সমন্বিত সামুদ্রিক ও শহুরে উদ্যোগের মাধ্যমে ব্রিকস বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, উদ্ভাবন এবং উপকূলীয় উন্নয়নে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।
এই প্রতিবেদনটি সাগরমন্থন এডিট ২০২৫-এর অংশ।
লজিস্টিকস, নগর অবকাঠামো, গবেষণা এবং শিল্প সহযোগিতার কৌশলগত গুরুত্ব উপলব্ধি করে ব্রিকস দেশগুলি সামুদ্রিক উন্নয়নে তাদের প্রচেষ্টাকে ক্রমবর্ধমান ভাবে সমন্বিত করছে। জোটের মধ্যে কন্টেইনার পরিবহন সম্প্রসারণের মাধ্যমে তারা আরও দক্ষ ও নমনীয় সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করছে, যা বাণিজ্য বৃদ্ধি, খরচ হ্রাস এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করছে। তাই সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সংযোগ গভীর করতে এবং নতুন বাণিজ্য পথ উন্মোচন করতে পরিবহন ও লজিস্টিকস প্রকল্পগুলিকে ত্বরান্বিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লজিস্টিকসের ঊর্ধ্বে উঠে ব্রিকস সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে জড়িত করে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সমুদ্র ও মেরু অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে রাশিয়ার মুরমানস্কে অনুষ্ঠিত ব্রিকস মহাসাগর ও মেরু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের ষষ্ঠ বৈঠকে ৫০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী একত্রিত হয়ে মহাসাগরীয় সম্পদ উন্নয়ন, উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। লোহিত সাগর, কাস্পিয়ান সাগর এবং পারস্য উপসাগরের মতো উদীয়মান গবেষণা ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে এই সহযোগিতাগুলির লক্ষ্য হল নতুন জ্ঞান তৈরি করা, উন্নত প্রযুক্তি বিকাশ করা, মানব সম্পদকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সম্মিলিত সক্ষমতা জোরদার করার জন্য যৌথ সামুদ্রিক অভিযানের প্রচার করা।
লজিস্টিকসের ঊর্ধ্বে উঠে ব্রিকস সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে জড়িত করে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সমুদ্র ও মেরু অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এই উদ্যোগগুলি সামুদ্রিক উন্নয়ন এবং নগর বৃদ্ধির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতেও সাহায্য করে। বন্দর এবং উপকূলীয় শহরগুলি উদ্ভাবন, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং শিল্প কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যা নগর-সামুদ্রিক একীকরণের ভবিষ্যৎকে রূপ দিচ্ছে। বিপুল সংখ্যক ‘ব্লু সিটি’র উপস্থিতির কারণে ব্রিকস তার সামুদ্রিক-নগর সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য একটি অনন্য অবস্থানে রয়েছে। সরকার, নগর কর্তৃপক্ষ, শিল্প এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলি স্থিতিশীল উপকূলীয় উন্নয়নে অগ্রগতি সাধন করতে, বন্দর-শহরের অবকাঠামোকে আধুনিকীকরণ করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিরুদ্ধে নগরগুলির স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করতে পারে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মিশর এবং ইথিওপিয়াকে স্বাগত জানিয়ে ব্রিকসের ব্রিকস প্লাস-এ সম্প্রসারণ এই জোটের ভৌগোলিক ও বৈজ্ঞানিক পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে, যা বৈশ্বিক সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা, নগর সংযোগ, ব্লু ইকোনমি গবেষণা এবং স্থিতিশীল উন্নয়নে একটি মূল শক্তি হিসেবে এর ভূমিকাকে শক্তিশালী করেছে।
ব্রিকসের জন্য সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জসমূহ
সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্রিকস সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যেখানে বন্দরের অবকাঠামো, বহুমুখী করিডোর এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি বাণিজ্য সংযোগ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলকতাকে উন্নত করছে। দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক একীকরণ এবং স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমর্থন করে। ভাল ভাবে সংযুক্ত বন্দর শহরগুলি অর্থনীতিকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং পণ্য ও পরিষেবার মসৃণ প্রবাহকে সম্ভব করে তোলে।
তবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ব্রিকসের সামুদ্রিক সংযোগের পূর্ণ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ব্রিকস বিজনেস কাউন্সিলের পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উপগোষ্ঠীর মতে, প্রধান বাধাগুলির মধ্যে রয়েছে:
• বরফ ভাঙার জাহাজ-সহ ব্রিকস দেশগুলোর সামুদ্রিক নৌবহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা
• আন্তর্জাতিক পরিবহনের জন্য আইনি কাঠামো উন্নত করা এবং আমলাতান্ত্রিক বাধা কমানোর প্রয়োজনীয়তা
• নিরাপদ আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদান নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বাধাগুলো দূর করা
• সীমিত তথ্য বিনিময়, ডিজিটাল সীমাবদ্ধতা এবং প্রমিত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার পদ্ধতির অভাব
• অনুন্নত সামুদ্রিক বিমা ব্যবস্থা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং শিপিং কার্যক্রমে বিনিয়োগকে সীমিত করে
এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করা আন্তঃ-ব্রিকস সংযোগ বাড়ানো, আরও স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করা এবং বন্দর শহরগুলিকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে সক্ষম করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নগর ও আঞ্চলিক সংযোগ: শহর, বন্দর এবং বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিকে সংযুক্ত করা
শহর পর্যায়ে ভ্লাদিভোস্তক-চেন্নাই করিডোরের মতো উদ্যোগগুলো দর্শায় যে, কী ভাবে বন্দরগুলির মধ্যে সামুদ্রিক সংযোগ আঞ্চলিক অর্থনীতিকে রূপান্তরিত করতে পারে, নগর বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোকে শক্তিশালী করতে পারে এবং অন্যান্য ব্রিকস শহরগুলোর মধ্যে অনুরূপ সহযোগিতার জন্য মডেল তৈরি করতে পারে। দ্রুততর ও আরও নির্ভরযোগ্য নৌপথের মাধ্যমে শহুরে কেন্দ্রগুলিকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলি শিল্প প্রবৃদ্ধি বাড়াতে, স্থানীয় বন্দর অবকাঠামোর উন্নতি ঘটাতে এবং উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে পারে।
রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্তক বন্দর এবং ভারতের চেন্নাই বন্দরকে সংযোগকারী ইস্টার্ন সি করিডোরটি কার্যক্রম শুরু করেছে, যা রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সামুদ্রিক সংযোগ জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই করিডোরটি ঐতিহ্যবাহী সুয়েজ খাল পথের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহের সময় ৪০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ২৪ দিনে নিয়ে আসে, যা বাণিজ্যের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং নিবিড় অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মিশর এবং ইথিওপিয়াকে স্বাগত জানিয়ে ব্রিকসের ব্রিকস প্লাস-এ সম্প্রসারণ এই জোটের ভৌগোলিক ও বৈজ্ঞানিক পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে, যা বৈশ্বিক সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা, নগর সংযোগ, ব্লু ইকোনমি গবেষণা এবং স্থিতিশীল উন্নয়নে একটি মূল শক্তি হিসেবে এর ভূমিকাকে শক্তিশালী করেছে।
এই সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল ২০১৯ সালে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভ্লাদিভোস্তক সফর, যা রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যের প্রতি ভারতের নতুন করে কৌশলগত আগ্রহের সূচনা করে। শীর্ষ সম্মেলনের পর ভ্লাদিভোস্তক এবং চেন্নাইয়ের মধ্যে একটি নিবেদিত সামুদ্রিক করিডোর বিকাশের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক-সহ বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই করিডোরটি প্রায় ১০,৪৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা জাপান সাগর, পূর্ব চিন সাগর, দক্ষিণ চিন সাগর, মালাক্কা প্রণালী এবং বঙ্গোপসাগরের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। এটি একটি দ্রুততর এবং আরও নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য পথ সরবরাহ করে যা আঞ্চলিক সংযোগকে শক্তিশালী করে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
পূর্ব সামুদ্রিক করিডোরের (ইএমসি) সুবিধা
পূর্ব সামুদ্রিক করিডোর (ইএমসি) ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য একাধিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করে:
• সংক্ষিপ্ত দূরত্ব: এই করিডোরটি ঐতিহ্যবাহী সুয়েজ খাল পথের চেয়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ সংক্ষিপ্ত, যা ভ্রমণের সময় কমায়, পরিবহন খরচ হ্রাস করে এবং রাশিয়ায় ভারতীয় রফতানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ায়।
• মুম্বই – সেন্ট পিটার্সবার্গ (সুয়েজ খাল হয়ে): ১৬,০৬৬ কিমি
• চেন্নাই – ভ্লাদিভোস্তক (ইএমসি হয়ে): ১০,৪৫৮ কিমি
• বন্দর অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন: ইএমসি ধামরা, গঙ্গাবরম এবং কৃষ্ণাপত্তনমের মতো ছোট বন্দরগুলিতে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। চেন্নাই বন্দর ভারতের পূর্ব উপকূলের জন্য একটি কন্টেইনার সংগ্রহ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং লজিস্টিক শৃঙ্খলকে সমর্থন করছে।
• বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাব: রাশিয়া এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় নতুন রফতানি বাজার খোলার মাধ্যমে ইএমসি তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার মতো পূর্ব উপকূলীয় রাজ্যগুলিতে শিল্প প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। এটি বন্দর উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করে। দ্রুততর এবং আরও নির্ভরযোগ্য লজিস্টিক প্রবাহ সরাসরি খুচরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে উপকৃত করবে, সরবরাহের সময় এবং মজুত খরচ কমিয়ে দেবে। এই দক্ষতা ই-কমার্স এবং ভোক্তাদের দ্বারা চালিত বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা এই করিডোরটিকে খুচরো বাণিজ্যের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য করে তুলেছে।
২০২৪ সালে রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্য ও আর্কটিক উন্নয়ন বিষয়ক ডেপুটি মিনিটার আনাতোলি বোবরাকভ ২৫শে জানুয়ারি চেন্নাই পোর্ট অথরিটি কর্তৃক আয়োজিত ইএমসি-র কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ক ভারত-রাশিয়া কর্মশালায় যোগ দিতে চেন্নাই সফর করেন। এই সেমিনারে ভারতীয় সংস্থা এবং সরকারি সংস্থার ১০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী একত্রিত হন। ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল উল্লেখ করেছেন যে, সুয়েজ খালের পথের তুলনায় ইএমসি-র ৫,৬০৮ কিলোমিটার দূরত্ব হ্রাস ‘দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনে লজিস্টিক খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে দেবে এবং দক্ষতা বাড়াবে,’ যা বাণিজ্য ও নগর উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে বন্দর শহরগুলির ভূমিকাকেও শক্তিশালী করবে।
ভারত-রাশিয়া সামুদ্রিক ও নগর সহযোগিতা: ভবিষ্যতের নীল শহরগুলির রূপদান
সামুদ্রিক উন্নয়ন এবং নগর সংযোগের ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা অর্থনৈতিক, লজিস্টিক এবং কৌশলগত সম্পর্ককে শক্তিশালী করছে, পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খলে ব্রিকস-এর একীকরণকে আরও গভীর করছে। এই সহযোগিতা আর্কটিক উদ্যোগ, বন্দর অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর (আইএনএসটিসি) পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০২৪ সালে মুম্বই-ভ্লাদিভোস্তক কন্টেইনার পরিষেবা চালু এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস এই অংশীদারিত্বের ব্যাপকতাকে তুলে ধরে।
শহর পর্যায়ে ভ্লাদিভোস্তক-চেন্নাই করিডোরের মতো উদ্যোগগুলি দর্শায় যে, কী ভাবে সামুদ্রিক কেন্দ্রগুলি ঐতিহ্যবাহী বন্দরের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল সংযোগের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। শিপিং রুট এবং মাল্টিমোডাল অবকাঠামোর মাধ্যমে নগর কেন্দ্রগুলিকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলো আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করে, যা ব্রিকস সহযোগিতার রূপান্তরমূলক সম্ভাবনা প্রদর্শন করে।
বৈশ্বিক বাণিজ্য যখন ক্রমবর্ধমান ভাবে ই-কমার্স, জাস্ট-ইন-টাইম সাপ্লাই চেইন এবং ভোক্তাদের পরিবর্তিত প্রত্যাশা দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে, তখন মাল্টিমোডাল বন্দর শহর এবং সমন্বিত লজিস্টিক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার হয়ে উঠছে। শিপিং, রেল, সড়ক এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর একীকরণ সাপ্লাই চেইনের দক্ষতা, নমনীয়তা এবং স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, যা ডিজিটাল খুচরো ব্যবসার যুগে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে। ভারত ও রাশিয়ার জন্য এই ধরনের বাস্তুতন্ত্রের বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া কেবল সংযোগ উন্নত করার বিষয় নয়, বরং তাদের সামুদ্রিক শহরগুলিকে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের মধ্যে কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে কাজে লাগানোও একটি বিষয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে গতি, নির্ভরযোগ্যতা এবং উদ্ভাবন সরবরাহ করতে সক্ষম।
ব্রিকস-এর অন্তর্ভুক্ত সামুদ্রিক শহরগুলিকে অবশ্যই প্রবৃদ্ধি ও গতিশীলতার চালিকাশক্তি হতে হবে, যা তাদের সমৃদ্ধি বয়ে আনবে এবং ভবিষ্যতের নীল শহরগুলিকে রূপ দেবে।
তা ছাড়া, বিশাল উপকূলরেখা এবং ক্রমবর্ধমান শহুরে জনসংখ্যা-সহ গ্লোবাল সাউথের সামুদ্রিক শহরগুলির রূপান্তর বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ব্রিকস-এর জন্য - যা বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল উপকূলীয় এবং বন্দর-ভিত্তিক অর্থনীতিগুলির কয়েকটি নিয়ে গঠিত - এই পরিবর্তনটি সহযোগিতামূলক উদ্ভাবন, লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ, প্রগতিশীল নীতি এবং উদীয়মান পরিষেবা খাতগুলিকে সমর্থন করার জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। ব্রিকস-এর অন্তর্ভুক্ত সামুদ্রিক শহরগুলিকে অবশ্যই প্রবৃদ্ধি ও গতিশীলতার চালিকাশক্তি হতে হবে, যা তাদের সমৃদ্ধি বয়ে আনবে এবং ভবিষ্যতের নীল শহরগুলিকে রূপ দেবে।
ভিক্টোরিয়া খোমিচ রাশিয়ার মস্কোর এইচএসই ইউনিভার্সিটির আর্বান অ্যান্ড রিজিওনাল ডিপার্টমেটের ফ্যাকাল্টি, ইন্টারন্যাশনাল ডিরেকশনের প্রধান এবং প্রথম ভাইস ডিন।
নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখক(দের) ব্যক্তিগত।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Victoria Khomich is First Vice Dean, Head of International Direction, Faculty of Urban and Regional Development at the HSE University, Moscow, Russia. ...
Read More +