Author : Soumya Bhowmick

Published on Sep 04, 2025 Updated 0 Hours ago

বিশ্বশক্তিগুলি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবক্ষেত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সংযম, জোটনিরপেক্ষতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা দেশটিকে বহুমেরু বিশ্বে একটি স্থিতিশীল শক্তি করে তুলেছে।

নিছক জোট নয়, সেতুও বটে: ভঙ্গুর বিশ্বব্যবস্থায় ভারতের নীরব উত্থান

বাণিজ্য যুদ্ধ, সুরক্ষাবাদী নীতি এবং নব্য-বহুপাক্ষিক কাঠামোর বিস্তারের পারস্পরিক প্রভাব বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ভূ-পরিসরকে নতুন আকার দিচ্ছে। ভঙ্গুর বহুপাক্ষিকতার মধ্যে দেশগুলি তাদের অবস্থান পুনর্নির্মাণ করার সঙ্গে সঙ্গে একচেটিয়া বাণিজ্য চুক্তি থেকে বিকল্প আর্থিক কাঠামোয় সমান্তরাল ব্যবস্থার উত্থান ত্বরান্বিত হয়েছে। এই উন্নয়নগুলি বিশ্ব বাজারগুলিকে আরও বিভক্ত করেছে এবং একবিংশ শতাব্দীতে প্রভাবের ক্ষেত্রগুলির ধারণাকে পুনর্নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক ক্ষেত্রগুলির ঊর্ধ্বে উঠে অর্থনৈতিক, আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে বিস্তৃত হচ্ছে। এই বিকশিত প্রেক্ষাপটে, স্থিতিশীল শক্তি প্রতিযোগী ব্লকগুলির মধ্যে একটি সম্ভাব্য ভরকেন্দ্র হিসাবে ভারতের অবস্থান বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আর্থিক ব্যবস্থা, বাণিজ্য প্রবাহ, প্রযুক্তিগত বাস্তুতন্ত্র আদর্শগত আখ্যানের অভিন্ন সাধারণ শৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রধান শক্তিগুলি ক্রমবর্ধমান ভাবে বিশ্ব অর্থনৈতিক শৃঙ্খলাকে আকার দিচ্ছে। চি, রাশিয়া, ইরান উত্তর কোরিয়ার মতো সংশোধনবাদী শক্তিগুলি এই অভিযোগের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং এমন কাঠামো তৈরি করছে, যা পশ্চিমি অর্থনৈতিক জবরদস্তির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক স্তম্ভ প্রভাব বিস্তারের জন্য আক্রমণাত্মক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের নেতৃত্বে ঠান্ডা লড়াই-পরবর্তী ব্যবস্থা ক্ষয়সাধন

সমান্তরাল ব্যবস্থার নির্মাণ - যেমন ব্রিকস+ সম্প্রসারণ, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এনডিবি), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক (এআইআইবি), চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), রাশিয়ার জ্বালানি করিডোর এবং ইরানের ডলারিকরণ বিরোধী প্রচারণা সবই বিশ্বব্যাপী শাসনের চিরাচরিত বিষয়গুলিকে এড়িয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টাকেই দর্শায়।

তবুও প্রতিযোগিতাটি কেবল পশ্চিমি এবং সংশোধনবাদী শক্তির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সংঘর্ষ নয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ, জোটনিরপেক্ষ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ভারতের উত্থান এই আখ্যানটিকে জটিল করে তোলে এবং প্রভাবের একটি তৃতীয় অক্ষের সূচনা করে, যা বিশ্বব্যাপী পুনর্বিন্যাসের একটি পণ্য চালিকাশক্তি দুই-ই।

সমান্তরাল ব্যবস্থার নির্মাণ - যেমন ব্রিকস+ সম্প্রসারণ, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এনডিবি), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক (এআইআইবি), চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই), রাশিয়ার জ্বালানি করিডোর এবং ইরানের ডলারিকরণ বিরোধী প্রচারণা সবই বিশ্বব্যাপী শাসনের চিরাচরিত বিষয়গুলিকে এড়িয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টাকেই দর্শায়। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য ডলারের কেন্দ্রীয়তা হ্রাস করা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাঙ্কের মতো পশ্চিমি-অধ্যুষিত প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরতা হ্রাস করা এবং বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল আর্থিক শৃঙ্খল স্থাপন করা। তাদের মূলে একটি অভিন্ন সাধারণ উদ্দেশ্য রয়েছে: কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা, রাজনৈতিক লাভের জন্য অর্থনৈতিক সাধনী ব্যবহার করা এবং পশ্চিমি আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি আখ্যানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া

সম্প্রতি ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর - যেখানে ২৬ জন নিহত হন - ভারত পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামো লক্ষ্য করে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। এই তীব্র সংঘাতের মধ্যে ৯ মে আইএমএফ পাকিস্তানের জন্য ২.৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বেলআউট প্যাকেজ অনুমোদন করে। ভারত আইএমএফ নির্বাহী বোর্ডের ভোটে বিরত থাকে এবং এই উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, এই অর্থ বিতরণের সময়কাল আসলে অসাবধানতাবশত পাকিস্তানের সামরিক ব্যয়কে সমর্থন করতে পারে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি তার সমর্থনকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও ভারত তার কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখেছে, তার তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা তার বৃহত্তর অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছে।

ভারতের ভূ-কৌশলগত প্রভাব আগ্রাসী মতাদর্শগত বা সামরিক অবস্থান দ্বারা সংজ্ঞায়িত নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত স্থিতিশীলকারী হিসেবে এর ভূমিকা দ্বারা সংজ্ঞায়িত: একটি বৃহৎ, নিয়ম-মান্যকারী অর্থনীতি, যা মাত্রা, আপেক্ষিক পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং পশ্চিমি বাজারের সঙ্গে গভীর সমন্বিতকরণ প্রদান করে।

তবে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ভারতের গতিপথ একটি স্বতন্ত্র গতিশীলতার পরিচয় দেয়। নয়াদিল্লি উভয় শিবিরে আত্তীকরণকে প্রতিরোধ করেছে, কৌশলগত নিরপেক্ষতা বজায় রেখে একটি স্বতন্ত্র আর্থিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ তৈরি করেছে। ভারতের স্থিতিশীলতা, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার জোটনিরপেক্ষ অবস্থান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে আশ্রয় নেওয়ার জন্য পুঁজির জন্য দেশটিকে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলেছে। চিন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে তীব্রতর সরবরাহ শৃঙ্খলের বিশ্বব্যাপী পুনর্বিন্যাস ভারতের উত্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বহুজাতিক সংস্থাগুলি কর্তৃক গৃহীত চিন-প্লাস-ওয়ান কৌশল ভারতকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে উপকৃত করেছেপ্রোডাকশন লিঙ্কড ইনিশিয়েটিভ বা উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) প্রকল্পের মতো নীতি কাঠামো বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারত এমন একটি বিশ্বস্ত অংশীদার হয়ে উঠতে পারে… এ হেন আখ্যান শক্ত হয়েছে।

অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ ভারতের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীয়তার উপর জোর দেয়। ২০২৫ সালের ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যে এশিয়া-প্যাসিফিক তহবিল ব্যবস্থাপকদের ৪২ শতাংশ ভারতীয় ইক্যুইটিতে অতিরিক্ত পরিমাণসম্পন্ন, যা জাপান ও চিনকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস, মাঝারি মানের মুদ্রাস্ফীতি শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের পাশাপাশিই ভারত বিশ্বব্যাপী বিভাজনের যুগে স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে। পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান অচলাবস্থার সময়ও ভারতের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা দৃঢ় ছিল আগের দশকগুলির তুলনায় অবস্থা অনেকটাই ভাল ছিল। আগের দশকগুলিতে এই ধরনের সঙ্কটের দরুন পুঁজির পরিমাণ হ্রাস পেতে শুরু করেছিল। বাজারগুলি এখন ধাক্কা শোষণ পরিচালনা করার জন্য ভারতের বর্ধিত ক্ষমতাকেই দর্শায়।

ভারতের ভূ-কৌশলগত প্রভাব আগ্রাসী মতাদর্শগত বা সামরিক অবস্থান দ্বারা সংজ্ঞায়িত নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত স্থিতিশীলকারী হিসেবে এর ভূমিকা দ্বারা সংজ্ঞায়িত: একটি বৃহৎ, নিয়ম-মান্যকারী অর্থনীতি, যা মাত্রা, আপেক্ষিক পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং পশ্চিমি বাজারের সঙ্গে গভীর সমন্বিতকরণ প্রদান করে। ভারত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমি অংশীদারদের সঙ্গে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক জোরদার করেছে। এর পাশাপাশি ব্রিকস এবং সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন-এর (এসসিও) মতো বিকল্প মঞ্চের সঙ্গেও জড়িত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার জন্য সাম্প্রতিক চুক্তি, মার্কিন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা পণ্যের বর্ধিত আমদানি ভারতের কৌশলগত নমনীয়তাকেই দর্শায়, যদিও বিকল্প শক্তি কেন্দ্রগুলি সমান্তরাল ব্যবস্থার জন্য তাদের প্রচেষ্টা তীব্রতর করছে।

তা সত্ত্বেও ভারতের অবস্থান চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। ভারত মূলত চিন-মার্কিন বিচ্ছিন্নতাকে কাজে লাগিয়ে এগোলেও তার লাভ বজায় রাখার জন্য দেশটিকে উচ্চ সরবরাহ ব্যয়, নিয়ন্ত্রক অদক্ষতা অবকাঠামোগত ব্যবধানের মতো কাঠামোগত বাধাগুলি মোকাবিলা করতে হবে। ভিয়েতনাম মালয়েশিয়ার মতো প্রতিযোগীরা চিন-প্লাস-ওয়ান ব্যবসার বৃহত্তর অংশের জন্য প্রতিযোগিতা করছে এবং চিন-মার্কিন শুল্ক উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিনও নিজেই কিছু বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরে পাচ্ছে। তবুও ভারতের বৈচিত্র্যময় প্রবৃদ্ধির মডেল - যা রফতানি নির্ভরতার চেয়ে অভ্যন্তরীণ ভোগের উপর বেশি নির্ভরশীল - এটি কিছু বহিরাগত ধাক্কা থেকে দেশকে রক্ষা করে এবং অস্থিরতার যুগে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।

এই অভিন্ন সাধারণ ক্ষেত্রগুলিতে পথ খুঁজে নেওয়ার ভারতের ক্ষমতা – পশ্চিমিদের সঙ্গে তার নিজের শর্তে অংশীদারিত্ব করা এবং পশ্চিমি-বিরোধী অক্ষের সঙ্গে কার্যকরী সম্পর্ক বজায় রাখা - বৈশ্বিক ভূ-অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রভাবের ক্ষেত্রগুলির প্রতিযোগিতায়, ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি হিসেবেই সবচেয়ে ভাল ভাবে বোঝা যায়। চিরাশিয়া ডলার ব্যবস্থার বিকল্প তৈরি করতে চায় - যেমন ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাঙ্ক পেমেন্ট সিস্টেম (সিআইপিএস) বা সিস্টেম ফর ট্রান্সফার অফ ফিনান্সিয়াল মেসেজ (এসপিএফএস), যা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাঙ্ক ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন-এর (সুইফট) উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনে - ভারত নির্বাচনী সম্পৃক্ততার কৌশল অনুসরণ করেছে। এটি ব্রিকস+ এবং এনডিবি-র মতো ফোরামে অংশগ্রহণ করলেও হেজিংয়ের অবস্থান থেকে তা করে, ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র না হয়ে তার ক্ষমতাকে উন্নত করার কাজে ব্রতী

এই অভিন্ন সাধারণ ক্ষেত্রগুলিতে পথ খুঁজে নেওয়ার ভারতের ক্ষমতা – পশ্চিমিদের সঙ্গে তার নিজের শর্তে অংশীদারিত্ব করা এবং পশ্চিমি-বিরোধী অক্ষের সঙ্গে কার্যকরী সম্পর্ক বজায় রাখা - বৈশ্বিক ভূ-অর্থনীতির ভবিষ্যৎ  গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। পরিশেষে, প্রভাবের ক্ষেত্রগুলির প্রতিযোগিতা আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থা সংশোধনবাদী শক্তির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়। এটি একটি বহুমুখী খেলা, যেখানে ভারত বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সুইং স্টেট হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে এবং নিজের পছন্দ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ফলাফলকে আকার দিতে সক্ষম।

 


এই প্রতিবেদনটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় দ্য ডিপ্লোম্যাট-এ।

The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.