-
CENTRES
Progammes & Centres
Location
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ তাদের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে, দূষণহীন শক্তি ব্যবহার করে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং ব্লু বন্ডের মাধ্যমে উন্নয়নের অর্থায়ন করে স্থিতিশীল উন্নয়নের মডেল হয়ে উঠতে পারে।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির জন্য প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। এই প্রণালী প্রতি বছর ৯০,০০০-এরও বেশি জাহাজ চলাচলের সুবিধা প্রদান করে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ - এবং এটি কেবল বৃদ্ধিই পাবে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বন্দর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের বন্দরগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন রেডিয়াল দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। এটি ভারতকে এই দেশগুলির সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনে এগিয়ে নিয়ে যায়। বিশ্বমানের সরবরাহ শৃঙ্খল অবকাঠামো তৈরি এবং বৃদ্ধি এই দ্বীপপুঞ্জ ও দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যদি জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত রেখে দূষণহীন শক্তি গ্রহণ করা হয়।
দূষণহীন শক্তি এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য
নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থানের কারণে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ প্রচুর পরিমাণে সূর্যালোক পায়। এটি দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে বিতরণযোগ্য সৌর মাইক্রো-গ্রিড তৈরির জন্য ভাল ইঙ্গিত দেয়। উপরন্তু, এই অঞ্চলে সমুদ্রের বাতাসের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনও উল্লেখযোগ্য উচ্চতার ভূমিরূপের অনুপস্থিতির কারণে কাছাকাছি-তীরবর্তী এবং অফশোর বায়ু শক্তি পার্কগুলি দূষণহীন শক্তির আর একটি সম্ভাব্য উৎস।
প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (এনবিএস) জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলিকে কাজে লাগায়।
দ্বীপপুঞ্জগুলি জীববৈচিত্র্যের হটস্পট হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে অসংখ্য স্থানীয় প্রজাতি-সহ অনন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমৃদ্ধ সমাহার রয়েছে। তবে বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূমিকম্পের ঘটনাগুলি এই অঞ্চলটিকে ক্রমবর্ধমান ভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে, যা মাটির ক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের হ্রাসে অবদান রাখে। প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (এনবিএস) জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলিকে কাজে লাগায়। তারা মানব কল্যাণ এবং পরিবেশ উভয়ের জন্য সহ-সুবিধা প্রদান করে। এনবিএস-এর মধ্যে রয়েছে বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, স্থিতিশীল ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারের মতো পদক্ষেপ, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্থিতিস্থাপক করে তুলতে পারে এবং দ্বীপগুলিতে পর্যটন-সম্পর্কিত রাজস্ব আকর্ষণ করতে পারে।
দ্বীপ রূপান্তরের জন্য ব্লু বন্ড
এই সমস্ত নতুন প্রকল্পের জন্য যথেষ্ট মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন। ব্লু বন্ড এবং গ্রিন বন্ডের মতো আর্থিক উপকরণগুলি পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলির অর্থায়নের জন্য ব্যক্তিগত মূলধন সংগ্রহ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সমুদ্র-ভিত্তিক পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রকল্প যেমন অফশোর বায়ু, সমুদ্র তাপীয় শক্তি রূপান্তর, জোয়ার বিদ্যুৎ এবং ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার ব্লু বন্ড জারির জন্য যোগ্য। ইতিমধ্যে, অভ্যন্তরীণ সবুজ শক্তি এবং এনবিএস প্রকল্পগুলি গ্রিন বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়ন করা যেতে পারে। এ বিষয়টি লক্ষ্যণীয় যে, দূষণহীন জ্বালানি প্রকল্পগুলি বাণিজ্যিক ভাবে কার্যকর এবং কর্পোরেশনগুলি সরকারি সহায়তা-সহ বা তা ছাড়াই মূলধন সংগ্রহের জন্য গ্রিন বা ব্লু বন্ড ব্যবহার করতে পারে। তবে এনবিএস প্রকল্পগুলি সর্বদা সম্পূর্ণ রূপে বাণিজ্যিক ভাবে কার্যকর না-ও হতে পারে। এই ক্ষেত্রে ভারত সরকারের (জিওআই) সম্ভাব্য খেলাপি ঋণ পরিশোধের জন্য এই গ্রিন বা ব্লু বন্ডগুলিকে খারিজ করা উচিত।
ব্লু বন্ডের প্রতিবন্ধকতা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বীকৃত নীতি ও মানদণ্ডের মাধ্যমে গ্রিন বন্ডগুলি মোটামুটি মানসম্মত করা হয়েছে। তবে ব্লু বন্ড তুলনামূলক ভাবে নতুন। অতএব, বাজারগুলি এখনও ‘নীল’ প্রকল্পগুলির যোগ্যতা এবং ঋণযোগ্যতা শনাক্ত করার জন্য বিশ্বব্যাপী গৃহীত কাঠামো তৈরি করছে। এই নিশ্চিত পন্থার অভাব বিনিয়োগকারীদের লাভ এবং তহবিল ব্যবহার সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি করে। বর্তমানে, নীল অর্থনীতি প্রকল্পগুলির একটি ছোট তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। তা ছাড়া, তাদের পরিসর সাধারণত ছোট, জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি লাভ প্রদান করে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বীকৃত নীতি ও মানদণ্ডের মাধ্যমে গ্রিন বন্ডগুলি মোটামুটি মানসম্মত করা হয়েছে। তবে ব্লু বন্ড তুলনামূলক ভাবে নতুন। অতএব, বাজারগুলি এখনও ‘নীল’ প্রকল্পগুলির যোগ্যতা এবং ঋণযোগ্যতা শনাক্ত করার জন্য বিশ্বব্যাপী গৃহীত কাঠামো তৈরি করছে।
বেশ কিছু রিমোট সেন্সিং এবং অন-গ্রাউন্ড ডিটেকশন সিস্টেমের অগ্রগতি সত্ত্বেও নীল-প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট পরিবেশগত এবং আর্থ-সামাজিক ফলাফল পরিমাপ করা একটি ক্রমবর্ধমান বিষয়। এটি ‘ব্লু ওয়াশিং’ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে হ্রাস করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ব্লু বন্ড জারিকারীরা দাবি করতে পারে যে, পরিবেশগত সুবিধাগুলি আসলের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী, যদিও অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক প্রভাবগুলির প্রতিবেদন প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
চ্যালেঞ্জগুলি প্রশমিত করা
ব্লু বন্ডগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য এই অঞ্চলের প্রচলিত, অ-পরিবেশগত প্রকল্পগুলি থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ ঋণ পরিষেবার জন্য বরাদ্দ করে একটি উচ্চ ক্রেডিট রেটিং এবং বৃহত্তর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা যেতে পারে। এটি ‘দূষণকারী পণ্যের বদলে অর্থ প্রদান করে’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে সবুজ সম্পদের পদচিহ্ন প্রসারিত করবে। এ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকার বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে ব্লু বন্ডের জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি প্রদান করতে পারে। এর পাশাপাশি, মিশ্র অর্থায়ন মডেল যা সরকারি তহবিল (উদাহরণস্বরূপ, অনুদান এবং ছাড় ঋণ) এবং ব্যক্তিগত মূলধনকে একত্রিত করে, তা এই বন্ড জারিকারীদের ক্রেডিট প্রোফাইল উন্নত করার আর একটি উপায়। শংসাপত্র এবং পর্যবেক্ষণের খরচ-সহ লেনদেনের খরচ মেটাতেও সরকারি মূলধন ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্লু-বন্ড-অর্থায়নকৃত প্রকল্পগুলির অগ্রগতি এবং প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য এআই, এমএল এবং ব্লকচেনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ব্লু বন্ড ওয়াশিং’-এর ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে। এই ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য ইউজ-অফ-প্রসিডস বন্ড কাঠামো হল সর্বোত্তম উপায়। কারণ বন্ড চুক্তিতে পূর্ব-নির্ধারিত প্রকল্পগুলিতে মূলধন স্থাপন করা যেতে পারে। ‘ব্লু বন্ড ওয়াশিং’-এর ঘটনা ঘটলে জারিকারীর উপর জরিমানা আরোপের জন্য চুক্তিটি গঠন করা যেতে পারে, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে, আয়গুলি সমুদ্র-সম্পর্কিত স্থিতিশীল প্রকল্পগুলিতেই প্রকৃত ভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে।
ব্লু-বন্ড-অর্থায়নকৃত প্রকল্পগুলির অগ্রগতি এবং প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য এআই, এমএল এবং ব্লকচেনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ব্লু বন্ড ওয়াশিং’-এর ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে।
রাষ্ট্রপুঞ্জ ব্লু বন্ডের সাফল্যের জন্য এবং ‘ব্লু বন্ড ওয়াশিং’ প্রতিরোধের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সুপারিশ করে। প্রথমত, ব্লু বন্ডের মান বিদ্যমান বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিমাপযোগ্য ও নিরীক্ষণযোগ্য স্থায়িত্ব কর্মক্ষমতা মেট্রিক্সের পর্যায়ক্রমিক প্রকাশ-সহ একটি ‘ব্লু বেসলাইন’ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। চূড়ান্ত পদক্ষেপ হল প্রকল্পের কাঠামো, যোগ্যতা এবং প্রকাশের অনুশীলন যাচাই করার জন্য একজন দ্বিতীয় পক্ষের মতামত প্রস্তুতকারকের সম্পৃক্ততা। এই ধরনের প্রতিবেদন ব্লু বন্ড জারি করার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রদান করবে।
ব্লু বন্ডে সরকারি নেতৃত্ব
উপরোক্ত উদ্যোগগুলি কেবল তখনই প্রকৃত গতি অর্জন করতে পারে, যদি সরকার এই প্রচেষ্টায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারীর ভূমিকা গ্রহণ করে। সরকারি সংস্থাগুলিকে আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের এই সমীকরণের মধ্যে রেখেই এই ধরনের উন্নয়ন সুযোগের প্রতি তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করতে হবে, যদিও অংশীদারিত্ব থাকবে কম। এটি দূরবর্তী ভৌগোলিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার সময় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাস্তব এবং অনুভূত ঝুঁকি হ্রাস করবে। বিনিয়োগকারী হিসাবে সরকারের অংশগ্রহণ এই প্রকল্পগুলির ঋণ প্রদানের ভাবমূর্তিকেও উন্নত করতে পারে, যার ফলে ব্লু বন্ডে সাবস্ক্রিপশন বেশি হবে।
ভারত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত লজিস্টিকস ইজ অ্যাক্রস ডিফারেন্ট স্টেটস (লিডস) ২০২৪ রিপোর্টে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ‘অ্যাস্পায়ারার’ বা ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ বিভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ব্লু বন্ড দ্বারা চালিত উপরোক্ত হস্তক্ষেপগুলি সম্ভাব্য ভাবে তাদেরকে ‘পাওনিয়ার’ বা ‘অগ্রগামী’ বিভাগে উন্নীত করতে পারে। ব্লু বন্ড জারির মাধ্যমে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করার সময় অফশোর বায়ু খামারের মতো দূষণহীন শক্তি স্থাপনের অর্থায়ন অন্য ভারতীয় রাজ্যগুলিতে অনুকরণীয় একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।
লাবণ্য প্রকাশ জেনা লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স-এর (এলএসই) ভিজিটিং সিনিয়র ফেলো এবং ক্লাইমেট অ্যান্ড সাস্টেনেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ-এর (সিএসআই) ডিরেক্টর।
প্রসাদ অশোক ঠাকুর আইআইটি বম্বে এবং আইআইএম আহমেদাবাদের প্রাক্তন ছাত্র।
The views expressed above belong to the author(s). ORF research and analyses now available on Telegram! Click here to access our curated content — blogs, longforms and interviews.
Labanya Prakash Jena is Director at the Climate and Sustainability Initiative (CSI) and a visiting senior fellow at the London School of Economics and Political ...
Read More +
Prasad Ashok Thakur is a CIMO scholar and has authored a book and several articles published with The World Bank Asian Development Bank Institute United ...
Read More +