২০২৬-২৭ সালের বাজেটে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহর এবং নগর পরিকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির দুর্বল ক্ষমতা, অর্থায়নের ঘাটতি এবং রাজ্য স্তরের সীমাবদ্ধতা বাস্তবায়নকে সীমিত করছে।
২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৬-২৭ সালের জাতীয় বাজেট পেশ করেন, যা ছিল তাঁর টানা নবম কেন্দ্রীয় বাজেট। নগর স্থানীয় সংস্থা (আরবান লোকাল বডিজ বা ইউএলবি) এবং শহরগুলির জন্য বাজেটের বরাদ্দ সরকারের নগর সংক্রান্ত অগ্রাধিকার এবং নগর উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি গতিপথের উপর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে।
পূর্ববর্তী কেন্দ্রীয় বাজেটগুলিতে নগর স্থানীয় সংস্থা
প্রথমেই গত পাঁচটি কেন্দ্রীয় বাজেটে কী ভাবে নগর সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধান করা হয়েছে, সে সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা দেওয়া দরকার। ২০২১ সালের বাজেটটিতে নির্বাচিত নগর পরিষেবাগুলির সম্প্রসারণ এবং উন্নতির জন্য শহরগুলির ভৌত ও সামাজিক পরিকাঠামোর জন্য বরাদ্দের পরিমাণ যথেষ্ট ছিল। ২০২২ সালে অর্থমন্ত্রী নগর পরিকল্পনার দিকে মনোযোগ দেন এবং এটি যে ভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, তার একটি সম্পূর্ণ সংস্কারের রূপরেখা প্রদান করেন। ২০২৩ সালের বাজেটে পৌর সংস্কারের উপর একটি বর্ধিত মনোযোগ ছিল এবং রাজ্য ও নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির (ইউএলবি) জন্য একটি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে এর বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের বাজেটে জোর দেওয়া হয়েছিল নাগরিক আবাসন এবং পথবিক্রেতাদের উপর। গত বছর ‘শহরকে প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র’ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য একটি আরবান চ্যালেঞ্জ ফান্ডের ধারণা শুরু করা হয়েছিল এবং শহুরে শাসন, পৌর পরিষেবা, নগর পরিকল্পনা ও শহুরে ভূমিতে রাজ্য-স্তরের সংস্কারের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার ধারণাটি উত্থাপন করা হয়েছিল।
গত বছর ‘শহরকে প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র’ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য একটি আরবান চ্যালেঞ্জ ফান্ডের ধারণা শুরু করা হয়েছিল এবং শহুরে শাসন, পৌর পরিষেবা, নগর পরিকল্পনা ও শহুরে ভূমিতে রাজ্য-স্তরের সংস্কারের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার ধারণাটি উত্থাপন করা হয়েছিল।
২০২৬-২৭ সালের বাজেটে শহর ও নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির জন্য বিধান
এই বছরের জাতীয় বাজেটে পাঁচ লক্ষাধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট শহর, টিয়ার টু এবং টিয়ার থ্রি নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেগুলিকে উদীয়মান বৃদ্ধির কেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ধারণাটির প্রথম উল্লেখ অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতার ১৫ (চ) অনুচ্ছেদে ভারত সরকারের প্রথম ‘কর্তব্য’ অর্থাৎ ‘শহুরে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলির বিকাশ’-এর অধীনে পাওয়া যায়। বক্তৃতার ৩২তম অনুচ্ছেদে যেমনটা উল্লেখ করা হয়েছে, এই পরিকাঠামোর উন্নয়নের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া হবে। তাঁর বক্তৃতার ৩৯তম অনুচ্ছেদে, তিনি এই জোরের পুনরাবৃত্তি করেন এবং মন্দির শহরগুলির আধুনিক পরিকাঠামো এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সেগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি আরও বলেন যে, এই বাজেটটি শহরসমূহের অর্থনৈতিক শক্তিতে অবদান রাখার জন্য তাদের সম্ভাবনাকে আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কৌশলটি হবে, তাদের বৃদ্ধির নির্দিষ্ট চালিকাশক্তির উপর ভিত্তি করে শহুরে অর্থনৈতিক অঞ্চলের (সিটি ইকনমিক রিজিয়ন বা সিইআর) মানচিত্রায়ণ। উপরোক্ত উদ্দেশ্যগুলি অর্জনের জন্য, বাজেট প্রতিটি সিইআর-এর জন্য পাঁচ বছরে ৫০ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করেছে। শহরগুলি একটি ‘সংস্কার-সহ ফলাফল ভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ’ সমাধানের ক্ষেত্রে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে।
বক্তৃতার ৪০তম অনুচ্ছেদে অর্থমন্ত্রী পরিবেশগত ভাবে স্থিতিশীল গণপরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাজেটটিতে প্রধান শহরগুলির মধ্যে সাতটি উচ্চ-গতির রেল করিডোর তৈরির কথা বলা হয়েছে এবং সেগুলিকে বৃদ্ধির সংযোগকারী হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই করিডোরগুলি হল: ১) মুম্বই-পুনে, ২) পুনে-হায়দরাবাদ, ৩) হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, ৪) হায়দরাবাদ -চেন্নাই, ৫) চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, ৬) দিল্লি-বারাণসী এবং ৭) বারাণসী-শিলিগুড়ি।
৪৬তম অনুচ্ছেদে পৌর বন্ডের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল বড় শহরগুলি দ্বারা উচ্চ মূল্যের পৌর বন্ড জারি করাকে উৎসাহিত করা। সেই অনুযায়ী, ১০ বিলিয়ন টাকার বেশি মূল্যের একটি একক বন্ড জারি করার জন্য ১ বিলিয়ন টাকার একটি প্রণোদনা বরাদ্দ করা হয়েছে। ছোট শহরগুলির জন্য অটল মিশন ফর রেজুভেনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফরমেশন-এর (অম্রুত) অধীনে চলমান প্রকল্পটি — যা ২ বিলিয়ন টাকা বা তার কম মূল্যের বন্ড জারির জন্য প্রণোদনা প্রদান করে — এই ধরনের নগর স্থানীয় সংস্থাগুলিকে সহায়তা করে চলেছে।
শহরগুলি একটি ‘সংস্কার-সহ ফলাফল ভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ’ সমাধানের ক্ষেত্রে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে।
৬২তম অনুচ্ছেদে প্রধান শিল্প ও লজিস্টিক করিডোরের আশপাশে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে টাউনশিপ তৈরির জন্য চ্যালেঞ্জ রুটের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলি কৌশলগত শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যেখানে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা কেন্দ্র এবং আবাসিক কমপ্লেক্স থাকবে। এই উদ্যোগটি বিদ্যমান নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির (ইউএলবি) আওতার বাইরে হলেও অনুমান করা যায় যে, এই টাউনশিপগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মব্যস্ত শহুরে কেন্দ্রে পরিণত হবে। শিক্ষাকেন্দ্রিক টাউনশিপগুলির জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো প্রয়োজন হলেও বড় শহুরে বসতির কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশও অপরিহার্য। এই সমস্ত উদ্যোগের জন্য বাজেট ১৬তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করেছে এবং ২০২৬-২৭ সালে রাজ্যগুলিকে ১৪ বিলিয়ন ভারতীয় টাকা বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বাজেট বক্তৃতার ৯১তম অনুচ্ছেদে উল্লিখিত হিসাবে গ্রামীণ ও শহুরে স্থানীয় সংস্থাগুলির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্যও ব্যবহৃত হবে।
বাজেটের বিধানের বিশ্লেষণ
বাজেটে বর্ণিত শহুরে উদ্যোগগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক হল দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরের শহরগুলির উপর মনোযোগ। ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম টাউনস (আইডিএসএমটি) কর্মসূচি পরিত্যক্ত হওয়ার পর থেকেই ছোট ও মাঝারি শহরগুলি অবহেলার শিকার হয়েছে। এটি আংশিক ভাবে নগরায়ণের অসম বিন্যাসের জন্য দায়ী, যেখানে বেশির ভাগ অভিবাসন দেশের বড় শহরগুলিতেই কেন্দ্রীভূত। ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুসারে প্রায় চার ডজন শহরে জনসংখ্যা ছিল পাঁচ লক্ষ থেকে দশ লক্ষের মধ্যে। এই শহরগুলির অর্থনৈতিক, ভৌত, সামাজিক ও বিনোদনমূলক পরিকাঠামোর উপর জোর দিলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারে এবং অভিবাসন আকর্ষণ করা যেতে পারে, যা অতিরিক্ত জনসংখ্যার ভারে জর্জরিত মহানগর কেন্দ্রগুলির উপর থেকে চাপ কমাতেও সাহায্য করবে।
একই ভাবে, প্রবৃদ্ধির সংযোগকারী হিসেবে একাধিক পরিবহণ করিডোর তৈরির প্রস্তাবটিও তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতে পরিবহণ পথগুলি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে এবং নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র তৈরি করে। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অতিরিক্ত কেন্দ্র তৈরি করতে এবং গ্রামীণ-শহুরে অভিবাসনকে আরও সমান ভাবে বণ্টন করতে এই ধরনের পথগুলির উন্নয়ন দ্রুততর ও বহুগুণে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ভারতে পৌর বন্ডের ধারণাটির একটি দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও এটি তেমন জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি। কয়েকটি বড় শহর ছাড়া পৌর বন্ডের বাজার এখনও অনুন্নতই রয়ে গিয়েছে। বাজেটের বিধানগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভারতীয় নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির জন্য পৌর বন্ডকে একটি প্রাথমিক ঋণ গ্রহণের সাধনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য পর্যাপ্ত বিবরণের অভাব রয়েছে। বেশির ভাগ ভারতীয় নগর স্থানীয় সংস্থা আর্থিক ভাবে দুর্বল এবং এখনও পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় ক্রেডিট রেটিং অর্জন করতে পারে না। বন্ড বাজারকে উৎসাহিত করার আগে ভারত সরকার এবং রাজ্য সরকারগুলির পৌর সংস্থাগুলির আর্থিক শক্তিশালীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম টাউনস (আইডিএসএমটি) কর্মসূচি পরিত্যক্ত হওয়ার পর থেকেই ছোট ও মাঝারি শহরগুলি অবহেলার শিকার হয়েছে।
নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির (ইউএলবি) জন্য বাজেটে প্রদত্ত কিছু প্রণোদনা চ্যালেঞ্জসাপেক্ষ (চ্যালেঞ্জ মোড) হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গত বাজেটে শহরগুলিকে প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার জন্য ১,০০০ বিলিয়ন টাকার একটি আরবান চ্যালেঞ্জ ফান্ড (ইউসিএফ) তৈরি করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, ইউসিএফ মূলত কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়ে গিয়েছে। কারণ এর প্রাথমিক বরাদ্দই বাস্তবায়িত হয়নি। আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক (এমওএইচইউএ) কর্তৃক এই প্রকল্পের জন্য প্রণীত নিয়মাবলি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে চলতি বছরে আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা নেই। এটি এই বছরের বাজেটে বর্ণিত কর্মসূচি সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়ায়, যা চ্যালেঞ্জ মোডের উপরও নির্ভরশীল।
পরিশেষে, গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির জন্য ২০২৬-২৭ সালে রাজ্যগুলিকে ১৪ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দ কী ভাবে বণ্টন করা হবে, সে সম্পর্কে কোনও স্পষ্টতা নেই। যেহেতু তহবিল রাজ্যগুলিকে বরাদ্দ করা হয়েছে, তাই এর বণ্টন রাজ্যের অগ্রাধিকারের উপর নির্ভর করবে। এই প্রেক্ষাপটে, নগর স্থানীয় সংস্থাগুলি প্রায়শই অসুবিধাজনক পরিস্থিতিতে পড়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ রাজ্যগুলিতে।
নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির জন্য বাজেটের প্রস্তাবনাগুলি সঠিক দিকে চালিত হলেও শহুরে সমস্যার ব্যাপকতার তুলনায় এগুলি যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে হয় না। নগর বিষয়ক ক্ষেত্রে সরকারের বর্ধিত সম্পৃক্ততা সত্ত্বেও শহুরে প্রচেষ্টা সীমিত বলেই মনে হচ্ছে। গত পাঁচটি জাতীয় বাজেটের ফলাফল, নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো ও আবাসনে সংস্কারের বিধান থাকা সত্ত্বেও, রাজ্য-স্তরের বাধা এবং শহর-স্তরের সীমাবদ্ধতা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা ভারতীয় শহরগুলির সম্মুখীন মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলির উপর তাদের প্রভাবকে সীমাবদ্ধ করেছে। ভারত সরকারকে ভারতীয় শহরগুলির জন্য আরও বেশি সম্পদে পরিপূর্ণ এবং সংকল্পবদ্ধ হতে হবে।
রমানাথ ঝা অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ডিস্টিঙ্গুইশড ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Ramanath Jha is Distinguished Fellow at Observer Research Foundation, Mumbai. He works on urbanisation — urban sustainability, urban governance and urban planning. Dr. Jha belongs ...
Read More +