Author : Srishti V Sinha

Published on Dec 30, 2025 Updated 0 Hours ago

বিশ্বব্যাপী ডেটা-সেন্টার সম্প্রসারণের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক থাকার জন্য এবং তার ডিজিটাল ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য ভারতের সার্বভৌম ক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি  করা অপরিহার্য।

ভারতে সার্বভৌম ডেটা-সেন্টার পরিকাঠামো নির্মাণ

বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রতিযোগিতা ত্বরান্বিত হচ্ছে, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্লাউড-নেটিভ কাজের চাপের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে ভারতের ডেটা সেন্টার পরিকাঠামোগত সিদ্ধান্তগুলি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল পদচিহ্নের দ্রুত বৃদ্ধি সত্ত্বেও, সীমিত অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কারণে ভারতের বেশিরভাগ ডেটা বিদেশে প্রক্রিয়াজাত এবং সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ডেটা উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ ভারতের হলেও বিশ্বের ডেটা সেন্টারের ক্ষমতার মাত্র শতাংশ ভারতে, যা এই ব্যবধানের বিশালতা তুলে ধরে। এই ভারসাম্যহীনতার কারণে বিনিয়োগে তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে, ইনস্টলড ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইটি) লোড ২০১৯ সালে ৩৫০ মেগাওয়াট (এমডবলিউ) থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ,০৩০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এটি ,৮২৫ মেগাওয়াটে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২৪ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক বৃদ্ধির হার (সিএজিআর) নির্দেশ করে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট বিনিয়োগ ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি, এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।


বিশ্বব্যাপী ডেটা উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ ভারতের হলেও বিশ্বের ডেটা সেন্টারের ক্ষমতার মাত্র শতাংশ ভারতে, যা এই ব্যবধানের বিশালতা তুলে ধরে।



এই প্রবন্ধটি ভারতে অভ্যন্তরীণ ডেটা সেন্টারের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচ্য তা পরীক্ষা করে। এটি সেই সব নিয়ন্ত্রক, পরিকাঠামোগত টেকসইতার বাধাগুলি বিশ্লেষণ করে যা সরবরাহকে ধীর করে দেয় এবং ভবিষ্যতের বৃদ্ধিকে ডেটা সার্বভৌমত্ব, স্থায়িত্ব এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য একটি সমন্বিত নীতিগত অ্যাজেন্ডা প্রস্তাব করে।

অভ্যন্তরীণ ডেটা সেন্টারের পক্ষে যুক্তি

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য অভ্যন্তরীণ ডেটা সেন্টারগুলি একটি মূল প্রয়োজনীয়তা হয়ে উঠছে, এবং নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা ইতিমধ্যেই চাহিদার ভিত্তিকে নোঙ্গর করছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) ২০১৮ সালের নির্দেশিকা অনুসারে অর্থপ্রদান সম্পর্কিত সমস্ত ডেটা দেশের মধ্যেই সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে, অন্যদিকে কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম-ইন্ডিয়া (সার্ট-ইন)-‌ ২০২২ সালের নির্দেশিকা ঘটনা রিপোর্টিং এবং বর্ধিত লগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একত্রে, এই পদক্ষেপগুলি সংবেদনশীল তথ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাকে একটি কাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা করে তুলেছে।

নিয়ন্ত্রক চালিকাশক্তির সীমানা ছাড়িয়ে, দেশীয় ডেটা সেন্টারের কর্মক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ কর্মপ্রদর্শন এবং অনুবর্তিতা সুবিধা প্রদান করে। প্রান্তিক বা আঞ্চলিক সুবিধাগুলির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছাকাছি পরিকাঠামো স্থাপন করা হলে তা স্পষ্টতই উল্লেখযোগ্য কর্মক্ষমতা অর্জন করে, যেমন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে কেন্দ্রীভূত ক্লাউড মডেলের তুলনায় ৮০ শতাংশেরও বেশি বিলম্ব হ্রাস পেয়েছে। এই নৈকট্য সরাসরি উচ্চতর পরিষেবার গুণমান নিয়ে আসে, যা দ্রুত ডিজিটাল পেমেন্ট, মসৃণ ভিডিও স্ট্রিমিং এবং আরও নির্ভরযোগ্য এন্টারপ্রাইজ ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন সক্ষম করে। স্থানীয় হোস্টিং অবশ্যই স্থিতিস্থাপকতাকে শক্তিশালী করা এবং অনুবর্তিতা সহজ করার মাধ্যমে কেন্দ্রীভূত পরিকাঠামো এবং বাধ্যবাধকতাগুলির উপর নির্ভরতা হ্রাস করে, যেমন তথ্য প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন, ২০০৮-‌এর ধারা ৭০খ-‌এর অধীনে দ্রুত ঘটনা প্রতিবেদন, যা দেশের মধ্যে অবস্থিত হলে দ্রুত করা সহজ।

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য অভ্যন্তরীণ ডেটা সেন্টারগুলি একটি মূল প্রয়োজনীয়তা হয়ে উঠছে, এবং নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা ইতিমধ্যেই চাহিদার ভিত্তিকে নোঙ্গর করছে।



অর্থনৈতিক সুযোগও সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০৩১ সালের মধ্যে ভারতের ডেটা সেন্টার পরিষেবার বাজার ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা হাইপারস্কেল বিনিয়োগের আয়তন এবং উদ্ভাবন উভয়কেই প্রতিফলিত করে। ডেটা সেন্টারগুলি এখন মূলধন গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মহাসড়ক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি স্থান পেয়েছে, যা ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভিত্তিগত পরিকাঠামো হিসাবে তাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়। তার উপর, বিশ্বব্যাপী পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এন্টারপ্রাইজ-উৎপাদিত ডেটা আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলিতে প্রক্রিয়াজাত করা হবে, যা বিশ্বব্যাপী বিতরণ ক্ষমতার দিকে কাঠামোগত পরিবর্তনের উপর জোর দেয়।

বাস্তবায়ন বাধা এবং নীতি পথ

ভারতের ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণে অনুমতি, বিদ্যুৎ প্রাপ্যতা, জল শীতলীকরণ, সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং দক্ষ শ্রমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই প্রতিটি বাধার নীতিগত সংযোগ রয়েছে যা ঝুঁকি হ্রাস করতে, খরচ কমাতে এবং সরবরাহ ত্বরান্বিত করতে পারে। এখনও পর্যন্ত, ডেটা সেন্টারের বেশিরভাগ বৃদ্ধি মুম্বইতে কেন্দ্রীভূত, যা দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির নেতৃত্ব দিচ্ছে। শহরে জমির ঘাটতি এবং গ্রিড যানজট তীব্রতর হচ্ছে, যার ফলে ডেভেলপাররা নাগপুর, লখনউ, জয়পুর কোচির মতো অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রগুলি অন্বেষণ করতে আগ্রহী। এই স্থানগুলি উন্নত ফাইবার সংযোগ পুনর্নবীকরণযোগ্য-শক্তি করিডোরের সান্নিধ্য এবং উপযুক্ত জমির বৃহত্তর প্রাপ্যতা থেকে উপকৃত হচ্ছে, যা পরবর্তী অভ্যন্তরীণ সম্প্রসারণকে সমর্থন করার ভিত্তি তৈরি করছে। এই বাধাগুলি মোকাবিলা করার জন্য একটি সুসংগত জাতীয় নীতিকর্মসূচির প্রয়োজন যা দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি এবং স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখার জন্য সমান্তরালভাবে পরিকাঠামো, স্থায়িত্ব কর্মিবাহিনীর প্রস্তুতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
 
স্থাপন সুযোগ:‌ ২০২৫ সালের হিসাবে, ২০ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন স্থাপনাগুলি স্থাপিত ক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি। ডেভেলপারদের সাধারণত ভূমি ব্যবহার, ইউটিলিটি, পরিবেশ এবং নিরাপত্তার জন্য ৩০টি পর্যন্ত পৃথক ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়, যা সময়সীমা কয়েক মাস বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও এই অনুমোদনগুলি সমস্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, বৃহৎ ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে বিলম্বের ফলে মূলধন কর্মক্ষমতার সঙ্কট বেশি হয়। সুবিন্যস্ত কাঠামো জাতীয় একক জানালা ব্যবস্থাকে একটি সময়-সীমাবদ্ধ কর্মপ্রবাহের দ্বারা শক্তিশালী করে, এবং তেলঙ্গানা রাজ্য শিল্প প্রকল্প অনুমোদন এবং স্ব-প্রত্যয়ন ব্যবস্থা আইন, ২০১৪ (টিএস-আইপাস)-‌ মতো মডেলগুলি থেকে শিক্ষা নেওয়া হলে তা এই বোঝা কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং বিবেচিত অনুমোদনের কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। সার্ট-ইন পরীক্ষাগুলিকে প্রাথমিকভাবে সংযুক্ত করা এবং সময়-সীমাবদ্ধ ছাড়পত্রগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করে এমন একটি জাতীয় ডেটা সেন্টার নীতিতে সেগুলিকে একীভূত করা হলে তা সব রাজ্যেই অনুমানযোগ্য, অভিন্ন সুযোগ প্রদান করবে।


২০৩১ সালের মধ্যে ভারতের ডেটা সেন্টার পরিষেবার বাজার ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা হাইপারস্কেল বিনিয়োগের আয়তন এবং উদ্ভাবন উভয়কেই প্রতিফলিত করে।

 

বিদ্যুৎ:‌ ভারতের সংযুক্ত আইটি লোড ২০৩০ সালের মধ্যে গিগাওয়াটে (জিডবলিউ) পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও গ্রিন এনার্জি ওপেন অ্যাক্সেস রুলস অপারেটরদের সরাসরি পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের জন্য চুক্তি করার সুযোগ দেয়, তবুও এই গ্রহণ অসম ছিল এবং বেশিরভাগ সুবিধাগুলি প্রাথমিকভাবে কয়লা-ভিত্তিক গ্রিডের উপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা নির্গমনের তীব্রতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি করে। আপডেট করা গ্রিড কোডগুলির, যা ডেটা সেন্টারগুলিকে নমনীয় চাহিদা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে, চাহিদা প্রতিক্রিয়া এবং গ্রিড-ভারসাম্য বাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে। পরিচ্ছন্ন সরবরাহকে আরও কার্যকর করার জন্য, নীতিগুলির স্টোরেজ দ্বারা সমর্থিত মানসম্মত দীর্ঘমেয়াদি পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলিকে সক্ষম করা উচিত, পাশাপাশি বিলিং চক্র জুড়ে উদ্বৃত্ত পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎপাদন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্পষ্ট নিয়মগুলিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। একসঙ্গে, এই পদক্ষেপগুলি অপারেটরদের জন্য ঝুঁকি কমাবে, খরচ নিশ্চিতকরণ উন্নত করবে, এবং ডেটা সেন্টারের কার্যক্রমে পরিচ্ছন্ন শক্তির সার্বক্ষণিক সংহতকরণকে সমর্থন করবে।

জল এবং শীতলকরণ:‌ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা ভারী কাজের চাপের ফলে বিদ্যুতের ঘনত্ব ঐতিহ্যবাহী প্রয়োগের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে শীতলকরণের চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটছে যখন অনেক ভারতীয় শহরে ভূগর্ভস্থ জলের তীব্র সঙ্কট তৈরি হচ্ছে, আর শিল্প শীতলকরণের জন্য মিষ্টি জলের ব্যবহার ইতিমধ্যেই সীমাবদ্ধ। পরিশোধিত বর্জ্য জলের পরিকাঠামো এবং উন্নত তরল-শীতলকরণ প্রযুক্তিতে সমান্তরাল বিনিয়োগ ব্যতিরেকে সম্প্রসারণের ঝুঁকির সঙ্গে স্থায়িত্বের সীমার সংঘাত তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি ভূ-স্থানিক সরঞ্জামগুলি ডেটা সেন্টারের অবস্থানকে পরিশোধিত বর্জ্য পাইপলাইন, ফাইবার করিডোর এবং পাওয়ার বে-‌গুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সাহায্য করতে পারে, একই সাথে পরিশোধিত বর্জ্য জলকে জল-সঙ্কটযুক্ত অঞ্চলে শীতলকরণের জন্য ডিফল্ট ইনপুট করে তোলে, যা ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে। 'পারফর্ম, অ্যাচিভ অ্যান্ড ট্রেড' প্রকল্প এবং কার্বন-ক্রেডিট বাজারের সঙ্গে যাচাইকৃত দক্ষতার উন্নতি সংযুক্ত করা কার্যগত সঞ্চয়কে আর্থিক রিটার্নে রূপান্তর করতে পারে, যা স্থায়িত্ব এবং ব্যয় দক্ষতা উভয়কেই শক্তিশালী করে।


সরঞ্জাম উপকরণ:‌ ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার এবং প্রিসিশন কুলিং ইউনিটের মতো মূল হার্ডওয়্যার এখনও প্রচুর পরিমাণে আমদানি-নির্ভর, এবং ক্রয় চক্র প্রায়শই এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে। এই ধরনের বিলম্ব প্রকল্পের কমিশনিং অর্ধ বছর বা তার বেশি বিলম্বিত করতে পারে, মূলধন আটকে রাখতে পারে এবং নতুন ক্ষমতা সংযোজনকে ধীর করে দিতে পারে। আমদানি করা বৈদ্যুতিক উপাদানের উপর সাম্প্রতিক শুল্ক বৃদ্ধি ক্রয়কে আরও জটিল করে তুলেছে, যা ডেভেলপারদের জন্য খরচ এবং অনিশ্চয়তা উভয়ই বাড়িয়েছে। উৎপাদন সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই)-শৈলীর প্রণোদনা স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের বিরাট প্রাথমিক খরচ কমিয়ে এবং আয়তন সুবিধা প্রদান করে উৎসাহিত করতে পারে, এবং ধীরে ধীরে আমদানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করে। একই সময়ে, ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস)-অনুমোদিত পরীক্ষার সুবিধা সম্প্রসারণ  সার্টিফিকেশনের সময়সীমা সংক্ষিপ্ত করবে, যা দেশীয় এবং আমদানিকৃত উভয় সরঞ্জামকে দ্রুত প্রকল্পে পৌঁছতে সক্ষম করবে। এই পদক্ষেপগুলি আরও স্থিতিস্থাপক এবং পূর্বাভাসযোগ্য সরবরাহ পরিবেশ তৈরি করে ভারতের ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা নিশ্চিত করবে।


২০৩৩ সালের মধ্যে, এই ক্ষেত্রটি ১০০,০০০ এরও বেশি দক্ষ কর্মীর ঘাটতির মুখোমুখি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যখন বেশিরভাগ অপারেটর ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হিমসিম খাবে।



শ্রম দক্ষতা:‌ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, তাপ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক অনুবর্তিতায় বিশেষজ্ঞ পেশাদারদের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে, এই ক্ষেত্রটি ১০০,০০০-এরও বেশি দক্ষ কর্মীর ঘাটতির মুখোমুখি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যখন বেশিরভাগ অপারেটর ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হিমসিম খাবে। এই ফাঁকগুলির ফলে প্রকল্প হস্তান্তরে বিলম্ব, বর্ধিত কর্মক্ষমতা ঝুঁকি, এবং নতুন কেন্দ্রগুলির সীমিত দক্ষতা দেখা দিতে পারে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্পোরেশন (এনএসডিসি) এবং প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা (পিএমকেভিওয়াই)-‌ তত্ত্বাবধানে একটি লক্ষ্যযুক্ত দক্ষতা অর্জনের মিশন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলি ডেটা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে তৈরি করা উচিত, এবং এতে বিদ্যুৎ প্রকৌশল, উন্নত শীতলকরণ এবং অনুবর্তিতার বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যদি রাজ্যস্তরের ডেটা-সেন্টার-প্রস্তুত পার্কগুলির সঙ্গে নিশ্চিত বিদ্যুৎ, ফাইবার সংযোগ একক-জানালা অনুমোদন সংযুক্ত করা হয়, তাহলে এই ধরনের পাইপলাইনগুলি নিশ্চিত করবে যে ক্যাম্পাসগুলি অনলাইনে আসার সময় একটি যোগ্য কর্মিবাহিনী পাওয়া যাবে, যা সময়মত সরবরাহ এবং দেশীয় ডেটা সেন্টার বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীল বৃদ্ধির ব্যবস্থা করবে।


উপসংহার


ভারতের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতি বিপুল পরিমাণে ডেটা তৈরি করছে, তবুও নিয়ন্ত্রক বাধা, পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, সরবরাহ-শৃঙ্খল নির্ভরতা এবং কর্মীবাহিনীর ঘাটতি ডেটা সেন্টারগুলির বৃদ্ধিকে ধীর করে দিচ্ছে। সুবিন্যস্ত অনুমোদন, আয়তনবৃদ্ধির সুযোগসহ পুনর্নবীকরণযোগ্য ক্রয়, বিদ্যুৎ শীতলকরণের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা, স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং প্রকল্প-সংযুক্ত দক্ষতা ডেটা সার্বভৌমত্ব স্থায়িত্ব রক্ষা করার পাশাপাশি ক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করতে পারে। এই ব্যবস্থাগুলিকে একত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে ভারত এমন একটি পূর্বাভাসযোগ্য, বিনিয়োগ-প্রস্তুত ডেটা-সেন্টার বাস্তুতন্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে যা দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বৃদ্ধিকে সমর্থন করে।



সৃষ্টি ভি সিনহা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণা সহকারী।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.