-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
কপ৩০-কে অবশ্যই স্বচ্ছতা ও সহযোগিতা জোরদার করতে হবে, যাতে গ্লোবাল সাউথের সক্ষমতা তৈরি এবং জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কার্যকর করা যায়।
এই নিবন্ধটি এক্সপেক্টেশনস ফ্রম কপ৩০-র অংশ।
বারবার ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন এবং অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশ বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ব্যবস্থাপনার উপর ছায়া ফেলেছে। স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) জন্য জলবায়ু পদক্ষেপ এবং অর্থায়ন উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিভিন্ন দেশ যখন বেলেমে রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ৩০) অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ এবং আর্থিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন উচ্চাকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হলেও বাস্তবায়ন এখনও একটি চ্যালেঞ্জ। বছরের পর বছর ধরে কপ-কে ঘিরে ক্লান্তি দেখা দিয়েছে, যেখানে উন্নত দেশগুলি কোনও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি প্রদান করছে। প্যারিস চুক্তি গ্রহণের এক দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরেও জলবায়ু পদক্ষেপ গ্লোবাল সাউথের জন্য একটি অস্তিত্বগত সঙ্কট হিসাবে রয়ে গিয়েছে। বিশ্লেষকরা কপ৩০-কে ‘বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কপ’ হিসাবে অভিহিত করছেন। বিষয়ভিত্তিক আলোচনার ঊর্ধ্বে উঠে কপ৩০ জলবায়ু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের একটি অস্থায়ী পথনির্দেশিকা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কী ভাবে নানাবিধ পক্ষ উচ্চাকাঙ্ক্ষা দর্শায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা করে এবং তা বাস্তবায়ন করে… সব কিছুর হদিশ মিলবে এই পথনির্দেশিকায়।
বছরের পর বছর ধরে কপ-কে ঘিরে ক্লান্তি দেখা দিয়েছে, যেখানে উন্নত দেশগুলি কোনও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি প্রদান করছে।
বিশ্বব্যাপী বলতে গেলে, ২০২২ সাল পর্যন্ত গ্রিনহাউস গ্যাস (জিএইচজি) নির্গমন ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭.৪ গিগাটন কার্বন ডাই অক্সাইডের সমতুল্য (জিটিসিও২ই) (চিত্র ১) রেকর্ডে পৌঁছেছে।
চিত্র ১: ১৯৯০-২০২২ সালে মোট জিএইচজি নির্গমন

সূত্র: ইউএনইপি নির্গমন ফারাক সংক্রান্ত প্রতিবেদন ২০২৩
উচ্চ আয়ক্ষম দেশগুলি সর্বোচ্চ নির্গমনকারী দেশ হওয়ায় জিএইচজি নির্গমন দৃশ্যত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলির অর্থনৈতিক অগ্রগতির উপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র (এসআইডিএস) এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলি (এলডিসি)। উন্নয়নের চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করার জন্য তাদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব তুলে ধরে, প্যারিস চুক্তির ১৩ অনুচ্ছেদ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) অধীনে জলবায়ু নীতি এবং পক্ষগুলির গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কিত তথ্যের প্রতিবেদন ও পর্যালোচনা সংক্রান্ত স্বচ্ছতা চুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউএনএফসিসিসি-তে লিখিত মতাদেশ থেকে স্বচ্ছতা বিকশিত হয়েছে, যা একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো অর্থাৎ বর্ধিত স্বচ্ছতা কাঠামোর (ইটিএফ) (চিত্র ২) প্রতি জলবায়ু প্রতিশ্রুতির উপর নজর রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
চিত্র ২: ১৯৯৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বচ্ছতার বিবর্তন

সূত্র: বাণী রিজওয়ানি, বর্ধিত স্বচ্ছতা কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি: ভারত কি আদৌ প্রস্তুত? ২০১৯
ধারা ১৩ ‘পক্ষগুলির বিভিন্ন ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ও সম্মিলিত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে অন্তর্নির্মিত নমনীয়তা-সহ কর্ম ও সহায়তার জন্য ইটিএফ তৈরি’র উপর জোর দেয়। জলবায়ু নীতি বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়ে, স্বচ্ছতা একটি বাঁকবদলকারী উপাদান হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। ইটিএফ-এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি তাদের জাতীয় ভাবে নির্ধারিত অবদানের (এনডিসি) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্বিবার্ষিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদনের (বিটিআর) মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন কর্মকাণ্ডে প্রদত্ত বা প্রাপ্ত সহায়তার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করা। এটি অনুচ্ছেদ ১৪-এর অধীনে বিশ্বব্যাপী স্টকটেককে অবহিত করার জন্য প্রদত্ত সামগ্রিক আর্থিক সহায়তার একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে। ধারণাটি হল জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা স্থানান্তর, সক্ষমতা-নির্মাণ ইত্যাদির মাধ্যমে জলবায়ু প্রতিশ্রুতির উপর সম্মিলিত পদক্ষেপের জন্য সহযোগিতা জোরদার করতে পক্ষগুলির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও আশ্বাস বৃদ্ধি করা।
গ্লোবাল সাউথের জন্য স্বচ্ছতার পথে বাধা সংক্রান্ত বাস্তবায়ন
ইটিএফ-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত প্রবিধান ও প্রতিবেদন সংক্রান্ত ব্যবস্থা মেনে চলার বিষয়টি উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, অনেক গ্লোবাল সাউথ দেশেরই জিএইচজি নির্গমন তালিকা সম্পর্কে ‘জাতীয় যোগাযোগ প্রস্তুত করার জন্য স্থিতিশীল জাতীয় ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিক, বাস্তবায়ন এবং বজায় রাখা’র ক্ষমতার অভাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সরাসরি উৎস থেকে জিএইচজি নির্গমন সঠিক ভাবে ট্র্যাক করতে পারে এমন শক্তিশালী তথ্য কাঠামোর অনুপস্থিতি উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ইটিএফ-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত প্রবিধান ও প্রতিবেদন সংক্রান্ত ব্যবস্থা মেনে চলার বিষয়টি উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সর্বোপরি, তথ্য পরিমাপ, তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব প্রতিবেদনের বিষয়টিকে কঠিন করে তোলে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন এবং অভিযোজন করার জন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের উপর একটি সর্বাত্মক জাতীয় যোগাযোগ গড়ে তোলার জন্য দক্ষ ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন প্রয়োজন।
গ্লোবাল নর্থের উচিত কেবল প্রযুক্তিগত অনুশীলন হিসাবে ইটিএফ হ্রাস করার উপর মনোনিবেশ করা নয়, বরং এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া হিসাবে বাস্তবায়ন করা, যা গ্লোবাল সাউথের অনন্য চাহিদাকে প্রতিফলিত করে। পরিবর্তে, জলবায়ু অর্থায়নের উপর উচ্চাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধিকে কেবল একটি দাতব্য হিসাবে বিবেচনা করা উচিত নয়, বরং উন্নত দেশগুলির জন্য একটি কেন্দ্রীয় কৌশল হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।
নীতিগত সুপারিশ
কপ৩০-এর শুধুমাত্র উন্নয়নশীল অর্থনীতির সম্মুখীন বাস্তবায়নের বাধাগুলি তুলে ধরা উচিত নয়, বরং জলবায়ু কর্মকাণ্ডে তাদের অগ্রগতি উন্নত করার জন্য একটি পথনির্দেশিকাও তৈরি করা উচিত। এখানে কয়েকটি নীতিগত সুপারিশ দেওয়া হল:
• প্যারিস চুক্তির সঙ্গে জাতীয় স্বচ্ছতা কাঠামো একীভূত করা
প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইটিএফ যাতে সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় তা নিশ্চিত করার জন্য, আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা এবং জাতীয় প্রতিবেদন সুষ্ঠু ভাবে একীভূত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী জাতীয় স্বচ্ছতা কাঠামো তাদের এনডিসি-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্গমন পরিমাপের জন্য পর্যাপ্ত পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।
• প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি বৃদ্ধির জন্য উত্তর-দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৃদ্ধি
জলবায়ু স্বচ্ছতার উপর উত্তর-দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার পথ তৈরি করা অভিন্ন সাধারণ পদক্ষেপ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী দক্ষিণের প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক ও প্রযুক্তিগত উভয় সংস্থানই প্রয়োজন। ভারত, ব্রাজিল, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্বে দক্ষিণ-চালিত অংশীদারিত্বের উত্থান দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছতা প্রতিবেদন কাঠামো, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি বৃদ্ধির জন্য সক্ষমতা স্থানান্তরকে সহজতর করতে পারে।
• বিশ্বব্যাপী দক্ষিণের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি
ডিজিটাল প্রযুক্তির আবির্ভাব উন্নয়নের আখ্যানকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বদলে দিয়েছে। জলবায়ু কর্মকাণ্ড এখন নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল, যা তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইকরণকে সহজতর করে। তাই আগামী বছরগুলিতে জলবায়ু কর্মকাণ্ডের উপর জাতীয় যোগাযোগ প্রতিবেদন সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করার জন্য গ্লোবাল সাউথের জন্য পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে নিজেকে পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত অর্থনীতি থেকে গ্লোবাল সাউথে প্রযুক্তিগত দক্ষতা স্থানান্তর গ্রিনহাউস গ্যাস ইনভেন্টরি তৈরি, প্রশমন এবং অভিযোজন অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য অপরিহার্য।
• মানব পুঁজির মূল্য ব্যবহার
গ্লোবাল সাউথের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের প্রাণবন্ত জনসংখ্যাগত লভ্যাংশের গর্ব করার সঙ্গেই জলবায়ু পরিবর্তনের উপর জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় উপযুক্ত পদে তাদের নিয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে দেখলে, যুবসমাজের বর্ধিত ক্ষমতা-নির্মাণ অর্থাৎ ডেটা ম্যানেজার, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ইত্যাদি প্রশিক্ষণ, গ্লোবাল সাউথে স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠান চালু করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার জন্য জলবায়ু অগ্রাধিকারের সমন্বয় প্রয়োজন। তবে কপ৩০-এর প্রকৃত অগ্রগতির জন্য স্বচ্ছতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যা আসন্ন ভবিষ্যতে উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতাকে সহজতর করতে পারে।
স্বাতী প্রভু অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি-র (সিএনইডি) ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr Swati Prabhu is a Fellow with the Centre for New Economic Diplomacy at the Observer Research Foundation. Her research explores the idea of aid, evolving ...
Read More +