত স্তর ইতিমধ্যেই বেশ উচ্চ হয়ে গেছেতবুও এটি চিনা অর্থনীতিকে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার পর্যায়ে প্রবেশ করা থেকে আটকাতে পারবে না। এখন যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যেচিন কেবল প্রযুক্তিগত বাধা অতিক্রম করে এবং একটি স্বাধীন দেশীয় শিল্প শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠা করে তার বর্তমান অর্থনৈতিক দুর্দশা (মূলধন বাজারের সঙ্কোচনের ফলে সৃষ্ট রিয়েল এস্টেট) এড়াতে পারবে না। চিনা অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেনপর্যাপ্ত দেশীয় চাহিদা ছাড়া চিনের উৎপাদনসামরিক  প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হবেতার দেশীয় অর্থনৈতিক সঙ্কট তত তীব্র হবে। তাঁরা সতর্ক করে বলেন যেদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী উৎপাদনের ৪০ শতাংশ ছিলযা চিনের বর্তমান ৩০ শতাংশের চেয়ে বেশি তবুও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন মন্দার মুখোমুখি হয়েছিল। তাঁরা মনে করেনআজ চিনের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য হয়ে উঠছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী উৎপাদনের ৪০ শতাংশ ছিল, যা চিনের বর্তমান ৩০ শতাংশের চেয়ে বেশি। তবুও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন মন্দার মুখোমুখি হয়েছিল। তাঁরা মনে করেন, আজ চিনের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য হয়ে উঠছে।

চিনের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলির আর একটি ব্যাখ্যা - যা কিছু চিনা অর্থনীতিবিদ তুলে ধরেছেন - হলযখন খরচ বৃদ্ধির কথা আসেতখন সরকারের নীতিগুলি এখন পর্যন্ত ভর্তুকিকর কর্তননগদ অর্থ বিতরণকর্মসংস্থান স্থিতিশীলকরণবাসিন্দাদের আয় বণ্টনের অংশ বৃদ্ধিস্থানান্তর অর্থ প্রদান বৃদ্ধিসামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণ ব্যয় বৃদ্ধি ইত্যাদির মতো পদক্ষেপের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেটের মতো কাঠামোগত বিষয়গুলি এড়িয়ে যায়। আরও যুক্তি দেওয়া হয়যদি রিয়েল এস্টেটের দাম দীর্ঘকাল ধরে কমতে থাকেতা হলে সামগ্রিক চাহিদা কেবল স্থবির হয়ে পড়বে স্থানীয় সরকারগুলি - যাদের রাজস্বের অভাব রয়েছে - তারা বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছুক হবেযার ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেগত কয়েক বছরে রিয়েল এস্টেটের বলয়কে ঝুঁকিমুক্ত করা  তার পরিমাণ হ্রাস করা ‘গুরুতর ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন জিয়ামেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং চায়না আরবান প্ল্যানিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাও ইয়ানজিং। তিনি আরও বলেছেন যেরিয়েল এস্টেটের উপর সর্বজনীন কঠোর ব্যবস্থা চিনের মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপর আঘাত হেনেছে ফলস্বরূপ অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়তে পারছে না। তাই চিনা কৌশলগত সম্প্রদায় চায় যেসরকার ঋণ সম্প্রসারণের বিষয়ে তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করুকবিশেষ করে রিয়েল এস্টেটকে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা অথবা বাস্তব অর্থনীতির (অর্থাৎ শক্তিশালী প্রযুক্তিউৎপাদন  সামরিক) প্রতি আচ্ছন্ন থাকা কিংবা ঋণ সম্প্রসারণের অবস্থা থেকে দূরে থাকুক তাঁরা জাপানের তিন দশক হারানোর অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন।

এখন মূল প্রস্তাব হলচাহিদা হ্রাসের এই সময়ে সরকারকে সরবরাহের দিকটি শক্তিশালী করা বন্ধ করতে হবেযা অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি করছে এবং দেশীয় অর্থনীতিকে ভেঙে ফেলছে। দিকেআন্তর্জাতিক ভাবে চিনের অত্যধিক উৎপাদনশীলতা কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই নয়ইউরোপীয় ইউনিয়নভারত এবং অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধেও একটি চক্রান্তমূলক পথে ঠেলে দিচ্ছে। বৃহৎ বাজারের দেশগুলি ক্রমবর্ধমান ভাবে চিনকে তাদের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে এবং এর বিরুদ্ধে সুরক্ষাবাদী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, চিনের উচ্চতর উৎপাদনশীলতা - যা চিনের বৈশ্বিক মর্যাদার মূল চাবিকাঠি - বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবেও প্রমাণিত হচ্ছে।

আজকের বিশ্বব্যাপী শুল্ক যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতুলনীয় অবস্থানের কারণ বিশ্বব্যাপী ঋণের উপর তার একচেটিয়া অবস্থান এবং চিনকে অবশ্যই তা অনুকরণ করতে হবে।

এর পরিবর্তে, চিনা পর্যবেক্ষকরা যুক্তি দেন যেচিনের এখন উৎপাদন নয়অর্থায়নের উপর মনোযোগ দেওয়া উচিতশেয়ার বাজার বৃদ্ধিআবাসনের দাম স্থিতিশীল করা (এর ক্রমাগত পতন রোধ করা) এবং স্থানীয় সরকার ঋণ স্থিতিশীল করার মতো বিকল্পগুলি অন্বেষণ করা উচিত অর্থাৎ অতিরিক্ত ক্ষমতা সঞ্চয় না করে অর্থ তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি করতে পারে এমন ব্যবস্থার কথা ভাবা উচিত। অন্য কথায় বলতে গেলেঅন্য রফতানিকারক দেশগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার পরিবর্তে - যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ শৃঙ্খল পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে - চিনকে যুদ্ধক্ষেত্র পরিবর্তন করতে হবে এবং বলপূর্বক নিজস্ব ঋণ সম্প্রসারণ করে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লায়েন্ট’ খেতাবের জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এটি জাপানের মতো সম্পদ-সীমাবদ্ধ নয়বর্তমানে শ্রম ঘাটতির সম্মুখীনও নয় এবং তাই মন্দার সর্পিল সিঁড়িকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বিধিবদ্ধ চিন্তাভাবনার বাইরে বেরিয়ে অন্য কিছু ভাবতে হবে। আজকের বিশ্বব্যাপী শুল্ক যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতুলনীয় অবস্থানের কারণ বিশ্বব্যাপী ঋণের উপর তার একচেটিয়া অবস্থান এবং চিনকে অবশ্যই তা অনুকরণ করতে হবে।

চিনের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং কৌশলবিদদের দ্বারা পথ সংশোধন সম্পর্কে এই ধরনের আলোচনা সম্প্রতি প্রকাশিত চিনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সীমিত প্রকাশ পেলেও তা সাধারণ সেই চিনা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যাঁরা চিনা অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ক্রমশ আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। নীতিগত ধাঁধাটি চিনের জনমতকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলছে, যেখানে সংস্থাগুলি নিম্ন মানের এবং উচ্চ মানের শিল্পের মধ্যে পার্থক্য না করেই বিদেশে উৎপাদন স্থানান্তর করতে দৃঢ় ভাবে অনিচ্ছুক। একই ভাবে, রেয়ার আর্থ উপাদান এবং অন্যান্য কৌশলগত সম্পদের সম্পূর্ণ অবরোধের পক্ষে কণ্ঠস্বর রয়েছেযাতে ন্যূনতম অংশও বিদেশের হাতে পড়ে অবলুপ্ত না হয়।

ভারত যখন চিনের সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনঃসংযোগের কথা ভাবছেতখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে যে অস্থিরতা গ্রাস করেছেতা বোঝার জন্য তাদের আরও বেশি প্রচেষ্টা করতে হবে। তাদের চিন কৌশলে সতর্ক থাকতে হবেচিন এই মহারণে যে জয়ের পথে হাঁটছে’…  হেন আখ্যানটি ভারতের অন্ধ ভাবে গ্রহণ করা উচিত নয় এবং চিনা অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা বা অর্থনীতিকে সঙ্কট থেকে বের করে আনার জন্য চিনা ব্যবস্থার দক্ষতাকে কোনও মতেই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।

 


অন্তরা ঘোষাল সিং অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ফেলো

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.