এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় দ্য ইকোনমিক টাইমস-এ।
এই মুহূর্তে ইইউ-র সিবিএএম সংক্রান্ত বিরোধ এবং কপ-এ সীমিত অংশগ্রহণের কারণে জলবায়ু বিষয়ে ইইউ-ভারত সহযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে। বাণিজ্য-সম্পর্কিত জলবায়ু পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সঠিক মঞ্চ নয়।
ভারত-ইইউ সম্পর্ক এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দের লেইন একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন করতে এবং ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে একটি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন, যা একটি দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
এমন এক সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী একতরফা নীতি অনুসরণ করছে এবং চিন গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাতগুলিতে আধিপত্য বিস্তার করছে, তখন ইইউ-ভারত যৌথ উদ্যোগ এমন বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে, যার জন্য উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতা অপরিহার্য। এটি আরও বৈচিত্র্যময় সবুজ মূল্য শৃঙ্খলকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিরাপত্তায়ও অবদান রাখবে।
এর জন্য প্রয়োজন সবুজ অর্থনীতিকে আরও কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কেন্দ্রে স্থাপন করা। সবুজ অর্থনীতিতে বর্ধিত বিনিয়োগের ফলে ভারতের অর্থনৈতিক সুবিধাগুলিকে গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই ভাবে, ইইউ-র উচিত একতরফা পদক্ষেপ এবং আত্মকেন্দ্রিক শিল্পনীতির উপর অতিরিক্ত মনোযোগ পরিহার করা। উভয় পক্ষেরই এমন একটি অংশীদারিত্বে সহযোগিতা করার অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, যা তাদের নেট জিরো লক্ষ্যমাত্রার দিকে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে এবং পারস্পরিক লাভজনক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও ইউরোপীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি অভিন্ন সবুজ মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তুলবে।
সবুজ অর্থনীতিতে বর্ধিত বিনিয়োগের ফলে ভারতের অর্থনৈতিক সুবিধাগুলিকে গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে ইইউ-র সিবিএএম সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব এবং কপ-এ সীমিত অংশগ্রহণের কারণে জলবায়ু বিষয়ে ইইউ-ভারত সহযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে। বাণিজ্য-সম্পর্কিত জলবায়ু পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সঠিক মঞ্চ নয়। যদিও একটি বিনিয়োগ চুক্তির জলবায়ু উপাদানকে শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে - যা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির একটি অপরিহার্য পরিপূরক - তবে এই ধরনের একটি চুক্তি কখন সম্পন্ন হতে পারে, তা স্পষ্ট নয়।
এর পরিবর্তে নেতাদের পর্যায়ে একটি সবুজ অর্থনীতি অংশীদারিত্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন এবং এটি আগামী বছরের ইইউ-ভারত শীর্ষ সম্মেলনের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। কার্বনমুক্তকরণের উপর একটি অংশীদারিত্বকে অবশ্যই নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর মনোযোগ দিতে হবে।
কার্বন মূল্য নির্ধারণ, বাণিজ্য এবং জলবায়ু সংযোগ বিষয়ে সহযোগিতা
এই কাজটি বিবেচনা করবে যে, সিবিএএম বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সিসিটিএস-কে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে, বিশেষ করে এই ইঙ্গিতের উপর ভিত্তি করে যে, ইইউ কী ভাবে ভারতের কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং স্কিমের (সিসিটিএস) উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।
এটি পরীক্ষা করবে যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলির (এমএসএমই) জন্য নিয়ম পালনের বোঝা কমানোর একটি বাস্তবসম্মত সমাধান প্রদানের লক্ষ্যে নির্গমন যাচাই ও নিরীক্ষণের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল গণ-অবকাঠামোতে সক্ষমতা তৈরিতে ভারত কী ভাবে ইউরোপকে সহায়তা করতে পারে। উভয় পক্ষের কার্বন মূল্য নির্ধারণ প্রকল্পের মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা সহজতর করার জন্য এই কাজে কার্বন হিসাবরক্ষণের পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এর মাধ্যমে রাজস্ব ভাগাভাগির কার্যপ্রণালী চিহ্নিত করা উচিত, যার অভিন্ন উদ্দেশ্য হবে— অর্থাৎ সিবিএএম থেকে প্রাপ্ত সম্পদ ভারতের ডিকার্বনাইজেশন প্রকল্পগুলিকে সহায়তা করার জন্য কাজে লাগানো।
সবুজ বিনিয়োগকে সমর্থন করা
সবুজ বিনিয়োগকে সমর্থন করার জন্য ইইউ এবং ভারতের একটি নতুন কাঠামো নিয়ে ভাবা উচিত, যা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সম্পদ সংগ্রহ এবং আর্থিক ঝুঁকি হ্রাসকারী উপকরণগুলোকে একত্রিত করবে, যার মধ্যে সরকারি ব্যাঙ্ক, বেসরকারি অর্থায়ন, মুদ্রা বিনিময় এবং বিমা তহবিল অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর লক্ষ্য হওয়া উচিত শিল্পের সহযোগিতায় এমন ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করা, যেখানে ইউরোপীয় এবং ভারতীয় সংস্থাগুলি এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারে, যা দূষণহীন শক্তি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং অভিযোজনে অবদান রাখে। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি (আরই) এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) থেকে শুরু করে চিপ ডিজাইন, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং সবুজ লৌহ আকরিক পর্যন্ত বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই ধরনের বিনিয়োগকে কী ভাবে সহজতর করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা উচিত। এটিকে এক নতুন ধরনের বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির সঙ্গে একীভূত করা যেতে পারে। চাহিদার একটি স্থিতিশীল উৎস তৈরি করতে, উভয় পক্ষের সবুজ শিল্পনীতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করা উচিত এবং খতিয়ে দেখা উচিত কী ভাবে বিনিয়োগ প্রকল্পগুলিকে এমন ভাবে সাজানো যায়, যাতে শীর্ষস্থানীয় সবুজ বাজারগুলিকে সমর্থনকারী বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা (সবুজ সংগ্রহ, ভোগ ভর্তুকি, নিলাম) থেকে সুবিধা পাওয়া যায়।
তথ্য ও পরামর্শ
বিনিয়োগ চুক্তিতে রাষ্ট্র-পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের জন্য একটি বিনিয়োগকারী সহায়তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এবং একটি স্থায়ী আলোচনা তৈরির মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাস্তবায়িত হতে পারে, যেখানে উভয় পক্ষই আগেভাগে তথ্য সরবরাহ করবে এবং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাগুলির বিষয়ে পরামর্শমূলক মতামত গ্রহণ করবে।
এই বছর হতে চলা শীর্ষ সম্মেলনে একটি উচ্চ-পর্যায়ের যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনের বিষয়ে একমত হওয়া যেতে পারে, যার দায়িত্ব হবে ২০২৭ সালের ইইউ-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে বিবেচনার জন্য কার্যকর সুপারিশ প্রস্তুত করা। এই টাস্ক ফোর্সে ভারত এবং ইসি (ইউরোপীয় কমিশন) উভয়েরই সমস্ত প্রধান পরিষেবা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একত্রিত করা উচিত। মোদী এবং ফন দের লেইন কর্তৃক নিযুক্ত একজন শেরপার মাধ্যমে কাজটি পরিচালিত হওয়া উচিত। টাস্ক ফোর্সকে বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলির সঙ্গেও পরামর্শ করতে হবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে কোনও বিমূর্ততা নেই। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপ এবং ভারত উভয়ই তাদের লোহা ও ইস্পাত খাতে কৌশলগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। কিন্তু উভয় পক্ষের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি এমন পরিণতির ঝুঁকি তৈরি করে, যা অর্থনৈতিক ভাবে অদক্ষ এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী হবে। এর পাশাপাশি আবার সেগুলি যাতে সহযোগিতা সমস্যার সমাধান করতে পারে, দ্বিপাক্ষিক সুবিধা প্রদান করতে পারে এবং বৈশ্বিক জনকল্যাণমূলক কাজকে উৎসাহিত করতে পারে। আমরা ইউরোপ-ভারতের মধ্যে কোনও আকস্মিক ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক আশা করছি না। কিন্তু পারস্পরিক সম্মতিতে আয়োজিত উদ্যোগ সফল হতে পারে। যদি ভারত একজন স্থিতিশীল অংশীদার চায় এবং ইউরোপ একটি উদ্যমী তরুণ দেশের সঙ্গে নিজের ভবিষ্যৎ ভাগ করে নিতে আগ্রহী হয়, তবে নীতিগত দীর্ঘ বিতর্কের পরিবর্তে, দায়িত্ব ও সক্ষমতাই উভয় পক্ষের জন্য ইতিবাচক সাফল্যের একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় দ্য ইকোনমিক টাইমস-এ।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Professor Jesse Scott is a Senior Fellow at the Observer Research Foundation, as well as adjunct faculty at the Hertie School in Berlin since 2019. ...
Read More +
Sangeeth Selvaraju is policy fellow, London School of Economics (LSE) ...
Read More +