Published on Feb 02, 2026 Updated 0 Hours ago

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলির উপর ট্রাম্পের নতুন ২৫% শুল্ক আরোপ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে, বিশেষ করে চাবাহার বন্দরে। এই পদক্ষেপ পূর্ববর্তী ছাড়কে দুর্বল করে দেয়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ভারত-মার্কিন সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। চাবাহারে ভারতের ভূমিকা হ্রাস পেলে ভারত কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়বে, যার ফলে চিন শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবে।

চাবাহার: ভারতের কঠিন বন্দরযাত্রা

দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে, ভারত তার ভূ-রাজনৈতিক এবং ভূ-অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন করে টানাপড়েনের সম্মুখীন হয়েছে। এই চাপের সর্বশেষ প্রকাশ হল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত যে কোনও দেশের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা। যদিও এটি একটি সর্বজনীন ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, এই পদক্ষেপটি তেহরানের সঙ্গে ভারতের সাবধানে গড়ে তোলা সম্পর্ককে জটিল করে তোলে, বিশেষ করে ইরানের চাবাহার বন্দরে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে। বিদ্যমান বাণিজ্য শুল্কের পরে এটি এসেছে, এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে ভারতের প্রচেষ্টায় আরেকটি সম্ভাব্য বাধা যোগ করেছে।

এই শুল্ক আরোপের কাছাকাছি সময়ে ভারত ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাবাহারে তার কার্যক্রমের জন্য ওয়াশিংটন থেকে ছয় মাসের ছাড় পেয়েছিল। এই ছাড়কে ব্যাপকভাবে বন্দরে ভারতের উপস্থিতি পুনর্বিবেচনা এবং পুনর্মূল্যায়ন করার জন্য একটি অস্থায়ী জানালা হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। নতুন শুল্ক হুমকি কিন্তু সেই ছাড়কে সমস্যাযুক্ত করে এবং ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর আঞ্চলিক পরিবেশে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করে। আরও বিস্তৃতভাবে, এটি ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যকে আরও একটি উত্তেজনাপূর্ণ চক্রের কাছাকাছি ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।


নতুন শুল্ক হুমকি কিন্তু সেই ছাড়কে সমস্যাযুক্ত করে এবং ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর আঞ্চলিক পরিবেশে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করে।



ইরানের প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি একটি পরিচিত ধরন অনুসরণ করেছে। তাঁর প্রথম  মেয়াদে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (জেসিপিওএ) থেকে সরে যায় এবং তেল রপ্তানি, ব্যাঙ্কিং, জাহাজ চলাচল এবং তৃতীয় পক্ষের বাণিজ্যের উপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে একটি ‘‌সর্বোচ্চ চাপ’‌ সৃষ্টির অভিযান শুরু করে। যদিও বাইডেন প্রশাসন কূটনীতির প্রতি বাকচাতুর্যে তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিল, বেশিরভাগ মূল নিষেধাজ্ঞার কাঠামো অক্ষত ছিল, প্রয়োগের ক্ষেত্রে ওঠানামা হলেও মৌলিকভাবে কখনও বিপরীত হয়নি। ইরান দীর্ঘদিন ধরে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৮ সালের বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির পর ভারতের উপর পশ্চিমী প্রসাররোধ লক্ষ্যের সঙ্গে ইরান নীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য চাপ বৃদ্ধি।

ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন এই কৌশলের জবরদস্তিমূলক প্রান্তকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। শুল্ক এখন তৃতীয় দেশগুলিকে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই পদ্ধতি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী কৌশলের প্রতিফলন, যেখানে তেল রপ্তানি বন্ধ করতে এবং একটি কার্যত কৌশলগত অবরোধ তৈরি করতে নিষেধাজ্ঞা এবং গৌণ জরিমানা ব্যবহার করা হয়েছিল। ইরানের ক্ষেত্রেও উদ্দেশ্যটি একই রকম বলে মনে হচ্ছে, অংশীদারদের দূরে সরিয়ে দেওয়া, অর্থনৈতিক জীবনরেখা ভেঙে ফেলা, এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে তেহরানকে কোণঠাসা করা।

ভারতের জন্য, চাবাহার শুধু একটি বাণিজ্যিক বন্দর প্রকল্প নয়। এটি একটি কৌশলগত সম্পদ যা সভ্যতাগত সংযোগ, আঞ্চলিক সংযোগ এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা স্বার্থকে একত্রিত করে। বন্দরটি ভারতকে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া এবং পরবর্তীতে রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য একটি বিরল স্থল ও সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার প্রদান করে, যেখানে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে ট্রানজিট অধিকার প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এর বিকল্প প্রবেশপথ কাঠামোগতভাবে সীমাবদ্ধ রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাঘাতের ফলে সংযোগ দৃষ্টিভঙ্গি তার পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জনে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাঘাতের ফলে সংযোগ দৃষ্টিভঙ্গি তার পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জনে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।



ভারত ২০২৪ সালের মে মাসে ইরানের সঙ্গে একটি ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার অধীনে রাষ্ট্র পরিচালিত ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল) চাবাহারে শহিদ বেহেস্তি টার্মিনালের উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইরানের বন্দর ও সমুদ্র সংস্থার সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল কার্যকরী স্থিতিশীলতা প্রদান করা, এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারতের জড়িত থাকার ইচ্ছার ইঙ্গিত দেওয়া। ট্রাম্পের ঘোষণা এর বিরুদ্ধে গিয়েছে।

তবুও নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক বিবৃতি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ভারত তার বিকল্পগুলি পুনর্মূল্যায়ন করছে। যদিও ছয় মাসের ছাড়কে প্রথমে একটি বহির্গমন পথ হিসেবে দেখা হয়েছিল, ভারত এখন তার উপস্থিতি বজায় রাখার উপায়গুলি অন্বেষণ করছে বলে মনে হচ্ছে, যা জড়িত খরচ সম্পর্কে সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন এবং ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক ও ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য চাবাহারের কৌশলগত মূল্য প্রতিফলিত করে। ইরানের উপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে ভারত একা নয়। চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ব্রাজিল, তুরস্ক এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলি, যারা ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন মাত্রার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে, তারাও প্রভাবিত হতে পারে।

এর বিস্তৃত প্রভাব দ্বিপাক্ষিক সংঘাত ছাড়িয়েও বিস্তৃত। ইরান হরমুজ প্রণালীর পাশে অবস্থিত, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। ইরানের অর্থনীতি বা নিরাপত্তা পরিবেশের যে কোনও অস্থিতিশীলতা এমন প্রভাবের ঝুঁকি তৈরি করে যা বাণিজ্য ব্যাহত করতে পারে, বিমা এবং জাহাজ চলাচলের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে, এবং ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিনিয়োগের আস্থা হ্রাস করতে পারে। ভারত জ্বালানি ও পরিকাঠামো সংযোগের পাশাপাশি প্রবাসীদের সম্পর্কের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে তার পদচিহ্ন প্রসারিত করেছে, এবং তাই চাবাহারের ক্ষতি বা অবনমন তার জন্য একটি কৌশলগত ধাক্কা হবে।


ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন অর্থনৈতিক বা সামরিক বলপ্রয়োগ গাজা বিষয়ে অগ্রগতিসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার যে কোনও সম্ভাবনাকে ব্যাহত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।



এই সব কিছুর সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইরান ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যে রয়েছে, এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফর বাতিল করা, যেখানে চাবাহারের ভবিষ্যৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে আশা করা হয়েছিল, তা এই জরুরি পরিস্থিতিকেই তুলে ধরে। এদিকে, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং অমীমাংসিত সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখনও অস্থির। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন অর্থনৈতিক বা সামরিক বলপ্রয়োগ গাজা বিষয়ে অগ্রগতিসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার যে কোনও সম্ভাবনাকে ব্যাহত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত সারিবদ্ধতা আরও গভীর করছে, এবং এই সবই তার ঐতিহ্যবাহী অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে করছে। কিন্তু তার দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে যাচ্ছে। সর্বশেষ মার্কিন পদক্ষেপগুলি স্পষ্টভাবে ভারতকে লক্ষ্য করে নাও করা হয়ে থাকতে পারে, তবে সেগুলির প্রভাব অনিবার্য। হারানো অর্থনৈতিক সুযোগের বাইরে, চাবাহারে ভূমিকা হ্রাস পেলে ভারতের সামুদ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়া জুড়ে স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পাবে। সম্ভবত সবচেয়ে প্রত্যাশিতভাবে, চিন ভারতের সরে যাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া যে কোনও শূন্যতা পূরণ করতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

ট্রাম্প ইরানের উপর চাপ বাড়ানোর সাথে সাথে, বৈদেশিক শক্তিগুলি ভারতের পছন্দগুলিকে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রভাবিত করবে। হাতুড়ির চোখে সবকিছুই পেরেকের মতো মনে হতে পারে;‌ কিন্তু নয়াদিল্লির জন্য, এই মুহূর্তটি মোকাবিলা করার জন্য দক্ষ ভারসাম্য এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথোপকথনের প্রয়োজন হবে।


এই ভাষ্যটি প্রথম দ্য ইকনমিক টাইমস -‌এ প্রকাশিত হয়েছিল।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.

Authors

Harsh V. Pant

Harsh V. Pant

Professor Harsh V. Pant is Vice President - ORF and Studies at Observer Research Foundation, New Delhi. He is a Professor of International Relations with ...

Read More +
Vivek Mishra

Vivek Mishra

Vivek Mishra is Deputy Director – Strategic Studies Programme at the Observer Research Foundation. His work focuses on US foreign policy, domestic politics in the US, ...

Read More +