জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা এবং সরবরাহ ঝুঁকি বৃদ্ধির সময় ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি মহাদেশ জুড়ে খামার, বন্দর ও নীতিকে সংযুক্ত করে একটি কৌশলগত খাদ্য সেতু গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা ৯.৭ বিলিয়নের কাছাকাছি পৌঁছবে। সেই কারণে নতুন খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের জন্য চাহিদা এত জরুরি হয়ে উঠেছে যা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। ২০২৩ সালে ২.৩ বিলিয়ন মানুষ মাঝারি বা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন, এবং নিয়মিত খাদ্য পেতেন না। এই প্রবণতা স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্য ২-এ প্রতিষ্ঠিত ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা নির্মূলের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে একটি স্পষ্ট ব্যবধান নির্দেশ করে। ২০৩০ সালে প্রায় ৫৮২ মিলিয়ন মানুষ (বিশ্ব জনসংখ্যার ৬.৮ শতাংশ) দীর্ঘস্থায়ীভাবে অপুষ্টিতে ভুগবেন, যা কোভিড-১৯ অতিমারির আগের অনুমানের চেয়ে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন বেশি। এই ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে বিশ্ব কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের থেকে অনেক দূরে।
বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা সূচক ২০২২ অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) ৭৫.২ স্কোর নিয়ে ২৩তম স্থানে রয়েছে। এটি অবশ্যই ক্রয়ক্ষমতা (৮৯.৮) এবং প্রাপ্যতার (৭৮.৫) এর দিক থেকে উৎকৃষ্ট, তবে মান ও সুরক্ষার (৬৩.৭) উন্নতির অবকাশ রয়েছে। ভারত ৫৮.৯ স্কোর নিয়ে ৬৮তম স্থানে রয়েছে, ক্রয়ক্ষমতা (৬৪.২), প্রাপ্যতা (৫৮.৪) এবং খাদ্যের গুণমানের (৪৭.০) ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যদিও এটি স্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু অভিযোজনে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা র্যাঙ্কিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ভারতের মধ্যে ব্যবধান অর্থনৈতিক, পরিকাঠামোগত ও নীতিগত পার্থক্যকে প্রতিফলিত করে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির খাদ্য আমদানি, সংরক্ষণ ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ তার খাদ্য নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করেছে। তবে, ভারত, একটি প্রধান উৎপাদক হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র্য, পরিকাঠামোগত ব্যবধান এবং মান নিয়ন্ত্রণ সমস্যার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
খাদ্য নিরাপত্তা র্যাঙ্কিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ভারতের মধ্যে ব্যবধান অর্থনৈতিক, পরিকাঠামোগত ও নীতিগত পার্থক্যকে প্রতিফলিত করে।
এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার জন্য ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কৃষি বাণিজ্য, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং টেকসই সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা উন্নত করতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব তৈরি করেছে। ইন্ডিয়া-ইউএই-আফ্রিকা কানেক্টিভিটি ফর ফুড সিকিউরিটি কৃষি বাণিজ্য, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য উৎপাদনকারী হলেও আফ্রিকার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং উল্লেখযোগ্য উৎপাদন সম্ভাবনা রয়েছে, যা শীঘ্রই বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসাবে স্থান করে দেবে। বিপরীতে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি শীর্ষ ২০টি বিশ্বব্যাপী খাদ্য আমদানিকারীর মধ্যে স্থান করে নেয়, এবং তাদের খাদ্য চাহিদার ৯০ শতাংশ পূরণের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর নির্ভর করে। এই ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সমস্ত অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করার জন্য সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা, এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত।
খামার থেকে বন্দর: খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠন
কোভিড-১৯ অতিমারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ খাদ্য আমদানিকারী দেশগুলির দুর্বলতা তুলে ধরেছে, যার ফলে বৈদেশিক সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর তাদের নির্ভরতা প্রকাশ পেয়েছে। দামের প্রতিযোগিতার কারণে সীমিত সংখ্যক সরবরাহকারীর উপর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নির্ভরতা তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শস্য আমদানির উপর গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সামগ্রিক ঝুঁকি কম থাকলেও, ২০১৭ সাল থেকে গম আমদানিতে ক্রমবর্ধমান দুর্বলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রবণতা মূলত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সরবরাহকারীদের উপর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার কারণে, বিশেষ করে রাশিয়া, যাদের থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শস্য আমদানির অংশ ২০১৭ সালের ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া এবং ভারতের মতো স্থিতিশীল উৎসগুলিকে প্রতিস্থাপন করেছে। রাশিয়ার উপর এই ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা এবং সরবরাহ উৎসের একীকরণ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মাত্র ০.৭ শতাংশ আবাদযোগ্য জমি থাকার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি খাদ্যের জন্য প্রায় সম্পূর্ণরূপে আমদানির উপর নির্ভরশীল, এবং তাই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তার উপর ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের ধরন এবং তীব্র আবহাওয়ার মতো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা বিপদের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এগুলো কৃষি ও পশুপালনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মাত্র ০.৭ শতাংশ আবাদযোগ্য জমি থাকার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি খাদ্যের জন্য প্রায় সম্পূর্ণরূপে আমদানির উপর নির্ভরশীল, এবং তাই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যান্য কারণ, যেমন জলের ঘাটতি, ভূগর্ভস্থ জলের হ্রাস এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, এই ঝুঁকিগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কৌশল ২০৫১-র লক্ষ্য হল নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থিতিশীল খাদ্য উৎপাদন অর্জন করা।
খাদ্যের অপচয় এবং পচন কমাতে হিমাগার সুবিধাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতে, হিমায়ন সুবিধার অভাবের ফলে পচনশীল খাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একইভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে খাদ্য আমদানি নির্ভরতার জন্য খাদ্যের মান বজায় রাখতে উচ্চ প্রযুক্তির হিমাগার সুবিধাগুলিরও প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, আরএসএ কোল্ড চেনের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাম্প্রতিক সহযোগিতা জেবেল আলিতে একটি অত্যাধুনিক হিমাগার কেন্দ্র তৈরি করতে প্রস্তুত, যা ২০২৫ সালের মধ্যে ৪০,০০০ নতুন প্যালেট অবস্থান প্রদান করবে। এই প্রচেষ্টাগুলি সরবরাহ শৃঙ্খলে খাদ্য অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সরবরাহ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলগুলি উৎপাদক থেকে ভোক্তাদের কাছে খাদ্য স্থানান্তর করে খাদ্য সুরক্ষা প্রদান করে।
২০২২ সালে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ভারতজুড়ে একাধিক সমন্বিত খাদ্য পার্ক তৈরির জন্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল। এই উদ্যোগ, যা ভারত, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আই২ইউ২ গ্রুপের সহযোগিতার অংশ, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। এছাড়াও, দুবাই মাল্টি কমোডিটিজ সেন্টার এগ্রিওটা চালু করেছে, যা হল এমন একটি কৃষি-বাণিজ্য ও পণ্য প্ল্যাটফর্ম যা ভারতীয় কৃষকদের সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির খাদ্য বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই প্ল্যাটফর্মটি ভারতীয় কৃষকদের আমিরশাহি বাজারে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার প্রদান করে, এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।
দুবাই মাল্টি কমোডিটিজ সেন্টার এগ্রিওটা চালু করেছে, যা হল এমন একটি কৃষি-বাণিজ্য ও পণ্য প্ল্যাটফর্ম যা ভারতীয় কৃষকদের সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির খাদ্য বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ২০২২ সালে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের খাদ্য সুরক্ষা করিডোর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে খাদ্য বাণিজ্য বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা ২০২৫ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে খাদ্য বাণিজ্য তিনগুণ বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই করিডোরটি ভারতীয় খামার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বন্দরগুলির সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য, বাণিজ্য রুটগুলিকে সহজতর করার জন্য, এবং দুই দেশের মধ্যে খাদ্য পণ্যের দক্ষ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। পণ্যের দ্রুত পরিবহণ প্রদানের জন্য ভারত তার লজিস্টিক পরিকাঠামো উন্নত করছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নতুন বন্দর ও স্টোরেজ সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে। এই ধরনের করিডোরগুলি পরিবহণ উদ্ভাবন, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে মধ্যপ্রাচ্যের খাদ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হতে পারে।
ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সুরক্ষার জন্য একটি দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ। বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও স্থিতিশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে এই উদ্যোগ সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করে, খাদ্য অপচয় কমায়, এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং লজিস্টিক বাধার মতো চ্যালেঞ্জগুলি অব্যাহত থাকলেও পরিকাঠামো, উদ্ভাবন ও নীতি সমন্বয়ে অব্যাহত বিনিয়োগ এই অংশীদারিত্বকে ভবিষ্যতের বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর হিসাবে স্থাপন করতে পারে। বিশ্ব ২০৫০ সালের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় খাদ্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে, এবং ২০৩০ সালের অ্যাজেন্ডা অর্জন করার ক্ষেত্রে, এই ধরনের সহযোগিতামূলক মডেলগুলি অপরিহার্য হয়ে উঠবে।
সৌম্য ভৌমিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর নিউ ইকনমিক ডিপ্লোম্যাসি (সিএনইডি)-র ফেলো, এবং লিড, ওয়ার্ল্ড ইকনমিজ অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি।
শোভা সুরি অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হেলথ ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ফেলো।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Dr. Soumya Bhowmick is a Fellow at the Centre for New Economic Diplomacy (CNED) at the Observer Research Foundation (ORF). He completed industry- endorsed Ph.D. ...
Read More +
Dr. Shoba Suri is a Senior Fellow with ORFs Health Initiative. Shoba is a nutritionist with experience in community and clinical research. She has worked on nutrition, ...
Read More +