Author : Sohini Bose

Published on Sep 16, 2025 Updated 0 Hours ago

ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার পুনর্বিন্যাস দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়, যা আঞ্চলিক চ্যুতিরেখাগুলিকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করতে পারে এবং যার ফলে ভারতকে তার কৌশলগত সমীকরণও পুনর্বিন্যাস করতে হবে।

সমীকরণে পরিবর্তন: বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা পুনর্বিন্যাস

একসময় একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত পাকিস্তান এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেরঅর্থাৎ আধুনিক বাংলাদেশ - সেনাবাহিনী এখন একে অপরের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় অংশীদার হতে আগ্রহী। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন একটি দিকনির্দেশনা নিচ্ছে, যা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটির সঙ্গে তার জটিল সম্পর্কের ইতিহাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। বাংলাদেশের অস্তিত্বের গত পঞ্চান্ন বছরে ঢাকা সাধারণত ইসলামাবাদ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে অবশ্য দুই দেশের সম্পর্ক যথেষ্ট উষ্ণ হয়ে ওঠে, যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামাত-এ-ইসলামীর একটি জোট দেশ শাসন করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকার বহনকারী আওয়ামী লীগ – যে দলটি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের স্তম্ভ - ক্ষমতায় আসার পর ইসলামাবাদের সঙ্গে ন্যূনতম কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ পরবর্তী সাড়ে পনেরো বছর ধরে গত বছরের অগস্ট মাস পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পর এই অনুশীলন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার প্রায় স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। তবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির দিকে চালিত করার সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে আওয়ামী ঐতিহ্য থেকে সরে এসে একটি নতুন জাতীয় পরিচয় তৈরি করতে শুরু করেছে, যা দেশের ঐতিহাসিক ভৌগোলিক বাস্তবতা থেকে সচেতন ভাবে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।

বিনিময় ও মহড়া

গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা বিনিময় হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উষ্ণতাকেই দর্শায়। শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসেই উভয় দেশের প্রতিরক্ষা কর্মীদের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বৈঠকটি দুটি অংশে অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একটি বাংলাদেশি সামরিক প্রতিনিধিদল রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের জেনারেল হেডকোয়ার্টারে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার সঙ্গে দেখা করেন। পরের দিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান ইসলামাবাদে বিমান সদর দফতরে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে দেখা করেন। উভয় পক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তা গতিশীলতা, যৌথ সামরিক মহড়ার সুযোগ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রতিরক্ষা বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল আইএসআই বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম উচ্চ স্তরের বৈঠক।

জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স-এর (আইএসআই) ডিরেক্টর জেনারেল মেজর জেনারেল শহীদ আমির আফসারের নেতৃত্বে একটি সামরিক প্রতিনিধিদল তাঁদের বাংলাদেশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা সফর করেন। সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল আইএসআই বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম উচ্চ স্তরের বৈঠক। ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার যুদ্ধজাহাজ বিএনএস সমুদ্র জয় করাচি উপকূলে আরব সাগরের উত্তর অংশে ইসলামাবাদ আয়োজিত একটি নৌ মহড়া আমান-২৫-এ অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ ছাড়াও বহুজাতিক অনুষ্ঠানে ভারতের তিনটি প্রতিবেশী অর্থাৎ শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার চি-সহ ১২০টি দেশের নৌবাহিনী অংশগ্রহণ করে।

পরিবর্তনশীল আখ্যান

২০২৫ সালের আমান সংলাপে ভাষণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ হাসান সামরিক মহড়ার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, ভূমি দেশ ভাগ করলেও সমুদ্র তাদের একত্রিত করে। এই বিবৃতিটি বছরের শুরুতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর করা একটি মন্তব্যের প্রতিধ্বনি, যেখানে দুটি দেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল এই দুই দেশকেই বহিরাগত প্রভাবের বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপক হয়ে উঠতে হবে। এই বাক্যাংশটি ভূ-রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং দ্বিপাক্ষিক পার্থক্যের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় একটি উল্লেখযোগ্য মোড়কে দর্শায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর অধীনে পাকিস্তানের সামরিক সম্পদ সংস্কার করার জন্য পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান অর্জনে ঢাকার আগ্রহ সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। বেজিং ইসলামাবাদ দ্বারা যৌথ ভাবে নির্মিত এই জেটগুলি চি, পাকিস্তান বাংলাদেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের প্রতীক - বিশেষ করে যেহেতু বেজিং উভয় দেশের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা অংশীদার এবং অস্ত্র স্থানান্তর অবকাঠামো উন্নয়নে জড়িত। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ইসলামাবাদের (২০২০-২০২৪) ৮১ শতাংশ এবং ঢাকার (২০১০-২০২০) ৭৩.৬ শতাংশ আমদানিকৃত অস্ত্র চিন থেকেই এসেছে।

এই বাক্যাংশটি ভূ-রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং দ্বিপাক্ষিক পার্থক্যের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় একটি উল্লেখযোগ্য মোড়কে দর্শায়।

তথ্য অনুসারে, হাসিনা প্রশাসনের সময় থেকে চিন বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা অংশীদার। তবে গত কয়েক দশক ধরে ঢাকা ভারত ও চিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের কূটনীতি অনুসরণ করেছে, যা বাংলাদেশকে নিজের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেপ্রধান শক্তির রাজনীতিতে কার্যকর ভাবে পথ খুঁজে নিতে সক্ষম করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই ভারসাম্যটি একতরফা হয়ে উঠেছেপ্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ভারতে আশ্রয়-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে ঢাকা নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের কৌশলগত ভাবে সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে লালমনিরহাটে একটি বিমান ঘাঁটি তৈরির জন্য চিনা বিনিয়োগকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শিলিগুড়ি করিডোর রাজনৈতিক ভাবে ভঙ্গুর উত্তর-পূর্বকে ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ কার্যতই নয়াদিল্লির সংবেদনশীলতাকে উপেক্ষা করেছে

ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার সাম্প্রতিক যোগাযোগ ভারতের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক গতিশীলতাকে আরও বদলে দিচ্ছে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনার কারণে। এই ধরনের পদক্ষেপ পাকিস্তানকে উত্তর-পূর্ব, পশ্চিমবঙ্গ কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গোপসাগরে ভারতের সীমান্তের আরও কাছে নিয়ে যাবে এই অঞ্চলটি ভারতের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তার পাশাপাশিই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই সম্ভাবনা বিশেষ ভাবে উদ্বেগজনক, যার জন্য নয়াদিল্লি ইসলামাবাদকে দায়ী করে। অপারেশন সিঁদুরের আকারে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং এর ফলে সীমান্তে গোলাগুলি শত্রুতা আরও গভীর করেছে।

এই ধরনের পদক্ষেপ পাকিস্তানকে উত্তর-পূর্ব, পশ্চিমবঙ্গ কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গোপসাগরে ভারতের সীমান্তের আরও কাছে নিয়ে যাবে এই অঞ্চলটি ভারতের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তার পাশাপাশিই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তরলেও ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান জোট ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ অবশ্যই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) .ল.ম. ফজলুর রহমানের বিতর্কিত বক্তব্য লক্ষ্যণীয়, যেখানে তিনি বলেন, ‘যদি ভারত পাকিস্তানে আক্রমণ করে, তা হলে বাংলাদেশের উচিত উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য দখল করা... আমি মনে করি এই বিষয়ে একটি যৌথ সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে চিনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।’ ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই মন্তব্য করলেও তা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবশ্য এই মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে২০০৯ সালের বাংলাদেশ রাইফেলস বিদ্রোহের তদন্তকারী জাতীয় স্বাধীন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রহমানের অবস্থান অবশ্যই বিশিষ্ট জনসাধারণের ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য সাবধানতার সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তাকেই দর্শায়।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তাঁর বাংলাদেশ সফর স্থগিতরলেও অংশীদারিত্ব লালনের প্রতীকী প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনার আয়োজিত বাংলাদেশের ৫৪তম জাতীয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ, যেখানে তিনি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের অনুসন্ধান মূল্য

নতুন পরিচয় তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির হাত ধরে সকলের কাছে পৌঁছতে’ চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে যুক্তি হল এই যে, উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও উভয় দেশই কূটনৈতিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ভাবে বিকশিত হয়েছেঅতীতকে স্বীকার করে নিলেও দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতের কৌশলগত সম্পর্কের বিকাশে বাধা হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে তার অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করতে পারে। তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে। প্রথম প্রশ্ন হল, এই ধরনের নীতি পুনর্বিন্যাস কি ঢাকার নিকটবর্তী প্রতিবেশের ভূ-রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে পারে?

বর্তমান পরিস্থিতিতে অবশ্য এই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের অগ্রগতি দূরবর্তী বলে মনে হচ্ছে এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার জন্য বিবেচনা করা একটি স্থিতিশীল প্রতিবেশ নীতির জন্য আবশ্যক

ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী, যারা কেবল সংলগ্ন ভূখণ্ড ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীই ভাগ করে নেয় না, বরং ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা মানুষের ইতিহাসও ভাগ করে নেয়। সর্বোপরি, দুই দেশ অপরিহার্য জিনিসপত্রের বাণিজ্যে রত (যদিও ঢাকায় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পর থেকে এই বাণিজ্যের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে) এবং সাধারণ সম্পদের স্থিতিশীল ব্যবহার চিকিৎসা পর্যটনের মতো মৌলিক পরিষেবা বিনিময়ের উপর পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল। আওয়ামী লীগ প্রশাসনের শেষের দিকে ভারত এবং বাংলাদেশ তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছিল। সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অভিযান তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি করেছিল এবং যৌথ সামরিক মহড়া সম্প্রীতি২০২৩ সালে ১১তম সংস্করণ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে অবশ্য এই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের অগ্রগতি দূরবর্তী বলে মনে হচ্ছে এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার জন্য বিবেচনা করা একটি স্থিতিশীল প্রতিবেশ নীতির জন্য আবশ্যক

দ্বিতীয় প্রশ্নটি হল, বাংলাদেশের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনত এই ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে। নকশার দিকে চোখ রাখলে বোঝা যাবে, সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে মূলত নির্বাচন তত্ত্বাবধান নির্বাচিত প্রশাসনের কাছে মসৃণ ভাবে ক্ষমতা স্থানান্তর নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সর্বোপরি, ২০১১ সালের একটি সংবিধান সংশোধনী আইনের কারণে - যার মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল - মুহাম্মদ ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইনি বৈধতা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সম্প্রতি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক ভাবে বাতিল করেছে এবং নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছে’, ইউনূস প্রশাসনকে বৈধতা দিয়েছে তবুও এটি একটি অনির্বাচিত সরকার হিসেবে রয়ে গিয়েছে। অতএব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্তৃত্বের সীমা এবং এর নীতিগত নির্দেশাবলি বাংলাদেশি জনগণের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে কি না, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী মতামত রয়েছে।

দ্বিতীয় প্রশ্নটি হল, বাংলাদেশের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনত এই ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদীয়মান পররাষ্ট্রনীতি কয়েক দশক ধরে কৌশলগত আঞ্চলিক ভারসাম্য থেকে সচেতন ভাবে বিচ্যুত হওয়ার প্রতিফলন ঘটায়। ভারতের সঙ্গে বাড়তে থাকা বিচ্ছিন্নতার পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক জোটবদ্ধতা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি সম্ভাব্য পরিবর্তন স্পষ্ট, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান শত্রুতা গভীরতর হওয়ার প্রেক্ষিতে অবশ্যই। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তিত আখ্যানের সঙ্গে নয়াদিল্লি ইসলামাবাদ কী ভাবে মানিয়ে নেয় এবং এই দেশগুলি কী ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলটি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সঙ্গে যুঝতে থাকার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির পছন্দ এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও ক্ষমতার গতিশীলতার বৃহত্তর গতিপথ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 


সোহিনী বোস অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ফেলো।


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.