Published on Dec 16, 2025 Updated 0 Hours ago

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ছাড় প্রত্যাহার করেছে। এই সিদ্ধান্ত ইউরেশিয়ায় ভারতের সংযোগ প্রকল্পগুলিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। মধ্য এশিয়া আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের জন্য এই বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধেও কাজ করে। এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং স্থিতিশীলতার ভবিষ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।

চাবাহার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপযুক্ত পোর্ট অফ কল নয়

সম্প্রতি ট্রাম্প সরকার ইরানের বিরুদ্ধে তার সর্বোচ্চ চাপ নীতির অংশ হিসেবে কৌশলগত চাবাহার বন্দরের নিষেধাজ্ঞার ছাড় প্রত্যাহার করে।  ইউরেশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত, নির্ভরযোগ্য সংযোগ উদ্যোগের জন্য ভারতীয় বিনিয়োগ বন্দর উন্নয়নকে উৎসাহিত করার জন্য এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য ২০১৮ সালে এই ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এই ছাড় প্রত্যাহার ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মরত ভারতীয় ব্যক্তি সংস্থাগুলি অথবা সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান ফ্রিডম অ্যান্ড কাউন্টার-প্রলিফারেশন অ্যাক্ট’-এর অধীনে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারে।

ভারত ২০১৮ সাল থেকে চাবাহার উন্নয়ন করছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল) এবং ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (পিএমও) শহিদ বেহেস্তি টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ভারতের সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তিতে প্রবেশ করে। এই বন্দরটি নয়াদিল্লিকে মধ্য এশিয়ান প্রজাতন্ত্র-সহ (সিএআর) ইউরেশিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দ্রুততম পথ প্রদান করে এবং স্থলবেষ্টিত সিএআর আফগানিস্তানের জন্য ভারত মহাসাগরে প্রবেশের একটি সোনালি প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হয়। এই প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডোরের (আইএনএসটিসি) সঙ্গে নয়াদিল্লির আঞ্চলিক সংযোগ পরিকল্পনার জন্য একটি ধাক্কা হতে পারে।

এই বন্দরটি নয়াদিল্লিকে মধ্য এশিয়ান প্রজাতন্ত্র-সহ (সিএআর) ইউরেশিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দ্রুততম পথ প্রদান করে এবং স্থলবেষ্টিত সিএআর আফগানিস্তানের জন্য ভারত মহাসাগরে প্রবেশের একটি সোনালি প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হয়।

নিষেধাজ্ঞার ছাড় প্রত্যাহার করলে হাইড্রোকার্বন সমৃদ্ধ মধ্য এশীয় অঞ্চলে ভারতের প্রবেশাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দূষণহীন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষার জন্য রেয়ার আর্থ রফতানি সীমিত করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে কাজাখস্তানে ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ৫,০০০-এরও বেশি রেয়ার আর্থ মজুদ রয়েছে, যার বেশির ভাগই বর্তমানে চিনে রফতানি করা হয়।

ভারতের নতুন বাজার, স্থিতিস্থাপক, নির্ভরযোগ্য বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল এবং স্থিতিশীল পরিবহণ সংযোগের প্রয়োজন। চাবাহার তার কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ভারত মহাসাগরের তিনটি চোক পয়েন্ট’-এর অন্যতম এবং হরমুজ প্রণালীর ওপারে খোলা সমুদ্রে অবস্থিত। এর অবস্থান নিশ্চিত করে যে, এটি উপসাগরীয় বা পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং গুজরাটের মুন্দ্রা কান্দলা বন্দর থেকে ৫৫০ নটিক্যাল মাইল এবং মহারাষ্ট্রের জেএনপিটি থেকে ৭৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত।

ইউরেশিয়ায় চিনের প্রভাব মোকাবিলা করতে এবং ভারত মহাসাগরে বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান শক্তি সীমিত করতেও চাবাহার ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালের পর বেজিং সফল ভাবে সিএআর-কে তার অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে টেনে এনেছে। শক্তি সমীকরণে পুনঃভারসাম্য আনার জন্য ভারত এবং মধ্য এশিয়া ২০১৯ সালে ভারত-মধ্য এশিয়া সংলাপ শুরু করে। বেশির ভাগ মধ্য এশীয় দেশ ভারত মহাসাগরে প্রবেশের জন্য চাবাহার বন্দর-সহ ভারতীয় সংযোগ প্রকল্পগুলিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

২০২২ সালে প্রথম ভারত-মধ্য এশিয়া ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের সময় সমস্ত দেশ আইএনএসটিসি-তে চাবাহারের অন্তর্ভুক্তির উপর জোর দিয়েছিল। ভারত মধ্য এশীয় দেশগুলি চাবাহারের উপর একটি কর্মী গোষ্ঠী গঠন করেছে। আইএনএসটিসি-এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গেলে, এটি ভারতকে ক্যাস্পিয়ান সাগরের পূর্বে ৯২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কাজাখস্তান-তুর্কমেনিস্তান-ইরান (কেটিআই) রেলপথের মাধ্যমে হাইড্রোকার্বন সমৃদ্ধ মধ্য এশিয়ায় সরাসরি প্রবেশাধিকার দেবে, যা ২০১৪ সালে কার্যকর হয়েছিল এবং আশগাবাত চুক্তির অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

২০১৩ সালে গোয়াদর বন্দরটি একটি চিনা অপারেটিং সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং তার পর থেকে এটি বিতর্কিত চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা বিতর্কিত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সার্বভৌমত্ব অখণ্ডতা সম্পর্কে নয়াদিল্লির উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছে।

২০০০ সাল থেকে চিন বিশ্ব জুড়ে ৩৮টি বন্দর নির্মাণ করেছে। বেজিংয়ের ৭৮টি বন্দরে অংশীদারিত্ব রয়েছে, যার মধ্যে আরও ৪৩টি বিআরআই পরিসরের মধ্যে পরিকল্পিত বা নির্মাণাধীন। দক্ষিণ এশিয়ার এই বন্দরগুলির মধ্যে কিছু স্ট্রিং অফ পার্লসতত্ত্বের অংশ, যেমন পাকিস্তানের গোয়াদর। ২০১৩ সালে গোয়াদর বন্দরটি একটি চিনা অপারেটিং সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং তার পর থেকে এটি বিতর্কিত চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা বিতর্কিত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সার্বভৌমত্ব অখণ্ডতা সম্পর্কে নয়াদিল্লির উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছে। চাবাহার গোয়াদর থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা চিনা সামুদ্রিক প্রভাবের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করতে পারে।

চাবাহার সংক্রান্ত ধাঁধাটি একটি বৃহত্তর দ্বিধাকে উত্থাপন করে: বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ করিডোরগুলিকে রোধ করতে থাকবে, না কি অঞ্চলজুড়ে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধিতে অভিন্ন সাধারণ স্বার্থ পূরণের জন্য বাস্তবসম্মত সহযোগিতা বিরাজ করতে পারে?

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় দ্য ইকোনমিক টাইমস-এ।

 


নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.